অরনী চৌধুরী’র কবিতা


 
নীরব প্রেম


একটা নীরব প্রেম
নীরব মনের কম্পন
তোলপাড় করে দেয় হৃদয়
মনের মাঝে শিহরণ জাগায়, 
দূর হতে কেবলই 
ভায়োলিনের সুর ভেসে আসে
সৃষ্টি হয় করুণ এক বেদনার সুর।
পাশাপাশি বসে রঙিন কল্পনাতে বিভোর থাকি দু'জন দু'জনাতে,
হৃৎপিণ্ডের শিরা উপশিরায়
প্রতিটি হৃদস্পন্দনে অনুভূতি গুলো
ভালোবাসার সহস্র কাব্য লিখে যায়। 
এক আকাশের নীচে বসবাস
একই চাঁদের আলোতে স্ফুলিঙ্গের মতো জ্বলে উঠে হৃদয়
একই শহরে, পাখিদের কলকাকলিতে প্রভাত হয়
হৃদয়তন্ত্রী ভালোবাসার কথা কয়। 
কখনো কখনো নিঃসঙ্গতা কেড়ে নেয় সুখের প্রহর
ইচ্ছে হয় ভেঙে ফেলি সব কাঁচের মতো টুকরো টুকরো করে 
হৃদয়ের আর্তনাদ শুনতে পারেনি কেউ, 
একাকীত্বে সময় কাটে অস্থিরতায়
হৃদয় পুড়ে অঙ্গার হয়ে যায়। 
কখনো ইচ্ছে করেই আড়ালে থাকি
চাঁদ যেমন করে মেঘের আড়ালে লুকোয় 
লুকোচুরি খেলায় খেলে যায় মন
ফিরে আসি বারেবার 
বাউরি বাতাসে দোলা দিয়ে যায়
ঠুনকো আবেগি মন
হৃদয়ে শিহরণ জাগায়।
..................................................

পুষ্পিত কষ্টের ঘ্রাণ

কোন এক স্বপ্নের মাঝে এলোমেলো কল্পনায় রয়েছে বহুদূরে 
হয়তো জড়িয়ে নেবে মেঘলা রাতে হৃদয়ের গভীরে সুরে সুরে, 
রয়েছে প্রতিটি নিঃশ্বাসে প্রশ্বাসে শয়নে স্বপনে মায়ার বন্ধনে 
মিশে আছে নিস্তব্ধ রাতে দীপ জ্বেলে প্রতিটি হৃদস্পন্দনে। 
হয়তো তাঁর ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়, ছুঁয়ে দেবে আমার দীর্ঘশ্বাস
নয়তো হৃদয়ের অঙ্কুরে জমাট বাঁধা ধূসর বেদনার আলোক রশ্মিটা করবে গ্রাস, 
পুষ্পিত কষ্টের ঘ্রাণ চারদিকে ছড়িয়ে যায়
 হৃদরন্ধ ভেদ করে পৌঁছে যায় তাঁর ধমনির শিরায় উপশিরায়, 
অপেক্ষায় থাকি দিন, মাস, বছর পেরিয়ে যায়
হয়তো ছুয়ে দিবে প্রলয়ের ঝড় তুলে কোন শ্রাবণও সন্ধ্যায় 
ছুঁয়ে থাকবে সবই স্মৃতি হয়ে হৃদয়ের আয়নায়।
..................................................

স্মৃতির নকশী কাঁথা 

কল্পনার মাঝে সাগরের নোনাজলে নিশ্চুপ বেদনাগুলো ভেসে বেরায়
কখনো সুউচ্চ কোন পাহাড়ের চূড়ায়
বিলিয়ে দেয়, 
ডুবে থাকে নীল বেদনার রঙগুলো রাত্রির আঁধারে 
কখনো ডুবে থাকে বিষণ্ণ মেঘেদের আড়ালে, 
লন্ডভন্ড করে দিয়ে যায় 
অলস দুপুর কাটে নিঃসঙ্গতায়
ইচ্ছেরা কেবল পালিয়ে বেড়ায়, 
অভিমানী মেঘ জমে পূব আকাশে
জ্বলে যায় স্মৃতিগুলো নিকোটিনের কালো ধোঁয়ায় 
রন্ধ্রে রন্ধ্রে স্মৃতির নকশী কাঁথা দোলা দিয়ে যায়।
..................................................

