রিকশা সংখ্যা
রিকশা বাঙালি জীবনে একটি প্রধান অনুসঙ্গ। অনুসঙ্গ এজন্য বলছি যে আমরা ঘর থেকে বের হলেই প্রথম যে যানবাহন আমাদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসে তা হলো রিকশা। এই রিকশা নিয়ে আমাদের আছে নানা অভিঙ্গতা, স্মৃতি, প্রেম, দুঃখ-ব্যদনা। ভালোসার এই বাহনটি নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন রিকশা সংখ্যা। যারা এই সংখ্যায় লেখা দিয়েছেন তাদের সবাইকে আন্তরিক মোবারকবাদ। আর যারা পাঠ করেছেন তাদের জন্য রইলো অফুরন্ত ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা। এই সংখাটিতে শুধু কবিতা ছড়া থাকলেও আলাদা আলাদা আছে গল্প, স্মৃতিকথা, প্রবন্ধ। যা পাঠে আপনাদের আনন্দ দেবে আশা করি। সবার শুভ কামনায়-
আফসার নিজাম
সম্পাদক
..................................................
সূচীপত্র
বহুদিন বাদে রিকশায় করে যাচ্ছিল আমার প্রেম : ময়ুখ চৌধুরী
ও সখিনা গেছোস কি না ভুইল্যা আমারে : ফকির আলমগীর
রিক্সা : তৈমুর খান
মেশিন-টানা রিক্সা : রানা জামান
রিকশা : মুসফিকুর রহমান
রিকশা সিরিজ : হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়
চলছি একা : রেদওয়ানুল হক
রিক্সা কোথায় : নীলাঞ্জনা নীলা
রিকশাচালক : শেখ একেএম জাকারিয়া
রিকশা : সোনিয়া কাদের
রিক্সা নিয়ে কবিতা : আহমেদ কায়েস
রিক্সাওয়ালার ব্যথা : কবির কাঞ্চন
রিকশা হলো আরামদায়ক : শাহিন আলম
রিকশাযাত্রা : মাহমুদ আল হাসান
মানুষ রিক্সাঅলা : মোস্তফা নূর
একটি কিশোর : কাজী জুবেরী মোস্তাক
রিকশা চালাই : বাউল মজনু
অলস রিকশা : মোরাদ হোসেন চৌধুরী
রিকশা চালক : মোঃ ওয়ালিউল ইসলাম সাকিব
রিক্সাওয়ালা : মোঃ আজিজুর রহমান
রিক্সাওয়ালার জীবন : নীল রায়
রিক্সাওয়ালা : বাঙ্গালি সাইমুন খাঁন
এক রিকশা : হাসান মোস্তাফিজ
রিক্সা পুলার : রেজা ফারুকী
রিক্সা স্মারক : তাজ ইসলাম
ভদ্দরলোক ও রিকশাঅলা : জিসান মেহবুব
..................................................
বহুদিন বাদে রিকশায় করে যাচ্ছিল আমার প্রেম
ময়ুখ চৌধুরী
বহুকাল বাদে এক পড়ন্ত বেলায়
দ্রুতগামী রাস্তা আর মন্থর ফুটপাতে হলো দেখা। রিকশার ভিতর
কোনোদিন ব্যবহৃত হয়নি যে মন- তার সঙ্গে দেখা হলো কুয়াশামোড়ানো পিপাসার।
কোথায় চলেছ এই অপরাহ্নে? রিকশার গতি
ক্রমশ সন্ধ্যার দিকে, তারপর বিধিবদ্ধ রাত্রিময় তুমি।
বেণীবাঁধা ইশকুল- সকালবেলার স্মৃতি নিয়ে
এখন সকাল শুরু, শর্করাবিহীন রংচায়ে স্তিমিত চুম্বন।
কাবিননামার জেরে নেমে আসা প্রথাগত রাত
স্বামী ও সন্তান মিলে খেলা করে দুটি বুক নিয়ে, তার নিচে
ব্যবহৃত হয়নি যে মন; নগণ্য স্মৃতির ভাঁজে বৃষ্টিহীন মেঘ জমে থাকে
যার কোনো অর্থ নেই কিংবা আছে ঘুমের ওষুধ।
জ্যামিতি গিয়েছে সরে তোমার লাবণ্য থেকে দূরে
তোমার শরীর থেকে সমুদয় অহংকার আজ
রিকশার চাকার সঙ্গে ঘুরে গেছে সূর্যাস্তের দিকে।
তবুও তোমার তিল যথাযথ আগের মতন
তবুও তোমার মন যথারীতি আগের মতন
তবুও আমার মন কেঁপে ওঠে আগের মতন।
প্রচ্ছদে কিছুই নেই, তবু আজও সেই পাণ্ডুলিপি
আজও তুমি প্রধানত মন- অপঠিত, ব্যবহারহীন।
তুমি আজ যতার্থই তুমি, নেমে এসো রিকশা থেকে
ফুটপাত ধরে হেঁটে যাও, সূর্যাস্তের আগে
একবার শেষবার অন্তত এ বেলা বুঝে নাও-
তুমিও মানুষ ছিলেন, একদিন বেঁচে ছিলে রিকশা থেকে নেমে।
..................................................
