বিজয় দিবস সংখ্যা ২০১৯

সব জাতির কোনো না কোনো কারণে তাদের অধিকারহারা হয়। কিন্তু সব জাতিই সেই অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করে তাদের অধিকার আদায় করতে পারে অর্থাৎ বিজয় অর্জন করতে পারে না। বাংলাদেশীরা এমন এক জাতি যারা স্বাধীনতার জন্য লড়াই করে তাদের বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। অত্যাচারী শোষক শ্রেণির কাছ থেকে নিজের হিস্যা বুঝে নিয়েছে। সত্যিই এই জাতি খুবই ভাগ্যবান। কারণ পৃথিবীর অনেক জাতিই যুগ যুগ ধরে তাদের অধিকার অর্জনের সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে কিন্তু সেই অধিকার বা বিজয় অর্জন করতে পারেনি। এই ভাগ্যবান জাতির বীর সন্তানরা যুদ্ধের মাধ্যমে জয় অর্জনা করেছে তাদের আমরা জানাই আমাদের শ্রদ্ধা। আর যারা এই বিজয় অর্জন করতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন তাদের জন্য দোয়া কামনা করছি। 
আমাদের এই পথ চলায় লেখা দিয়ে, লেখা পাঠ করে সঙ্গ দিয়েছেন তাদেরও জানাই বিজয়ের শুভেচ্ছা। 
আফসার নিজাম
সম্পাদক
..................................................

সূচীপত্র

হুলিয়া : নির্মলেন্দু গুণ
অনেক বিজয় : মতিউর রহমান মল্লিক
বিজয় : শাহীন রেজা
বুকের ভেতর একটি ছবি : শাওন আসগর
স্বপ্নবিজয় : মাহফুজুর রহমান আখন্দ
বিজয় মানে : কাজী রহিম শাহরিয়ার
এই ইতিহাস মায়ের : ফরিদ ভূঁইয়া
বিজয়ের গান : নিখিলেশ চক্রবর্তী
একাত্তর মানে : খাতুনে জান্নাত
বিজয়ের গান গাই : ফরিদ সাইদ
বিজয় : যাকিউল হক জাকী
বিজয়িনী বাংলা : নার্গিস পারভীন
বিজয়ের গান : মির্জা মুহাম্মদ নূরুন্নবী নূর
একাত্তর ও আমি : মঞ্জিলা শরীফ
বিজয়ের দিন : শাহীন রায়হান
বিজয় ! তোমার জন্যে : সাইফ ফরহাদী
প্রতীক্ষা : নজির আহমেদ
বিজয়ের সম্মান : তমসুর হোসেন
বাংলাদেশ আমার শেষ ঠিকানা : গণেশ পাল
বিজয়ের এই মাস : মজনু মিয়া 
লাল-সবুজের পতাকা : নীলিমা আক্তার নীলা
স্বাধীন জাতি : শেখ একেএম জাকারিয়া
বিজয় : নাছির বিন ইব্রাহীম
রক্তে কেনা বিজয় : আলাউদ্দিন হোসেন 
স্বাধীনতার বীজ : আনোয়ার আল ফারুক
লড়তে পারি : ইদ্রিম মণ্ডল
এই পতাকা : তারিকুল ইসলাম সুমন
প্রিয় স্বাধীনতা : মিনহাজুল ইসলাম মাসুম
বিজয় দিবস  : রাসেল খান
বিজয়ের গান : শরিফ উল্যাহ 
উপসংহার : শম্পা মনিমা
গল্প শুনি কত : চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু
বিজয়মানে : আনিসুর রহমান
..................................................

