বিজয় দিবস সংখ্যা ২০২০ : ১ম পর্ব

সময়ের পরিক্রমায় আমাদের বিজয় আজ অর্ধশতাব্দিতে এসে পড়েছে। শোষণমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয় নিয়ে আমাদের যে মুক্তিসংগ্রাম। তার একটি পরিনতি আমাদের বিজয়। এই বিজয় আমাদের আনন্দিত করে। আর বেদনায়ও জারিত করে। অনেক ত্যাগের বিনিময় এই বিজয় অর্জিত হয়েছে। আমাদের ভালোবাসায় সে বিজয় অটুট থাকুক এটাই আমাদের কামনা।
আমাদের এই পথ চলায় লেখা দিয়ে, লেখা পাঠ করে সঙ্গ দিয়েছেন তাদেরও জানাই বিজয়ের শুভেচ্ছা।
 
আফসার নিজাম
সম্পাদক
..................................................

সূ চী প ত্র

বিজয় দিবস :: তৈমুর খান
প্রজন্ম :: সৈয়দ নাজমুল আহসান
মা আর কেঁদো না :: তানজারীন ইফফাত স্বাতী
বিজয় :: তামিম ইকবাল 
বিজয় আসে ঘরে :: মহিউদ্দিন বিন্ জুবায়েদ
বিজয় মানে :: মাহমুদ সালিম
বিজয়ের দিনে :: সৌমেন দেবনাথ
লাল-সবুজের পতাকা :: ইমরান খান রাজ
স্বাধীন বাংলাদেশ :: পারভীন আকতার
ষোলোই ডিসেম্বর :: শেখ একেএম জাকারিয়া
বেচেঁ থাকো স্বাধীনতা :: নেহাল মাহমুদ
মহান বিজয় দিবস :: ডা. এম এ ওহাব লাবিব 
যখন বিজয় আসে :: তূয়া নূর
বিজয় মানে :: শাহীন রায়হান
বিজয় মানে :: এম. তামজীদ হোসাইন
স্বাধীনতা রক্তে আমার :: হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়
বিজয়ের স্বাদ :: ফরিদ সাইদ
বঙ্গবন্ধুর ডাকে :: জানে হৃদয়
শোষকের পরাজয় :: হামীম রায়হান 
বিজয়ের গান :: সৈয়দ ময়নুল কবরী 

..................................................


বিজয় দিবস
তৈমুর খান

রক্ত দিয়ে এনেছি এই বিজয় দিবসখানি
মুক্ত আমি, মুক্ত আজ আমার আকাশখানি।
এ স্বপ্নকেই জাগিয়ে রাখি নিত্য বুকের মাঝে
যেন আমার ঈমান-পাখি ডানা মেলে আছে।
ইতিহাসের আলো থেকে সভ্যতার আলোকে
ছড়িয়ে পড়ে আমার বাণী সর্ব দিকে দিকে।
এই বাংলা এই বাঙালির দীপ্ত অহংকার
ঘরে ঘরে বঙ্গবন্ধু ফিরে আসে বারবার।
..................................................

প্রজন্ম
সৈয়দ নাজমুল আহসান

প্রজন্ম-
তুমি দেখো নি
১৯৭১ এর পঁচিশ মার্চ
পাক হায়েনাদের সার্চ
নিরীহ বাঙালির লাশ
মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস।
প্রজন্ম-
তুমি দেখো নি
ত্রিশ লক্ষ শহিদের রক্ত
দুই লক্ষ নারীর মাতৃভক্ত 
দেশপ্রেমটা ছিল কি শক্ত।
প্রজন্ম-
তুমি দেখো নি
রাজাকার পাক-বাহিনী  
মুক্তিযোদ্ধার অঙ্গহানি
শোনো নি
ধর্ষিতা নারীর কাহিনী।
প্রজন্ম-
তুমি বিজয় দেখো নি।।
..................................................