ও সখিনা গেছোস কি না ভুইল্যা আমারে
ফকির আলমগীর
ও সখিনা গেছোস কি না ভুইল্যা আমারে
ও সখিনা গেছোস কি না ভুইল্যা আমারে
ও সখিনা গেছোস কি না ভুইল্যা আমারে
আমি অহন রিস্কা চালাই
আমি অহন রিস্কা চালাই ডাহা শহরে
আমি অহন রিস্কা চালাই ডাহা শহরে
ও সখিনা
ও সখিনা গেছোস কি না ভুইল্যা আমারে
ও সখিনা গেছোস কি না ভুইল্যা আমারে.
এবার বানে সোনাফলা মাঠ হইলো ছারখার
দেশ-গেরামে সে সে নামে আকাল হাহাকার
এবার বানে সোনাফলা মাঠ হইলো ছারখার
দেশ-গেরামে সে সে নামে আকাল হাহাকার
আমরা মরি কি আসে যায়
মহাজনের পাওনা টাকায়
আমরা মরি কি আসে যায়
মহাজনের পাওনা টাকায়
বেবাক ফসল তুইলা দিলাম
আমরা তাগোর খামারে
ও সখিনা
ও সখিনা…
..................................................
রিক্সা
তৈমুর খান
দু একটি আজব রিক্সা চলেছে অবিরাম
আমাদের স্মৃতির জ্যোৎস্নায়
প্রত্নযুগের কোনো মানুষ তার মানসীকে
নিয়ে যায় আশ্চর্য সঙ্গমের দিকে
কে চালায় রিক্সা?
নিরুত্তর নির্জন পথে চাকার ঘর্ষণ শুধু
বিবর্ণ চালকের গান ঝরে পড়ে
শাড়ির আঁচলে ঢাকা রূপসির মুখ
হাতের হলুদ ঘ্রাণে শিহরন খেলা করে
সারি সারি রিক্সাগুলি অনন্ত রাতের দিকে যায়
আমাদের নিঃস্ব বারান্দা, কাঁপা কাঁপা গুবাক তরু
মহা বিস্ময়ে চেয়ে থাকে জানালায় ;
তবুও রঙিন পা অপার্থিব নূপুরে বাজতে চায়!
কোথাও থামে না রিক্সাগুলি
আমাদের শব্দগুলি যেতে চায় ওইসব প্রত্ন রিক্সায়
..................................................
মেশিন-টানা রিক্সা
রানা জামান
মানুষ-টানা রিকশা আজো
দেখি কলিকাতায়
ঘোড়ার মতো মানুষ দৌড়ে
লক্ষ্যে পৌঁছে হাপায়
বাংলাদেশে চলে না তো
রিক্সা পায়ে-টানা
প্যাডেল-মারা কমে গিয়ে
মেশিন গাচ্ছে গানা
বিদ্যুৎ চার্জে মেশিন চলে
পরিবেশ রয় ভালো
পশ্চিমবঙ্গের রিক্সা তুলতে
এদিক দৃষ্টি ঢালো।
..................................................
রিকশা
মুসফিকুর রহমান
রৌদ্রে পুড়ে নিজে, বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে
কত জনারে পৌছে দিয়াছি বাড়ি
কূড়ে ঘরে জ্বেলেছি আলো,
অন্ন পেলো অনাহারি।
শুধু পেলো না সম্মান, যে টুকু ছিলো প্রাপ্য তার
রিক্সাওয়ালা,অভাবের দ্বারে
শেল হানিছে বার বার।
সকরুন চিত্র, চিত্র নহে তুলির আচড়ে অলংকার
ধুকে ধুকে চলে, ক্ষুধা পিছনে ফেলে,
জরাজির্ন সংসার।
ঝড়িছে ঘাম, জীবনের দাম, জীবন্ত অহংকার
বিবর্ন শহর, দালান বাড়ি,
দিলো না অধিকার।
আমি এক ভাঙ্গা রিকশা, মামলা খেয়ে
উঠিতে পারিনে রাজ পথে
থেমে যাই তব মাঝ পথে।
মনে পড়ে যায়, ধূসড় সন্ধায় কতো স্মৃতী ঐ ধুলাতে
কপোত কপোতি গল্প সাধিয়া
ফিরে যেতো তব কূলাতে।
টুং টাং ঘন্টা বাজিতো, গেটের দারোয়ান চমকে
ফিরায়ে দিতো পাচটাকা কম ভাড়ায়এক ধমকে।
ফুল নিতো কেহ, ভুল নিতো কেহ,
কেহ এলিয়ে দিতো দেহ
বাসায় গিয়ে বে মালুম, ভুলিতো পথের স্নেহ।
রিকশার দায়, রিকশার গায়, ছড়ানো পা দানি
হুড উঠিয়ে, গান গায় চুটিয়ে, জড়ানো মায়াবিনী।
সব রিক্সা যুক্তি করে মহা সমাবেস
করবে একদিন
রাজপথ দখলে নিবে, বাস,ট্রাক তাড়িয়ে সেদিন।
শুধু রিকশা রবে টুং টাং শব্দ হবে প্যাডেল
মারার ক্ষন
কলের গারি, কালো ধোয়ায় বিষিয়ে উঠবে নাকো মন।