হুলিয়া
নির্মলেন্দু গুণ

আমি যখন বাড়িতে পৌঁছলুম তখন দুপুর
চতুর্দিকে চিক্ চিক্ করছে রোদ্দুর
আমার শরীরের ছায়া ঘুরতে ঘুরতে ছায়াহীন
একটি রেখায় এসে দাঁড়িয়েছে।
কেউ চিনতে পারেনি আমাকে
ট্রেনে সিগারেট জ্বালাতে গিয়ে একজনের কাছে থেকে
আগুন চেয়ে নিয়েছিলুম,
একজন মহকূমা স্টেশনে উঠেই আমাকে
জাপটে ধরতে চেয়েছিল,
একজন পেছন থেকে কাঁধে হাত রেখে চিত্কার করে উঠেছিল।
আমি সবকেই মানুষের সমিল চেহারার কথা
স্মরণ করিয়ে দিযেছি।
কেউ চিনতে পারেনি আমাকে, একজন রাজনৈতিক নেতা
তিনি কম্যুনিস্ট ছিলেন মুখোমুখি বসে দূর থেকে
বার বার চেযে দেখলেন
কিন্তু চিনতে পারলেন না।
বারহাট্টায় নেমেই রফিজের স্টলে চা খেয়েছি,
অথচ কী আশ্চর্য পুনর্বার চিনি দিতে এসেও
রফিজ আমাকে চিনল না।
দীর্ঘ পাঁচ বছর পর পরিবর্তনহীন গ্রামে ফিরছি আমি।
পুকুরের জলে শব্ দ উঠলো মাছের, আবার জিভ দেখালো সাপ
শান্ত স্থির বোকা গ্রামকে কাঁপিয়ে দিয়ে একটি
এরোপ্লেন তখন উড়ে গেল পশ্চিমে-
আমি বাড়ির পেছন থেকে শব্ দ করে দরোজায় টোকা দিয়ে
ডাকলুম-মা।
বহুদিন যে দরোজা খোলে নি
বহুদিন যে দরোজায় কোনো কন্ঠস্বর ছিল না
মরচে পড়া সেই দরজা মুহুর্তেই ক্যাচ ক্যাচ শব্ দ ক'রে
খুলে গেলো
বহুদিন চেষ্টা করেও গোয়েন্দা বিভাগ আমাকে ধরতে পারে নি
চৈত্রের উত্তপ্ত দুপুরে
অফুরন্ত হাওয়ার ভিতরে সেই আমি
কত সহজেই একটি আলিঙ্গনের কাছে বন্দি হয়ে গেলুম সেই আমি
কত সহজেই মায়ের চোখে চোখ রেখে
একটি অবুঝ সন্তান হয়ে গেলুম।
মা-আমাকে ক্রন্দনসিক্ত একটি চুম্বনের মধ্যে লুকিয়ে রেখে
অনেক জঙ্গলের পথ অতিক্রম করে পুকুরের জলে চাল ধুতে গেলেন
আমি ঘরের ভিতরে তাকালুম, দেখলুম দু'ঘরের মাঝামাঝি
যেখানে সিদ্ধিদাতা গণেশের ছবি ছিল সেখানে লেনিন
বাবার জমা-খরচের পাশে কার্ল মার্কস
আলমিরার একটি ভাঙা কাচের অভাব পূরণ করছে
স্কুপস্কায়ার ছেঁড়া ছবি।
মা পুকুর থেকে ফিরছেন, সন্ধ্যায় মহকূমা শহর থেকে
ফিরবেন বাবা, তাঁর পিঠে সংসারের ব্যাগ ঝুলবে তেমনি।
সেনবাড়ি থেকে খবর পেয়ে বৌদি আসবেন
পূনর্বার বিয়ে করতে অনুরোধ করবেন আমাকে।
খবর পেয়ে যশমাধব থেকে আসবেন ন্যাপকর্মী ইয়াসিন,
তিন মাইল বিষ্টির পথ হেঁটে রসুলপুর থেকে আসবে আদিত্য।
রাত্রে মারাত্বক অস্ত্র হাতে আমতলা থেকে আসবে আব্বাস।
ওরা প্রত্যেকেই জিজ্ঞেস করবে ঢাকার খবরঃ
আমাদের ভবিষ্যত্ কী?
আইয়ুব খান এখন কোথায়?
শেখ মুজিব কি ভুল করছেন?
আমার নামে কতদিন আর হুলিয়া ঝুলবে?
আমি কিছুই বলবো না, আমার মুখের দিকে চেয়ে থাকা
সারি সারি চোখের ভিতরে
বাংলার বিভিন্ন ভবিষ্যতকে চেয়ে দেখবো
উত্কন্ঠিত চোখে নামবে কালো অন্ধকার,
আমি চিত্কার ক'রে কন্ঠ থেকে অক্ষম বাসনার
জ্বালা মুছে নিয়ে বলবোঃ 'আমি এসবের কিছুই জানি না,
আমি এসবের কিছুই বুঝিনা।'
..................................................

অনেক বিজয়
মতিউর রহমান মল্লিক

অনেক বিজয় এসেছে আবার
অনেক বিজয় আসেনি যে
অনেক বিহান হেসেছে আবার
অনেক বিহান হাসেনি যে!
পেরিয়ে এসেছি অনেক অনেক পথ
ছিঁড়েছি অনেক গোলামীর দাসখত্
ভেঙেছি অনেক লৌহকপাট-কারা
অনেক ঝরেছে তপ্ত-রক্ত-ধারা
অনেক হয়েছে মহাজীবনের জয়
অনেক হয়েছে বেদনার সঞ্চয়
তবুও পূর্ণ জয়ের সূর্য
এখনো আকাশে ভাসেনি যে;
অনেক বিজয় এসেছে আবার
অনেক বিজয় আসেনি যে!
অনেক স্বপ্ন দু’হাতে পেয়েছি
পাইনি অনেক আবার
অনেক চাওয়ার তবু বাকি আছে
এখনো অনেক পাওয়ার!
ঈমানের ঘর ক্রমাগত শুধু নড়ে
স্বদেশ-প্রেমের জিজ্ঞাসা কেঁদে মরে
গণতন্ত্রের বেড়ে চলে ঝন্ঝাট্
অর্থনীতির থামে যে-নান্দীপাঠ
জনতার দাবী অপূর্ণ রয়ে যায়
ধৈর্যের বাঁধ ক্রমাগত ক্ষয়ে যায়
তাইতো নতুন যুদ্ধের নেশা
বিজয়ের দিন নাশেনি যে;
অনেক বিজয় এসেছে আবার
অনেক বিজয় আসেনি যে!
বিজয়ের অরি চিনেছি অনেক
চিনেছি যে- বিভীষণ
তবুও অনেক আঁধারে পড়েনি
দৃষ্টির বিকিরণ!
নদীর শত্রু যাচাই হলো না আজো!
দেশের শত্রু বাছাই হলো না আজো!
জাতির শত্রু এখনো অনেক ভীড়ে
কলিজা চিবায় বক্ষ দু’হাতে চিরে
ন্যায়ের শত্রু হয়নি অনেক চেনা
অনেক মুক্তি হয়নি এখনো কেনা
এখনো স্বদেশ অনেক জমিনে
আজাদীর চাষ চাষেনি যে;
অনেক বিজয় এসেছে আবার
অনেক বিজয় আসেনি যে
অনেক বিহান হেসেছে আবার
অনেক বিহান হাসেনি যে!
..................................................

বিজয়
শাহীন রেজা

তুমিতো জেগেই আছো।
তোমার সাথে রাতজাগা সেই প্রাচীন তক্ষক ঘোষণা দিচ্ছে প্রহরের, দু'একটা শিশির ভেজা শিমুল আর নিশাচর বাদুড় কী গভীর নৈপুণ্যে অন্ধকার কেটে কেটে তৈরী করছে সুড়ং, আলোর যানে চড়ে আবাবিল আসলেই পালাবে ওরা,পালাবে ধূসর।
তুমি জেগে আছো, জেগে আছো।
স্বপ্নের দূরন্ত ঘোড়ায় ওই বখতিয়ার আসে,
আসে তিতুমীর বাদল দীনেশ ক্ষুদিরাম, আসে
সালাম রফিক জব্বার এবং আসাদ আর সেইসব সাহসী কাফেলা; সামনে যার মতিউর, মুন্সী রউফ, মহিউদ্দিন, হামিদুর এবং অগুনিত দূরন্ত সাহস।
ও আমার দুখিনী সময়; মা আমার, বাংলা-বাংলা,
তোমার চোখের নীচে যে কালো দাগ জেগে;
সে তো নয় কেবল নিদ্রা হননের,
প্রিয় হারানোর শোকে সে আজও উদ্ভ্রান্ত উদাস
অশ্রুহীন চরাচরে।
বিজয় এলেই আমি তোমাকে খুঁজি।
আজও কি নিদারুণ শোকে ন্যূব্জ তুমি, ক্রমাগত ভেঙে পড়া, বিষন্ন আল্পনায় সাজা তোমার অন্তর।
..................................................

