মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিন বা ঈদ ই মিলাদুন্নবীঃ আমাদের সংস্কৃতি ।। আহমদ চৌধুরী
আহমদ চৌধুরী
আল্লাহর
প্রেম, ভালোবাসা ও নৈকট্য অর্জনের
একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে প্রিয় নবী সা. এর
প্রতি শর্তহীন আনুগত্য এবং আবেগপূর্ণ হৃদয়ের
টান। দুনিয়ার সমস্থ কিছুর ভালোবাসাকে পরিত্যাগ করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রেম ভালোবাসাকে হৃদয়ে স্থান দেওয়া। কালামে পাকে ইরশাদ হয়েছে,
" হে নবী! আপনি বলুন।
তোমাদের নিকট যদি তোমাদের
পিতা, তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই, তোমাদের পত্নী,
তোমাদের গোত্র, তোমাদের অর্জিত ধন-দৌলত, তোমাদের
ব্যবসা যা বন্ধ হয়ে
যাওয়ার ভয় করো এবং
তোমাদের বাসস্থান - যাকে তোমরা পছন্দ
করো, আল্লাহ, তাঁর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর পথে
জিহাদ করা থেকে অধিক
প্রিয় হয়, তবে অপেক্ষা
করো আল্লাহর বিধান আসা পর্যন্ত। এটা
ফাসেকী কাজ। আল্লাহ ফাসিক
সম্প্রদায়কে হেদায়েত দান করেন না।
" (তাওবা
২৪)
হাদীসে এসেছে, আনাস রা. থেকে বর্ণিত -- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, "কোনো ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততি ও অন্যান্য সকল লোক হতে অধিক প্রিয় হই।"
আল্লাহকে ভালোবাসার নমুনা কি? কি করলে অন্তরে ফুটে ওঠবে আল্লাহর প্রতি প্রেম ভালোবাসা? সে কোন প্রেম, যে প্রেম গড়লে আল্লাহর নৈকট্য লাভে ধন্য হবো? এর-ও উত্তর দিয়েছেন রাব্বে কারীম! নির্দেশ এসেছে, "হে নবী! আপনি বলে দিন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমাকে অনুসরণ করো। এতে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। "
বক্ষমান আয়াতে রাব্বে কারীম নির্দেশ করেছেন, আমার ভালোবাসা পেতে হলে আমার রাসূলকে ভালোবাসো। তাঁর প্রতিটি কাজ, প্রতিটি কথা, প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি মুহুর্ত, এককথায় প্রতিটি বিষয় অনুসরণ অনুকরণের মধ্যেই তোমাদের সফলতা। তিনিই তোমাদের উন্নতি ও অগ্রগতির একমাত্র চাবি।
মহাগ্রন্থ আল-কোরআনের এসব নির্দেশ এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পবিত্র সাহাচর্য পেয়ে গঠিত হয়েছিল একদল সৌভাগ্যবান জাতি-গোস্টি, পৃথিবী যাদের চেনে সাহাবী হিসেবে। তাদের মান মর্যাদা এতো এতো বেশি যে, যাদের শানে সয়ং আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, "আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারা আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। " মহানবী ঘোষণা করেছেন, আমার সাহাবীগণ আকাশের নক্ষত্রতুল্য। যে কেউ তাঁদের কাউকে অনুসরণ করবে, সে সঠিক পথ প্রাপ্ত হবে। "
এই আলোকে আমরা যদি বিশ্ববাসীকে ছোট্ট একটি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিই----পারবেন কি ছোট্ট সেই চ্যালেঞ্জের মোকাবেলায় এর চেয়ে উত্তম কোনো কিছু হাজির করতে? আমাদের মধ্যে কে আছে এমন যার মর্যাদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আদনা থেকে আদনা নিম্ন থেকে নিম্নতম মুক্ত দাস সাহাবী বা সাহাবীয়ার এক গোছা কাটা চুল অথবা জুতার সমান আছে? মহানবী সা. এর সাহাবীদের একদম অপ্রয়োজনীয় বস্তু হলেও এগুলোর মর্যাদা ও গুরুত্ব সারা বিশ্বের মুসলমানদের দৃষ্টিতে যা হবে তা পৃথিবীর যেকোনো সাবেক বা বর্তমান রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, রাজা-বাদশা, বৈজ্ঞানিক, শিল্পপতি, সেনাপতি, বিচারক, শিল্পী, সাহিত্যিক, দানবীর, সমাজ সেবক অপেক্ষা হাজার লক্ষ গুণ বেশি। এর দ্বারা আমরা এরূপ বস্তুর গুরুত্ব বুঝাচ্ছি না বরং ঐ সমস্ত মহামানবদের স্মৃতির প্রতি কতোটুকু আবেগ, অনুভূতি ও শ্রদ্ধা বিশ্ব মুসলমানদের আছে এগুলো তাঁর কিঞ্চিৎ আলোচনা। বিশ্বমানবতার মূর্ত প্রতীক মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাচর্যের এ এক যুগান্তকারী নমুনা! এ কোন সম্মোহনী শক্তি যাঁর পদস্পর্শে আতরাফ আশরাফ হয়ে যায়। এমনকি তাঁর ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় বা অপ্রয়োজনীয় কোনো বস্তু পর্যন্ত দুনিয়ার রাজা-বাদশাকে পর্যন্ত অতিক্রম করে ফেলে!
তাইতো বিশ্ববিখ্যাত নেপোলিয়ন বলেছেন,
O men! of the world if you want to get leasting peach you go to Madina you go to Madina!
"হে দুনিয়ার মানুষ! যদি তোমরা চিরস্থায়ী শান্তি পেতে চাও, তবে তোমরা মদীনায় যাও! মদীনায় যাও!"
নেপোলিয়ন দুনিয়ায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অতাশ্চর্য কার্যসিদ্ধি দেখে এমন উচ্চারণ করেছিলেন। আরবের প্রাচীন কবি আস'আদ ইবনে কারব আল হিমায়রী মহানবী জন্মের সাতশো বছর পূর্বে নবীজীর শানে কবিতা লিখে নবীজীর প্রতি ঈমান এনেছেন।একাত্ববাদের স্বীকৃতি দিয়েছেন। তিনি তাঁর সবকিছু দিয়ে পাশে থাকার ওয়াদা করেছেন। সাহাবী হওয়ার অঙ্গীকার করেছেন, পড়ুন সেই ঈমান দীপ্ত কবিতা __
''যে আসেনি এখনো আমি তাঁর জেনে গেছি নাম
সে যে আহমদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
হে প্রভু! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, তোমার রাসূল
আসবেন তিনি ধরাতলে জানি নিশ্চিত নির্ভুল!
