হরফের ছড়া-ফররুখ আহমদ

স্বর-বর্ণ


অ য়ে অতসী-তিসির মাঠ,
অশথ গাছের সামনে হাট,
অলিগলি শহর চাই,
অলিগলি শহর পাই॥


আ য়ে আনারস, আম বাগান,
আস্মানী রঙ ফুলটা আন,
আস্মানী রঙ মন টানে;
আ যেতে চায় আসমানে॥


ই কয়: ইলশেগুড়ি
ইলিশ মাছে ভরবে ঝুড়ি,
ইষ্টিশানে মিষ্টি পান
ইলিশ কিনে গায় সে গান॥


ঈ যায় ঈদগায়,
ঈদ এসেছে রাঙা নায়,
নতুন চাঁদের বাঁকা নায়;
(দীর্ঘ), ঈ যায় ঈদগায়॥


হ্রস্ব উ টা উড়ছে
রঙিন কাগজ ছুঁড়েছ,
উট পোকাটা বলে : এবার
উড়োজাহাজ ঘুরছে॥


(দীর্ঘ) ঊ টা ঊষাতে
রাঙলো দিনের ভূষাতে,
ঊষার হাসি ভোর বেলা
দেখছি দিনের রঙ খেলা॥


ঋ তে ঋষভ- ষাঁড়টা
বাঁকিয়ে রাখে ঘাড়টা
সারাটা দিন চায় খেতে
লড়াই নিয়ে রয় মেতে॥


এ চলেছে এঞ্জিনে
এলাচ দানা, রং কিনে,
থামার কথা নাই যে
একটানা যায় তাই সে॥


ঐ ধরেছে ঐকতান,
ব্যঙরা বলে: মজার গান,
অনেক মুখে একটা সুর
যায় ছাড়িয়ে পথটা দূর॥


ও শুনেছে ওদের কাছে
ওড়না, রাঙা আয়না আছে,
ও ধরেছে বায়না
ওড়না ছেড়ে আয় না॥


ঔ কাঁদে রাত দিন
পুরোপুরি সাত দিন,
ঔষধ খায় নি
রোগটাও যায় নি॥

স্বর-বর্ণ


ক য়ের কাছে কলমি লতা,
কলমি লতা কয় না কথা,
কোকিল ফিঙে দূর থেকে
কলমি ফুলের রঙ দেখ ॥


খ কে নিয়ে খেঁক শিয়ালী
যায় পালিয়ে কুমারখালি
পাখ-পাখালি খবর পেয়ে
খরগোসকে দেয় জানিয়ে॥


গ য়ের খেলা গোললাছুট
জিতলে চানা, হারলে বুট,
তোমরা খাবে কুটুর কুট,
আমরা খাব মুটুর মুট॥


ঘ য়ে ঘোড়া এল যেই
খোঁড়া হ’ল সকলেই,
কালো ধলো দুই ঘোড়া
দু’য়ে মিলে এক জোড়া॥

ঙ জানে রঙ ঢঙ,
রঙ নিয়ে খেলা সঙ,
লিকলিকে সরু-ঠ্যাং
লাফ দেয় কোলা ব্যাঙ॥


চ য়ে চাঁদ চৌপর
জেগে রয় রাত ভর,
চড়–ইয়ের বাসাটায়
চাঁদ এসে ঘুরে যায়॥


ছ য়ে ছড়ার শহরে
সুর উঠেছে নহরে,
রং তামাশা হাজারে
ছড়া ছবির বাজারে॥


(বর্গীয়) জ য়ে জামদানি
জাহাজ ঘাটে আমদানি;
দূর পাহাড়ে ফুল ফুটেছে
রঙটা নাকি জাফরানি॥


ঝ য়ের পাশে ঝিঙে,
ঝিঙে লতায় ফিঙে
ঝিঙে লতা জড়িয়ে গেলো
কালো গরুর শিঙে॥


ঞ র পাশে মিঞ
ব’লছে ইঁদুর দিয়ো,
বলছে বিড়াল মিঞাউ, মিঞাউ
কাঁদলে কোলে নিয়ো॥


ট য়ের পাশে টাটটু,
খেলছে ওরা লাটটু,
টয়ের কাছে টিয়ার ঝাঁক
অবাক হ’য়ে দেখছে কাক॥


‘ঠ য়ের মেজাজ খাট্টা কেন?’
‘তোমরা কর ঠাট্টা কেন?’
কাঠে কেন ঠোকর দিয়ে
কাঠ-ঠোকরা যায় পালিয়ে॥


ড য়ের কাছে ডুগডুগি
বানর এসে দেয় উঁকি,
ডুগডুগিটা বাজাবে
বানরটা ফের নাচবে॥


ঢ য়ের পাশে ঢাকা
কথাটা নয় ফাঁকা
ঢাকা শহর পাশে রেখে
বইছে নদী বাঁকা॥


ণ য়ের মাথা
যায় না মোটেই কাটা,
হাসলে মণি পড়ে,
কাঁদলে মানিক ঝরে॥


ত যের কাছে তারা
তাকায় পলক হারা
সকল তারা গুণতে গিয়ে
রাত হ’য়ে যায় সারা॥


থ য়ের থাবার জোরে
বাঘ সিংহ ঘোরে,
ভয় পায় না কাউকে, আওয়াজ
তোলে জোরে শোরে॥


দ য়ের কাছে দেয়ালে
দোয়েল নামে খেয়ালে,
ফুল ফুটেছে দোপাটি,
বাঁধছে খুকু খোঁপাটি॥


ধ য়ের কাছে ধান খেতে
ওঠে আমার মন মেতে,
ধকে নিয়ে ধু ধুমাঠ
ধুলা বালির রাজ্যপাট॥


(দন্ত) ন য়ে নাও খানা
যায় ছাড়িয়ে গাঁও খানা,
নদী নালার পথ ধ’রে
নাও চলে কার নাইওরে॥