রেলের মতো চলবে রিকশা, আর এক রিকশা লাইন
রিকশা জংশন, রিকশা লন্ঠন,
কঠিন হবে রিকশা আইন
উড়বে রিকশা বিমানের মতো
রিকশা রন্দরে রিকশা মাইন।
জলে জলে ভাসা জলজ্যান্ত রিকশা কবি রবে কতো
ঘাটে ঘাটে তার, খেলা করে হাড়, পথে পথে মনউন্নত।
প্রান ভরে কাঁদে, প্রনয় বিবাদে, জড়ায়ে অজান্তে রে
পাষানিরে পাড় করে, কিছু প্রেম ধার করে
বেচে থাকে অ-শান্তরে।
সময়ের তিন কাটা, রিকশার তিন চাকা
এক হলে কখনো
বারোটা বেজে যায়, জীবনের ঝড়া ফুল শুকানো।
আর্ট করা চামরা ঝুলে পড়া সত্য যায়নাতো লুকানো।
রিকশা মেহমান আসে যায় নিস্প্রান
ভাড়ার দাবি দাওয়া যায় নাতো চুকানো।
একটা রিকশা, গলির মোড়ে বসে পথ গুনছে
একটা রিকসা, স্বপ্নের জাল বুনছে
একটা রিকশা, অসুস্থ মৃত্যুর আলিঙ্গনে-
পালিয়ে গেছে শতাব্দির বনে বনে।
একটা রিকশা, সংশয় শংকায় গ্যারেজে
সকল রিকশার অঙ্গে অঙ্গে বিরাজে।
একটা চাকা ই ঘুরে সৃষ্টি লগ্ন থেকে
একটা ই আকাশ হুড উঠে
একটা ই চেইন টেনে টেনে শত রিকশার ফুল ফুটে।
একটা ই চালক, বিষন্ন বালক, ভিষন প্রনয় উপোসী
পথো চেয়ে বসে আছে বিশ্ব ভোলানো রুপসী।
কখন আসবে কালের রিকসা হুড উঠানো বাহন
হাতে হাত, চোখে চোখ রেখে আত্মসমর্পন।
বর্ষা বৃষ্টি তখনই নামিলো, থামিলো কোলাহল
বন্ধ হলো হাট বাজারে মানুষের চলাচল।
একটা রিকশা সুন্দর! বুকের ভিতরে নিশ্চল।
..................................................
রিকশা সিরিজ
হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়
১.
ঘরে
সামান্য আলোটুকু পর্যন্ত নেই
দরজা জানলা সব চেপে বন্ধ করা
সব আলো যেন ঘুরিয়ে নিয়েছে কেউ
বাকি সব থাকে অন্ধকারে পড়ে
আলোর বুকে যারা
তারা সব গুটি গুটি পায়ে
দেখে যেন মনে হয়
আঁধারে হাতড়াচ্ছে পথ
আঁধারে যারা
চোখ যেন জ্বলে ওঠে সব
অবলীলায় বয়ে যায়
এক পথ থেকে অন্য পথে
২.
সবাই ছুটছে
কারও গায়ে
কারও গা লেগে নেই
বাকি যা কাজ
যেন এখনই সেরে ফেলতে হবে
কিনে নিতে হবে সব
মাটি, জল, গাছপালা
এমনকি মানুষও
দিন শেষে
কিছু অশক্ত নুব্জ মানুষ যেন
পায়ের নিচে গড়াগড়ি খায় ।
চলছি একা
রেদওয়ানুল হক
কেউ দিলো না ঠিক সায়
চলছি একা রিকশায়
রিকশা বড় দিলখোলা
হু হু বাতাস বিল তোলা।
বিলের স্বচ্ছ ঠান্ডা জল
কোথায় পাবো আন্ডা বল?
আন্ডা নাকি খুব মজা
তার চে ভালো ডুব মজা।
ডুবে ডুবে খাচ্ছি জল
জলে অনেক পাচ্ছি বল
বলের দেখা কেউ না পাক
আমার বুকে ঢেউ দাপাক।
ঢেউয়ে ঢেউয়ে বনপাড়া
ছুটছি কতো মনপাড়া
মনে মনে মনের সুর
কোথায় যেনো কনের পুর?
কনে গেছে তুলতে ফুল
পুরনো সেই ভুলতে ভুল
ভুলে ভুলে হাট-বাজার
ভরেই আছে ঠাট রাজার।
ঠাটরাজাদের ধরবে কে
আক্রোশে আর মরবে কে?
মরতে হলে বাচতে হবে
যুদ্ধজয়ে নাচতে হবে।
নাচতে নাচতে দিক সায়
চলছি একা রিকশায়।
..................................................
রিক্সা কোথায়
নীলাঞ্জনা নীলা
সেই সে যেবার বৃষ্টি হলো পূজোর মাসে
পথ-ঘাট সব জল থৈ থৈ
রিক্সা কোথায়!
তুমি তখন অপেক্ষাতে বসে ছিলে, এদিকে আমি কিভাবে যাই,
সে কথাই ভাবছিলেম।
তখন তো আর ফোন ছিলোনা, শুধুমাত্র চিঠি ছিলো
আর বসে মুখোমুখি যা কিছু সব কথা হতো।
কি যে করি, ভাবছি তখন,
রিক্সা কোথায়! কি করে যাই!