হায়! আমার আয়ু যদি হয়ে সীমাহীন,
যদি বেঁচে থাকি তিনি আসবেন যেদিন;
তবে দাঁড়াবোই তার পাশে, বাড়াবো এ হাত ----
বন্ধু সাহাবী হবো ------- আনতে প্রভাত! "
এরকম
আরো কতো কবি, দার্শনিক,
পাদ্রী ও ইহুদি আলিম
রাসূল জন্মের শতো শতো বছর
পূর্বে আরো কতো শতো
শতো ভবিষ্যত বাণী করেছেন তা
বর্ণনাতীত।
আজকের
অশান্ত পৃথিবীতে মানুষের জীবনধারা এক জটিল অনাদর্শের
ভাবাবেগে তাড়িত। তার অতীত বর্তমানকে
নির্দেশ দিতে ভুল করে,
ভুল করে বর্তমান ভবিষ্যৎকে
গড়ে তুলতে। জীবনের চারপাশে এ বিভীষিকাময় নৈরাশা
আর হাহাকার ছাড়া আর কিছুই
নেই। বাস্তব জীবন সংগ্রামে মানুষ
তার সুকুমার বৃত্তি গুলো ভুলে কেবলই
স্থুল দৈহিক ও জৈবিক প্রেরণার
ক্রীড়নক হয়ে পড়েছে। মানুষের
বিদ্বেষ, হিংসা, জিঘাংসা ও জিজীবিষা এমন
চরমে পৌছেছে যে, জীবনে অবিশ্বাস
অস্বস্তি ও নৈরাশ্যই একমাত্র
সত্য বলে দেখা দিয়েছে।
কোথাও স্বস্তি নেই, শান্তি নেই,
মানুষ বুঝেও অশান্তির বেড়াজালে পা দিয়ে বিপদ
থেকে বিপদান্তরে, শঙ্কা থেকে শঙ্কান্তরে, জীবন
নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। জীবন যেন এখন
অসহনীয় এক সংগ্রাম। এ
থেকে উত্তরণের পথ কেউ খুঁজে
পাচ্ছি না। কারণ আমরা
নবীর আদর্শ থেকে অনেক দূরে
সরে আসছি। মিলাদুন্নবীর প্রকৃত শিক্ষা আমরা নিচ্ছি না।
অতচ আল্লাহ বলেছেন, "তোমাদের শিক্ষার জন্য আল্লাহর রাসূলের
মধ্যে রয়েছে উত্তম চরিত্রগুণ, তাঁর আদর্শ ও
চরিত্রগুণ গ্রহণ করতে পারলেই তোমাদের
মুক্তি অবধারিত"। এই অবধারিত
মুক্তির বাণীকে অস্বীকার করে ইচ্ছে মতো
ভোগ ও সাময়িক আনন্দের
বানে ভেসে পাপ পূণ্যের
বিচার না করে মানুষ
স্রোতের মতো ঝুকে পড়ছে
পশ্চিমা নাস্তিক্যবাদের দিকে। কিন্তু মুক্তি সেখানে নেই। একমাত্র নবী
মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবনাদর্শের মাঝেই
লুক্কায়িত সেই কাংখিত অবধারিত
মুক্তি। রাষ্ট্র পরিচালনা থেকে নিয়ে গৃহস্থালি
পরিচালনা পর্যন্ত নবী করিম সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাতে কলমে শিক্ষা
দিয়ে গেছেন। নবীজীর মুক্তাখচিত বাণী, "যে স্ত্রী স্বামী
গৃহের শৃংখলা বজায় রাখার জন্য
কোনো বস্তু যথাস্থানে রাখে, তার জন্য তাকে
একটা পূণ্য দান করা হয়,
একটি পাপ স্খলন করা
হয়, আল্লাহর দরবারে একটি স্তর দান
করা হয়। মন দিয়ে
খেয়াল করে দেখুন কতো
প্রেমময় আমাদের নবী! কতো সুন্দর
আমাদের ধর্ম!
আমরা বিভিন্ন ব্যক্তি ও ঘটনার গুরুত্ব উপলব্ধি করে অনেক দিবস পালিত করি। ঐসব দিবসে সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক সংগঠন, এনজিও প্রতিষ্ঠান স্ব স্ব উদ্যোগে দিবসের তাৎপর্য মানুষের সামনে তুলে ধরে, যার ফলে শত শত বছর পরেও আমরা এসব দিবস ;ব্যক্তির কীর্তি, মর্যাদা, তাঁদের আলোকিত জীবন সম্পর্কে জানতে পারি, হৃদয়ে ধারণ করতে পারি তাই এসব দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালন করা আমাদের জন্য পেছনের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার দ্বার উন্মোচন করে। ইহা নিঃসন্দেহে উত্তম কাজ।
১২ ই রবিউল আউয়াল ঈদ ই মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বা নবীজীর শুভ জন্মদিন। অশান্ত এ বসুন্ধরায় শান্তির জোয়ার বইয়ে দিতে এই দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালন করা আমাদের অবশ্য কর্তব্য। ঘরে ঘরে এ দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরা উম্মত হিসেবে আমাদের দায়িত্ব। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জীবনাদর্শ নিয়ে যত আলোচনা হবে। তাঁকে নিয়ে যত সেমিনার, সিম্পোজিয়াম হবে তত রাসূলকে জানার আগ্রহ বাড়বে। রাসূলকে যত বেশি জানা হবে সত্য স্বপ্ন নিয়ে মানুষের মনে তত বাঁচার অঙ্গীকার যোগাবে। পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি দেশে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অনুসারী উলামা মাশায়েখগণ অত্যন্ত আবেগ নিয়ে ঈদ ই মিলাদুন্নবী পালন করে থাকেন। যা বিক্ষুব্ধ পৃথিবীকে শান্তির সমিরণে অবারিত তৃপ্তি জোগায়। এখানেও বাংলাদেশের কিছু লেবাসী ইসলামের ধ্বজাধারীরা বিদ'আত খুঁজেন। তারা এ মহান অনুগ্রহের মাসে সিরাতুন্নবী পালন করেন। মিলাদুন্নবীর র্যালী ও জশনে জুলুসকে বাঁকা চোখে দেখেন। শিরনী ও তাবার্রুক বিতরণকে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করেন যা সত্যিসত্যিই বেদনাদায়ক। আমি বলি ; আপনারা সারা বছর সিরাত আলোচনা করুন। কে