বিজয় দিবস সংখ্যা ২০২০ : ২য় পর্ব

সময়ের পরিক্রমায় আমাদের বিজয় আজ অর্ধশতাব্দিতে এসে পড়েছে। শোষণমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয় নিয়ে আমাদের যে মুক্তিসংগ্রাম। তার একটি পরিনতি আমাদের বিজয়। এই বিজয় আমাদের আনন্দিত করে। আর বেদনায়ও জারিত করে। অনেক ত্যাগের বিনিময় এই বিজয় অর্জিত হয়েছে। আমাদের ভালোবাসায় সে বিজয় অটুট থাকুক এটাই আমাদের কামনা
আমাদের এই পথ চলায় লেখা দিয়ে, লেখা পাঠ করে সঙ্গ দিয়েছেন তাদেরও জানাই বিজয়ের শুভেচ্ছা।

আফসার নিজাম
সম্পাদক

সুচিপত্র

স্বাধীনতা একটি জাতির নিশান :: শিকদার বাসীর
বিজয় :: যাকিউল হক জাকী
আমার জন্মভূমি বাংলাদেশ :: আবুল খায়ের বুলবুল
সবুজ শান্তির দেশ :: মুন্সি আব্দুল কাদির
সূর্যটা বিজয়ের :: নীলিমা আক্তার নীলা
বিজয় :: মজনু মিয়া 
কবে হবে প্রভাত :: জাফর পাঠান
যুদ্ধের গল্প :: আখতারুল ইসলাম
বাবার মতো হতে পারলাম কই :: মিনহাজুল ইসলাম মাসুম
বিজয়ের সনদপত্র :: হাসিব মাহমুদ
বিজয়ের কবিতা :: যুবক অনার্য 
যুদ্ধের গল্প :: আখতারুল ইসলাম
অর্জিত বিজয় :: ফজলুল হক সোহাগ 
লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে :: রিয়াদ হায়দার
বিজয় ও ১৯৭১ :: শাহীন রায়হান
রক্তফিনকীস্নাত সবুজ জামা :: আকিব শিকদার
বিজয়মাল্য :: পলাশ চন্দ্র দাস
বিজয় গীতি :: মীনা সাহা
বিজয়ের বেশেতে :: শাহীন খান
মাহমুদ মুযযাম্মিল :: জানি দুশমন
..................................................

স্বাধীনতা একটি জাতির নিশান
শিকদার বাসীর

স্বাধীনতা একাত্তরের জনক
ফুল-ফলাদী, শস্য-দানায় কনক
স্বাধীনতা মুখের হাসি মায়ের
সবুজ-শ্যামল রুপের ছটা গাঁয়ের
স্বাধীনতা চুড়ি-ফিতা বোনের
মেঘ ভাঙা ঐ সূর্য যে পূব কোণের
স্বাধীনতা মাঝির বাদাম নায়ের
একতারাতে বাউল গানে সায়ের 
স্বাধীনতা পাখির কিচিরমিচির
কলকলানো সাগর-নদী বীচি'র
স্বাধীনতা একটি জাতির নিশান
যাহার তলে কুলি, মজুর, কৃষাণ।।
..................................................

বিজয়
যাকিউল হক জাকী

বিজয় যখন অাসে
দুর্বাঘাসের হৃদয় কোণে
শিশির ভেজা স্নিগ্ধ বনে
সবুজপ্রাণে ক্ষণে ক্ষণে
ফোকলা দাঁতে কিশোর মনে
ফিক্ ফিকিয়ে হাসে।।
বিজয় যখন ফোটে
অাকাশ পানে তারার ছোটা
গোধুলীতে চন্দ্র ওঠা
ফুলবাগানে কলির বোটা
যুবকদেহে শক্তি জোটা
লাল সবুজের ঠোটে।। 
বিজয় যখন ভাসে
শীতের কাপন খুশির দোলা
নদীর বুকে ঢেউয়ের খেলা
পাখির নাচন প্রাণখোলা
সবাই মিলে পথ চলা
সোনার বাংলাদেশে।।
..................................................