তোমার তো একটুকুতেই রাগ উঠে যায়। মাঝে-মধ্যে মন বলতো, আজই শেষ! আর না! খুব হয়েছে! কিন্তু আমি হেরে যেতাম, তোমার চোখের বিষণ্ণতায়;
তবু সেদিন ভাগ্য ভালো একটা রিক্সা খুঁজে পেলাম,
এই রিক্সা যাবেন নাকি টিএসসিতে? ভাড়া আমি বাড়িয়েই দেবো। চলুন না ভাই!
তখনও ভাই ডাকের মূল্য ছিলো, তেড়ছা নজর কাটিয়ে দিতো।
বেইলি রোডে এক হাঁটু জল, বেচারা রিক্সাওয়ালা প্যাডেল ঘোরায় টেনে টেনে;
ওদিকে তো আমার তাড়া, তুমি তো বলেই খালাস,
‘আসতে হবে।’
এই যে ভাই, একটু প্লিজ জোরে চালান।
অবশেষে পৌঁছে গেলাম যথাস্থানে, কিন্তু এখন তুমি কোথায়!
বৃষ্টি আবার নামলো বলে, ভিঁজতে আমার আপত্তি নেই, তুমিও জানো
কিন্তু এখন তুমি কোথায়!
ওই সময়েই তোমার বন্ধু তমাল ভাইয়া সামনে আমার এসে দাঁড়ালেন,
‘কখন এলে? নিমগ্ন আসেনি বুঝি! বড্ড পাগল, এলোমেলো। নাটাই তুমি ছেড়ে দিওনা, বুঝলে? একটুখানি কঠিন হয়ো।’
হেসে ফেললাম কথা শুনে, তখনই বৃষ্টি এলো, এক ছুটে ক্যাফেটেরিয়ায়
কে জানতো তখনই তুমি, এসে খুঁজবে আমায় সে বৃষ্টিতে!
বোকারা রাগে বেশী, তেমনি করে সন্দেহ, তুমিও তেমনই ছিলে,
কে একজন বলে ফেললো, ‘রিনিকে তো দেখলাম ক্যাফেতে ছুটে যেতে, সাথে ওর তমাল ছিলো।’
অমনি তুমি রেগেমেগে অস্থির হয়ে ফিরে গেলে; বোকা তুমি! তাইতো তুমি একলা ভীষণ
বিকেল নিয়ে বসেছিলেম শুধু তোমার অপেক্ষাতে,
সন্ধ্যে যখন গড়িয়ে গেলো রিক্সা কোথায়! ফিরে এলাম।
কে জানতো আজকে আবার এমন করে দেখা হবে তোমার সাথে রিক্সা স্ট্যান্ডে
এমনই বৃষ্টি দিনে?
কিন্তু আজও রিক্সা যে নেই
হঠাৎ এক রিক্সা দেখে, এই রিক্সা যাবেন নাকি? একই সাথে বলে ওঠা,
দুজনেই চমকে গেলাম, চেয়ে দেখি সামনে তুমি।
বললে আমায়, ‘কেমন আছো? কোথায় যাবে, নামিয়ে দেবো? আমি যাচ্ছি টিএসসিতে।’
কিন্তু আমার অন্যপথে যাবার তাড়া, আত্মজ অপেক্ষাতে বসে আছে।
..................................................
রিকশাচালক
শেখ একেএম জাকারিয়া
রিকশাচালক রিকশা চালান
শুধুই তিনি পেটের দায়,
রিযিকদাতা দিছেন রিযিক
তারই দুটি শক্ত পায়।
করেন নাতো লুণ্ঠন চুরি
করেন শুধু পরিশ্রম,
এমনি করেই রিকসাচালক
করেন সময় অতিক্রম।
কায়িকশ্রমের পয়সা দিয়ে
চালান নিজের পরিবার,
অসৎ পথে যান না তিনি
হোন না কোনো দুরাচার।
শালিনতা,ভালো ভাষা
সাজায় মনে প্রেমের সাজ,
একটু আশা ভালোবাসা
চান সমাজের কাছে আজ।
..................................................
রিকশা
সোনিয়া কাদের
একটা শক্ত নাইলনের রশি আমাকে তোমার ঠিকানায় বেঁধে রেখেছে
তোমার চালকের ( ড্রাইভার ) চুপচুপে ঘাম আমার ধরণীকে তৃষ্ণা থেকে রক্ষা করছে
এই বিকেলে তোমাকে নিয়ে যখন লিখছি –
তোমার টুংটাং বেল সঙ্গীত ছাড়া কোন সুরই আমাকে আকর্ষন করছে না
তুমি জন্ম থেকে চলছো , বড় ঠাকুরের মতো জ্বলছো না
তোমার হুড তোলা অথবা হুডখোলা ছাদের তলের
পলক্ষণহীন স্মৃতিগুলোর আরামে গতির কোলে দুলাতে দুলাতে
তুমি ধিক্কার দিচ্ছো তোমার আবিষ্কারককে
ঐ হাড় ঝিরঝিরে দুটি পায়ের পেশী কুলুর বলদের মতো ঠেলে চালাচ্ছে
তোমাকে হাওয়ার বেগে উড়াবে , সে শক্তি তো পেট্রোলের ও নেই।
তোমার মনের খবর কেউ রাখে ওনা
দুঃখ করনা তোমার চাইতে দুঃখবতী সখিনা
তারে রেখে তোমায় নিয়ে ঢাকা শহর ঘুরছে তার মনের মানুষ।
..................................................