বুকের ভেতর একটি ছবি
শাওন আসগর

বুকের ভেতর একটি ছবি ঘুমিয়ে থাকে খুব
সেই ছবিটি নিয়েই আমি স্বপ্নে দিই ডুব।
ছবির ভেতর বধ্য ভূমি লক্ষ যে গর্জন
ছবির ভেতর দৃঢ় হাতের গৌরব অর্জন।
ছবির ভেতর ফুল পাখি ও আছে কাঁটা দাগ
ছবির ভেতর ধ্বংস যজ্ঞ অনেক অনুরাগ।
ছবির ভেতর স্লোগান আছে, আছে কিছু ভূল
ছবির ভেতর স্বপ্ন স্বদেশ রূপকথারই ফুল।
ছবির ভেতর অগ্নি হাওয়া অনেক কিছু পাওয়া
ছবির ভেতর ব্যাকুল স্নেহ লাল সবুজে ছাওয়া।
..................................................

স্বপ্নবিজয়
মাহফুজুর রহমান আখন্দ

ডিসেম্বরের ষোল তারিখ
স্বপ্নমাখা বিজয় দিনের গান
হানাদারের লেজ গুটানো
মুক্তিসেনার উচ্ছ্বসিত প্রাণ
মধুর হাসি বিজয় হাসি
জেলে চাষী সব মানুষের মুখে
কষ্টনদী দুখের পাহাড়
চোখে মুখে স্বপ্ন বাহার
নিজের মাটি নিজের দেশে
থাকবো পরম সুখে
রক্তনদী সাঁতার কেটে
উঠলো সবাই তীরে
ভাইকে খুঁজি আব্বা খুঁজি
অন্ধকারে চক্ষু বুজি
আর এলোনা বুকের কাছে
হাজার লোকের ভীড়ে
স্বপ্নগুলো রঙ মাখে না
কষ্টগুলো যাচ্ছে বেড়ে রোজ
স্বাধীন দেশে নইতো স্বাধীন
নাচছি তবু তাধিন তাধিন
মুখের ভাষায় কুলুপ এঁটে
বিষ মাখানো ভোঁজ
স্বপ্নগুলো জাগাই তবু মনে
নিজকে নিজে বলছি ক্ষণে ক্ষণে
বিজয় সূরুজ তোমার আমার
বিজয় আলোর ঋণ
বিজয় সুবাস আনুক ডেকে
স্বপ্ন-সুখের দিন।
..................................................

বিজয় মানে
কাজী রহিম শাহরিয়ার

বিজয় মানে
উদাস চোখে
করুণ চেয়ে থাকা; 
বিজয় মানে
হৃদয় পটে 
মানচিত্রটা আঁকা।
বিজয় মানে
বীরের মতো
স্বাধীন বাঁচতে শেখা;
বিজয় মানে
প্রেমের চোখে
বাংলাটাকে দেখা।
..................................................

এই ইতিহাস মায়ের
ফরিদ ভূঁইয়া

খোকা আমার, মূক হতে নেই
কীসের হতাশা?
গলা ছেড়ে তুমিও গাও—
আ' মরি বাংলা ভাষা...
এই কথা তো তোমার জানা
ভাষার পাখি ডাক তুলেছে
আজ কেউ নেই নেই
করতে পারে মানা।
অ, আ, ক, খ...
অক্ষরগুলো রক্তমুখো
হয় ফাগুনে লাল—
এক ইতিহাস বাংলা মায়ের
পুত্র হারার কাল!
খ্রীষ্ট অব্দের ঊনবিংশতির
বায়ান্নততে
ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ
আট ফাগুনের দিন;
ভাষার জন্য পুত্রহারা
বাংলা মায়ের কাছে
ভাষাবিশ্বের ঋণ...
সেদিন বনহরিণী কেঁদেছিলো
পাখ-পাখালী কেঁদেছিলো
বাঘ-বাঘিনী কেঁদেছিলো
উড়ন্ত চিল কেঁদেছিলো;
মাঠে মাঠে ঝির বাতাসে
শীত ফসলি
আর
রবিশস্য কেঁপে ছিলো!
বুঝতে পেরে রক্তনদে
পাল উড়ালে নৌকার
কষ্ট-কাঁন্না বয়ে নেয়ার
হাওয়ার
প্রবল গতিবেগ...
সেই গতিবেগ বুকের আবেগ;
বিরুদ্ধ ঢেউ ঠেলেঠুলে
রক্তনদী পাড়ি দিয়ে
৭১ এ ভিড়লো এসে
বট-হিজলের মূলে;
হক, সোহরাওয়ার্দী,
সুফী ভাসানীর বৈঠা হাতে
মাঝি ছিলেন টঙ্গীপাড়ার শেখ।
ভীষণ খরার রোদ ঝাঁঝাঁ
পথ মাড়িয়ে
ভয় দেখানোর চোখ তাড়িয়ে
উড়লো যখন রক্তমাখা
সবুজ নিশান—
এইতো আমার দেশ!
ফুল কমলের হাসিতে হৃদয়—
শহীদে রক্তিম;
বিজয়ী বাঙলায়
জাগ্রত বাংলাদেশ।
..................................................