আবুল খায়ের বুলবুল
 আমার জন্মভূমি বাংলাদেশ

বাংলাদেশ আমার বাংলাদেশ
চির সবুজের এই দেশ
আমার জন্মভূমি তুমি
তুমি আমার সবিশেষ।
বাংলাদেশ আমার বাংলাদেশ
চির সবুজের এই দেশ
আমার জন্মভুমি তুমি
তুমি আমার সবিশেষ।।
মা'য়ের কথায় ভাষা শেখা
বাবা'র ডাকে মমতা
ভাইয়ের আদর বোনের স্নেহে
ছিলো শুধু সমতা
এই মাটিতে গড়াগড়ি 
 আমার ছিলো পরিবেশ,
বাংলাদেশ আমার বাংলাদেশ
চির সবুজের এই দেশ
আমার জন্মভূমি তুমি
তুমি আমার সবিশেষ।।
 ঘুমিয়েছেন দাদা দাদী
এই জন্মভূমির বুকে
কোটি বেদনায় বুক চাপড়ায়
 ভালোবাসার সুখ দুখে।
পাখির ডাকে ঘুম ভেঙে যায়
মিনার থেকে আসে সুর
ফুলের সুবাসে   হারিয়ে যায়
যতো বেদনা বিধুর
আবির রঙে ভরা মাঠ দেখে
দৃষ্টি থাকে অনিমেষ
ভালোবাসার এই বাংলাদেশ
আমার জন্মভূমি তুমি
তুমি আমার সবিশেষ।।
..................................................

সবুজ শান্তির দেশ
মুন্সি আব্দুল কাদির

প্রিয় দেশটি আমার চির সবুজ বন
মৌমাছিরা মধু পেতে করেরে ভনভন
বুকের রক্তে দেশটি আমার কেনা
শহীদ ভাইদের আছে অনেক দেনা।
দেশটি আমার সম্পদে ভরপুর
বেনিয়ারা আসল দেখ অনেক দূর
ছলচাতুরি পথ নিল যে তারা
চাটুকারে বেশ জাগল দিয়ে সাড়া
পর্তুগীজ ফরাসী ব্রিটিশ ওদের নাম
সম্পদ লুটে এই তাহাদের কাম
আজকে তারা ভদ্র সমাজ সাজে
লেবাস নিচে চেহারা খুব বাজে
আমার দেশের কুহিনুর কই রাণী
মিষ্টি কথায় দেয় যে অনেক বাণী
লজ্জা শরম আছে কোথায় মুখে
ছলছলিয়ে লুকায় তাহার চোখে
ভাগলে তারা আসল পাকের রাজা
সম্পদ লুটে ওরাও অনেক তাজা
গর্জে উঠে বীর বাংলার মন সুর
কেমনে করি পাকা হানাদার দূর
লাঠি সুটা টেডা বল্লম সকল হাতে
পাকা হানাদার দেয় যে হানা রাতে
নয় মাসে হয় কত যুদ্ধ মাঠে হাটে
লাশে লাশে ভরপুর পথ মাঠে ঘাটে
উড়ল পরে লাল সবুজে নীলে
কাধে কাধে দেশ গড়িব মিলে
সোনায় সোনায় ভরবে গেরাম পাড়া
আজকে এসো এই দিয়ে যাই সাড়া
হিংসা অহম ঘৃণা সব করি আজ দূর
আসবে দেশে শান্তি প্রীতির ভোর।
..................................................

সূর্যটা বিজয়ের
নীলিমা আক্তার নীলা

লাল টুকটুকে 
সূর্যটা দেখতে পাচ্ছ?  
সূর্যটা বিজয়ের।
আমার খোকা বিজয় নিয়ে এসেছে।
বিশ্বাস হচ্ছে না? 
দেখো দেখো ঐ দেখো
লাল সবুজের পতাকা নিয়ে
সবাই উল্লাস করছে
আনন্দ করছে
দৌড়াচ্ছে
আর আমার খোকা
রক্তের মিছিলে
নিশ্চুপ ঘুমিয়ে আছে।
তোমরা জানো
খোকার শান্ত মুখখানা
কেঁদেছিল মৃত্যুর আগে।
তোমরা কান্নার শব্দ শোনতে পাওনি
তোমরা শোনতে পাওনি তার আহাজারি
বুকফাটা আর্তনাদ
মাটিতে লুটিয়ে পরা
বিমর্ষ চিৎকার।
তবে কেন
কেন
খোকাকে তোমরা ছিনিয়ে নিয়ে এলে না
আমার খোকা তো
বলেছিল আসবে
খোকা তো মিথ্যে বলে না
কক্ষনো বলে না
কক্ষনো না।
সেদিনের মায়ের কান্নাটা
এমনি করুণ ছিল।
সে কান্না এখনো থামেনি।
কিন্তু
ধরন পালটেছে।
বিড়বিড় করে কথা বলে হেঁটে যাওয়া
শত তালি দেয়া আঁচল খানা
মাটির সাথে
গড়াগড়ি খাচ্ছিল।
বুঝতে অসুবিধা হয়নি একটু
সেদিনের খোকার মা
শহিদের মা।
শত তালি দেয়া বস্ত্র
আমাকে কাঁদালো অনেকক্ষণ।
..................................................