রিক্সা নিয়ে কবিতা
আহমেদ কায়েস
রিক্সা দিয়ে, ঘুরছি গিয়ে
সারা শহর, সময় নিয়ে
সাথে নিয়ে, প্রেমিকা আর
বন্ধু বান্ধব।
রিক্সা ছাড়া, হয়না ঘোরা
মনের শখে, হাঁটছে যারা,
একটা সময়, উঠেই পড়ে
ক্লান্ত যখন, যায়না চলা
রিক্সা ছাড়া ।
ধর্মঘটে,
আর গাড়ি নেই, রিক্সা আছে
জাতীয় বাহন
কয়েকটাকা ভাড়া বেশি
তাতেও খুশি ।
রিক্সা মোদের
সপ্তাহ, মাস, প্রতি দিনের
সাতকাহন ।
সঠিক ভাড়া, রিক্সাওয়ালার
পেতেই হবে, রিক্সাবিহীন
চলেনা দিন ,শহরবাসী
বুঝতে হবে ।
আমিও কিন্ত মাঝেমাঝেই
আনলিমিটেড রিক্সা নিয়ে
ঘুরতে থাকি।
শখ ফুরোলে যাই ভাড়া চায়
দিয়ে ফেলি দেইনা ফাঁকি।
..................................................
রিক্সাওয়ালার ব্যথা
কবির কাঞ্চন
রিক্সার প্যাডেলে পা চালিয়ে
সংসারের চাকা ঘুরে যার
যাত্রী, একবারও ভেবেছো কী
কতো ব্যথা বুকে তার?
জীবিকার তাগিদে নিয়ে এই রিক্সা
উঁচুনিচু সড়কে চলে যে
সারাদিন ঘেমে ঘেমে দিন শেষে
স্বজনের ভালোবাসা খোঁজে সে।
..................................................
রিকশা হলো আরামদায়ক
শাহিন আলম
শব্দ দূষন বাতাস দূষন
ময়লা ভীষণ গায়ের ভূষন
শান্তি কোথাও নাইরে
রিকশা চেপে যাও চলে যাও
এই শহরের বাইরে
দেহ মনে শান্তি পাবে
কথা দিলাম ভাইরে।
রিকসা চলে আস্তে ধীরে
দেখবে নদী বইছে তীরে
লাগবে হাওয়া গায়ে
ইচ্ছে হলে থামতে পারো
পা বাড়িয়ে নামতে পারো
একটা গাছের ছায়ে।
রিকশা হলো আরামদায়ক
ও নিরাপদ গাড়ী
রোজ দুপুরে রিকশা করে
ফিরতে পারো বাড়ি।
..................................................
রিকশাযাত্রা
মাহমুদ আল হাসান
ছোটবেলা এক রোদ্দুর দুপুরে
দাদাবাড়ি থেকে ফিরছি বাসায় অবেলা করে
রিকশাই সম্বল তখন মেটেপথের উড়োজাহাজ
এবড়োখেবড়ো পথ, রিকশা কাত্ হয়ে যায় কখনো
কিছু দূর পর পর বাঁক ভেঙে আবার চলা
রিকশার হুড লাগিয়ে ভেতরে আমি মা আর ছোটভাই
রোদের কড়াতাতে রিকশাওয়ালা বেচারা ঘর্মক্লান্ত
দেখে মায়া মায়া লাগে
উঁচু-নিচু পথ, কখনো প্যাডেল মেরে চালান
কখনো টেনে নিয়ে যান
হঠাৎ এক কড়ই গাছের শিকড়ে
রিকশার গতিময় চাকা লেগে ঝপ্ করে থেমে গেলো
নিয়ন্ত্রণহারা হয়ে আমি ছিটকে পড়ে গেলাম নিচে
একেবারে রাস্তা থেকে নিচে, ঢালুতে
ব্যথা যাই পেয়েছি সেরে উঠবে
বিপত্তিখানা যা ঘটলো তা এই—
পড়েছি তো পড়েছি
কোন্ বেলেহাজ কে যেনো ছেড়ে গিয়েছিলো ওখানে
রাতে গলাভর্তি খাবারের সৃষ্ট মল
আমি বেচারা ওখানেই পিছলে পড়লাম
এ্যাঁ এ্যাঁ করে কান্না জুড়ে দিলাম আমি
মা সান্ত্বনা দিতে থাকলেন আমাকে
কী লজ্জার রেকর্ড গড়েছি, আজো ভুলিনি
ভালো মানুষ রিকশাচালক
পানি এনে ধুয়ে দিলো আমাকে
তার প্রতি এখনো কৃতজ্ঞ আমি
..................................................
মানুষ রিক্সাঅলা
মোস্তফা নূর
পান্তা গিলে রিক্সা টানি
দুপুর গড়ায় ঘামে।
ঘামের মূল্য লোপাট করে
দেশ নেতাজীর নামে।
এখন দেশটা চুপ আছেযে
হরতাল নেই টানা।
দ্রব্যমূল্য লাফিয়ে বাড়ে
আওয়াজ দেয়া মানা।
রোজগার তো আর বাড়েনা
ঝুট ঝামেলার দায়।
পাড়ার লোকে হুক্কাটানে
হাঁড়িতে ভাত নাই।
মরার আগে মরছি ধুঁকে
মানুষ রিক্সা অলা।
পীর সাহেবে ছবকে খান
দুধ-ঘি সবরিকলা।
কষ্ট করে রাত-বিরাতে
বাড়তি টানি ক্ষেপ।
বাজেচিন্তা বৌয়ের মাথা
লাল চোখ ঢেপঢেপ।
ঘামের টাকা পকেট কাটে
শেষে বৈদ্য বাড়ী যায়।
পীর-বৈদ্য ব্যবসা হাঁকায়
তোর স্বামী তোর নাই !
