পদ্মবিল ও বেকারের গল্প ।। গোলাম রববানী
পদ্মবিল ও বেকারের গল্প
শীতের সময় কি আর গ্রীষ্মের সময় কি নাতিশীতোষ্ণ ভাব অনেকটা। শান্তি আর আরামের সুখ ঠিকানা ছিল অসুখ ঠিকানার বালাই ছিলো না।
এখানে একসময় দুঃখের অন্ত ছিল না কিন্তু সুখের-ও কোনো ঘাটতি ছিলো না।
চেঁচোগাছ যার মূল তুলে ছেলেমেয়েরা খেতো,মুসড়তিগাছ যে-টা চেঁচোগাছের চেয়ে একটু বড়,শলাগাছ ইত্যাদি ঘাস পাওয়া যেত। দরকুমবির, ছিলুটি, মাছরাঙা, ছিরুটি, গামভীর, জয়লা, চরুভাটেল, রাজাশৈল, নড়ুই, সমরা, কপ্পুরাজ যার পাখনা ছিলো, পানুটে, কটকতারা ধান, মুর্শিদাবাদ ধান, লক্ষ্মীকাজল নামে বাহারি ধান চাষ হতো।বড় বড় দানাযুক্ত ছিলো। খেতে বড়-ই স্বাদ ছিলো। বড় দুঃখজনক গরীবরা সেগুলো খেতে পারতো না।জোতদারের কাছ থেকে, ধনীদের কাছ থেকে, বিগার খাটার বিনিময়ে কিছু পেতো। অনেকে অনেকের বাড়ি থেকে ফ্যান আমানি চেয়ে এনে এনে তাদের ছেলেমেয়েদের মানুষ করতো। তন্মধ্যে করিমন্নেছা ছিলেন অন্যতম।তিনি তার ছেলেমেয়েদের ফ্যান আমানি খাইয়ে তাদের ক্ষুধা নিবারন করার চেষ্টা করত।তার সাত ছেলেমেয়ের এভাবেই বড় করে তুলেছে৷ নিজে না খেয়ে খাইয়েছে নাড়িছেঁড়া ধনদের।ওদের মধ্যেই কনিষ্ঠ সন্তান ছিল আলী।আলীর জীবনও বড় রহস্যময়। সেটা থাক। যা বলছিলাম যে ধান চাষাবাদ করা হতো তাতে কোনো প্রকার রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহার ছিলো না।অসুখ বিসুখ আজকালকার মতো এত ছিল না। কিন্তু, তা এখন আর পাওয়া যায় না যেন কালের বিবর্তনে তা আজ হারিয়ে গেছে।
পদ্মবিলের দক্ষিণ পূর্বকোণে স্বাধীনতার সময় রাজাকার ক্যাম্প বসানো হয়েছিলো।সাধারণ মানুষগুলোকে যারা স্বাধীনতার পক্ষে ছিল তাদের নির্বিচারে গুলি করে মেরেছে পাকিস্তানের গোলাম কিছু কুচক্রী রাজাকার সদস্যরা। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলো দ্বীন মোহাম্মদ, আমিনুদ্দিন রাজাকার। তারা আজ আর নেই।মারা গেছেন।
সেই খেলার পাত্র হয়ে লাখ লাখ বাবু বেকারত্বের অভিশাপ নিয়ে দিনযাপন করছে।প্রকৃত মেধার মূল্যায়ন পাচ্ছে না।

No comments