বিজয়ের গান
নিখিলেশ চক্রবর্তী

এক)
বিজয় দিবসে তোমার বিবসে
রঙে ভরা আলপনা,
মনের মানসে আপন মানুষে
চোখে ভরা স্মৃতিকণা;
রাতের তিয়াসা ভোরের কুয়াশা
সরায়ে শহীদ-জনা,
ফোটায় সকাল স্বাধীন একাল
মানুষ মুক্তমনা ।
দুই)
বারুদ মেশানো রক্ত-মাটিতে
স্বাধীন শহীদ হাঁটে,
আলোক ছেটানো আকাশ ঘাঁটিতে
জনতা শ্লোগানে ফাটে;
সারে সারে তাঁরে স্বাগত জানাতে
রক্ত গাঁদারা ফোটে,
স্বাধীন দেশের স্বাধীন সূর্য
মুক্ত আকাশে ছোটে।
তিন)
স্বাধীন বাংলা, স্বাধীন শহীদ,
স্বাধীন মাতৃভূমি;
বারে বারে তোমা' জানাই প্রণাম
যুগল চরণ চুমি।।
..................................................

একাত্তর মানে
খাতুনে জান্নাত

একাত্তর মানে পাঠের প্রথম ধাপ
মনের গহনে লালন করা পঙক্তি
একাত্তর মানেই জীবন-
জেগে উঠার নিমিত্তে একাত্মতা অর্জন
এই ধর হাতে হাত কণ্ঠে শ্লোগান
ভেঙে ফেল বিভেদের ভারবাহী শৃঙ্খল
একাত্তর মানে-
ভেঙে পড়া, লুটিয়ে পড়া জংধরা ইতিবৃত্ত
প্রগতির আলো জ্বালিয়ে দূর কর-
আলোহীন অলস সমাচার
একাত্তর মানেই সংগ্রাম
প্রতিদিন
অন্ধত্ব আর অন্ধকারের পিচুটি
বন্ধ করে দিতে চায় চোখ
একাত্তর মানে চোখ খোলা রাখো, অন্তঃচোখও
বাবুই বুননে গড় দেশ, গ্রন্থিত কর ইতিহাস ও স্বপ্ন।
..................................................

বিজয়ের গান গাই
ফরিদ সাইদ

ভোর বিহানে  
দীপ্ত কন্ঠে 
বলল ছেলে মাকে 
স্বাধীনতার
যুদ্ধে যাবে
রুখবে কে আর তাকে !    
জীবন দিলো শহীদ হলো
আমরা হলাম দেনা
লালসবুজের এই পতাকা
রক্ত দিয়ে কেনা। 
পুব আকাশে সূর্য হাসে
কলাপাতার ভাঁজে
খোকা আমার ফিরবে না আর-
মন বসে না কাজে। 
নীল আকাশে মেঘের ভেলা 
ধানের খেতে পাখির মেলা
দুঃখ ভুলে যাই
শোকের ভেতর শক্তিগাঁথা
সোনার বাংলা তুলছে মাথা
বিজয়েরই গান গাই। 
..................................................

বিজয়
যাকিউল হক জাকী

বিজয় যখন আসে
দুর্বাঘাসের হৃদয় কোণে
শিশির ভেজা কোমল বনে
সবুজ প্রাণে ক্ষণে ক্ষণে
ফোকলা দাঁতে কিশোর মনে
ফিক ফিকিয়ে হাসে।।
বিজয় যখন ফোটে
আকাশ পানে তারার ছোটা
গোধুলীতে চন্দ্র ওঠা
ফুলবাগানে কলির বোটা
যুবকদেহে শক্তি জোটা
লাল সবুজের ঠোঁটে ।।
বিজয় যখন ভাসে
শীতের কাঁপন খুশির দোলা
নদীর বুকে ঢেউয়ের গোলা
পাখির নাচন প্রাণখোলা
সৎ সাহসে বুকটি ফোলা
সোনার বাংলাদেশে।।
..................................................

বিজয়িনী বাংলা
নার্গিস পারভীন

ডুবি ডুবি সূর্য পড়ন্তবেলা,
আর মন কিশোরীর বকুলতলা!
আদরে গা ধরে মিষ্টি হাসে আলোকলতা!
তিরতির কাঁপে তন্বী সবুজ পাতা!
বাজে কাঁকন যখন তখন রিনিঝিনি,
উত্তুরে হাওয়া কাঁপালো আধশোয়া পরাণখানি।
শীত শীত গীত শোনায় হাওয়া হালকা তালে,
দুষ্টু বালক কেন তোর পলক হলুদ গাদা ফুলে?
ফোড়ন কাটে দূর আকাশে কিশোরী সন্ধেতারা,
আঁধার হলেই কুয়াশা ওড়নায় সাজিস ধরা!
সূর্য বলে আবির মাখো সবুজবসনা পরী!
রাঙা ঠোঁটে চুমু দেব গলায় হার সাতনরী!
এই তো আমার অপরূপ বাংলা বিজয়িনী মেয়ে,
ষড়ঋতুর ডালা হাতে অদম্য প্রেম বুকে নিয়ে।
নিত্য তার দখিন দোরে সমুদ্রবিলাস চলে,
ঢেউ খেলে সাগর জল ছিটিয়ে সবুজে আর লালে।
..................................................

বিজয়ের গান
মির্জা মুহাম্মদ নূরুন্নবী নূর

দেশটা আমার রক্তে কেনা
জীবন দানের ফল,
দেশকে নিয়ে কেউ করোনা
ভন্ডামি আর ছল।
দেশটা আমার লক্ষ সেনার
জীবন করা দান,
দেশকে নিয়ে কেউ করোনা
ছলচাতুড়ির ভান।
দেশটা আমার উদার ভুমি
ভালোবাসার ঘর,
এই দেশটার সবাই আপন
নই তো কেহ পর।
দেশটা আমার মায়ের মতো
খোদার সেরা দান,
আসুন সবাই দেশকে নিয়ে
গাই বিজয়ের গান!
..................................................