বাঁধা দিচ্ছে? আমরাও সিরাত আলোচনা করি। ইহা অবশ্যই উত্তম কাজ। আমাদের মাঝে যখন মাহে রবিউল আউয়াল আসে, অনায়াসেই তখন চোখের সামনে ভেসে উঠে সেই তমসাচ্ছন্ন যুগ। ঐতিহাসিকগণ যাকে বলেছেন অন্ধকার যুগ। আইয়্যামে জাহেলিয়াতের যুগ। স্মৃতিপটে ভেসে উঠে আরব সম্প্রদায়, তাদের বর্বরোচিত বৈশিষ্ট্য, চরিত্র ও বেপরোয়া চলাফেরার দৃশ্য। স্বরণ হয় মানবিক জাহাজের ক্যাপ্টেন, সুস্পষ্ট সতর্ককারী! মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা. এর অতাশচর্য জন্মের সময়ের অলৌকিক সব ঘটনা। স্বরণ হয় তাঁর অবর্ণনীয় ত্যাগ ও তিতিক্ষার সুমহান গল্প। তখন মুমীনের হৃদয়ে জমে থাকা প্রেমের তরঙ্গমালা উথলে ওঠে। প্রেম-মহব্বতের জোয়ার বয়ে যায়। রাসূল সা. এর জীবনাদর্শ নিয়ে বেশি বেশি চর্চা হয়। ঘরে ঘরে দুরুদের আওয়াজ জারি হয়। বিশেষ করে ১২ ই রবিউল আউয়ালে মসজিদে মসজিদে, পাড়ায় পাড়ায় এবং বাড়িঘরে যেভাবে মিলাদের অনুষ্ঠান করা হয় তা অবশ্যই উম্মতের সৌভাগ্যের লক্ষ্মণ।
জন্মভূমি বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ। অতচ রাষ্ট্রীয়ভাবে আমাদের দেশে এই মহান দিবসকে তার প্রাপ্য মর্যাদা দেয়া হয় না। জাতীয়ভাবে অনেকটা দায়সারা গোছের ভাব নিয়ে দিবসটি উদযাপিত হয়। প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, ধর্মমন্ত্রী একটি করে বাণী প্রসব করে মানুষের কল্যাণ কামনা করেন। সরকারী ছুটি ঘোষিত হয়। স্কুল কলেজ, মাদ্রাসা বন্ধ থাকে। এটাই জাতীয়ভাবে দেয়া মর্যাদার সবটুকু। সংস্কৃতিমন্ত্রণালয় ও ধর্মমন্ত্রণালয় কোনো উদ্যোগ নেয় না। ইসলামী ফাউন্ডেশনও উল্লেখযোগ্য তেমন ভূৃমিকা নিতে নারাজ। দুঃখজনক হলেও সত্য আমাদের দেশে অখ্যাত-কুখ্যাত অনেক কবি, সাহিত্যিক, রাজনৈতিক, শিক্ষাবিদ ও সংস্কৃতিকর্মীদের জন্মদিবস নিয়ে চেতনা বিতরণ করতে করতে এই মন্ত্রণালয় কাহিল হয়ে পড়ে। অতচ ঈদ ই মিলাদুন্নবী বা নবী দিবসের মর্যাদা কোনো কবি, সাহিত্যিক, রাজনৈতিক, শিক্ষাবিদ ও সংস্কৃতিকর্মীদের সাথে তুলনা করাও যায় না। কারণ তাঁর মর্যাদার তুলনা পৃথিবীর কারো সাথে চলে না। তিঁনি বেনিয়াজ। বে মিছাল। আল্লাহর পরে তাঁর স্থান! এ প্রসঙ্গে আধ্যান্তিক জগতের সম্রাট মুজাদ্দিদে জামান আল্লামা ফুলতলি র. তাঁর বিখ্যাত নালায়ে কলন্দর কাব্যগ্রন্থের একটি কবিতার দুটি লাইন প্রণিধানযোগ্য--- তিনি বলেছেন,
"আহাদ ও আহমদের মাঝে এইতো ফারাক ভাই
মীম রয়েছে আহমদে আর আহাদে সেই মীমটি নাই। "মীমের প্রার্থক্য হামদ ও নাতের একটি পারিভাষিক খোলস। এটা আধ্যান্তিক জগতের অত্যন্ত গভীর কথা। সুতরাং আমাদের স্বার্থে। পৃথিবীকে স্থিতিশীল রাখতে। মানুষের প্রতি মানুষের প্রেম জাগাতে সর্বোপরি পৃথিবীকে সুন্দর বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে মহানবী সা. এর জন্মদিবসকে সকলের মাঝে শ্রদ্ধা, স্বরণ এবং তাঁর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের মধ্য দিয়ে পালন করা উচিত। রাষ্ট্র এই দিনকে কেন্দ্র করে সপ্তাহব্যাপী রেডিও, টিভিতে তাঁর জীবনালোচনার আয়োজন করতে পারে। স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা বন্ধ না দিয়ে নূন্যতম সপ্তাহব্যাপী সিরাতপাঠের উৎসব করা যেতে পারে। কবিতা, রচনা ও উপস্থিত বক্তৃতার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে অন্তত তিন দিনের সিরাত আলোচনা ও বিষয়ভিত্তিক বই মেলার আয়োজন করা। রাষ্ট্রীয়ভাবে একটি পুরষ্কার প্রবর্তন করা যেতে পারে যা প্রতিবছর এই দিনে বিতরণ করা হবে। যারা সারাবছর মানব কল্যাণে যুগোত্তীর্ণ ভূমিকা রাখছেন তাঁদের মধ্য থেকে বাছাই বিশ্লেষণ করে অন্তত তিনজনকে এই সম্মানজনক পুরষ্কারে ভূষিত করা হবে। চাইলে প্রতি জেলা পরিষদের মাধ্যমে প্রতি জেলায় জেলায়ও করা যায়।
আমাদের
দেশে নানা প্রকারের সংস্কৃতিচর্চা
কেন্দ্র আছে এগুলোর মধ্যে
নবীর জীবন চর্চাধর্মী তেমন
ব্যাপক ভিত্তিক কোনো সংগঠন নেই।
আমাদের উচিত তাঁকে ঘিরে
নানারকম সাংস্কৃতিক সংগঠন গড়ে তোলা। এসবের
মাধ্যমে নবীচরিত নিয়ে আলোচনা সভা,
সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, ম্যাগাজিন, পুস্তক, স্মারক ও পত্রিকা প্রকাশ
করতে পারি। প্রতিবছর প্রতি জেলা-উপজেলায় তাঁর
জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচিত
গ্রন্থমেলার আয়োজন করতে পারি। ওডিও,
ভিডিও ও ক্যাসেট সরবরাহ
করতে পারি। শিশু কিশোরদের মধ্যে
কবিতা রচনা সিরাতপাঠ প্রতিযোগিতার
আয়োজন করতে পারি।