মা আর কেঁদো না
তানজারীন ইফফাত স্বাতী

মাগো তোমার বুকে পাথর চাপা কান্না
তুমি সন্তান হারানোর ব্যথায় ভারাক্রান্ত
তোমার এই দুঃখ মোচন হয় নি আজও,
আমার দেশের এই পবিত্র মাটি তোমার সন্তানের রক্তে রঞ্জিত।
যে দেশের বিলে শাপলা ফুটে থাকে
নদীতে পালতোলা নাও বেয়ে চলে মাঝি,
যে দেশের আকাশে বাতাসে বিজয়ের সুর ভেসেছিল একদিন, ১৯৭১ এর ১৬ই ডিসেম্বর
সেই দেশের স্বপ্ন দেখেছিল তোমার সন্তান।
তোমার কান্না মুছে ফেল মা
আজ তুমিই ওড়াবে এই দেশের বিজয় কেতন,
তোমার চোখেই বাংলাদেশের মানচিত্র দেখব
তোমার চোখেই দেখেছি মা স্বাধীনতার আকুতি।
তোমার বোলেই গেঁথেছি আমরা স্বরবর্ণ ব্যঞ্জনবর্ণ
চলো মা তোমার হাতেই অর্পণ করো স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক।
আর কেঁদো না---
বিজয় দিবসে সবার আগে তোমায় জানাই সালাম
বিজয় মিছিলে সবার সম্মুখে তুমিই হাঁটবে চলো।
তোমার হাতেই লেখা হোক নব জাগরণ।
এই পবিত্র মাটির শপথ মা একদিন তুমিই জয়ী হবে,
সেদিন আর সব হারিয়ে কাঁদবে না।
তোমার মেয়েটি হয়েছে বীরাঙ্গনা
তোমার স্বামীকে পাক্ সেনারা গুলি করে হত্যা করেছে,
বয়সে কুঁজো হয়েছ তুমি, তোমার চোখের দৃষ্টি হয়েছে ক্ষীণ
তবুও তোমার তীক্ষ্ম চোখে দেখে নাও একবার এই দেশ,
এ দেশ তোমার আমার
এই দেশে আমরাই থাকবো
থাকবে না কোন অন্যায় এর দোসর।
জ্বলুক ওরা, হঠাও ওদের
বিজয়ের আনন্দে আজ মাতো সবাই নতুন করে,
স্বাধীনতার সূর্যকে যেমন ছিনিয়ে এনেছিল মুক্তিসেনার দল
তেমনি সেই সূর্যকে আজ তুলে ধরো সবার উপরে
আলোর বিকিরণ ছড়িয়ে পড়ুক আমার দেশের মাটি জুড়ে,
সত্য ন্যায়ের ভাষা ফুটে উঠুক মাগো তোমার প্রতিটি ছেলের মুখে।
ফুল হয়ে ফুটুক প্রতিটি শিশু এই দেশে
শুভময় হোক, আলোকিত হোক জীবনযুদ্ধে হেরে যাওয়া প্রতিটি জীবন।
..................................................

বিজয় 
তামিম ইকবাল 

বিজয় আমার স্বপ্নে আঁকা সোনার বাংলাদেশ, 
বিজয় আমার আকাবাকা পথের রঙিন বেশ। 
বিজয় আমার স্বপ্ন নদী নৌকা বহে বারো মাস, 
বিজয় আমার জীবন সাজায় তাই বাংলায় বসবাস। 
বিজয় আমার নীল পাখনা পালক ছেড়াধন, 
 বিজয় আমার ফুল বাগানে সুবাসে ভরায় মন। 
বিজয় আমার বাঁচার স্বপ্ন সুখের কল্পনা, 
বিজয় আমার সুর সাগরে ছন্দের আল্পনা।
..................................................

বিজয় আসে ঘরে
মহিউদ্দিন বিন্ জুবায়েদ

মার্চ মাসে ভাষণ শুনে উঠলো সবাই জেগে
এদেশ স্বাধীন করতে হবে বলল রেগেমেগে।
সেদিন সবার রক্তগরম যার যা ছিল হাতে
মুজিব কন্ঠে আদেশ পেয়ে ছুটে গেছে প্রাতে।
সময় বেশি লাগেনি তো বিজয় আসে ঘরে
তিরিশ লাখ নারী-পুরুষ গিয়েছিল মরে।
অবশেষে স্বাধীন হলো আমার জন্মভূমি
ষোল তারিখ ডিসেম্বরে খুশি আমি তুমি।
..................................................