বিজয় 
মজনু মিয়া 

বিজয় এলো কথা বলার
বিজয় এলো পথে চলার 
বিজয় মুক্ত হবার, 
বিজয় আমার পরাধীন দেশ
স্বাধীনতা পাবার। 
বিজয় এলো সেই শহীদের
বিজয় এলো সেই মায়েদের
বিজয় এলো বোনের, 
ভাই হারা স্বজনের কান্নার 
বিজয় আমার মনের। 
বিজয় পেলো শিশু কিশোর
বিজয় পেলো যুবক পৌঢ়
বিজয় পেলো মানুষ, 
শহীদের রক্তে সম্ভ্রমে 
তাড়িয়ে অমানুষ!
..................................................

কবে হবে প্রভাত
জাফর পাঠান

পেলাম আমি এ কোন্ জনপদ
ঘর-বাহির সর্বত্রই বিপদ।
আক্রোশের লোভাতুর রবিদৃষ্টি
বহে জনে জনে আতংক বৃষ্টি।
এসে গেছি কি ফেরাউনের যুগে
কষ্ট, ভীষণ কষ্টে জনতা ভুগে।
পথে-ঘাটে ঘোরে হায়েনার দল
দাঁত কেলিয়ে দেখায় বাহুবল।
জ্ঞানী-গুণী লুকিয়ে লুকিয়ে চলে
বুকে চাপানো দুখের কথা বলে।
নিকৃষ্টের দল- বলে উৎকৃষ্ট
বেহায়া পিচাশদের এরা সৃষ্ট।
বর্বরদের দল- করে উল্লাস
জনপদের রক্তাক্ত সর্বনাশ।
হচ্ছে বর্ষিত সশস্ত্র উল্কাপাত
চন্ডালদের অদৃশ্য কালোহাত।
দেখো চেয়ে আজি অমানিশি রাত
জানেনা ক্ষণ- কবে হবে প্রভাত।
..................................................

যুদ্ধের গল্প
আখতারুল ইসলাম

তুমি যখন গল্প বলো গল্প বলো বাবার
ঠিক তখনি মনে পড়ে গাঁয়ের কথা আবার।
আমরা ছিলাম ছোট্ট গ্রামে হাসি খুশি ঘেরা
ভাই বোন সব খুব আদরের ভালোবাসায় সেরা।
গল্প জুড়ে অল্প কথায় ছায়াছবির মতো
ফুটে ওঠে নিত্য দিনের কান্না হাসি যতো।
হঠাৎ করে যুদ্ধ নামে এই আমাদের গ্রামে
গ্রামটা পুড়ে ছাই হয়ে যায় যুদ্ধ কি আর থামে?
দেশ বাঁচাতে বাবা ও ভাই যুদ্ধে গেলো ঠিক
পাক বাহিনির কালো থাবায় ভয়াল চতুর্দিক।
দীর্ঘ ন’মাস যুদ্ধ হলো দেশ পুড়ে হয় ছাই
কিন্তু কোথায় হারিয়ে গেলো প্রিয় বাব ভাই।
ছেলে হারা স্বামী হারা মা যে পাগল প্রায়
চতুর্দিকে খোঁজে ফেরে করে যে হায় হায়।
যুদ্ধ শেষে বিজয় এলো কিন্তু সবই শেষ
পাগল হওয়া মায়ের মুখে হাসে বাংলাদেশ।
..................................................