নিজ
দেশ তথা পৃথিবীতে শান্তির
সুবাতাস বইয়ে দিতে আমাদেরকে
এই মহামানবের আদর্শের কাছে ফিরে যেতে
হবে। তাঁকে আমাদের বারবার স্বরণ করতে হবে। কারণ,
পৃথিবীর অন্যকোনো মত ও পথে
এতো যুগান্তকারী বৈপ্লবিক আদর্শ নেই।জর্জ বার্নাড-শ এর ভাষায়
---"পুরো বিশ্বের বিভিন্ন ধর্মের সম্প্রদায় আদর্শ ও মতবাদ সম্পন্ন
মানব জাতীকে যদি ঐক্যবদ্ধ করে
একনায়কের শাসনাধীন আনা হতো তবে
একমাত্র মহানবী সা. ই সর্বাপেক্ষা
সুযোগ্য নেতা রূপে তাদেরকে
শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে
পরিচালিত করতে পারতেন। "
মাইকেল এইচ হার্ট আরো সুন্দর করে বলেছেন, "আমি বিশ্বাস করি অশান্তির বিশ্বে শান্তি আনতে হলে সমগ্র বিশ্বের একক ক্ষমতা আদর্শ রাষ্ট্রনায়ক মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতে অর্পণ করলেই তা শুধু সম্ভব।"
আপনি জীবনে অনেক কিছুই পড়ে থাকবেন। আরও অনেক পড়বেন এবং পড়তেই হবে। কেননা জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করতে পাঠের কোনো বিকল্প নেই। সেই পাঠের ভেতর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে মহানবী হযরত মোহাম্মদ সা. কে এবং সেটা আপনার আমার পরবর্তী প্রজন্মের সুন্দর জীবন বিনির্মাণের স্বার্থে।
আল্লাহ, রাব্বুল আ'লামিন।
রাসূলুল্লাহ, রাহমাতুল্লিল আ'লামিন।
আল্লাহ, জগতসমূহের পালনকর্তা।
রাসূলুল্লাহ, জগতসমূহের আশীর্বাদ।
ইরশাদ হচ্ছে, "হে নবী! আমি আপনাকে সৃষ্টি না করলে একদানা বালুকণাও সৃষ্টি করতাম না। "
পৃথিবীর সত্যাশ্রয়ী সকল ঐতিহাসিকগণ একমত যে, মহানবীর আগমণে পৃথিবী তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পেয়েছে। তিঁনি এসেছিলেন বলেই জগতবাসী নতুন জীবন পেয়েছে। তাই মানবজাতির ইতিহাসে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ মর্যাদা ও বিরল সম্মান পাবার যোগ্য এই দিন, যেই দিন বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মর্ত্যের এ পৃথিবীতে শুভাগমণ করে সমস্ত জগতবাসীকে ধন্য করেছিলেন ____
যুগের পর যুগ, দিবসের পর দিবস চিরন্তন মর্যাদা পাবার অধিকারী এই দিন। ধর্ম-বর্ণ সকল জাতি গোষ্ঠীর কাছে সমানভাবে সম্মানের দাবীদার এই দিন। বাস্তবতার বিচারেও অত্যন্ত যুক্তিনির্ভর সংগত কারণেই রাসূল সা. এর শুভাগমণের দিন। ঈদ ই মিলাদুন্নবীর দিন সর্বদিক দিয়ে বিশ্ববাসীর কাছে প্রিয় হওয়ার যোগ্যতম। কারণ, সয়ং আল্লাহতা'য়ালা ঘোষণা করেছেন, "তাঁর আগমণের কল্যাণেই পৃথিবীর সৃষ্টি "। মানুষ ফিরে পেয়েছে মানুষের মর্যাদা।
আল্লামা ফতেহ আলী রহ. তাঁর দেওয়ানে ওয়াইসীতে কী চমৎকার গেয়েছেন,
"ওয়াইসীয়া! আয দ্বীন ও ঈমান ইনকাদর তানিম ওয়া বাস
দ্বীনে মা এশক মুহাম্মদ সা. হুব্বে উঁ ঈমানে মা।"
হে
ওয়াইসী! এতটুক জানি এবং তাই
যথেষ্ট যে, আমাদের দ্বীন
হলো মুহাম্মদ সা. এর এশক
ও তাঁর প্রতি প্রেমই
হচ্ছে আমাদের ঈমান।
আমাদের বেহেশতী ফুল শিশুমনে এই চিত্র এঁকে দিতে হবে, আমরা কোন নবীর উম্মত। তাদের জানতে হবে আমরা সেই নবীর উম্মত। চাঁদ সেতারা, আকাশ জমিন যার খেদমত করার জন্য সদা উদগ্রীব। জীন ফেরেশতারা যাঁর পদসেবা করে জীবনকে স্বার্থক করার জন্য সদা প্রতিক্ষায় ও দন্ডায়মান ছিলো, ফেরেশতা কূলের সরদার জীবরিল আমীন যাঁর সাক্ষাতে এসে বেয়াদবীর ভয়ে শত সতর্কতা অবলম্বন করতেন, যাঁকে মেঘমালা ছায়া দিয়ে রৌদ্র থেকে আড়াল করে রাখত, বৃক্ষ যার নির্দেশে স্থানান্তরিত হয়ে যেত, চন্দ্র যাঁর আঙ্গুলি ইশারায় দ্বিখণ্ডিত হয়েছিল, যাঁর উম্মত হওয়ার জন্য কতো নবী আলাইহি ওয়াসাল্লামগণ আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা জানিয়েছিলেন, যাঁর মর্যাদার বর্ণনা কোনো জবান দিতে পারে না, কোনো কলম লিখতে সক্ষম নয়, সেই শেষ এবং শ্রেষ্ঠ নবীর উম্মত আমরা। আজকের মুসলমান জাতি। পরিতাপের বিষয়, আমরাই নবী সা. এর প্রতি সবচেয়ে বেশি উদাসীন! লেখার কলেবর বৃদ্ধি না করে ছোট্ট একটি গল্প দিয়ে আজকের লেখার ইতি টানছি।