বিজয় মানে
মাহমুদ সালিম

আমার কাছে বিজয় মানে একাত্তরের কথা
জীবন দিয়ে আনলো যাঁরা প্রিয় স্বাধীনতা।
আমার কাছে বিজয় মানে আনলো যাঁরা জয়
কোটি হৃদের প্রাণের কুটিরে শ্রদ্ধা ভরে রয়।
আমার কাছে বিজয় মানে একাত্তরের যুদ্ধ
রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে দেশ পূর্ণ হলো শুদ্ধ।
আমার কাছে বিজয় মানে লৌহ কপাঠ ভাঙা
যুদ্ধ করে বিজয় এনে লাল সবুজে রাঙা।
আমার কাছে বিজয় মানে রক্তে কেনা মাটি
আমার মাটি হিরের চেয়ে অনেক বেশি খাঁটি।
আমার কাছে বিজয় মানে রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম
যাঁদের গর্জন শুনে পালায় রাজাকার রাম-বাম।
আমার কাছে বিজয় মানে মায়ের মুখের হাসি
জীবন দিয়েও এই হাসিটা দেখতে ভালোবাসি।
আমার কাছে বিজয় মানে লাল সবজুরে নিসান
বিজয় পতাকা হাতে হাতে উড্ডিন করে কিষাণ।
আমার কাছে বিজয় মানে পাকবাহিনির হানা
রুখি তাঁদের অস্ত্র দিয়ে ঢুকতে করি মানা।
আমার কাছে বিজয় মানে যুদ্ধ হলো শেষ
লক্ষ প্রাণের রক্ত দানে পেলাম বাংলাদেশ।
..................................................

বিজয়ের দিনে
সৌমেন দেবনাথ

ডিসেম্বর মাস বিজয়ের মাস
আমরা শত্রু মুক্ত,
চোখের জলে স্মৃতি আওড়াই
আমরা যারা ভুক্ত।
ডিসেম্বরের ষোল তারিখ
আমরা পাই বাংলাদেশ, 
মুক্ত হাওয়ায় নিঃশ্বাস ফেলি
অপশক্তির হয় শেষ।
ডিসেম্বর মাস এলেই আমরা
আনন্দতে হাসি,
হাওয়ায় ভাসে বিজয়ের ঘ্রাণ,
দেশকে ভালোবাসি।
ডিসেম্বরের প্রথম থেকেই
তৈরি হতে থাকি,
বিজয় দিবস উদযাপনে
আল্পনা তাই আঁকি।
প্রথম প্রাতে কুচকাওয়াজ হয়
ডিসপ্লে হয় তারপরে,
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়
কেউ থাকে না ঘরে।
লাল সবুজের শাড়ি পরে
দেশকে গালে আঁকে,
হাতে রাখে পতাকা এক
ভালোবেসে মাকে।
বাবার কাঁধে চড়ে শিশু
প্রাণটা খুলে হাসে,
দেশের জন্ম দেখতে শিশু 
স্মৃতিসৌধে আসে।
ষোলই ডিসেম্বর জাতির জন্য
একটি অমূল্য দিন,
যাদের রক্তে বিজয় পেলাম
কেমনে শোধবো সে ঋণ।
..................................................

লাল-সবুজের পতাকা
ইমরান খান রাজ

শত বাঁধা কাটিয়ে, শত্রুকে হটিয়ে
বাংলার সাহসী সন্তানেরা,
নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর
লাল-সবুজের পতাকা উড়ালো।
বাংলার মাটিকে হায়নাদের আঁচড় থেকে
রক্ষা করার জন্য জীবন উৎসর্গ করে,
হাজারো মায়ের বুক খালি হলো,
তীব্র আর্তনাদে ! ব্যাপক অশ্রুপাতে !
আমরা পেরেছি, হেসেছি আজ
স্বাধীন দেশের পতাকা হাতে নিয়ে,
বিজয়ের উল্লাসে মাতোয়ারা হয়ে,
নতুনভাবে চলো গড়বো বাংলাদেশ।
..................................................