একাত্তর ও আমি
মঞ্জিলা শরীফ

একাত্তর মানে ভয়াল ২৫ মার্চের কালো রাত
হঠাৎ রক্তের বন্যায় ঢাকার রাজ পথ পিচ্ছিল,
স্বাধীন বাংলার ডাক, আশায় বুক বাঁধা ২৬ মার্চ।
এরপর কিশোর তরুণ যুবক বৃদ্ধের বুকের রক্ত
ঢেলে দেওয়ার অঙ্গিকার মা মাটির সম্ভ্রম বাঁচাতে।।
বয়স আমার কতইবা ? মনে পরে না যুদ্ধের কথা
বিকট শব্দে হেলিকাপ্টার উড়েছিল আকাশ জুড়ে,
মায়ের কোলে মুখ লুকিয়েছিলাম ভিষন ভয়ে
সেদিন মার কান্নার অর্থ না বুঝে আমিও কেঁদেছি।
বুটের খট খট শব্দে খাঁকি পোষাকের হেট ওয়ালা
কিছু হায়ানার দল গ্রামখানা তছনছ করেছিলো
হলুদ সরিশা ফুলের রং ফিকে করে দিয়েছিলো
আমার স্মৃতির মতই ঝাপসা।
একাত্তরের মানে তখন বুঝিনি-
এখন বুঝি একাত্তর মানে মাকে বাঁচাতে
তিরিশ লক্ষ সন্তানের বুকের তাজা রক্ত,
একাত্তর মানে অগুনিত বিরঙ্গনার সম্ভ্রম হানীর ইতিহাস
একাত্তর মানে নিষ্পাপ কুমারী মায়ের কষ্টের স্মৃতি।
একাত্তর মানে মেধা শূন্য করে দিতে
সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আগুন,
একাত্তর মানে আগুনে পোড়া ফসলের মাঠ।
লাখো শহিদের বুকের তাজা রক্ত আর
হাজারো বিরঙ্গনার স্বপ্ন ধোয়া
একাত্তরের ১৬ ই ডিসেন্বর এনে দিয়েছিলো লাল সবুজের বিজয়
আর ছাপ্পান্ন হাজার বর্গ মাইলের পরিচয়।।
..................................................

বিজয়ের দিন 
শাহীন রায়হান

কিচিরমিচির পাখি ডাকে হাওয়ায় দোলে ফুল
ছোট্ট খুকুর মিষ্টি গালে দোল খেয়ে যায় চুল
পথ সেজেছে মাঠ সেজেছে লাল সবুজে সব
প্রজাপতির রঙিন ডানায় খুশির কলরব।
বাবা বসে জায়নামাজে মায়ের মুখে হাসি
সবার মনে প্রশান্তি আজ রাখাল বাঁজায় বাঁশি
আকাশ জুড়ে পাখি উড়ে কেউ পাতেনা ফাদঁ
উড়ে উড়ে নিচ্ছে ওরা স্বাধীনতার স্বাদ।
ছেলে বুড়ো কেউ থেমে নেই করছে ছুটোছুটি
সবুজ ঘাসে গঙ্গাফড়িং করছে লুটোপুটি
আউল বাউল গাইছে সবাই বাজছে খুশির বীণ
বাংলাদেশের ঘরে ঘরে আজ বিজয়ের দিন।
..................................................

বিজয় ! তোমার জন্যে
সাইফ ফরহাদী

বিজয় তোমার জন্যে আজও
আশায় বাঁধি বুক,
আসবে কবে, দেখবো কবে
রই সদা উন্মুখ।
রক্ত সাগর পাড়ি দিয়ে
লাশ পেরিয়ে লাশ,
এলে ঠিকই ফুরোয়নি তাও
দুঃখের দীর্ঘশ্বাস।
ক্ষুধার জ্বালায় মরছে মানুষ
দেখছে না সমাজ,
গুম, হত্যা আর নির্যাতন যে
নিত্য দিনের কাজ।
দূর্নীতি আর স্বজনপ্রীতি
রন্দ্রে রন্দ্রে ভরা,
কমছে নাতো বাড়ছে নিতি
আমরা কপাল পোড়া।
তারপরও যে এলে তুমি
তোমায় দেখে তাই,
দূর হবে, এ আশা রাখি
সব কালিমা, ছাঁই।
..................................................

প্রতীক্ষা
নজির আহমেদ

বাধাগ্রস্ত নিঃশ্বাস
আর ধর্ষিতা বিশ্বাসের আঁচলতলে
লুকিয়ে রেখেছি
একটি পৌড় আকাশ।
আজম্ম জম্মের পাপ
ঠাপ মারছে কামারের লাল হাঁপরে। 
ক্রোধের দহন জ্বালা
বছরের পর বছর; তোমার কী খবর?
কথা ছিলো
অন্ধকারের জরায়ু ভেদ করে প্রভাকর  
তুমি উদিত হবে
মুক্ত বাতাসে আমি হাসবো ভাসাব গতর। 
কথা ছিলো 
বিজয়ের আনন্দ লহরীতে শান্তি বইবে।
ভাঙবে খাঁচা আর 
পক্ষাঘাতগ্রস্ত হবে নিষ্ঠুর ভালোবাসা। 
কতকাল আর শুধু
কথার কথা, তোমার কথা কিংবা ইতিহাস?
সবুজ পাতার ফাঁকে
কতকাল আঁটকে থাকবে অভিমানী বাতাস?
..................................................

