শিশুতোষ চলচ্চিত্রঃ বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকার নেপথ্যে ।। আজিজ হাকিম

 
সিডি ভিসিআরের যুগে আমাদের গ্রামে মাঝে মাঝে খেয়াল করতামবেদের মেয়ে জোসনাআরকেয়ামত থেকে কেয়ামতদেখে মানুষজন কীভাবে চোখ আর নাকের পানি এক করেছে। কারেন্ট তো ছিল না, ভিসিআরের সাথে পেট্রোল ইঞ্জিন দিয়ে চলত কিছু কিছু সময়। ২০০২ সালের দিকে যখন এলাকায় বিদ্যুৎ আসা শুরু হল, সেইসময় থেকেই মূলত বাড়ি বাড়ি টিভি ডিভিডি বাড়তে থাকল। আমাদের বাড়িতে একটি সাদাকালো টিভিতেই প্রথম দেখিদীপু নাম্বার টু তখন শিশুতোষ চলচ্চিত্র কী বুঝিনি। কিন্তু এইদীপু নাম্বার টুঅনেক ভালো লেগেছিল। হয়তো বা আমার ছোট্ট মনে বেশ প্রভাবও ফেলেছিল। পরে ইন্টারনেট দুনিয়ায় হন্যে হয়ে খুঁজেছি এই বাংলা শিশুতোষ চলচ্চিত্র আছে কিনা। না, নাই। সত্যজিৎ রায়েরপথের প্যাঁচালীতো অনেক আগের। সেইছুটির ঘন্টা”, “এমিলির গোয়েন্দা বাহিনী”, "পুরস্কার" - যা। এরপর তৈরী হলো মুক্তিযুদ্ধের উপর নির্মিত- “আমার বন্ধু রাশেদ অনুপম শিল্পীগোষ্ঠীর ব্যানারে জাফর ফিরোজ নির্মাণ করেছিলেন-"দূরবীন" কিছুদিন আগে মুক্তি পেয়েছে ইমপ্রেস টেলিফিল্মের আরেকটি চলচ্চিত্র- “নীল আকাশের ভেলা” (ভুলবশত নামটা এদেক সেদিক হতে পারে)
 
দীপু নাম্বার টু আর আমার বন্ধু রাশেদ দুইটি সিনেমা তৈরী হয়েছে একই সমীকরণে।
. দুইটি সিনেমাই সরকারি অনুদানে তৈরি।
. দুইটি . জাফর ইকবালের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত।
. চলচ্চিত্র দুইটিই পরিচালনা করেছেন মোরশেদুল ইসলাম।
. তৈরি হয়েছে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম এর ব্যানারে।
আর বাংলাদেশে শিশুতোষ চলচ্চিত্র বলতে এখন পর্যন্ত এই দুই সিনেমাকেই বুঝায়। এর থেকে বোঝা যায় সরকারি অনুদান ছাড়া শিশুদের চলচ্চিত্র বাংলাদেশে তৈরি হয় না। আর সেটা তৈরি হলেও ইমপ্রেস টেলিফিল্মই করে। অন্য কারো এই ব্যাপারে নূন্যতম আগ্রহ নেই। কারণ এখানে নেই কোন ব্যবসা। নেই রোমাঞ্চ। শিশুদের নিয়ে গল্পের কাজ করলে . জাফর ইকবালই করেন। কারণ দুইটি সরকারি অনুদানের সিনেমাই দুইটিই তার উপন্যাসের গল্পে তৈরি। আর কেউ কি শিশুদের জন্য গল্প লিখছেন না। নাকি শুধু প্রিয় তুমি কার?” লিখতে ব্যস্ত। শাহেদ আলীর ছোটগল্প –“জিবরাঈলের ডানাদিয়েও একটি চলচ্চিত্র হতে পারত। কিন্তু হয় নি। তাহলে কি বাংলাদেশ শিশুতোষ চলচ্চিত্র নির্মাণের উপযুক্ত জায়গা নয়?
 
আশি বছরের বুড়োর জন্য যে সিনেমা দশ বছরের বাচ্চার জন্যও বাংলাদেশে সেই সিনেমা। শিশুমন গঠনে সিনেমার যে ভূমিকা তা আমরা অস্বীকার করলেও, শিশুরা এইমন বসে না পড়ার টেবিলে”, “মনের মাঝে তুমি”, “এই হৃদয় তোমার আমারদেখে দেখেই বড় হচ্ছে এবং তারা সাকিব খান মার্কা ডিসুম ডিসুম খেলা খেলেই চুলের আগায় হাত দিয়ে একটু ঝাঁকি দিয়ে, বুকের বোতাম খুলেখুল্লাম খুল্লাঅবস্থায় অবতীর্ণ হচ্ছে।
 