স্বাধীন বাংলাদেশ
পারভীন আকতার

তোমাকে কাছে পাবে বলে
হে স্বাধীনতা, কপাট খুলে বসে আছে
নুরজাহানের অভাগী জননী।
তোমাকে জড়িয়ে ধরবে বলে
হে স্বাধীনতা, শাড়ীছেঁড়া সালেহারা
বন্দী ঘরে কেঁদেকেটে অস্থির।
তোমাকে দেখতে পাবে বলে
হে স্বাধীনতা, উৎ পেতে থাকে জোয়ান
গেরিলা বাহিনীর কামান অস্ত্র। 
তোমাকে স্নেহপরশে ডাকবে বলে
হে স্বাধীনতা, রাখালের গরুপালে হানা
জুলুম নৃশংসতা সয়ে গেল উদ্বাস্তু। 
তোমাকে সম্পূর্ণ পতাকা দেবে বলে
হে স্বাধীনতা, যুবকের তাজাল্লী প্রাণ লয়ে
থর থর কাতরায় ধড়ফড় সিংহল দেহ। 
তোমাকে সবুজ চাদরে মুড়িয়ে দেবে বলে
হে স্বাধীনতা, বীরাঙ্গনার জামার ভাঁজ ভেঙেছে 
হায়েনারা লুটপাট করেছে সখিনার সম্ভ্রম। 
তোমাকে বুকে আগলে রাখবে বলে
হে স্বাধীনতা, এক কালজয়ী নেতার ডাকে
সমবেত জনতার আর্তনাদ অখন্ড বাংলায়।
তোমাকে স্বজাতি মানচিত্র দেবে বলে
হে স্বাধীনতা, গর্জে উঠেছিল সাতলক্ষ নির্ভীক
লাঠিসোঁটা বাশেঁরগাঁট বেড়াভাঙ্গা স্রোত। 
তোমাকে হাতে নিয়ে আদর করবে বলে
হে স্বাধীনতা, সন্তানের বুকে বুলেট লাগিয়ে
তুচ্ছ করেছিল জীবনের মায়া বাঙালী। 
হে স্বাধীনতা, দরদে কাছে আসো ওদের,
আশায় আকর বেঁধেছিল যে মুক্তিযোদ্ধারা।
তোমাকে আলতো করে ছুঁয়ে দিতে চায়,
নির্বিঘ্নে তোমার মাটিতে হাঁটতে চায়,
বিবেকহীন অরাজকতার ধূমবর্ণ, 
কালি ছন্দে নির্বাসনে দিতে চায় এই জনতা।
স্বাধীনতার তূর্যগহব্বরে সুপেয় জল চায়,
দেশপ্রেমে বিভোর সৃষ্টিশীল সভ্যজাতি চায়।
খেলায় ছলায় সুযোগ নিয়ে আর করোনা হেলা
সময়ের প্রবাহ কে রাখে ধরে মুক্ত বিহঙ্গ!
স্বকীয়তায় বাঁচো, প্রাণে ভালেবাসো বাংলাদেশ।
আমার দেশ, মায়ের দেশ, পিতার বুকফাটা কান্না
ওগো প্রিয় স্বদেশ, তিরিশলক্ষ শহীদের বাংলাদেশ।
..................................................

ষোলোই ডিসেম্বর
শেখ একেএম জাকারিয়া

গুগলে দাও এখনি সার্চ
একাত্তরের পঁচিশে মার্চ
জানতে ইতিহাস
নির্বিচারে মারলো মানুষ
মিলিটারি দুষ্ট দানুশ
করতে এদেশ নাশ
অতর্কিত হামলা চালায়
ঘরবাড়িতে আগুন জ্বালায়
কাপুরুষের জাত
আগুন লাগায় দেহে কেশে
আগুন লাগায় বাংলাদেশে
ভয়ঙ্কর একরাত
ধর্ষণ করে বাড়ি বাড়ি
রাজাকার ও মিলিটারি
নয় সেকথা কল্প
শুনলে এসব কান্না আসে
যে শুনে সে দুঃখে ভাসে 
নির্যাতনের গল্প
ঘুমিয়ে থাকা দেশের মানুষ
গুলির শব্দে কেউবা বেহুঁশ
কেউবা রক্তে লাল
এসব দেখে ঝাঁপিয়ে পড়ে
বাঙালি সব অস্ত্র ধরে
কেউ ছাড়েনি হাল
ইয়াহিয়ার শোষণশাসন
করতে দমন মুজিবভাষণ
সবার মনে মনে
থাকবে না আর কেউ পরাধীন
বঙ্গমাতা করতে স্বাধীন
ছুটছে সবাই রণে
পঁচা গন্ধ হাওয়ায় ভাসে
মানুষ মরার খবর আসে
হয় বাঙালি ক্ষুদ্ধ
লাখে লাখে মানুষ মরে
রাস্তাঘাটে নদীর চরে
নমাস চলে যুদ্ধ
নমাস পরে যুদ্ধ শেষে
বীর বাঙালি বীরের বেশে
ফিরলো নিজের ঘর
বিজয় নিয়ে এলো হেসে
আমার সোনার বাংলাদেশে
ষোলোই ডিসেম্বর!
..................................................