ক্লান্ত মনের ইচ্ছেরা

ইচ্ছে হয় যাই চলে
শহর থেকে অনেক দূরে
ক্লান্তিগুলো দিয়ে ছুটি, 
একাকী বসে থাকি নীল সমুদ্রের ধারে
সাঁতার কাটি সাগরের নোনাজলে।
আকাশ পানে চেয়ে রই এলোমেলো কিছু ভাবনায়
হারিয়ে যাই, হারাই অজানা ভালোলাগায়, 
ইচ্ছে হয় সব পেছনে ফেলে চলে যাই
সবুজ গাঁয়ে
মেষপালকের গানে গানে গাই সুর মিলায়ে, 
ফিরে যাই সবুজ অরণ্যের মাঝে
কুহেলিকার আড়ালে নিজেকে সাজাই নিত্য নতুন সাঝে।
অশান্ত ঢেউ দোলা দিয়ে যায় হৃদয় গভীরে
ভেঙে চুরমার হয়ে যায় পার্থিব দেহের ভেথরে, 
কখনো মিশে একাকার হয়ে যাই বসন্ত বেলায়
শিরীষ ফুলের মাঝে মগ্ন হয়ে রই গোধূলি ছায়ায়।
কি গো নিরবে প্রেম করো
..................................................

ভালোবাসার সুবাস

দ্বিধা দ্বন্দ্বের মাঝে পথ চলা
অষ্টপ্রহরের কষ্টগুলো নিয়ে
অন্ধ যে জন দেখতে পায় না
দু'চোখে শুধু দেখি
ধূসর স্মৃতি গুলো।
খড়তাপে পুড়ে যায়
হৃদয়ের গভীরে জমে থাকা
স্বপ্নগুলো, 
কোন চাওয়া নেই
কোন পাওয়া নেই
একাকী পথ চলি
হৃদয়ের শূন্যতা নিয়ে।
কেবল আজন্মের ভালোলাগা গুলো নিয়ে
আমি জলরঙে ছবি এঁকে যাই, 
আর বিনিসুতো দিয়ে গাঁথি
কাব্যের ছন্দগুলো। 
কেউ থাকে মিথ্যে অহংকার নিয়ে
হৃদয়ের গভীরে এক আকাশ 
ভালোবাসা জমে থাকে 
সহস্র বছরের অভিমান নিয়ে।
ইচ্ছে হয় ভেঙে ফেলি গড়ে উঠা
অভিমানী দেয়ালটা
সেখানে কৃষ্ণচুড়া, জারবেরা ও গ্লাডিওলাস
ফুলগুলো ছড়িয়ে দেই
চলার পথে ভালোবাসার সুবাস ছড়িয়ে।
..................................................

বিসর্জনের উপহার

নিশঃব্দ গাঙচিলের মতো 
ডানা মেলে উড়ে বেড়াই
জগতের বেদানাকে ভুলে, 
অরণ্যের মাঝে পথ হারাই
বেদনার মানচিত্র বুকে নিয়ে, 
চেয়ে থাকি নির্বাক শ্রোতা হয়ে
কখনো ভিজে যায় মন 
স্যাঁতসেঁতে শ্বাসে ভেজা অশ্রুজলে। 
স্মৃতির কপাট খুড়ে দেখেছি এক ঝাঁক
আত্ম-বিসর্জনের ইতিহাস 
দেখেছি নদীর ভাঙনের মতো
হৃদয় ভাঙার ইতিহাস, 
দেখেছি কষ্টের জাল বুনে পাষণ্ড মনকে
ঘর বাঁধতে
দেখেছি একমুঠো সুখের আশায় শত স্বপ্নের বিসর্জন দিতে। 
নিজেকে খুঁজে বেড়াই শত বিসর্জনের মাঝে
তবুও ফিরে পাইনি আকাশ ছোঁয়া স্বপ্নের
এক মুঠো মেঘকে, 
হয়তো ফিরে পাবো বিসর্জনের উপহার জীবনের শেষ লগ্নে
রংধনুর সাতরঙে আকাশ ছোঁয়া স্বপ্নের ছবি এঁকে যাই আনমনে
নিষ্পলক চেয়ে রই সহস্র মাইল 
দূর লহরীর পানে।
..................................................