বিজয়ের সম্মান
তমসুর হোসেন

নির্মম হায়েনার ভীতিময় গোঙানি আর চকচকে রক্তচক্ষু দেখে
লড়াইয়ের ধুলি ধুসরিত ময়দান থেকে পিছু হটেনি যে জানবাজ সেনা
প্রত্যয়দ্বীপ্ত ধারাল কামড়ে বিক্ষত করেছে যারা
বিবেকহীন পাষণ্ডের লোমশ পাঁজর,
মহান বিজয়ের বিরল সম্মান আর অতুলনীয় মর্যাদা তাদের জন্য।
দেশমাতৃকার ত্যাগোদ্দীপ্ত সূর্য সন্তানদের কথা ভেবে 
অবাক হয়ে চেয়ে থাকি জলভার মেঘমালার দিকে
আমার ব্যথিত প্রশ্বাস ছুঁয়ে যায় সচকিত বিদ্যুত এবং উদ্দাম তরঙ্গকে
ভাষাহীন মৃত্তিকাকে ভালবেসে যে টগবগে তরুণ
হাসিমুখে ঢেলে গেছে বুকের তাজা রক্ত
তাদের জন্যই মহান বিজয় দিবসের অন্তহীন প্রাণঢালা ভালবাসা।
একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে যে অসহায় জননী
আজো বেঁচে আছে নিদারুণ ক্লেশে দুর্বহ শূন্যতাকে সাথী করে
প্রতিটি ষোলই ডিসেম্বর তার চোখে আনে অশ্রুর অবিশ্রান্ত প্লাবন,
বার্ধক্যের যাতনা কষ্টদীর্ণ দ্বীর্ঘশ্বাস হয়ে তার বুকে ছড়ায় শীতল হিমবাহ।
যে মায়ের চরণতলে প্রবাহিত হয় নিরবধি জান্নাতের সুখময় নদী
বিজয়ের সমস্ত আয়োজন তার মলিন অধরে হাসি ফোঁটার জন্য।
একটি শালপ্রাংশু বৃক্ষের বেড়ে ওঠার অন্তরালে থাকে যে দুর্বার সম্ভাবনা
তেমনি অদম্য প্রেরণায় দিকহারা জাতিকে যে কালজয়ী নেতা দেখিয়েছে 
স্বাধীনতার সোনালি সকাল মেঘমলিন বিষণ্ন আষাঢ়ের বাদলে 
সীমাহীন দলন আর বন্দীত্বের অপমান থেকে মুক্ত করে যে
হাত ধরে টেনে নিয়ে গেছে জাতিকে স্বপ্নীল দিগন্তের দিকে
বিজয়ের অনুপম সম্মান আর প্রাণঢালা অভিনন্দন তারই জন্য।
..................................................

বাংলাদেশ আমার শেষ ঠিকানা
গণেশ পাল

জীবনের অঙ্ক মেলাই এখানে,
জীবনকে ভালবাসতে হয়, ভালবাসি
বড় আদরে দেশের মাটি ছুঁয়ে থাকি ।
পৃথিবীর আলো বাতাস বুকের ভেতরে
ও আমার বাংলাদেশ তুমি দিয়েছ ।
ও আমার স্বপ্নরা, আমাকে সাজাও
এই বাংলাদেশের মিষ্টি মাটির পরশে
গন্ধে গন্ধে রন্ধ্রে রন্ধ্রে সমাগত ।
ও আমার বাংলাদেশ ব্যাকুল মনে
তুমি যেন শাশ্বত আমার স্পন্দন 
জীবনে মরণে থেক শেষ ঠিকানা ।
..................................................

বিজয়ের এই মাস
মজনু মিয়া 

অনেক মরণ সয়ে দহন 
পুড়াও জ্বালাও শেষে,
নিনাদের এই ক্ষণে তবু 
উঠল বাংলা হেসে।
এই হাসিটা বিজয় হাসি
চির দিনের জন্য, 
যার জন্য গর্বিত আজ
বাঙালি হই ধন্য। 
শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা আর 
ভালোবাসা ভক্তি,
দেশ স্বাধীনের জন্য ছিলো
তারাই জাতির শক্তি।
স্বরণ করি বারে বারে 
শেষ হবে না এ ঋণ,
তোমরাই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান
অমলিন চিরদিন।
..................................................

লাল-সবুজের পতাকা
নীলিমা আক্তার নীলা

নকশী কাঁথা বুনে
জল চোখের কোণে
সময়টা গুনে গুনে
যাচ্ছে বুঝি মার।
খোকা এলো, এলো ঘরে
রক্ত মাখা চাদর মুড়ে
সাথে এলো বিজয়
এই পরিচয় বাংলার।
পড়ে আছে উঠোনেতে
রক্ত মাখা লাশ খোকার
চারিদিকে উল্লাস
লাল-সবুজের পতাকার।
..................................................

স্বাধীন জাতি
শেখ একেএম জাকারিয়া

বাবুই পাখি পুকুর পাড়ে করছে উড়াউড়ি,
বাঁধবে বাসা তালের গাছে করছে ঘুরাঘুরি।
খড়কুটোতে বাঁধতে বাসা ন'মাস লাগে তার,
বাবুই পাখি শিল্পী পাখি নেই তুলনা যার।
দেখতে দারুণ সেই বাসাটি জগতবাসী চায়,
হালকা বায়ু দোলায় বাসা মন জুড়িয়ে যায়।
ভালোবাসার চিত্র এঁকে দীর্ঘ ন'মাস পরে
তুলল ছানা বাবুই পাখি ষোলই ডিসেম্বরে।
বাবুই ছানা বাসায় থেকে সব পাখিদের কয়,
আমরা হলাম বীরের জাতি নেই মনেতে ভয়।
বাংলাদেশের পাখি আমি লাল সবুজে বাস,
অত্যাচারে হই না নত হই না কারো দাস।
..................................................

বিজয়
নাছির বিন ইব্রাহীম

ন'মাস ধরে যুদ্ধ করে
শত্রু সকল রুদ্ধ করে
আনলো বিজয় যারা,
বুকের মাঝে
সকল কাজে
জড়িয়ে আছেই তারা।
শিক্ষক আর কুলি চাষি
মায়ের মুখে মধুর হাসি
ফিরিয়ে দিলো যারা,
বুকের মাঝে
সকল কাজে
জড়িয়ে আছেই তারা।
পতাকা আর দেশের মাটি
যার বুকেতে আমরা হাটি
আনলো কেড়ে যারা,
বুকের মাঝে
সকল কাজে
জড়িয়ে আছেই তারা।
..................................................

