ঈদের আনন্দ উপভোগ করে চলতে চাই ।। কবি আল মাহমুদ ।। সাক্ষাৎকার গ্রহণ । রেদওয়ানুল হক

 
রেদওয়ানুল হক : আনন্দ-উৎসব হিসেবে আপনি ঈদকে কীভাবে মূল্যায়ন করেন?
আল মাহমুদ: আমি ঈদকে একটি খুশির দিন, আনন্দের দিন বলে মনে করি। ওই যে কাজী নজরুল ইসলামের একটি গান আছেনা...
ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ
তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে শোন আসমানী তাগিদ।।
তোর সোনাদানা বালাখানা সব রাহে লিল্লাহ
দে জাকাত, মুর্দা মুসলিমের আজ ভাঙাইতে নিদ।।
 
এই গানটিতেই কিন্তু ঈদের প্রকৃত মর্ম বলে দেয়া হয়েছে। ঈদ কী, কেনো, সবই আছে এতে। ঈদটাকে আমি খুবই উল্লাসের দিন হিসেবে গণ্য করি। আমাদের জীবনে আনন্দের সুযোগ খুব কম। যেটুক আছে সেটুকু উপভোগ করতে চাই। শিশুকাল থেকেই আমার কাছে ঈদ উৎসবের মতো। এসময় যার ঘরেই যাই সে ঘরেই কোরমা-পোলাউ ইত্যাদি সুখাদ্যের আমন্ত্রণ জানানো হয়। সবার ঘরেই একটু-আধটু খাওয়ার চেষ্টা করে থাকি। ঈদের খুশি সবার সাথে সমানভাবে ভাগ করে নিয়ে মনে তৃপ্তি অনুভব করি। শৈশবকালে এদিনটি আমাদের নতুন পোশাক-আশাকে সজ্জিত হওয়ার নিয়ম ছিলো। আজও আছে। আমিও সাধ্যমতো ভালো জামাকাপড় পরিধান করি। অনেকেই ঈদের দিনে আমাকে ঈদের প্রীতি-সম্ভাষণ জানাতে আসে। আমি তাদের সকলকে আমাদের গৃহে  কিছু খাবারের আমন্ত্রণ জানাই। এতে সকলের মনেই ঈদের খুশি ছড়িয়ে পড়ে। এটাই হলো আমার কাছে ঈদের মূল্যায়ন।
 
রেদওয়ানুল হক : ঈদের দিন আপনার কীভাবে কাটে?
আল মাহমুদ: মোটামুটিভাবে আমি শুয়ে বসে কাটিয়ে দিতেই অভ্যস্ত। বয়সের ভারে বাইরে খুব একটা যাই না। কারণ চোখে কম দেখি, কানেও কম শুনি। এ অবস্থায় ঘরে থাকতেই ভালো লাগে।
 
রেদওয়ানুল হক : শৈশবের ঈদ আর বর্তমানের ঈদ কোনো পার্থক্য অনুভব করেন?
আল মাহমুদ: আমাদের শৈশবের ঈদ ছিলো অত্যন্ত আনন্দ-খুশির দিন। কিন্তু বর্তমানের ঈদ হলো সালাম করেই হাত পাতা। এই নিয়মটা আমার কাছে সুখকর মনে হয় না। তবুও কালের নিয়মে সবকিছু বদলে যায়। এখন সময়ের সাথে মানুষের মানসিক আনন্দেরও কিছুটা পরিবর্তন ঘটেছে। আমি যতোটা পারি একালের ঈদের আনন্দ উপভোগ করে চলতে চাই।
: ঈদ নিয়ে আপনার বিশেষ কোনো স্মৃতি আছে কি?
আল মাহমুদ: ঈদ নিয়ে আমার ছোট সময়ের স্মৃতি আছে। ঈদের দিন আমরা ময়দানে ঈদের নামাজ আদায় করতে যেতাম। এখানে ফখরে বাংলা মাওলানা তাজুল ইসলাম সাহেব বয়ান দিতেন। তার বয়ান আমরা খুব মনোযোগ দিয়ে শুনতাম এবং ঈদের আনন্দ উপভোগ করতাম। নামাজ শেষে মুরুব্বিদের কদমবুসি করতাম। সমবয়সীদের সাথে কোলাকুলি করতাম। সকলেই খাবারের জন্য জোর করে তাদের ঘরে নিয়ে যেতো। আমরা ঈদে কোরমা-পোলাউ বেশ মজা করে খেতাম।
 
রেদওয়ানুল হক : ঈদ উপলক্ষে প্রতি বছর ঢাউস ঢাউস ঈদম্যাগাজিন বের হয়। কিন্তু সেখানে ঈদ অনুপস্থিত, ঈদের লেখা তেমন থাকে না। এর কারণ কি?
আল মাহমুদ: না, তাতে ঈদ অনুপস্থিত থাকবে কেনো? ঈদ থাকাটাই স্বাভাবিক এবং উচিতও। কিন্তু ঈদ উপলক্ষে যেহেতু এই সংখ্যা বের হয় তাতে কিছু উপন্যাস, কিছু গল্প, প্রবন্ধ, কবিতা ইত্যাদি থাকে। এর মাধ্যমে কিছু ভালো লেখা বেরিয়ে যায়। এটা আমাদের সৃজনশীলতার আনন্দের বিষয়। আমাদের সাহিত্যের উপকার হয়। লেখক তৈরি হয়। এটা তো ঈদকে উপলক্ষ করেই হয়। এটিকে ঈদের সফলতা বলতে হবে।
 
রেদওয়ানুল হক :  মাহমুদ ভাই আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আপনার মূল্যবান সময় দেবার জন্য।
আল মাহমুদ: তোমাকেও ধন্যবাদ।

No comments

নির্বাচিত লেখা

আফসার নিজাম’র কবিতা

ছায়া ও অশ্বথ বিষয়ক খ-কবিতা এক/ক. সূর্য ডুবে গেলে কবরের ঘুমে যায় অশ্বথ ছায়া একচিলতে রোদের আশায় পরবাসী স্বামীর মতো অপেক্ষার প্রহর কাটায় প্রাচী...

Powered by Blogger.