সহজ কিন্তু রিক্সা টানা
বৌ টানা ভাই যায়না।
জটিল চক্র শান্তি নাশে
মিছে শানায় বায়না।।
..................................................
একটি কিশোর
কাজী জুবেরী মোস্তাক
একটা কিশোর ,
সময়ের পাশ দিয়ে নীরবে হেঁটে চলেছে
গ্রামের মেঠোপথ পেরিয়ে শহরে-শহরে
ময়লা টি শার্ট আর ছেঁড়া জিন্স পরনে
পুরোনো চটি টারও তলা গেছে ক্ষয়ে ৷
একটা কিশোর ,
গ্রামের মেঠোপথ মারিয়ে এসেছে এ শহরে
দু’বেলা দু’মুঠো খাবার আর বাঁচার অন্বেষণে
পঙ্গু মা আর ছোট বোন যে আছে ওর ঘরে
বাবা?
সেতো কবেই পালিয়েছে পৃথিবীর মায়া ছেড়ে ৷
একটা কিশোর ,
রোদে পুঁড়ে ঘামে ভিজে চলছে ওলি গোলিতে
রিক্সার প্যাডেল টাও টিক মতো পায়না কো ছুঁতে ,
তবুও সে কিশোর রিক্সা চালায় খাদ্যের অন্বেষণে
শ্রেণীবৈষম্য আর ইট,পাথরে গড়া এ নিষ্ঠুর শহরে ৷
একটা কিশোর ,
কথা ছিলো স্কুলে যাবে আর দুরন্তপনায় মাতাবে
অথচ !
পাঠশালার গন্ডিও পেরোতে পারেনি গরীব বলে
দুরন্তপনা আটকে গেছে আজ রিক্সার প্যাডেলে,
লেখাপড়া করে বড় হওয়ার স্বপ্ন সে ভুলে গেছে
সে শুধুই জানে,ঘরে তার পঙ্গু মা আর বোন হাভাতে ৷
..................................................
রিকশা চালাই
বাউল মজনু
রিকশা চালাই খাই-
এ গলি ও গলি রাস্তায় রাস্তায়
দিন মান ঘুরি,দুটি টাকার আশায়।
এই ভাই যাবেন-আসেন,
কোথায় যাবেন বলেন ভাই?
দরদামের দরকার নাই,
গরীব মানুষ যা দিবেন দিয়েন।
এই যে আমার রিকশাটা
এটা আমার জীবন ক্ষয় করে,
কিন্তু আমার পরিবারকে বাঁচায়!
এক দিন যদি না চলে,
পেটে ভাত যায় না মাথায় হাত।
আমি রিকশাটা খুব যতন করি,
যেমন আমার বাবা আমাকে
যতন করতো।
কাজ শেষে তালা দিয়ে রাখি,
যেমন আমার মা আমাকে
ছোট বেলায় বুকের সাথে
আচঁলে বেঁধে রাখতো।
আর কত বলব ভাই
আইসা পড়লাম—
..................................................
অলস রিকশা
মোরাদ হোসেন চৌধুরী
ব্যাস্ত নগরীর কোলাহল শেষে
ছুটে চলেছি আমি
অলস রিকসা নিয়ে
টং টং আওয়াজ করে
তীক্ষ্ণ আওয়াজে দূর হচ্ছে যতসব ক্লান্তি
একটু গা হেলিয়ে বিশ্রাম নেওয়ার প্রায়াসে ছুটে চলেছি দ্রুত
ছুটে চলেছি একা ,সঙ্গ করে নিচ্ছি শুধুই অলস রিকসা
দুচোখে ঘুম নেই, নির্ঘুম চোখে আছে যত সব অচীনপুরের স্বপ্ন
স্বপ্নলোকে বিভোর হয়ে ক্লান্ত পায় দু একটা প্যাডেল দিয়ে চলছি বেশ
অলস রিকশাও আমার আলসামি দেখে খুশি
মনের অজান্তে হাজার বছরের স্বপ্নগুলো ধরা দিচ্ছে
ভাবছি, তোমায় রিকশার ব্যাকসিটে বসিয়ে
এই রাত্রির নগরী ঘুরে বেড়ালে মন্দ হত না
অতি আগ্রহে, প্রথমেই নদীর পাড়ে নিয়ে যেতাম তোমায়
সাথে সঙ্গী করে অলস রিকসা আর আমায়
শিশির ভেজা ঘাসে বসে কথার ভেড়াজালে বন্দি হতাম
একে অপরে…
গল্প শুনাতাম, অবাস্তব, অলৌকিক, এমনকি হরর
গল্প শুনে ভয়ে কেঁপে গেলে জরিয়ে ধরবে
আর সব শেষে চন্দ্রের সন্নিকট কিছু আলো তোমায় দেব
আবার ফিরব সেই ব্যাস্ত নগরীতে…
টুং টাং শব্দে…
..................................................