রক্তে কেনা বিজয়
আলাউদ্দিন হোসেন 

রক্তে কেনা অমর বিজয়
চিরকালের স্মৃতি
সকল শহীদ রেখে গেছে
ভ্রাতৃত্বের প্রীতি। 
রক্তে কেনা বিজয় নিশান
চিরকালের গর্ব
শপথ নিলাম রক্তের দাম
করবো না খর্ব।
রক্তে কেনা রঙিন বিজয়
লাশের মালা গাথা
লাল সবুজের নিশান উড়ে
উচ্চ করে মাথা।
..................................................

স্বাধীনতার বীজ
আনোয়ার আল ফারুক

বীজ বুনেছি সাতচল্লিশে স্বাধীনতার বীজ
কোনকালে কারোর কাছে দিইনি ভুমি লীজ,
স্বাধীনতা রক্তে কেনা
দাম শোধেছে বীরের সেনা;
এই সবুজটা আর কারো নয় আমাদেরই নিজ।
পাকবাহিনী কাড়তে চাইছে মায়ের মুখের বোল
সেই বায়ান্নে বেজে দিলাম বাঙলাভাষার ঢোল,
ভেস্তে গেলো নোংরামো ছল
কাজ দেয়নিতো বন্দুকের নল;
পাকবাহিনী খেলো শেষে গোলাপানির ঝোল।।
রক্তদামে একাত্তরে কিনলাম সবুজ ভুঁই
দিবানিশি লালসবুজটা মন-মননে ছুঁই,
সবুজ ছড়ায় জ্যোতির হাসি
তাইতো দেশকে ভালোবাসি;
এই যেনো এক নববধুর খোঁপায় পরা জুঁই।
ফের যদি কেউ এই সবুজে চায় যে দিতে হাত
উপড়ে দেবো সেই শকুনের বিষেল যতো দাঁত,
মটকে দেবো শকুনি ঘাড়
পাবে নাযে একটুও ছাড়;
জেনে রেখো শকুনেরা আমরা বীরের জাতি।।
উপচে পড়ুক এই সবুজে সুখ পরশের বান
থাকুক বেঁচে চিরকালই লালসবুজের গান,
সবুজ আমার আশার আলো
এই সবুজটা থাকুক ভালো;
জীবন দিয়ে রাখবো ধরে লালসবুজের মান।
..................................................

লড়তে পারি
ইদ্রিম মণ্ডল

আমার এ দেশ আমার মাটি
ভীষণ ভালোবাসি
এই দেশ কেউ নিতে এলে
কাড়বো মুখের হাসি
মারবো তাকে এমন ভাবে
বুঝবে তাহার জ্বালা
ঢোল বাজলে টের পাবেনা
কান থাকবে কালা
দেশ নেয়া তার সাধ মিটাবো
আচ্ছা রকম খুব পিটাবো
বুঝিয়ে দেবো আমরা হলাম
বীরের জাতী বীর
জান দিইতো মান দিইনে
নুয়াইনে এই শীর
ভালোবাসি দেশ
শক্র এলে দুর করে দিই
তার রাখিনা কেশ।
..................................................

এই পতাকা
তারিকুল ইসলাম সুমন

এই পতাকায় বিজয় আমার
যুদ্ধ জয়ের গান,
এই পতাকায় ভাষার কথা
স্বাধীনতার মান।
এই পতাকায় হাসি আমার
এই পতাকায় সুখ,
এই পতাকায় আঁকা আমার
মাতৃভূমির মুখ।
এই পতাকায় স্বপ্ন-আশা
এই পতাকায় বল,
এই পতাকায় শেকড় আমার
আস্থা অবিচল।
দু'চোখ মেলে থাকবো আমি
হতে মায়ের সৈন্য,
রাখব জীবন ধরব বাজি
এই পতাকার জন্য।
..................................................

প্রিয় স্বাধীনতা
মিনহাজুল ইসলাম মাসুম

রক্ত দিয়ে কিনেছি মাগো তোমার স্বাধীনতা
লক্ষ্য আজও হয়নি পূরণ তাই তো মনে ব্যথা
তোমার জন্য দিয়েছিলো
রক্তে আগুন লেগেছিলো
বাংলা মায়ের দামাল ছেলে দিয়েছিলো ঝাঁপ
পালিয়েছিলো পাকসেনারা বিষাক্ত কালসাপ।
কান্দে কেন সাহেব আলী পায় না দু’মুঠ খেতে
হারিয়ে দু’পা জীবন তরী চলছে কোনো মতে
দু’ বেলা ভাত জোটে না
ঝরে পড়ে অশ্রুকণা
রক্ত দিয়ে কেনার দাম পায়নি আজও ক্যান
লড়েছিলো জানটা নিয়ে হাতে মেশিনগান।
নেই তো এখন পাকসেনারা ঝরে কেনো রক্ত
গুলিতে মরে স্বাধীন মানুষ স্বাধীনতার ভক্ত
একাত্তরের কালো রাতে
লাশ ভাসতো ডোবা ক্ষেতে
সেই সে কালো রাতের কথা হয় যে স্মরণ
কেনো আজও বন্ধ হয়নি জঘন্য নির্যাতন!
শপথ নিলো তোমার ছেলে স্বাধীনতা রাখবো
সোনার স্বদেশ গড়তে মোরা ঐক্যবদ্ধ থাকবো
আর হবে না কোনো ভেদ
মুছে যাবে সকল বিভেদ
আগুনঝরা সেদিনগুলি নিভিয়ে সোনার দিন
শোধতে হবে লাখো শহিদের রক্তমাখা ঋণ।
..................................................

বিজয় দিবস 
রাসেল খান

ডিসেম্বরের ষোল তারিখ
ফিরে এলেই কাছে 
মন যে আমার দোদুল দোলে 
কেমন কেমন নাচে ! 
দিনটি যেন নতুন দিনের 
বার্তা বয়ে আনে 
যাই হারিয়ে খুশির ভিড়ে
বিজয় গানে গানে । 
ছবি আঁকে হৃদয়পটে 
কে যেন রং তুলিতে ?  
ডিসেম্বরের ষোল তারিখ
পারি কী আর ভুলিতে !  
..................................................