বেচেঁ থাকো স্বাধীনতা
নেহাল মাহমুদ

হয়তো মাটি আজও কাদঁছে, সেই নৃশংস-বর্বর,
হয়তো এ বসন্ত স্বরণ করছে তার অতীত-বিবর।
তবু সে কাদাঁ শুধুই স্বপ্নের আর বিজয়ের,
যাযাবরেরা আজ ক্ষত বিধ্বস্ত কোটি ফের।
সেই দিন আর সেই রাতগুলো যে ভীম স্বপ্নে ভরা-
মিথ্যে পেয়েছে কবর, শান্তি জরা-মৃত্যু-ভীষণা-ধরা।
সেই অসংযমী যারা আমাদের পাড়িল ক্ষুদ্রমনা-
তবু আমার বীরেরা আষাঢ়ের গিরি-নিঃস্রাব বাধা মানে না।
শত বীরের বিপ্লব আর প্রাণপণ অভিযান,
পুনরুদ্ধার করেছে যারা স্বাধীন বীরের গান।
অকুতোভয় যারা চির উদ্ধত শির-
বীরবেশে যারা গেল শুষিতে বৈকাল নীর।
তারা মুক্তিযোদ্ধা, তারা যুগাবতার, তারাই বঙ্গবন্ধু।।
তবুও আজকের দিন না এলে হয়তো পেতাম না এতো কিছু
স্বাধীনতা, সে এসেছে বলেই পরাধীনতা নেয় পিছু।
বেচেঁ থাকো স্বাধীনতা, ধ্বংস হউক বিপরীত-
বাংলার এই সুখের নীলাচল থাকে যেন রহিত।।
..................................................

মহান বিজয় দিবস
ডা. এম এ ওহাব লাবিব 

মহান বিজয় দিবস ১৬ই ডিসেম্বর, বাঙালি জাতির অহঙ্কার
এ বিজয়কে রাখবো সমুন্নত, স্বাধীন সবাই, হোক অঙ্গীকার।
সাড়ে সাতকোটি মানুষ বুকে সাহস নিয়ে হয়েছিল ঐক্যবদ্ধ 
২৬ মার্চ থেকে শুরু হয়, নয় মাস রক্তক্ষয়ী মহান মুক্তিযুদ্ধ।
লক্ষ শহীদের তাজা রক্ত, মায়ের ইজ্জত দিয়েছিল বিসর্জন
অবশেষে হানাদার পাকিস্তানবাহিনী করলো আত্মসমর্পণ।
বঙ্গবন্ধু ও বাঙালিদের কাছে তারা করেছিল শির অবনত 
বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, পেয়েছি স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব। 
মুক্তিকামী জনতা প্রায় খালি হাতেই দিয়েছিলো সব রুখে 
প্রাণ বাজি রেখে ঝাঁপ দিয়েছিল হামিদুর সাহস নিয়ে বুকে।
বীর মতিউরদের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে স্বাধীনতা
ভুলবো না সেই দুঃসাহসী বীর জাহাঙ্গীর মুক্তিযোদ্ধার কথা।
বীর মোস্তফা কামাল ছিনিয়ে এনেছে লাল সবুজের পতাকা
রউফরা এনেছে৫৬ হাজার বর্গ মাইলের বাংলার সীমারেখা।
বীরশ্রেষ্ঠ নুর মুহাম্মাদ শেখ অর্জিত স্বাধীন বাংলার জনগণ
এতবছর পরেও কি করতে পেরেছি মোরা তাঁদের স্বপ্নপূরণ।  
বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন চেয়েছিল বৈষম্য বিভাজন ও মুক্তি 
রুখতে হবে বঞ্চনা- গ্লানি, আছি মোরা বিশ কোটি জনশক্তি।
বঙ্গবন্ধুর দেশে সেনাপতি ওসমানীর সেনাদল করেছিল যুদ্ধ
সেক্টর কমান্ডারদের সক্রিয় অংশগ্রহণে বাঙালি মোরা মুগ্ধ। 
লাখো শহীদের প্রাণে অর্জিত গৌরবময় মোদের এই বিজয়
সকলে মিলে গড়বো দেশ, মানবো নাতো কোনো পরাজয়।
..................................................