বাবার মতো হতে পারলাম কই
মিনহাজুল ইসলাম মাসুম

ডাক এসেছে মহানায়কের পক্ষ থেকে-
মহাসমরের আমন্ত্রণ! বজ্রকন্ঠে উদাত্ত আহ্বান।
‘যার যা আছে তা-ই নিয়ে প্রস্তুত থেকো...’
শত্রুসেনা ঘাড়ের কাছে হানা দেবে যেকোনো সময়।
বন্দরে অগোচরে, অলক্ষ্যে সোয়াতের আগমন
খালাস করছে অস্ত্র, ঝাঁপিয়ে পড়বে নিরস্ত্র মানুষের উপর
ভয়াল সেই রাত, দানবীয় ‘অপারেশন সার্চ লাইট’
সব জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছার-খার করছে হানাদাররা
বিক্ষিপ্ত বাড়ি-ঘর, ক্ষত-বিক্ষত লাশের স্তুপ,
রক্তাক্ত মুখচ্ছবি, দানবীয় বীভৎসতা!
কেউ কেউ পালিয়ে বেঁচে আছে কোনোমতে।
ও পাড়ার সহপাঠিরা গেছে জীবন-মরণ যুদ্ধে
ভীরু-কাপুরুষের ন্যায় জীবনপাত করার মানে কী হয়!
ডাক এসেছে মহানায়কের পক্ষ থেকে-
নাও প্রশিক্ষণ, হাতে তুলে নাও শত্রুবিনাশী মারণাস্ত্র
বাবা আজ নেই, চিরবিদায় নিয়েছিল মুক্তিসংগ্রামে
দাদা-দাদী, মা এবং আমরা তার ক’জন অবুঝ সন্তান
বেঁচে আছি সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে।
একটি লাল-সবুজ পতাকা এবং জন্মভুমিকে হায়েনার হাত থেকে-
ইস্পাত কঠিন শপথ নিয়ে চলছে মরণপণ সংগ্রাম।
যুদ্ধ শেষে বিজয়ী বীরসেনানী, মুক্ত স্বদেশ
লক্ষ শহিদের রক্তের উপর ভাসছে পবিত্র মাটি
বিধ্বস্ত দেশকে গঠন করতে হবে, আরেক মহাসমর 
অর্থনৈতিক মুক্তিই লক্ষ্য, কঠিন সেই মনযিল।
কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জিত হয়নি এখনো
অদৃশ্য শত্রুর হাতে বন্দি, আষ্টেপৃষ্ঠে অক্টোপাসের ন্যায়।
বাবা যেভাবে মহানায়কের ডাকে সাড়া দিয়ে 
শত্রুমুক্ত স্বাধীন দেশ গড়তে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো 
ভাবি আজ, বাবার মতো হতে পারলাম কই?
..................................................

বিজয়ের সনদপত্র
হাসিব মাহমুদ

মাগো, তুমি শুনতে পাচ্ছো? - ওরা আসছে;
গাম বুটের জোরালো শব্দে সবটুকু নির্জনতা ভেঙ্গে-
বেয়োনেট উঁচিয়ে সর্বগ্রাসী ধ্বংসের মতো করে,
ওরা আসছে; ওরা আসছে;
ওরা জেনে গেছে আমার বুকের গভীরে-
ধীরে ধীরে সনাতন শামুকের মতো বেড়ে উঠেছে
একটি স্বাধীন দেশ - একটি শ্যামল বিজয়;
মাগো, মাগো ওরা স্বাধীনতা কেঁড়ে নিতে চায়।
তুমি শুনতে পাচ্ছো? - ওরা আসছে;
বন্দুক, মেশিনগান, কাটা-রাইফেল - সবকিছু নিয়ে সুসজ্জিত
অথচ আমার মুষ্টিতে বাঁধা মাত্র একটি গ্রেনেড;
চোখদুটো জুড়ে চাতকের মতো বিশ্বাসী কিছু স্বপ্ন।
যে বিজয় পুষেছি বুকে এতোদিন ধরে,
বায়ান্ন - ছেষট্টি - ঊনসত্তরে
এতে পথ, এতো ত্যাগ, এতো তাজা রক্ত
মাগো, মাগো ওরা সে বিজয় কেঁড়ে নিতে চায়।
ওরা এলো, ওরা এলো অবশেষে-
বেয়োনেট উঁচিয়ে শঙ্কিত শেয়ালের মতো করে।
মৃত্যুর দরোজায় সচেতন কড়া নেড়ে;
তোমার জন্য রেখে গেলাম একটি স্বাধীন দেশ,
লাল-সবুজের পতাকা, নিখাদ সতেজ হাওয়া,
তোমার জন্য রেখে গেলাম একটুখানি স্মৃতি,
একটি মাতৃভূমি, একটি মাতৃভাষা-
আমার রক্ত-স্বেদ মাখানো মুক্তির কবিতা;
রক্ষে কো'রো, রক্ষে কো'রো মাগো,
তোমার ছেলের রক্তে কেনা শাশ্বত স্বাধীনতা।
..................................................