রিকশা চালক
মোঃ ওয়ালিউল ইসলাম সাকিব
আমি সংগ্রাম করি প্রতিনিয়ত,বেঁচে থাকারই তরে,
সারাদিন ধরে রিকশা চালাই,রাত করে ফিরি ঘরে।
তিন সন্তান আর বৃদ্ধা মা,কিভাবে যে টানি আমি?
সংসার চালাই কেমন করে,তা জানে কেবল অন্তর্যামী।
প্রতিদিনই আমি যুদ্ধে নামি,কিছু পেট বাঁচানোর দায়ে,
ভাড়া বেশি চাইলে ভাই,বেধড়ক মার পড়ে মোর গায়ে।
রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে,আমি বয়ে চলি শত ভার,
কত কষ্ট করছি যে আমি,কেউ রাখেনা হিসাব তার।
মাঝে মাঝে কেউ মায়া করে,ভাড়া দেয় কিছু বেশি,
চাইনা তো ভাই বেশিকিছু,অল্প পেলেই আমি মহাখুশি।
সারাদিন যা কামাই করি,অর্ধেক যায় মালিকের কাছে,
ভয়েতে আমি কিছুই বলিনা,যদি রিকশা না দেয় পাছে।
দুমুঠো চাল আর শবজি কিনে,ঘরে ফিরি অনেক রাতে,
বউ ছেলে-মেয়ে মাকে নিয়ে,কষ্ট করে পেট পুরোই তাতে।
কোনো দিন আমি একবেলা খেয়ে,ছেলে মেয়ে কে খাওয়াই,
ছেলে মেয়ের মুখে হাসি দেখলেই,নিমেষে সব কষ্ট ভুলে যাই।
সমাজে সবাই হেয় করে মোরে,শুধু রিকশা চালাই বলে,
কাধের সাথে কাধ মিলিয়ে আমার,কেহ নাহি পাশে চলে।
হাজার কষ্ট জমেছে বুকে,আমার বলার কেউ যে নাই,
রিকশা চালাই বলে কি আমি,কোনো মানুষ নারে ভাই?
..................................................
রিক্সাওয়ালা
মোঃ আজিজুর রহমান
রিক্সাওয়ালা
রিক্সা চালাই রোজ,
ধনী-গরিব সবাই সমান
দেখে রিক্সাওয়ালার চোখ।
তিন চাকা তে ভর দিয়ে সে
হাজার স্বপ্ন বোনে,
সকাল-দুপুর সাজের বেলা
বিরাম ছাড়া চলে।
রিক্সাওয়ালা ভাবে
জগতে সে নিম্ন শ্রেণীর লোক,
জানে না সে তাকে ছাড়া চলতে পারে না
এই সমাজের লোক।
..................................................
রিক্সাওয়ালার জীবন
নীল রায়
সারাটি দিন রোদের তাপে আর বৃষ্টির জলে ভিজে
অবিরত চালিয়ে যাচ্ছে, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে
এই রাস্তা থেকে ঐ রাস্তা, এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায়
চলছেই তার তিন চাকার ভাড়ায় চালিত রিক্সাখানা।
দিন শেষে কখনও দু’শত কিংবা চারশত টাকার উপার্জন,
মহাজনের হাতে চলে যায় এক-তৃতীয়াংশের বেশি,
রাত্রিবেলায় আধা কেজি চাল আর দু’শ গ্রাম ডাল নিয়ে ঘরে ফেরা ক্লান্ত শরীরে।
শত অসুস্থতায় ভুগছে সে, তবুও চালাতেই হবে রিক্সা,
না হলে উপোস থাকতে হবে স্ত্রী আর সন্তানদের নিয়ে,
এভাবে-ই চালিয়ে যাচ্ছে তার উপার্জনের একমাত্র হাতিয়ার।
কখনও রিক্সা ভাড়া নিয়ে আবার কখনও ছোট্ট ভুলের মাশুলে
যাত্রীর হাতে খাচ্ছে প্রহার, হজম করতে হচ্ছে অসহনীয় অকথ্য ভাষায় গালাগাল।
তবুও জীবনযুদ্ধে থেমে নেই একটি দিনের জন্যেও,
অভাবের সংসার বহন করতে খেটে-ই চলছে অবিরত,
আর; এটা-ই হচ্ছে একজন প্রকৃত রিক্সাওয়ালার কঠিন জীবনযাপন।
..................................................
রিক্সাওয়ালা
বাঙ্গালি সাইমুন খাঁন
তিন চাকার গাড়ি আমি
গরিবের গাছে অনেক দামি,
মালিক আমার প্যাডেল ঘুরায়ে
কামাই করে দু চার পয়সা কড়ি ।
হস্তির মতো কিছু মানব এসে চরে আমার পিঠে
ব্যস্তার ভাষায় ধমকায় ঐ রিক্সাওয়ালা তাড়া তাড়ি যাওরে,
টাকাওলারা ভাবে, রিক্সাওলারা আবর্জনা কিট
এই সমাজের মাঝে ।
গরিব বলে ঘৃনার চোখে
দেখনা বন্ধু রিক্সাওয়ালাকে ,
তারা রিক্সা না চালালে
দ্রুত গন্তব্যে পিছবে তোমরা কি ভাবে ।
দূর্নীতি নারী মদের নেশায়
বিভর যখন তোমরা জগতে,
রিক্সাওলারা দু মুঠো অন্নের সন্ধানে
তথন মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ।
বন্ধু কর্ম দেখে ঘৃনা করনা কাউকে
মানুষের বড় ধর্ম হালাল কর্ম
তুমি অন্নেষণ কর জগতের মাঝে,
রিক্সাওয়ালারাও মানুষ
তোমার মত এই সুন্দর দুনিয়াতে ।
..................................................