প ভুলেছে পিঠাতে
পিঠার সোয়াদ মিঠাতে,
পিঠা নিয়ে চলছি
পুকুর পাড়ের ভিটাতে॥


ফ য়ের কাছে ফলসা
ফলসা গাছে জলসা
জলসা হবে আজ যে
ফিঙে পাখির রাজ্যে॥


ব য়ের কাছে বন বিড়াল
আনলো ডেকে সাত শিয়াল,
বোল-বোল-বোল আমের বোল
বাদুর এসে বাজায় ঢোল॥


ভ কে নিয়ে ভিল ভিলে
ভাটির দেশে যায় বিলে,
ভাটির দেশে যাই আমি
ভিলভিলে হাঁস পাই আমি॥


ম য়ে মেহদী ফুলে
মৌমাছিরা দুলে,
মৌচাকটা দেয় পাহারা
ঝড় বৃষ্টি ভুলে॥


(অন্তঃস্থ) য য়ে যুদ্ধ
করল রে দেশ সুদ্ধ,
লড়াই করা ভঙ্গী
কিখলো সকল জঙ্গী॥


র য়ের কাছে রঙের রাজা
খায় দেড় মণ পাঁপড় ভাজা,
র য়ের কাছে রঙের বাণী
তাই দেখে দেয় চোখ রাঙানী॥


ল য়ের কাছে লেজ তুলে
পুষি বিড়াল যায় দুলে,
ল য়ের কাছে লাল লাঠি
ল যেতে যায় ঝালকাঠি॥


বয়ের পাশে বাজনা বাজে
জাগলো সাড়া পথের মাঝে,
সাজলো খোকন বীরের সাথে
ব য়ের পাশে বাজনা বাজে॥


(তালব্য) শ শহরে
দেখে রাতের পহরে
বিজলি বাতির ঝিলিমিলি
পথের পাশে নহরে॥


(মুর্ধণ্য) ষ য়ে ষাঁড় এলো
শিং বাঁকিয়ে খড় খেলো
শক্ত হাতের লাঠি দেখে,
ষাঁড়টা শেষে ভয় পেলো॥


(দন্ত) স য়ে সমুদ্দুর,
সাতটা ভাই নয়তো দূর,
জাহাজগুলো রাত শেষে
সাত সাগরে যায় ভেসে॥


হয়ের পাশে হাটুরে,
তার পাশে এক কাঠুরে,
তার পাশে এক হরিণ ছানা
দেখতে বড় আদুরে॥


ড় টা রেগে যায় তেড়ে
মেঘের সাথে ডাক ছেড়ে,
কড়-কড়াকড়-করাৎ কড়
ড় কে নিয়ে আসলো ঝড়॥


ঢ় এসে কয় আষাঢ় মাস
মেঘরা যেনো জংলা হাঁস
আসমানী রঙ ঢাকলো,
সবুজ পাতা জাগলো॥


(অন্তঃস্থ) য় য়ে বায়না,
আজ ভোরে চাই আয়না
কাল দিয়ে ফের গয়না,
পরশু দিয় ময়না॥


(খণ্ড) ৎ য়ের সাথে
ঝড়রা হ’ল রাতে,
হঠাৎ রেগে উঠে
(খণ্ড) ৎ যায় ছুটে॥


(অনুস্বার) ং য়ে সং
দেখিয়ে গেলো রং,
ঢঙঢঙিয়ে ঘন্টা বাজে
ঢাং… ঢং… ঢং…॥


(বিসর্গ) ঃ দুই গোল্লা
বলেন বড় মোল্লা
দুঃখ গেলো ভাই রে;
তাইর নাইরে তাইরে॥


(চন্দ্রবিন্দু) ঁ চাঁদে
একলা ব’সে কাঁদে
খুকুর ছড়ায় খুশি হয়ে
দেয় সে ধরা ফাঁদে॥

⭐ FOR ANY HELP PLEASE JOIN


🔗 MY OTHERS CHANNELS

🔗 FOLLOW ME

🔗 MY WEBSITE

🔗 CALL ME
+8801819515141

🔗 E-MAILL
molakatmagazine@gmail.com

No comments

নির্বাচিত লেখা

আফসার নিজাম’র কবিতা

ছায়া ও অশ্বথ বিষয়ক খ-কবিতা এক/ক. সূর্য ডুবে গেলে কবরের ঘুমে যায় অশ্বথ ছায়া একচিলতে রোদের আশায় পরবাসী স্বামীর মতো অপেক্ষার প্রহর কাটায় প্রাচী...

Powered by Blogger.