যখন বিজয় আসে 
তূয়া নূর

বিজয় আসে এভাবেই 
সবকিছু ভেঙে চূরে ফেলা অবাধ্য উচ্ছল সমুদ্র স্রোতের মতো
দূর প্রান্ত থেকে খবর আসে প্যাডেল করা দু’চাকার সাইকেলে
সামনে উড়ানো হাতে সেলাই করা পতাকা। 
কতকাল ছিলো পাখি আটকা খাঁচায় 
মুক্ত আকাশে ওড়ার আজন্ম সাধ,
কত শতবার চেষ্টা তার। 
ঝরলো বুকের তপ্ত রক্ত 
বেয়নেটের খোঁচায় ছিন্নভিন্ন শরীর 
ভেসে গেছে রক্তের নদী
সব কিছু হারায়ে কেঁদেছে মা।
একটা কথা ইংরেজিতে কোথাও উৎকীর্ণ করা ছিলো—
ফ্রিডম ইজ নট ফ্রি
সব হারানো সেই মা জানে এই কথাটার মানে। 
বিজয় এ ভাবে আসে
শত্রুর বন্দুক কামানের নল ভোতা ও অথর্ব করে দিয়ে। 
খোলা মাঠ, ধান ক্ষেত ---পাশে নদী 
একটা কিশোরী মেয়ে সবুজ পাড়
আর লাল জমিনের শাড়ি পরে মাঠের আল বেয়ে ছুটে যায়। 
বাতাসে ওড়ে তার ফিতেয় বাঁধা বেণী।
সব হারানো সেই মায়ের তখন আনন্দে বুক ভরে যায়।
..................................................

বিজয় মানে
শাহীন রায়হান

বিজয় মানে পাখির মতো ওড়া
সুতো কাটা রঙিন ঘুড়ির
লাগাম ছাড়া ওড়াউড়ি
হাওয়া ছুঁয়ে আকাশটাকে ঘোরা।
বিজয় মানে আলো রাশি রাশি
লাল সবুজের মাখামাখি
ঘাসের বুকে আঁকাআঁকি
রাখাল ছেলের মাতম তোলা বাঁশি।
বিজয় মানে সুখের পরিবেশ
বীর বাঙালির জয় বাংলা সুর
মায়ের আদর সুখের অন্তঃপুর
শেখ মুজিবের সোনার বাংলাদেশ।
..................................................

বিজয় মানে
এম. তামজীদ হোসাইন

বিজয় মানে মনের ভেতর
আনন্দ আর উল্লাস 
বিজয় মানে মুক্তভাবে
স্বাধীন বসবাস
বিজয় মানে লাল সবুজের 
পতাকার হাসি
বিজয় মানে তোমায় আমি
গভীর ভালোবাসি 
বিজয় মানে বাংলা ভাষায়
মনের কথা বলা
বিজয় মানে হাতে হাত রেখে
নির্ভয়ে পথচলা
বিজয় মানে নয় ভেদাভেদ 
বাংলার জমিনে 
বিজয় মানে মুক্ত হাওয়া
সবার জীবনে
বিজয় মানে দুঃখ কষ্টের 
দিন হয়েছে শেষ
বিজয় মানে রক্ত দিয়ে কেনা
মোদের সোনার বাংলাদেশ।
..................................................

স্বাধীনতা রক্তে আমার
হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

পেরেছি পেরেছি দেখো
আমরা পেরেছি
শত্রুমুক্ত করে আমরা
বিজয় এনেছি ।
মৃত্যুভয় উড়িয়ে দিয়ে
বাঁচবো ভেবেছি
দেশটা আমার, আমারই দেশ
রক্তে জেনেছি ।
অনেক কষ্টে বিজয় আনা
জীবন আমার দেশ
দেশ-ই পিতা, দেশ-ই মাতা
রক্তে আছে রেশ ।
স্বাধীনতা রক্তে আমার
আমার চোখের মণি
স্বাধীনতায় রঙিন হয়ে
আমরা হবো ধনী ।
..................................................