বিজয়ের গান
শরিফ উল্যাহ 

বিজয়ের গান
কুহু কলতান, 
গেয়ে যায় পাখি
সবে মনে রাখি।
ঘুরে ফিরে আসে
কে না ভালোবাসে?
হৃদয়ের কথা 
যত কথকতা। 
সেই সব স্মৃতি
ভালোবাসা প্রীতি, 
আজ এই দিনে 
বলি জয় গানে।
শহিদের রক্ত
ভুলে যাওয়া শক্ত
বিজয়ের মাসে
লেখা ইতিহাসে।।
..................................................

উপসংহার
শম্পা মনিমা

এবয়সে রোদে পুড়ে জলে ভিজে মাথা ফাটিয়ে আর ইচ্ছা করছে না,
করে না রাত কাটানোর অদ্ভূত ভয়ে ভয়ে পোড়া ট্যাংকারের পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা,
দমবন্ধ হয়, ময়াল সাপের জীবন,
কচি হাতের পাতায় সবল হাতের বন্দি মা আমি দুপুর থেকে রাত্রিরে পৌঁছাই তেতে থাকা বিছানায়,
টেনে জড়িয়ে আনে বলে এখানে থাক ঘুমিয়ে–আমার নিঃশ্বাস।
ট্রাম বাস সুদ্ধ গোটা শহর ফাঁকা পেয়ে গিলে নিল গোটা ঘর সমাজ ত্রিভুবন,
ঝড় বুকে হৃৎপিণ্ড আটকে একসঙ্গে জেগে ওঠে,
চারিদিকে শব্দের হাতুড়ি ধ্বনি প্রসারিত, 
যদিও থামলে চলবে না, প্রজন্ম শতকে শেষ হবে, 
ছিঁড়ে যাবে, ভাবিসনা, 
একসাথে বাঁচবো,
একসাথে রইবো শত শতাব্দীতে।
বেঁচে আছে চিরসময়,
ঠোঁট ছোঁয়াতে ছোঁয়াতে উঠেছে কোমল তীক্ষ্ণ পর্দা, 
পরিবর্তন হলো নদীপথ, 
ভেসে গেল পার্বত্য জলধারা, 
মাথা ডুবিয়ে দমবন্ধ করে আত্মগোপন করে থাকলো জাতীয় জন-প্রাণ,
আঁচলা ভরে এলো সূর্য,
দুপুরে মায়ের কোলে শুয়ে বুকে মুখ ঘষে ঘষে খুঁজে বার করতে লাগলো মা,
নিথর এক জলাশয়,
কেউ মরে যাবোনা, 
ঘুম ভেঙে উঠবো না, 
একবারও জন্ম নেবো না৷
শুধু ভালোবাসবো – তখনও যেমনটি ভালোবাসতাম,
আমার জগৎ আমার একাত্তর।
..................................................

গল্প শুনি কত
চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু

যুদ্ধ যখন বাঁধলো দেশে
ছিলাম শিশুর মত,
এখন আমি মায়ের মুখে
গল্প শুনি কত।
মুক্তিসেনা যুদ্ধ করে
জীবন বাজি রেখে,
শত্রুসেনা কাঁপতে থাকে
এদের সাহস দেখে।
মা তো বলে যুদ্ধ চলে
দীর্ঘ ন'মাস ধরে,
ডিসেম্বরের ঠিক ষোলতে
দেশটা স্বাধীন করে।
মায়ের মুখের গল্প শুনে
কত্তো ভালো লাগে,
মনের ভেতর যুদ্ধে যাওয়ার
ইচ্ছেটা আজ জাগে।
..................................................

বিজয়মানে
আনিসুর রহমান

বিজয় মানে
বিজয় মানে ভোর বিহানে
ঘাসের ডগায় শিশিরের ছরাছরি
বিজয় মানে
বিজয়ের মাসে পতাকা নিয়ে কাড়াকাড়ি ৷৷
বিজয় মানে
মুক্ত আকাশে ডানা মেলে উৱা
বিজয় মানে
বিজয়ের দিনে উদাশীন ভাবে ঘুরা৷৷
বিজয় মানে
৪৯ বছর পূর্বের ফিরে দেখা দর্পণ
বিজয় মানে
বিজয়ের প্রথম প্রহরে
শহীদ স্মৃতিতে পুষ্পের মালা অর্পন ৷৷
বিজয় মানে
বাহাৱী রঙ্গের আলোর ঝলকানী
বিজয় মানে
নেতাৱ মুখে মুখোরুচক সব বানী৷৷
বিজয় মানে
নব বোধূর সাজে
সাজলো গোটা দেশ
বিজয় মানে
ভীন দেশী গানে নাঁচছি
তো মোরা বেস ৷৷
বিজয় মানে
বিজয়ের দিনে দেশেৱ গান
কানে বজলেই শুরু হয় চুলকানি
কিছুক্ষন আগে তারই মুখে সুনেছি
সুমধুর বঙ্গবানী৷৷
বিজয় মানে
পতাকা শোভিত লাল সবুজে
ঢাকিলো অঙ্গ খানী
তারই মুখ থেকে শুনছি যে আজ
অদ্ভূত সব বানী ৷৷
বিজয় মানে
বিজয়ের মাসে
ভীন দেশী গানে মঞ্চ মাতালো কাৱা
দেশ প্রেম ভেদে
ওরাই আসল বর্ণচোরা ৷

⭐ FOR ANY HELP PLEASE JOIN


🔗 MY OTHERS CHANNELS

🔗 FOLLOW ME

🔗 MY WEBSITE

🔗 CALL ME
+8801819515141

🔗 E-MAILL
molakatmagazine@gmail.com

No comments

নির্বাচিত লেখা

আফসার নিজাম’র কবিতা

ছায়া ও অশ্বথ বিষয়ক খ-কবিতা এক/ক. সূর্য ডুবে গেলে কবরের ঘুমে যায় অশ্বথ ছায়া একচিলতে রোদের আশায় পরবাসী স্বামীর মতো অপেক্ষার প্রহর কাটায় প্রাচী...

Powered by Blogger.