এক রিকশা
হাসান মোস্তাফিজ
এক রিকশা খাচ্ছে শয়তানের রক্ত
সেই রিকশার দিক তাকালে ভঙ্গিমা পঁচে,
আত্মহত্যাকারীদের লাশ খুঁজে বেড়ায় এই রিকশা
নিজে পান করে শয়তানের রক্ত,
অন্যদের পান করায় সেক্সস্বাদের মধু।
ভাড়ায় খাটে না রিকশাটি
বরং আহবানে খাটে,
সাদা আলোয় পিতলের বেল বাজিয়ে
হিজরাদের ঘৃণা করে,
আলৌকিক বড়শির টানে
চলছে দিন-রাত,ট্রাফিক ঘুষ দিয়ে।
..................................................
রিক্সা পুলার
রেজা ফারুকী
রিক্সা চালায়
নিঃস্ব মানুষ
পেটের দায়ে রিক্সা বয়
স্বপন দেখে দুচোখ বায়,
ঝড় বৃষ্টি রোদ দুপুরে
কি যে তার কদর হায়
যাবে তুমি আমায় নিয়ে
মোর বাটির আংগিনায়
অথবা
অফিস বেওসার
খাশ কামড়ায়,
হালাল রুটি হালাল রুজির
সহজ পথ
শৱীর খাটায় দিন ভর
রাত হলেই যে নিঝুম ঘুম
কেউ পায় না তাৱ খবর,
মিছা কথার দরকার নাই
কাজ কামে ফাঁকি নাই
ঠক বাজিতে
ঠকান নাই
রডের বদলে বাঁশ দিয়ে
ইমারাত তৈরির প্যাচাল নাই
হ্যাকারদের সাথে যোগ দিয়ে
দেশের টাকা পাচার করি
বিদেশেতে সম্পদ/বাড়ী গাড়ীর
স্বপন নাই
পান্তা ভাত মরিচ দিয়ে
পেট ভরে কপচাইয়া খায়,
সহজ সরল মানুষ গুলো
মোটা কাপড় মোটা ভাত
খাওন দাওন করি তারা
ছেলে পুলে পড়াতে চায়
এমন একটি দেশের চিন্তায়
বিভোর থাকে সব সময় ৷
..................................................
রিক্সা স্মারক
তাজ ইসলাম
রিক্সা ক্রমাগত হেঁটে যাচ্ছে যাদুঘরে
অথচ রিক্সা ছিল বন্ধুর পথের ত্রাতা
রিক্সা এখন অস্তগামী এক বাহনের নাম
দুর্দিনের বাহনবন্ধু রিক্সা
এ তল্লাটে থাকবে না আর
আধুনিকতার ভয়াল থাবায় হারিয়ে যাবে কালের গর্ভে
আগামী প্রজন্মের জন্য
অতিব জরুরতে আমরা করছি একটি
রিক্সা স্মারকের মহৎ আয়োজন।
..................................................
ভদ্দরলোক ও রিকশাঅলা
জিসান মেহবুব
স্যুট কোট টাই পরা ভদ্দরলোক
কারে যেন খুঁজে ফেরে তার দুটো চোখ।
কোথাও যাবেন তিনি দেখে বোঝা যায়
অদূরে রিকশাঅলা তার দিকে চায়।
“এ্যাই খালি, এ্যাই এ্যাই যাবি ফেরিঘাট?”
এলো না রিকশাঅলা ভারী যেন গাঁট!
লোকটা এগিয়ে গেল, বোঝা গেল রাগ
“যাবি না যখন তুই, তবে ব্যাটা ভাগ!”
বলল রিকশাঅলা, কাকে বলছেন?
“আরে মগা! শুনলি না, কতটুক লেন?”
-খালি, খালি, করছেন! খালি কার নাম?
রিকশা চালাই বলে দেন না যে দাম!
আমাকে তুইতোকারি কেন করবেন?
আমি কি চাকর কারো উত্তর দেন?
ব্যবহারে বংশের শুনি পরিচয়
স্যুট কোট টাই মানে ভদ্রতা নয়।
রিকশাঅলার কাছে জমে যায় ভিড়
লোকটা করতে থাকে দাঁত কিড়মিড়।
কথায় না পেরে শেষে ভদ্দরলোক
সামনে হাঁটতে থাকে চেপে দুই ঢোঁক।
⭐ FOR ANY HELP PLEASE JOIN
🔗 MY OTHERS CHANNELS
🔗 FOLLOW ME
Facebook: facebook.com/molakat
Facebook: facebook.com/afsarnizam
Instagram: instagram.com/molakat
Instagram: instagram.com/afsarnizam
Twitter: twitter.com/afsarnizam
🔗 MY WEBSITE
🔗 CALL ME
+8801819515141
🔗 E-MAILL
molakatmagazine@gmail.com
No comments