বিজয়ের স্বাদ 
ফরিদ সাইদ

যুদ্ধে যাবার 
ডাক এসেছে
হাঁক এসেছে
মন কী ঘরে রয়?
ভাই মরেছে
বোন মরেছে
দুঃখ কী আর সয়?
প্রাণের মায়া ছিন্ন করে
এগিয়ে গেলো যারা
প্রতিরোধের দেয়াল দিয়ে
আনলো বিজয় তারা।
নীল আকাশে
পাখির হাসি
ফুল বাগানে
ফুলের হাসি।
সবুজ শ্যামল বাংলা আমার
দাঁড়ায় মাথা তুলে
বহু মানুষ রক্ত দিলো  -
কী করে যাই ভুলে?
বিজয়ের স্বাদ যে পেয়েছে
সে -ই তো দেশের লোক
উড়িয়ে দিলাম ওই পতাকা
হোকনা যতোই শোক।
..................................................

বঙ্গবন্ধুর ডাকে
জানে হৃদয়

একাত্তরের রণাঙ্গনে
বঙ্গবন্ধুর ডাকে
লাল সবুজের জমিন পেতে 
হারিয়ে ফেলি মাকে
নয়টি মাসের যুদ্ধশেষে
রক্তরাঙা তুমি
খুন ধর্ষণে সকাল বিকাল
প্রিয় জন্মভুমি
একাত্তরের রণাঙ্গনে 
বঙ্গবন্ধুর ডাকে
তিরিশ লক্ষ প্রাণ কাড়িল
সর্বনাশা পাকে
কেমনে তোরা ভুলে গেলি 
নিঠুর ইতিহাস
দেশটা আজো মগেরমুল্লুক
চোর ডাকাতের বাস
একাত্তরের রণাঙ্গনে 
বঙ্গবন্ধুর ডাকে
লক্ষ যুবক ঝাপিয়ে পড়ে 
বুলেট বোমার ফাঁকে
স্বাধীনতার পাইনি স্বাদ
লক্ষ প্রাণের দামে
চারিদিকে আর্তনাদ
স্বাধীন শুধু নামে
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে 
শেখ মুজিবের ডাকে
সব হারিয়ে নিঃস্ব আমি 
দুঃখ বলি কাকে?
..................................................

শোষকের পরাজয় 
হামীম রায়হান 

ধর্মের ভাই বলে তারা
রক্ত খেল চুষে,
বুকের ভেতর ধরল আগুন,
যেমন ধরে তুষে।
চব্বিশ বছর বাঙালি মনে
রাখে আগুন পুষে।
বসল তারা চেপে কাঁধ,
অত্যাচারে ভাঙল বাঁধ।
বাংলা মায়ের দামাল ছেলে 
দীপ্ত শপথ করে,
রক্ত চোষা তাড়িয়ে তাঁরা
আসবে তবেই ঘরে।
স্বাধীনতার জাহাজ তারা
ভীড়াবে বন্দরে।
দামাল ছেলে বীরের বেশে,
আসে বিজয়ের হাসি হেসে,
বাঙালির কাছে এভাবেই হয়
শোষকের পরাজয়,
মাথা উঁচিয়ে চলে বাঙালি,
নিচু যেন কভু নয়!
..................................................

বিজয়ের গান 
সৈয়দ ময়নুল কবরী 

ও মা আমি!
 বুঝতে শিখেছি জানতে পেরেছি
করতে শিখেছি জয়, 
ও মা আমি! 
যোদ্ধে লড়েছি বিজয় কুড়িয়েছি 
তাই তো মনেতে ভয়!
ও মা আমি! 
হাসতে যেয়েও হাসিতে পারি না 
কাঁদতে পরাণী ক্ষয়, 
ও মা আমার! 
স্বপ্নে বিভোর আলেয়া চোখেতে 
টলমলে জলে বয়। 
ও মা আমি! 
মুমূর্ষ্য প্রায় বুক পাঁজরে শত বেদনায় 
মলিন বদন কলঙ্ক সয়,
ও মা আমার! 
নিথর দেহ পাথর হয়ে ভোগছে কেন?
নির্দোষ জীবন কলঙ্ক ছোঁয়।

No comments

নির্বাচিত লেখা

আফসার নিজাম’র কবিতা

ছায়া ও অশ্বথ বিষয়ক খ-কবিতা এক/ক. সূর্য ডুবে গেলে কবরের ঘুমে যায় অশ্বথ ছায়া একচিলতে রোদের আশায় পরবাসী স্বামীর মতো অপেক্ষার প্রহর কাটায় প্রাচী...

Powered by Blogger.