এই দশা শুধু বাংলাদেশে নয়। ভারতেও একই অবস্থা। আমির খানেরতারে জামিন পারবাদে আমার কাছে তেমন উল্লেখযোগ্য শিশুদের চলচ্চিত্র চোখে পরে না।মাই নেম ইজ কালাম একটি সুন্দর সিনেমা। ইরানের বিখ্যাত চলচ্চিত্র- “চাইল্ড অব হ্যাভেনএর কাহিনী নিয়ে বলিউড একটু কাটছাঁট করে বানিয়েছেবোম বোম বলেকিসের মধ্যে কী? বাচ্চাদের সিনেমা। সেখানেও ধর্ষণের মত দৃশ্য রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। সে যায় হোক যাদের যা শেখানোর চেষ্টা চলে তারা তা- শিখবে। কলকাতায়ও তেমন একটা শিশুতোষ চলচ্চিত্র তৈরি হয় নি। তবে সবচে মানের বলতেপাকারাম বলা যায়।
 
দীপু নাম্বার টু আর আমার বন্ধ রাশেদ একই ঔপন্যাসিকের গল্প হওয়ায় গল্পের ধাঁচটাও একই। স্কুলে গল্পের নায়ক এসে হাজির হওয়ার মাধ্যমেই গল্প শুরু। ওদিকে ভিলেন দীপু নাম্বার টু শ্রেণী কক্ষের যেস্থানে বসেছিলেন, আমার বন্ধু রাশেদেও অই একই স্থানে ভিলেন বসা। দুটোতেই ভিলেনের মারামারি। পরে অবশ্য মিলে যায়। তারিকের আরেক নাম কাচু ভাই। অন্যদিকে আমার বন্ধু রাশেদেও রাশেদের এক এলাকার বড়ভাইয়ের নাম কাচু ভাই বলা হয়েছে।
 
এর মানে দাঁড়ালো দুইটি চলচ্চিত্র একই পরিচালক একই গল্পকারের হওয়াতে গুণগতমানের দিক দিয়ে আমার কাছে পার্থক্য আসেনি। কেউ দুটি চলচ্চিত্র মনযোগ সহকারে বেশ কয়েকবার দেখলেই দুটো সিনেমার মিল কোথায় বুঝতে পারবেন। এই দুই চলচ্চিত্র দুটি কথা বললাম এই কারণে এই দুটো সিনেমাই আমি বহুবার দেখেছি। আর ডাইলগের উল্টাপাল্টা বিষয়গুলোও মাথায় ধরেছে।
 
নতুন প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর সুস্থ্য মননের সমাজ বা চিন্তা আমরা যদি রেখে যেতে চাই তবে অবশ্যই তাদের জন্য কাজ করতে হবে। এগিয়ে আসতে হবে বিভিন্ন সামাজিক সংস্থাকে। দুর্গন্ধময় নষ্টপ্রেমের চলচ্চিত্র দেখে দেখে আমাদের শিশুদের মন বিষিয়ে উঠেছে। তার মুক্ত হাওয়া দিতেই না হয় আমরা সুন্দর গল্পের একটি চলচ্চিত্র বানাই। না হয় কোন ব্যবসা না- হলো। বছরে একটি করে শিশুদের চলচ্চত্রি নির্মিত হলেও আজকে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের এতগুলো বছর পরে হাতে কমপক্ষে ৪০টি সিনেমা থাকত। না তা হয়নি। হলিউড পিছিয়ে নেই। উইকিপিডিয়ায় হলিউডের শিশুতোষ চলচ্চিত্রের তালিকা দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায় প্রত্যেক বছর অসংখ্য সিনেমা তৈরি হচ্ছে। শুধু আমরাই পারছি না। কারণ আমরা নিজেরাই বিষাক্ত। বিষহীন শিশুমন তৈরি করব কীভাবে? আমাদের শিশুমন নেই।

⭐ FOR ANY HELP PLEASE JOIN

🔗 MY OTHERS CHANNELS

🔗 FOLLOW ME

🔗 MY WEBSITE

🔗 CALL ME
+8801819515141

🔗 E-MAILL
molakatmagazine@gmail.com

#সংস্কৃতি
#বাংলাদেশী_সংস্কৃতি
#মঞ্চনাটক
#মোলাকাত
#শিশুতোষ_চলচ্চিত্র
#চলচ্চিত্র
#Molakat
#Culture
#Bangladeshi_Culture
#Islamic_Culture
#Literature
#Bengal_Literature
#সাহিত্য_ম্যাগাজিন
#ওয়েব_ম্যাগাজিন
#সাহিত্য
#বাংলাসাহিত্য
#আজিজ_হাকিম

No comments

নির্বাচিত লেখা

আফসার নিজাম’র কবিতা

ছায়া ও অশ্বথ বিষয়ক খ-কবিতা এক/ক. সূর্য ডুবে গেলে কবরের ঘুমে যায় অশ্বথ ছায়া একচিলতে রোদের আশায় পরবাসী স্বামীর মতো অপেক্ষার প্রহর কাটায় প্রাচী...

Powered by Blogger.