স্বপ্নে সয়ং রাসূলে আকরাম সা. এর কাছে ইসলামে দীক্ষিত হয়েছিলেন ড. ইসলামুল হক। তাঁকে অনুরোধ করা হয়েছিল, মুসলিম উম্মাহর জন্য কিছু বলুন। তিনি এর জবাবে বলেছিলেন, ইঞ্জিল শরীফে আছে, একদিন সকাল বেলা হযরত ঈসা (আ.) তাঁর কিছু অনুসারীর সাথে মিলিত হওয়ার মানসে গলীল হ্রদের পানির উপর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন, এ আশ্চর্যজনক দৃশ্য লক্ষ্য করে তাঁর অনুসারীরা বললেন, হুজুর, আমরাও কি এমনিভাবে পানির উপর দিয়ে হেঁটে যেতে পারবো? ঈসা জবাব দিলেন, পারবে। তবে শর্ত হচ্ছে, শুধুমাত্র আমার দিকেই দৃষ্টি নিবন্ধ রাখতে হবে। দৃষ্টি এদিক সেদিক হলেই ডুবে যাবে। তারা ঈসা আ. এর প্রতি দৃষ্টি নিবন্ধ রেখে পানির উপর দিয়ে অগ্রসর হতে লাগলো। কিছুদূর অগ্রসর পর তাদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হলো। ভাবলো, সত্যিসত্যিই কি আমরা পানির উপর দিয়ে যাচ্ছি না কি মাটির উপর দিয়ে। সন্দেহ সৃষ্টি হওয়ার পর তারা দৃষ্টি ঈসা আ. এর দিক থেকে একটু সরিয়ে পায়ের দিকে নিলো, তখনই তারা হ্রদের পানিতে তলিয়ে গেলো। ড. ইসলামুল হক বলেন, এ সংসারসমুদ্র পাড়ি দেওয়ার জন্য আখেরী নবী হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও আমাদের জন্য এ নির্দেশ দিয়ে গেছেন যে, একমাত্র তাঁর পবিত্র পদচিহ্ন অনুসরণ করেই অগ্রসর হতে হবে। দৃষ্টি যদি সেখান থেকে একটু এদিক সেদিক সরে যায়, ঈসা নবীর উম্মতের মতো আমরাও দুনিয়ার অথৈ সাগরে হারিয়ে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই।
পরিশেষে ফারসি কবিতার বাংলা কাব্যানুবাদ থেকে রাসূল প্রশস্তি মূলক কবিতার চরণ দিয়ে শেষ করছি _
"যে পা চলে তোমার পথে পূণ্যবান সে পা
তোমার মিলন নায় যে চড়ে ধন্য তাহার না
যে চোখ দেখে তোমার ছবি সে চোখ নাচে সুখে
যে মুখ গাহে তোমার গীতি ফুল ঝরে সেই মুখে।"
হাদীসে এসেছে, আনাস রা. থেকে বর্ণিত -- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, "কোনো ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততি ও অন্যান্য সকল লোক হতে অধিক প্রিয় হই।"
আল্লাহকে ভালোবাসার নমুনা কি? কি করলে অন্তরে ফুটে ওঠবে আল্লাহর প্রতি প্রেম ভালোবাসা? সে কোন প্রেম, যে প্রেম গড়লে আল্লাহর নৈকট্য লাভে ধন্য হবো? এর-ও উত্তর দিয়েছেন রাব্বে কারীম! নির্দেশ এসেছে, "হে নবী! আপনি বলে দিন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমাকে অনুসরণ করো। এতে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। "
বক্ষমান আয়াতে রাব্বে কারীম নির্দেশ করেছেন, আমার ভালোবাসা পেতে হলে আমার রাসূলকে ভালোবাসো। তাঁর প্রতিটি কাজ, প্রতিটি কথা, প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি মুহুর্ত, এককথায় প্রতিটি বিষয় অনুসরণ অনুকরণের মধ্যেই তোমাদের সফলতা। তিনিই তোমাদের উন্নতি ও অগ্রগতির একমাত্র চাবি।
মহাগ্রন্থ আল-কোরআনের এসব নির্দেশ এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পবিত্র সাহাচর্য পেয়ে গঠিত হয়েছিল একদল সৌভাগ্যবান জাতি-গোস্টি, পৃথিবী যাদের চেনে সাহাবী হিসেবে। তাদের মান মর্যাদা এতো এতো বেশি যে, যাদের শানে সয়ং আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, "আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারা আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। " মহানবী ঘোষণা করেছেন, আমার সাহাবীগণ আকাশের নক্ষত্রতুল্য। যে কেউ তাঁদের কাউকে অনুসরণ করবে, সে সঠিক পথ প্রাপ্ত হবে। "
এই আলোকে আমরা যদি বিশ্ববাসীকে ছোট্ট একটি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিই----পারবেন কি ছোট্ট সেই চ্যালেঞ্জের মোকাবেলায় এর চেয়ে উত্তম কোনো কিছু হাজির করতে? আমাদের মধ্যে কে আছে এমন যার মর্যাদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আদনা থেকে আদনা নিম্ন থেকে নিম্নতম মুক্ত দাস সাহাবী বা সাহাবীয়ার এক গোছা কাটা চুল অথবা জুতার সমান আছে? মহানবী সা. এর সাহাবীদের একদম অপ্রয়োজনীয় বস্তু হলেও এগুলোর মর্যাদা ও গুরুত্ব সারা বিশ্বের মুসলমানদের দৃষ্টিতে যা হবে তা পৃথিবীর যেকোনো সাবেক বা বর্তমান রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, রাজা-বাদশা, বৈজ্ঞানিক, শিল্পপতি, সেনাপতি, বিচারক, শিল্পী, সাহিত্যিক, দানবীর, সমাজ সেবক অপেক্ষা হাজার লক্ষ গুণ বেশি। এর দ্বারা আমরা এরূপ বস্তুর গুরুত্ব বুঝাচ্ছি না বরং ঐ সমস্ত মহামানবদের স্মৃতির প্রতি কতোটুকু আবেগ, অনুভূতি ও শ্রদ্ধা বিশ্ব মুসলমানদের আছে এগুলো তাঁর কিঞ্চিৎ আলোচনা। বিশ্বমানবতার মূর্ত প্রতীক মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাচর্যের এ এক যুগান্তকারী নমুনা! এ কোন সম্মোহনী শক্তি যাঁর পদস্পর্শে আতরাফ আশরাফ হয়ে যায়। এমনকি তাঁর ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় বা অপ্রয়োজনীয় কোনো বস্তু পর্যন্ত দুনিয়ার রাজা-বাদশাকে পর্যন্ত অতিক্রম করে ফেলে!