অশান্ত মন

মাঝে মাঝে ডুবে যাই
আজানা আত্মার কোলাহলে, 
অচেনা মনের সাথে, খেলা করে মৃত মন, 
ইচ্ছে হয় ছুটে যাই, ইচ্ছেরা স্বাধীন।
কল্পনার মাঝে এক হয়ে রঙিন স্বপ্ন বুনি
অস্পষ্ট আল্পনায় ভালোলাগার সাঁঝে ক্ষতবিক্ষত
এ মন ছুটে চলে অফুরন্ত দিগন্তের মাঝে। 
ছটফটে মন তাড়া করে কোন এক আহবানে  
ছুটে চলি অচিন অজানা খেয়াপাণে, 
ঝড়ো হাওয়ায় তোলপাড় হয়ে যায়
মনের সিঁড়িতে অস্থিরতা খেলে যায়। 
পড়ন্ত লাল লালিমায় ঘেরা বিকেলে 
দূরের আকাশে সাদাটে চাঁদ উঁকি দেয়, 
আঁধার নেমে আসে রাত্রির তামাটে গন্ধ নিয়ে
জেগে থাকি ধূপের গন্ধ, চন্দনের সুবাস নিয়ে। 
অশান্ত মন কখনো থমকে যায়
পুরো পৃথিবী নিশ্চুপ হয়ে যায়, 
অতঃপর বোঝাপড়া মনের সাথে
মন সেতো বাঁধা মানে না।
..................................................

স্মৃতি 

মনের উঠোনের গচ্ছিত কিছু স্মৃতি 
বারেবারে দোলা দিয়ে যায় আবেগী মনে
আধখানা সুখের আধখানা কষ্টে জড়ানো, 
কষ্ট ভুলে সুখগুলো সাজিয়ে রাখে জুয়েলারি বক্সে 
খানিকটা জায়গা করে নেয় আলমারির শাড়ির ভাঁজে ভাঁজে। 
হেমন্তের ভুবন ভাঙার আকাশে কখনো মন ছুটে যায়
বাতায়নে কামিনী ফুলের সুবাস ছড়িয়ে, 
রন্ধ্রে রন্ধ্রে স্মৃতির নকশী কাঁথা ডানা মেলে 
সুপারি বাগানের মিহি হাওয়া মনে হয় যেন আবেগী মনের দীর্ঘশ্বাস 
লন্ডভন্ড করে দিয়ে যায় বিষণ্ণতাকে, 
নাটাইয়ে বাঁধা ইচ্ছে ঘুড়িটা ওড়ে স্বাধীন চেতনা নিয়ে
কষ্টের কঙ্কণ পড়ে অলস সময় কাটে, একলা ঘরে আঁধারেতে।
বিশ্বাস অবিশ্বাসের মাঝে পথ চলা 
আছে জীবনের কিছু নিয়ম পবিত্র চিন্তাধারা, 
মিথ্যে ভালোবাসায় মরিচীকা ধরে
অজস্র বেলী ফুলের সুবাস ছড়িয়ে। 
ক্লান্ত ইচ্ছেরা পালিয়ে যায় নিঝুম মাঠের মাঝে
কখনো ফিরে আসে সূর্য ডোবা সন্ধ্যায় 
আলিঙ্গনে জড়িয়ে নেয় নক্ষত্রের রাত্রির মৃত মন
ইচ্ছেরা আঁধারে ডুবে যায়। 
বাস্তবতা দেখিয়ে দেয় চলার পথ
অস্থিরতায় কাটে রাত্রির প্রহরগুলো, 
ডাক দিয়ে যায় বারেবারে কাঞ্চনজঙ্ঘার গচ্ছিত কিছু স্মৃতি 
বহুদূরে পাতা ঝরা অরণ্যে কষ্টের স্মৃতি দেখতে পায়
মিথ্যে ভালোবাসার রঙ সবই যেন অভিনয়।
..................................................