বিজয়ের কবিতা
যুবক অনার্য 

যেকম হয় - ওরা আমার পিতাজির 
খুলি উড়িয়ে দিলো 
মাকে ধর্ষণ করে কেটে নিলো স্তন 
ভাইটার গলা থেকে মুন্ডুটা ধারালো চাকু দিয়ে আলাদা করে নিলো 
আর আমাকে নাবালক ভেবে দুই গালে
সজোরে টিপে দিয়ে যেদিক দিয়ে এসেছিলো সেদিকেই চলে গেলো
আমি পেছন থেকে স্পষ্ট দেখতে পেলাম -
তাদের উত্তরপ্রজন্মের হাতগুলি তাদেরই
রক্তে রঞ্জিত হয়ে আছে
তারা বুঝতেই পারে নি -বিপ্লব প্রথমে শুরু হয় নিজের ঘর থেকে যেমন নাকি ইংরেজিতে 
একটি কথা আছে - charity begins at home
সেদিনের সেই বিপ্লবের কথা ভেবে আমি 
পিতাজি মাতাজি আর ভাইয়ের লাশের দিকে 
নির্বাক তাকিয়ে থেকে নিজের অজান্তেই 
বলে ফেলি- শোনো, তোমরা শুনে নাও এই কথা-
আমরা ইতোমধ্যে বিজয় লাভ করে ফেলেছি 
শুধু যুদ্ধটা বাকি রয়ে গেছে!
..................................................

যুদ্ধের গল্প
আখতারুল ইসলাম

তুমি যখন গল্প বলো গল্প বলো বাবার
ঠিক তখনি মনে পড়ে গাঁয়ের কথা আবার।
আমরা ছিলাম ছোট্ট গ্রামে হাসি খুশি ঘেরা
ভাই বোন সব খুব আদরের ভালোবাসায় সেরা।
গল্প জুড়ে অল্প কথায় ছায়াছবির মতো
ফুটে ওঠে নিত্য দিনের কান্না হাসি যতো।
হঠাৎ করে যুদ্ধ নামে এই আমাদের গ্রামে
গ্রামটা পুড়ে ছাই হয়ে যায় যুদ্ধ কি আর থামে?
দেশ বাঁচাতে বাবা ও ভাই যুদ্ধে গেলো ঠিক
পাক বাহিনির কালো থাবায় ভয়াল চতুর্দিক।
দীর্ঘ ন’মাস যুদ্ধ হলো দেশ পুড়ে হয় ছাই
কিন্তু কোথায় হারিয়ে গেলো প্রিয় বাব ভাই।
ছেলে হারা স্বামী হারা মা যে পাগল প্রায়
চতুর্দিকে খোঁজে ফেরে করে যে হায় হায়।
যুদ্ধ শেষে বিজয় এলো কিন্তু সবই শেষ
পাগল হওয়া মায়ের মুখে হাসে বাংলাদেশ।
..................................................