তাইতো বিশ্ববিখ্যাত নেপোলিয়ন বলেছেন,
O men! of the world if you want to get leasting peach you go to Madina you go to Madina!
"হে দুনিয়ার মানুষ! যদি তোমরা চিরস্থায়ী শান্তি পেতে চাও, তবে তোমরা মদীনায় যাও! মদীনায় যাও!"
নেপোলিয়ন দুনিয়ায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অতাশ্চর্য কার্যসিদ্ধি দেখে এমন উচ্চারণ করেছিলেন। আরবের প্রাচীন কবি আস'আদ ইবনে কারব আল হিমায়রী মহানবী জন্মের সাতশো বছর পূর্বে নবীজীর শানে কবিতা লিখে নবীজীর প্রতি ঈমান এনেছেন।একাত্ববাদের স্বীকৃতি দিয়েছেন। তিনি তাঁর সবকিছু দিয়ে পাশে থাকার ওয়াদা করেছেন। সাহাবী হওয়ার অঙ্গীকার করেছেন, পড়ুন সেই ঈমান দীপ্ত কবিতা __
''যে আসেনি এখনো আমি তাঁর জেনে গেছি নাম
সে যে আহমদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
হে প্রভু! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, তোমার রাসূল
আসবেন তিনি ধরাতলে জানি নিশ্চিত নির্ভুল!
হায়! আমার আয়ু যদি হয়ে সীমাহীন,
যদি বেঁচে থাকি তিনি আসবেন যেদিন;
তবে দাঁড়াবোই তার পাশে, বাড়াবো এ হাত ----
বন্ধু সাহাবী হবো ------- আনতে প্রভাত! "
আমরা বিভিন্ন ব্যক্তি ও ঘটনার গুরুত্ব উপলব্ধি করে অনেক দিবস পালিত করি। ঐসব দিবসে সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক সংগঠন, এনজিও প্রতিষ্ঠান স্ব স্ব উদ্যোগে দিবসের তাৎপর্য মানুষের সামনে তুলে ধরে, যার ফলে শত শত বছর পরেও আমরা এসব দিবস ;ব্যক্তির কীর্তি, মর্যাদা, তাঁদের আলোকিত জীবন সম্পর্কে জানতে পারি, হৃদয়ে ধারণ করতে পারি তাই এসব দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালন করা আমাদের জন্য পেছনের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার দ্বার উন্মোচন করে। ইহা নিঃসন্দেহে উত্তম কাজ।
১২ ই রবিউল আউয়াল ঈদ ই মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বা নবীজীর শুভ জন্মদিন। অশান্ত এ বসুন্ধরায় শান্তির জোয়ার বইয়ে দিতে এই দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালন করা আমাদের অবশ্য কর্তব্য। ঘরে ঘরে এ দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরা উম্মত হিসেবে আমাদের দায়িত্ব। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জীবনাদর্শ নিয়ে যত আলোচনা হবে। তাঁকে নিয়ে যত সেমিনার, সিম্পোজিয়াম হবে তত রাসূলকে জানার আগ্রহ বাড়বে। রাসূলকে যত বেশি জানা হবে সত্য স্বপ্ন নিয়ে মানুষের মনে তত বাঁচার অঙ্গীকার যোগাবে। পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি দেশে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অনুসারী উলামা মাশায়েখগণ অত্যন্ত আবেগ নিয়ে ঈদ ই মিলাদুন্নবী পালন করে থাকেন। যা বিক্ষুব্ধ পৃথিবীকে শান্তির সমিরণে অবারিত তৃপ্তি জোগায়। এখানেও বাংলাদেশের কিছু লেবাসী ইসলামের ধ্বজাধারীরা বিদ'আত খুঁজেন। তারা এ মহান অনুগ্রহের মাসে সিরাতুন্নবী পালন করেন। মিলাদুন্নবীর র্যালী ও জশনে জুলুসকে বাঁকা চোখে দেখেন। শিরনী ও তাবার্রুক বিতরণকে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করেন যা সত্যিসত্যিই বেদনাদায়ক। আমি বলি ; আপনারা সারা বছর সিরাত আলোচনা করুন। কে বাঁধা দিচ্ছে? আমরাও সিরাত আলোচনা করি। ইহা অবশ্যই উত্তম কাজ। আমাদের মাঝে যখন মাহে রবিউল আউয়াল আসে, অনায়াসেই তখন চোখের সামনে ভেসে উঠে সেই তমসাচ্ছন্ন যুগ। ঐতিহাসিকগণ যাকে বলেছেন অন্ধকার যুগ। আইয়্যামে জাহেলিয়াতের যুগ। স্মৃতিপটে ভেসে উঠে আরব সম্প্রদায়, তাদের বর্বরোচিত বৈশিষ্ট্য, চরিত্র ও বেপরোয়া চলাফেরার দৃশ্য। স্বরণ হয় মানবিক জাহাজের ক্যাপ্টেন, সুস্পষ্ট সতর্ককারী! মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা. এর অতাশচর্য জন্মের সময়ের অলৌকিক সব ঘটনা। স্বরণ হয় তাঁর অবর্ণনীয় ত্যাগ ও তিতিক্ষার সুমহান গল্প। তখন মুমীনের হৃদয়ে জমে থাকা প্রেমের তরঙ্গমালা উথলে ওঠে। প্রেম-মহব্বতের জোয়ার বয়ে যায়। রাসূল সা. এর জীবনাদর্শ নিয়ে বেশি বেশি চর্চা হয়। ঘরে ঘরে দুরুদের আওয়াজ জারি হয়। বিশেষ করে ১২ ই রবিউল আউয়ালে মসজিদে মসজিদে, পাড়ায় পাড়ায় এবং বাড়িঘরে যেভাবে মিলাদের অনুষ্ঠান করা হয় তা অবশ্যই উম্মতের সৌভাগ্যের লক্ষ্মণ।