ক্ষণিকের জীবন

অতীতের অনেকটা পথ ফেলে এসেছে
হাজারো স্মৃতি আছে জড়িয়ে
ক্যালেন্ডারের পাতায় পাতায়
ভালোলাগা গুলো আছে মিশে
জীবনের প্রতিটি খাতায়।
কিছু ভুল শিখিয়েছে জীবনকে
শুদ্ধ হয়েছে পথ চলা
কিছু প্রাপ্তি দিয়েছে অনেক
সাজিয়েছে জীবনের ডালা।
আজও সেই ঘ্রাণ খুঁজে পাই
শৈশবের রান্নাঘরের
খুঁজে নেই সেই ঘ্রাণ
হারানো অতীতের।
সময় যাচ্ছে বয়ে
কতো স্মৃতি বুকে নিয়ে
জীবন যেন মেতে আছে আজ
জীবনের সংগ্রামের। 
আরো কতটা পথ পারি দিতে হবে
সব পথগুলো ভুলে অতীতের
হিসেব দিতে হবে জীবনের কাছে
বেহিসেবি জীবনের। 
চলে যেতে হবে ক্ষণিকের জীবনের 
মায়াজাল ছেড়ে
জীবনের প্রদীপ নীভে গেলে
ফিরে যেতে হবে মাটির ঘরে।
..................................................

একটি সোনালি ভোর

ধরণীর মাঝে সবই আছে
তবুও একমুঠো হতাশা বাসা বাঁধে, 
জরাজীর্ণতা ঠাঁই নেয় মনের গভীরে
কি যেন নাই শূন্যতা যেন ঘিরে আছে চারপাশে। 
চার দেয়ালের মাঝে স্বপ্নেরা বাসা বাঁধে
প্রজাপতি ডানা মেলে বদ্ধ কুটিরে, 
অসম্পূর্ণ ইচ্ছেরা সাঁতার কাটে নীল সমুদ্রের জলে
অতঃপর কেটে যায় নিঃসঙ্গ প্রহরগুলো।
পড়ন্ত বিকেলে লালিমায় লাল পশ্চিম আকাশ পানে
তাকিয়ে থেকে শুধু ভাবি আনমনে, 
হয়তো কেটে যাবে মনের ভেতরে জমাট বাধা মেঘ 
পাখিগুলো বেলা শেষে নীড়ে ফিরে যায়
খুঁজে নেয় আপন ঠিকানা।
অন্ধকার নামে রাত্রির গন্ধ নিয়ে
আঁধারে লুটুপুটি খায় রাত্রির কল্পনাগুলো 
নির্ঘুম চোখে কেটে যায় পুরো রাত্রি, 
রাত্রির প্লেটে হতাশাগুলো সাজাই
বিলিয়ে দেই আঁধারের মাঝে।
প্রতীক্ষায় থাকি চেতনার ঘুম নিয়ে
আঁধারের ঘোর ঠেলে একটি সোনালি সূর্য
যেন উঁকি দেয়, 
ভোরের নির্মল আলোয় দোলা দিয়ে যায়
অতঃপর একটি সুন্দর সোনালি ভোরের অপেক্ষায়।

⭐ FOR ANY HELP PLEASE JOIN


🔗 MY OTHERS CHANNELS

🔗 FOLLOW ME

🔗 MY WEBSITE

🔗 CALL ME
+8801819515141

🔗 E-MAILL
molakatmagazine@gmail.com

No comments

নির্বাচিত লেখা

আফসার নিজাম’র কবিতা

ছায়া ও অশ্বথ বিষয়ক খ-কবিতা এক/ক. সূর্য ডুবে গেলে কবরের ঘুমে যায় অশ্বথ ছায়া একচিলতে রোদের আশায় পরবাসী স্বামীর মতো অপেক্ষার প্রহর কাটায় প্রাচী...

Powered by Blogger.