অর্জিত বিজয়
ফজলুল হক সোহাগ 

নয়টি মাস মোরা যুদ্ধ করে 
ছিনিয়ে এনেছি বিজয়,
সাত কোটি বীর বাঙালীর জয়  
চির অম্লান নির্ভয় ।
শকুনের থাবা রুখে দিয়ে যে 
এনেছি বিজয় পতাকা,
চির সবুজের সমারোহ সাথে 
লাল রক্তের থোকা।
কত মা বোন দিয়ে গেল প্রাণ 
কতজন হারিয়েছে সম্ভ্রম,
কেউবা হাতে অস্ত্র তুলেনিয়ে 
বাঁধা করেছে অতিক্রম।
শত আজাহারী শত হাহাকার  
শত হত্যা লুণ্ঠন,
জ্বলেছে গ্রাম জ্বলে গেছে হাট 
অবিরত হয়েছে ধর্ষন।
এই বাংলার দামাল ছেলেরা 
দিয়ে গেছে দেহ প্রাণ।
কত অগণিত কারো বাবা ভাই
হয়ে গেছে বলিদান
লাল রক্তে ভরে গিয়েছিল এই
প্রিয় স্বদেশ খানি,
শত মা বোনের অঙ্গে লেগেছে
অপবিত্রতার গ্লানি।
অবশেষে এই বিজয় পেয়েছি
১৬ ই ডিসেম্বরে।
বাংলাদেশ নামক দেশটি এলো
বিশ্ব মানচিত্রে।
..................................................

লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে
রিয়াদ হায়দার

একটা সাগর রক্ত ধারায়
স্বাধীনতার জয়গান,
দেশের জন্য শহীদ হলেন
বাংলাদেশের লক্ষ প্রাণ !
'৭১ এর মুক্তি যুদ্ধে
১৬ ই ডিসেম্বরে,
স্বাধীন হলো বাংলাদেশ
খুশির জোয়ার ঘরে !
দেশটা সেদিন মুক্ত হলো
জাতির পিতার জন্য,
তাঁকে পেয়ে বাংলাদেশ
সত্যি কারের ধন্য !
বিজয় দিবস নতুন ভাবে
ছড়াক খুশির আলো,
শহীদ স্মৃতি স্মরণ করে
সবাই থাকুক ভালো !
..................................................

বিজয় ও ১৯৭১
শাহীন রায়হান

প্রাগৈতিহাসিক শ্যাওলা ধরা বিল্ডিং এর ছাদ থেকে
তখনও চুইয়ে পড়ছিল শহীদ ভাইয়ের রক্ত
বাংলার মাটি তখনও বাঙালির রক্তে ভেজা
বিক্ষিপ্ত এক ব্লাডব্যাংক।
পুরো দেশ তখন হাসপাতালের জরুরী বিভাগ
যেখানে ডাক্তার নেই শুধুই মুমূর্ষু রোগীর
আর্তচিৎকার
বাতাস লাশের গন্ধ ভরা সূর্য অস্তমিত
তখন এদেশের বুকে শুধুই আঁধার
শুধু হাহাকার শুধুই বিভীষিকা।
এদেশের প্রতি ভূমিকণায় হিংস্র্র হায়েনার বিচরণ
প্রতি ঘরে ধর্ষণ লুন্ঠন অগ্নি সংযোগের তীব্র
আতংক
বাংলার আকাশে রক্ত বৃষ্টি ভূখন্ডে রক্ত স্রোত
কান্নার রোল হয়ে বয়ে যায় অবিরাম-
অবশেষে ১৬ ডিসেম্বর'৭১
বিধ্বস্ত শ্মশান ফুড়ে উড়ে যায় এক ঝাঁক সাদা
কপোত
বধ্যভূমি থেকে জেগে ওঠে প্রশান্তির নিসর্গ
ব্লাড ব্যাংক থেকে জেগে ওঠে লাল সবুজ পতাকা
হিমালয় হয়ে জেগে ওঠে বাংলাদেশ।
..................................................