জন্মভূমি বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ। অতচ রাষ্ট্রীয়ভাবে আমাদের দেশে এই মহান দিবসকে তার প্রাপ্য মর্যাদা দেয়া হয় না। জাতীয়ভাবে অনেকটা দায়সারা গোছের ভাব নিয়ে দিবসটি উদযাপিত হয়। প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, ধর্মমন্ত্রী একটি করে বাণী প্রসব করে মানুষের কল্যাণ কামনা করেন। সরকারী ছুটি ঘোষিত হয়। স্কুল কলেজ, মাদ্রাসা বন্ধ থাকে। এটাই জাতীয়ভাবে দেয়া মর্যাদার সবটুকু। সংস্কৃতিমন্ত্রণালয় ও ধর্মমন্ত্রণালয় কোনো উদ্যোগ নেয় না। ইসলামী ফাউন্ডেশনও উল্লেখযোগ্য তেমন ভূৃমিকা নিতে নারাজ। দুঃখজনক হলেও সত্য আমাদের দেশে অখ্যাত-কুখ্যাত অনেক কবি, সাহিত্যিক, রাজনৈতিক, শিক্ষাবিদ ও সংস্কৃতিকর্মীদের জন্মদিবস নিয়ে চেতনা বিতরণ করতে করতে এই মন্ত্রণালয় কাহিল হয়ে পড়ে। অতচ ঈদ ই মিলাদুন্নবী বা নবী দিবসের মর্যাদা কোনো কবি, সাহিত্যিক, রাজনৈতিক, শিক্ষাবিদ ও সংস্কৃতিকর্মীদের সাথে তুলনা করাও যায় না। কারণ তাঁর মর্যাদার তুলনা পৃথিবীর কারো সাথে চলে না। তিঁনি বেনিয়াজ। বে মিছাল। আল্লাহর পরে তাঁর স্থান! এ প্রসঙ্গে আধ্যান্তিক জগতের সম্রাট মুজাদ্দিদে জামান আল্লামা ফুলতলি র. তাঁর বিখ্যাত নালায়ে কলন্দর কাব্যগ্রন্থের একটি কবিতার দুটি লাইন প্রণিধানযোগ্য--- তিনি বলেছেন,
"আহাদ ও আহমদের মাঝে এইতো ফারাক ভাই
মীম রয়েছে আহমদে আর আহাদে সেই মীমটি নাই। "মীমের প্রার্থক্য হামদ ও নাতের একটি পারিভাষিক খোলস। এটা আধ্যান্তিক জগতের অত্যন্ত গভীর কথা। সুতরাং আমাদের স্বার্থে। পৃথিবীকে স্থিতিশীল রাখতে। মানুষের প্রতি মানুষের প্রেম জাগাতে সর্বোপরি পৃথিবীকে সুন্দর বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে মহানবী সা. এর জন্মদিবসকে সকলের মাঝে শ্রদ্ধা, স্বরণ এবং তাঁর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের মধ্য দিয়ে পালন করা উচিত। রাষ্ট্র এই দিনকে কেন্দ্র করে সপ্তাহব্যাপী রেডিও, টিভিতে তাঁর জীবনালোচনার আয়োজন করতে পারে। স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা বন্ধ না দিয়ে নূন্যতম সপ্তাহব্যাপী সিরাতপাঠের উৎসব করা যেতে পারে। কবিতা, রচনা ও উপস্থিত বক্তৃতার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে অন্তত তিন দিনের সিরাত আলোচনা ও বিষয়ভিত্তিক বই মেলার আয়োজন করা। রাষ্ট্রীয়ভাবে একটি পুরষ্কার প্রবর্তন করা যেতে পারে যা প্রতিবছর এই দিনে বিতরণ করা হবে। যারা সারাবছর মানব কল্যাণে যুগোত্তীর্ণ ভূমিকা রাখছেন তাঁদের মধ্য থেকে বাছাই বিশ্লেষণ করে অন্তত তিনজনকে এই সম্মানজনক পুরষ্কারে ভূষিত করা হবে। চাইলে প্রতি জেলা পরিষদের মাধ্যমে প্রতি জেলায় জেলায়ও করা যায়।
মাইকেল এইচ হার্ট আরো সুন্দর করে বলেছেন, "আমি বিশ্বাস করি অশান্তির বিশ্বে শান্তি আনতে হলে সমগ্র বিশ্বের একক ক্ষমতা আদর্শ রাষ্ট্রনায়ক মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতে অর্পণ করলেই তা শুধু সম্ভব।"
আপনি জীবনে অনেক কিছুই পড়ে থাকবেন। আরও অনেক পড়বেন এবং পড়তেই হবে। কেননা জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করতে পাঠের কোনো বিকল্প নেই। সেই পাঠের ভেতর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে মহানবী হযরত মোহাম্মদ সা. কে এবং সেটা আপনার আমার পরবর্তী প্রজন্মের সুন্দর জীবন বিনির্মাণের স্বার্থে।
আল্লাহ, রাব্বুল আ'লামিন।
রাসূলুল্লাহ, রাহমাতুল্লিল আ'লামিন।
আল্লাহ, জগতসমূহের পালনকর্তা।
রাসূলুল্লাহ, জগতসমূহের আশীর্বাদ।
ইরশাদ হচ্ছে, "হে নবী! আমি আপনাকে সৃষ্টি না করলে একদানা বালুকণাও সৃষ্টি করতাম না। "
