তেরেজা বিশ্বাস এনা’র কবিতা
তেরেজা বিশ্বাস এনা’র কবিতা
মনে হয় সবুজ ঘাসের ভেতর শুয়ে থাকি
যেখানে মাটি আমার সব ক্লান্তি শুষে নেবে
আজকাল কারো সাথে কথা বলতে খুব একটা ভালো লাগে না
ক্রমশই আমি বুঝতে পারছি মানুষ আমার ভালো লাগে না
আগে ও লাগত না এখনও লাগে না
আমার অন্ধকার ঘরে একা চলতে ইচ্ছে করে
খুব করে টের পাই আমি আর কাউকে বিশ্বাস করতে পারি না
ভরসা করতে পারি না
বন্ধু ভাবতে পারি না
প্রেমিক ভাবতে পারি না
শুদ্ধ কোন চোখ আমি দেখি না
বহুদিন পরে টের পেলাম আমি আর ভালোবাসতে পারি না
কাঁদতে পারি না মৃতদেহকে শুধু টেনে নিয়ে যাচ্ছি
মৃতদেহ টা ভারী হচ্ছে আর আমার ক্লান্তি বাড়ছে
নিকোটিন আমাকে আর টানে না
নিকোটিনের গন্ধে আমার তীব্র মাথা ব্যাথা করে এ শহর নিকোটিনের শহর
এ ব্যাথা সারাতে আমাকে ক্যাফেইন গ্রহণ করতে হয়
ভোর রাতে ঘুম ভেঙ্গে যায়
তুমি আর আমি পাহাড়ের চুড়ায় সাদা কাপড় পরে
বহুদিন ধরে টের পাচ্ছি বেঁচে থাকাকে আমি ঘৃণা করি
তবু মৃতদেহ টেনে বেড়াচ্ছি।
তুমি পুরো পৃথিবীর নদী দেখতে চাইছো
আমি নদী হলে তুমি আমার পাশেই তাবু পেতে শুয়ে থাকতে
আরেকটা জম্ন প্রয়োজন তাহলে সে জম্নে নদী হতাম
তুমি দিব্যি সেই নদীতে বহমান জীবন কাটাতে
আরেক জীবন দিও ঈশ্বর সে জীবনে আমাকে নদী বানিয়ো।
সব থেকে শুদ্ধতম মানুষের প্রেমে
ভেঙ্গে যাওয়া বাড়ির গায়ে আবার শ্যাওলা জমে ফুল ফোটে
যে চোখ আবার সপ্ন বোনে পৃথিবী দাপিয়ে বেড়াবার
পাহাড় নদী পেরিয়ে শুধু কয়েকটা
বইয়ের পাতা উল্টোনোর মতো আমি পরের পৃষ্ঠা হই
সে যে রাস্তা দিয়ে হেঁটে বেড়ায় পৃথিবীর প্রাচীন সব দুঃখ
তোমার প্রিয় অলকানন্দা তাই
তোমার প্রিয় রং কী তোমার ঠিক কীসে দুঃখ হয়
আমার জানা নেই
কোন বইয়ের পাতায় তুমি মুখ গুঁজে বসে থাকো
প্রেমে পড়লে মানুষ পাখি হয় তাই বুঝি
তুমি দিগন্ত জুড়ে উড়ে বেড়াও।
আজন্মকাল যে বুকের ভেতর কাঁঠালচাপা বুনলো
তাকে তুমি শরৎ উপহার দিও।
যেখানে বাশের মাচায় বসে পা দুলিয়ে
আনমনে জীবনের হিসেব মেলাই মেলে না ঠিকই
অফিস শেষে ক্লান্ত হয়ে বৃষ্টি ফোটা মাড়িয়ে মেঠো পথ দিয়ে হেঁটে চলেছি
যেখানে দিগন্ত মিশেছে যেখানে ভোরে মাচায় বসে ফিঙে গা ঝাড়ে
আমি হেঁটে চলি শিশির মাড়িয়ে দুপাশে সবুজ ছাপিয়ে
বাহারি ফুল সেখানে নানা রঙ্গের প্রজাপ্রতির মেলা
শহর বড্ড ক্লান্তি কর তবুও দিন শেষে ঘরে ফিরি
যেখানে কেউ আমার জন্য অপেক্ষা করে না
অফিস শেষে ঠিক আমি বাজার করি
পেঁয়াজ চা পাতা কিনে ঘরে ফিরি
জ্বর হলে একাই জলপট্টি দেই ওষুধ কিনি
আবার সকাল হলে হেটে চলি
জীবনের হিসেব আমার মেলে না
সত্যিই হয়তো কারোই মেলে না তবুও আমারা বাঁচি ক্লান্তিতে বাঁচি
হাসি গল্প করি গান গাই অপেক্ষা করি
জোছনার যে জোছনায় আমার গৃহত্যাগী হতে ইচ্ছে হয়
যে পঞ্চমীর রাতে আমার সিলিং এ ঝুলে যেতে ইচ্ছা হয়
তবু বাঁচি আমার দোলন চাঁপার গাছটার পাশে বসে থাকবো বলে
গোধূলি দেখবো বলে সন্ধ্যা দেখবো বলে
তুমি জিজ্ঞেস করবে কবে সকাল দেখেছো শুনবো বলে
আজও বাঁচি এই বুড়ো পৃথিবীটাকে মায়া করে
মায়াবী আরও একটা রাতের জন্য।

No comments