রক্তফিনকীস্নাত সবুজ জামা
আকিব শিকদার

ভালবাসার জন্য মানুষ কী না পারে-
কী না পারে বলুন?
 সাত সাগর তেরো নদী পার!
হোহ... সে তো 
সামান্য, ফুলের রেণুর মতো যৎসামান্য।
হানাদার বাহিনীর হাতে 
ধরা পড়েছিল একজন
সোনার মানুষ, মুক্তিকামি সোনার মানুষ।
 শত অত্যাচার, তবু
মুখ খুললো না সাহসী সে তরুণ।
যদিও বেয়নেটের খোঁচা 
লাগছিল উরুতে, বুকে স্টেনগান ধরা
মুখের উপর কটু প্রশ্ন-
 ‘আমাদের জিজ্ঞাসার 
জবাব চাই, অগত্যা গুলি করে মারবো তোমায়।’
চূড়ান্ত নির্ভীক বলে, বুকভরা 
খাসা দেশপ্রীতি ছিল বলে-
নিচু হয়ে চুমু খেল
স্বদেশের মাটিকে, প্রেয়সীর গালে শেষ চুম্বনের মতো।
 তারপর উঠে দাঁড়ালে
সটান, ঝাকড়া চুলের বাবরি নাড়িয়ে বল্লে-
‘যথেষ্ট প্রস্তুত আছি, আমার রক্ত
প্রিয় দেশটাকে দেবে স্বাধীনতা’।
বাতাসের কলরব
থামলো হঠাৎ। ছিঁড়ে গেল মালার আদলে ওড়া
পাখিদের ঝাঁক; ভিজে গেল ঘাস, শ্যামল মাটি।
 ভেজা পতাকার মতো
রক্তফিনকীস্নাত সবুজ জামা, আর
নক্ষত্ররূপী জ্বলজ্বলে জামার বোতাম।
..................................................

বিজয়মাল্য
পলাশ চন্দ্র দাস

শহর গ্রামের বাঁকে বাঁকে
শিশির ভেজা ঘাসে,
শান্তির গান গেয়ে অাজই
বিজয় এলো বাসে।
বিশ্ব মানচিত্রে উজ্জ্বল হলো
লাল সবুজের দেশ,
শহিদ সকলে ধন্য হলো
মন খুশীতে বেশ।
অনন্তকাল দাস থাকা 
নরকের মত জ্বালা,
অাত্মনাশে এনেছি মোরা 
জয় আনন্দের মালা।
দেশ মাকে উদ্ধার করতে
কত ছেলে দিলো প্রাণ,
রক্তিম সূর্যের দীপ্ত আলোয়
ভাসে বিজয়ের ঘ্রাণ।
কবিদের অঝোর কবিতা 
গান গল্প উপন্যাসে,
দেশ মায়ের বিজয় কথা
ছন্দে ছন্দে হাসে।
তাজা তাজা প্রাণ বিসর্জনে
ত্যাগ-তিতিক্ষার তরে,
বিধবা মায়ের অাঁচলে ছুঁয়ে
বিজয় এলো ঘরে।
নর পিশাচের ধারালো হাত
ভেঙে দেওয়ার ফলে,
বিজয় এনেছি মোরা
বাংলা মায়ের কোলে।
..................................................

বিজয় গীতি
মীনা সাহা

 আজ আকাশে খুশির চাঁদ
 ঈদের পরব বাংলা জুড়ে 
সুরমা কাজল চোখের পাতায়
 আকবর গনি নামাজ পড়ে 
আমিনা তখন সদ্য কিশোরী 
নতুন স্বপ্ন নতুন আশা 
খুশির চাঁদ উঠোন জুড়ে 
 দাওয়ায় খেলে আলপনা

 মেঘ ছেয়েছে আকাশের গায়ে
ঘনায় আঁধার কালোয় ছায়ে
 ঘোড়ার পিঠে ছুটছে কারা
 ধুলোয় আধার ছড়িয়ে পাড়া
 খুশির স্বপ্ন সংজ্ঞা হারায়
 সংজ্ঞা ফেরে বন্দিশালায় 
চিৎকারে বুক উঠছে কেঁপে
 অত্যাচারী খুবলে খায়
 ওই কিশোরীর শরীরটাকে
 মাঠের ফসল মাড়িয়ে ওরা
  চাষির গোলায় আগুন লাগায়
 মেধার গতি থামিয়ে দিতে
 মায়ের ছেলের ঝাঁঝরা বুক
  লোভের নেশায় মত্ত লীলায়
 ভোগ দখলের বেজায়  সুখ
 বুকে জ্বলে তীব্র আগুন
 ওই আঘাতের বদলা চাই
 বাংলা মায়ের ছেলে মেয়ে
 শান দিয়ে ধাই অস্ত্র তাই 
জাগছে তারা দিনে-রাতে
 মায়ের ডাক বুকের খাঁজে
 সর্বজয়া ওই জননী
 দেখবে হাসি সবার মাঝে
 শ্যামল বরণ সবুজ মাঠে
 মায়ের আঁচল উড়ছে ওই
 প্রভাত রাগের সূর্য হাসে
 মুক্তি আলোয় স্নাত হই
বীর শহীদের রক্তে মাখা
 বাংলা মায়ের চোখের জল
 তবুও ভাসি বিজয় গীতে
 শেখ মুজিবের বাংলা অতল
 ঢালো ঢালো রক্ত ঢালো
 বীরভোগ্যা জননী আমার
 রক্তস্নানে মুক্ত করি
 এদেশ আমার এদেশ তোমার
এইতো বসে বিজয় গীতে 
 গাইব এখন বাংলার গান
 খুশির হাওয়া লাগছে বুকে
 বীর শহীদের অঞ্জলি দান
..................................................