পৃথিবীর সত্যাশ্রয়ী সকল ঐতিহাসিকগণ একমত যে, মহানবীর আগমণে পৃথিবী তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পেয়েছে। তিঁনি এসেছিলেন বলেই জগতবাসী নতুন জীবন পেয়েছে। তাই মানবজাতির ইতিহাসে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ মর্যাদা ও বিরল সম্মান পাবার যোগ্য এই দিন, যেই দিন বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মর্ত্যের এ পৃথিবীতে শুভাগমণ করে সমস্ত জগতবাসীকে ধন্য করেছিলেন ____
যুগের পর যুগ, দিবসের পর দিবস চিরন্তন মর্যাদা পাবার অধিকারী এই দিন। ধর্ম-বর্ণ সকল জাতি গোষ্ঠীর কাছে সমানভাবে সম্মানের দাবীদার এই দিন। বাস্তবতার বিচারেও অত্যন্ত যুক্তিনির্ভর সংগত কারণেই রাসূল সা. এর শুভাগমণের দিন। ঈদ ই মিলাদুন্নবীর দিন সর্বদিক দিয়ে বিশ্ববাসীর কাছে প্রিয় হওয়ার যোগ্যতম। কারণ, সয়ং আল্লাহতা'য়ালা ঘোষণা করেছেন, "তাঁর আগমণের কল্যাণেই পৃথিবীর সৃষ্টি "। মানুষ ফিরে পেয়েছে মানুষের মর্যাদা।
আল্লামা ফতেহ আলী রহ. তাঁর দেওয়ানে ওয়াইসীতে কী চমৎকার গেয়েছেন,
"ওয়াইসীয়া! আয দ্বীন ও ঈমান ইনকাদর তানিম ওয়া বাস
দ্বীনে মা এশক মুহাম্মদ সা. হুব্বে উঁ ঈমানে মা।"
আমাদের বেহেশতী ফুল শিশুমনে এই চিত্র এঁকে দিতে হবে, আমরা কোন নবীর উম্মত। তাদের জানতে হবে আমরা সেই নবীর উম্মত। চাঁদ সেতারা, আকাশ জমিন যার খেদমত করার জন্য সদা উদগ্রীব। জীন ফেরেশতারা যাঁর পদসেবা করে জীবনকে স্বার্থক করার জন্য সদা প্রতিক্ষায় ও দন্ডায়মান ছিলো, ফেরেশতা কূলের সরদার জীবরিল আমীন যাঁর সাক্ষাতে এসে বেয়াদবীর ভয়ে শত সতর্কতা অবলম্বন করতেন, যাঁকে মেঘমালা ছায়া দিয়ে রৌদ্র থেকে আড়াল করে রাখত, বৃক্ষ যার নির্দেশে স্থানান্তরিত হয়ে যেত, চন্দ্র যাঁর আঙ্গুলি ইশারায় দ্বিখণ্ডিত হয়েছিল, যাঁর উম্মত হওয়ার জন্য কতো নবী আলাইহি ওয়াসাল্লামগণ আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা জানিয়েছিলেন, যাঁর মর্যাদার বর্ণনা কোনো জবান দিতে পারে না, কোনো কলম লিখতে সক্ষম নয়, সেই শেষ এবং শ্রেষ্ঠ নবীর উম্মত আমরা। আজকের মুসলমান জাতি। পরিতাপের বিষয়, আমরাই নবী সা. এর প্রতি সবচেয়ে বেশি উদাসীন! লেখার কলেবর বৃদ্ধি না করে ছোট্ট একটি গল্প দিয়ে আজকের লেখার ইতি টানছি।
স্বপ্নে সয়ং রাসূলে আকরাম সা. এর কাছে ইসলামে দীক্ষিত হয়েছিলেন ড. ইসলামুল হক। তাঁকে অনুরোধ করা হয়েছিল, মুসলিম উম্মাহর জন্য কিছু বলুন। তিনি এর জবাবে বলেছিলেন, ইঞ্জিল শরীফে আছে, একদিন সকাল বেলা হযরত ঈসা (আ.) তাঁর কিছু অনুসারীর সাথে মিলিত হওয়ার মানসে গলীল হ্রদের পানির উপর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন, এ আশ্চর্যজনক দৃশ্য লক্ষ্য করে তাঁর অনুসারীরা বললেন, হুজুর, আমরাও কি এমনিভাবে পানির উপর দিয়ে হেঁটে যেতে পারবো? ঈসা জবাব দিলেন, পারবে। তবে শর্ত হচ্ছে, শুধুমাত্র আমার দিকেই দৃষ্টি নিবন্ধ রাখতে হবে। দৃষ্টি এদিক সেদিক হলেই ডুবে যাবে। তারা ঈসা আ. এর প্রতি দৃষ্টি নিবন্ধ রেখে পানির উপর দিয়ে অগ্রসর হতে লাগলো। কিছুদূর অগ্রসর পর তাদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হলো। ভাবলো, সত্যিসত্যিই কি আমরা পানির উপর দিয়ে যাচ্ছি না কি মাটির উপর দিয়ে। সন্দেহ সৃষ্টি হওয়ার পর তারা দৃষ্টি ঈসা আ. এর দিক থেকে একটু সরিয়ে পায়ের দিকে নিলো, তখনই তারা হ্রদের পানিতে তলিয়ে গেলো। ড. ইসলামুল হক বলেন, এ সংসারসমুদ্র পাড়ি দেওয়ার জন্য আখেরী নবী হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও আমাদের জন্য এ নির্দেশ দিয়ে গেছেন যে, একমাত্র তাঁর পবিত্র পদচিহ্ন অনুসরণ করেই অগ্রসর হতে হবে। দৃষ্টি যদি সেখান থেকে একটু এদিক সেদিক সরে যায়, ঈসা নবীর উম্মতের মতো আমরাও দুনিয়ার অথৈ সাগরে হারিয়ে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই।
পরিশেষে ফারসি কবিতার বাংলা কাব্যানুবাদ থেকে রাসূল প্রশস্তি মূলক কবিতার চরণ দিয়ে শেষ করছি _
"যে পা চলে তোমার পথে পূণ্যবান সে পা
তোমার মিলন নায় যে চড়ে ধন্য তাহার না
যে চোখ দেখে তোমার ছবি সে চোখ নাচে সুখে
যে মুখ গাহে তোমার গীতি ফুল ঝরে সেই মুখে।"

No comments