বিজয়ের বেশেতে 
শাহীন খান

আমাদের দেখা হোক যুদ্ধের শেষেতে
দেখা হোক দেখা হোক বিজয়ের বেশেতে
ভ্রমরের গুঞ্জন, ফুলেদের দেশেতে। 
আমাদের দেখা হোক পাখি ডাকা ভোরেতে
দেখা হলে হেসে দেবো খুব বেশি জোরেতে
পুনরায় এক হবে স্নেহ প্রীতির ডোরেতে। 
আমাদের দেখা হোক আষাঢ়ের বর্ষায়
দেখা হোক দেখা হোক এতটুকু ভরসায়
অনাবিল ঝিলমিল আলো মাখা ফর্সায়। 
আমাদের দেখা হোক হৈচৈ হাটেতে
দেখা হোক দেখা হোক কবিতার পাঠেতে
ঘুড্ডির মেলা আর ফুটবল মাঠেতে।
আমাদের দেখা হোক করোনার পতনে
দেখা হলে খেতে দেবো খুব বেশি যতনে
মিলে মিশে একাকার হবো দু'টি রতনে।
..................................................

মাহমুদ মুযযাম্মিল
জানি দুশমন

জানি দুশমন যদি কেউ ছিলো
ওরাই পেতেছিলো দুশমনির জাল
ভাই হয়ে থাকবার চুক্তিসাক্ষর সত্ত্বেও
ভ্রাতৃভাব ভুলে গিয়ে গড়েছে শত্রুতা
সব শক্তিই ওরা করেছে দখল
সব আয়োজন তারা নিয়েছে কেড়ে
ধীরোদ্ধত এ মাটির প্রতিটি সন্তান
অধিকার বঞ্চিত হয়েও কি স্থির থাকা যায়
যেখানে ঘামে গড়া মাটির নিবাস
সেখানে শত্রুর বুট আর বুলেটের উল্লাস
কী করে সইবেন আপনি 
বুকের তাজা খুন
মাতৃযোনির গোপন রক্ত
ওই পিশাচের দল ঝরিয়েছে ধিঙ্গি নাচে
ক্রমাগত আঘাতের দাগ
গায়ে গাঁয়ে ও সবুজ নিসর্গে
আপনি সইবেন কি
নারীর থলথলে যুগল বুকে
শিশুর কোমল দেহে
বোনের শুভ্র উরুদেশে
এক দঙ্গল নিষ্ঠুর দহন
কখনো সইবার নয়
অবশেষে পাল্টা জবাবের নির্ভীক জাগরণ
হাজার ব্যথামলিন জীবনে ঢেলেছে
এক পেয়ালা স্বাধীন প্রাণরস 
আজো বেঁচে আছি আমরা সেইসব প্রাণে প্রাণিত হয়ে
হে বিজয়
তুমিও বেঁচে থাকো 
আমাদের বাঁচিয়ে রাখবার জন্য

⭐ FOR ANY HELP PLEASE JOIN


🔗 MY OTHERS CHANNELS

🔗 FOLLOW ME

🔗 MY WEBSITE

🔗 CALL ME
+8801819515141

🔗 E-MAILL
molakatmagazine@gmail.com

No comments

নির্বাচিত লেখা

আফসার নিজাম’র কবিতা

ছায়া ও অশ্বথ বিষয়ক খ-কবিতা এক/ক. সূর্য ডুবে গেলে কবরের ঘুমে যায় অশ্বথ ছায়া একচিলতে রোদের আশায় পরবাসী স্বামীর মতো অপেক্ষার প্রহর কাটায় প্রাচী...

Powered by Blogger.