বিজয় দিবস সংখ্যা ২০২০
সময়ের পরিক্রমায় আমাদের বিজয় আজ অর্ধশতাব্দিতে এসে পড়েছে। শোষণমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয় নিয়ে আমাদের যে মুক্তিসংগ্রাম। তার একটি পরিনতি আমাদের বিজয়। এই বিজয় আমাদের আনন্দিত করে। আর বেদনায়ও জারিত করে। অনেক ত্যাগের বিনিময় এই বিজয় অর্জিত হয়েছে। আমাদের ভালোবাসায় সে বিজয় অটুট থাকুক এটাই আমাদের কামনা
আমাদের এই পথ চলায় লেখা দিয়ে, লেখা পাঠ করে সঙ্গ দিয়েছেন তাদেরও জানাই বিজয়ের শুভেচ্ছা।
আমাদের এই পথ চলায় লেখা দিয়ে, লেখা পাঠ করে সঙ্গ দিয়েছেন তাদেরও জানাই বিজয়ের শুভেচ্ছা।
আফসার নিজাম
সম্পাদক
সম্পাদক
সূ চী প ত্র
এই পতাকা :: হাসান আলীম
রুদ্ধ নি:শ্বাস :: মিনা মাশরাফী
বিজয়ের পায়রা ডাকে :: মনসুর আজিজ
একেকটি স্প্যান ও সত্যের পকেট :: মোস্তফা হায়দার
যুদ্ধ শেষে :: আবু নেসার শাহীন
বিজয় মানে :: মির্জা মুহাম্মদ নূরুন্নবী নূর
বীর গাথা :: সমীরণ মণ্ডল
বিজয় :: কবিতা সুলতানা
আমার সোনার বাংলা :: হাসান মাহমুদ
বিজয়ের গান :: আনোয়ার আল ফারুক
বিজয়দিবস এবং কিছুকথা :: হাবিব ফয়েজি
বুদ্ধিজীবীদের প্রতি :: ওমর ফারুক
বিজয়ের ফুল :: ওমর ফারুক রায়হান
বিজয়ের ক্ষণ :: কৃপা বিশ্বাস
প্রজাপতির ডানা :: কমল কুজুর
কুড়িয়ে আনা গ্রেনেড :: আশরাফ আলী চারু
..................................................
এই পতাকা
হাসান আলীম
এই পতাকা লাল সবুজে লাল
এই পতাকা স্বাধীনতার ঢাল।
এই পতাকার সবুজ বুকে খুন
এই পতাকার সূর্য লালে রক্ত মাখা নুন।
রক্ত নুনে শহীদ খুনে দরদ কোটি গুণ।
বিজয় দিবস সবুজ নিবাস মুক্ত আলো বায়ু
প্রাণ হারাদের, দেহ মনে বাড়ায় সতেজ আয়ু।
বিজয় দিবস মহান বিজয় ষোলই ডিসেম্বরে
বাংলাদেশের সূর্য হাসে মুক্ত নীলাম্বরে।
ঘরে ঘরে সুখের পায়রা ডাকে বাকুম বাক
পায়রা গুলো ঢোলক বাজায় তাক ধুমা ধুম তাক।
শ্বেত ভালুকি শ্বেত পায়রা শ্বেত আতঙ্কে কাপে
বিজয় দিবস লক্ষীবিলাস কাহার অভিশাপে?
এই পতাকা মুক্তিসেনার রক্তে ভেজা সূর্য
এই পতাকা গৃহহারার অমিত তেজ তূর্য।
..................................................
রুদ্ধ নি:শ্বাস
মিনা মাশরাফী
স্নায়ু রক্ত গাঙে জেগেছে উত্তাল টগবগে ঢেউ,
ধূধূ হাহাকার ফাঁকা বুক কেউ যেন কোথা নেই
স্বস্তিহীন দিগন্ত সীমারেখা তিমির রাত্রি বিদিশা অন্ধকার
নিঝুম নিশুতি রাত নির্ঘুম ক্লান্ত অবসন্ন চোখ নির্বিকার।
প্রশ্নবিদ্ধ অবুঝ মন ... বুক ভাঙ্গা দীর্ঘশ্বাস...
কালিমায় ভরা থমথমে মেঘ যুদ্ধ যুদ্ধ আভাস !
শান্তিহীন বিষাদ, ভারাক্রান্ত হৃদয় আকাশ।
অস্থির উৎকন্ঠায় কাঁপছে আমার স্বদেশ ...
অদৃশ্য শৃঙ্খলে অক্টোপাসে বাধাঁ,
অন্তহীন বিলাপের দীর্ঘ কথকথা
বোবা কান্নার রুদ্ধ নি:শ্বাসে ক্ষুব্ধ স্বাধীনতা ।
বন্ধ নি:শ্বাসে কাঁদে স্বস্তিহীন অশান্ত প্রহর ..
অনন্ত প্রত্যাশা বুকে নৈতিক ভালবাসা
এতটুকু মানবিক মায়াঘন স্নেহের চাদর
স্বাধীনতার রক্ত গোলাপ ফুটুক অস্টপ্রহর
মন বাগানে অথৈ ঝরুক বিনয় মমতা আদর।
..................................................
বিজয়ের পায়রা ডাকে
মনসুর আজিজ
বিজয় একটি নতুন ভোরের মতো উঁকি দেয় মনের উঠোনে
একচিলতে রোদের আশায় প্রতীক্ষিত মুক্তিকামী মানুষ
মুক্ত রোদের প্লাবন এসেছে জেগে ওঠা নতুন চরে
ঝিরিঝিরি বাতাসে উড়ছে আমার লাল সবুজের পতাকা
লালের ভিতর লুকিয়ে আছে শহিদের রক্তমাখা হাসি
সবুজের ভিতর নেচে ওঠে উন্মাতাল যোদ্ধার দল
একটি দেশ নতুন চরের মতো মাখা তোলে পৃথিবীর মানচিত্রে
সমুদ্রে ঠোঁট লাগিয়ে সারা দেহে ছড়িয়ে দেয় জলের শিরা
ফসলের মাঠ গেয়ে ওঠে স¦নির্ভর বাংলাদেশের গান
মাটিমুখি মানুষের চোখে খেলা করে আশার চারা
পাতা মেলে শাখা মেলে ডালে ডালে পাখির কলরব
কবি এক স্বাধীন মানুষ
গান গায় কলমের ঠোঁটে
কাধে নেয় আশা জাগানিয়া সোনালি পাটের ব্যাগ
কল্যাণব্রতে ছুটে চলে শব্দের পায়রা উড়িয়ে।
..................................................
একেকটি স্প্যান ও সত্যের পকেট
মোস্তফা হায়দার
হরফের মাত্রায় জাগতিক চিৎকারে
জেগে ওঠেনি আজো রক্তের উচ্ছ্বাস!
পৃথিবীর হিংসে আর বগলদাবাগিরিতে
শুধুই আপনার আপন উত্তাল ঢেউ,
যে ঢেউয়ে স্রোত নেই, নেই গর্জন
শুধুই সাসটেন এবল গোল গোল প্রতিধ্বনি!
মাছের পেটের মতো
কাদামাটির স্তুপ নিয়ে বেঁধেছ উহুদ পাহাড়!
পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করা সত্যরা
পরিখা খননে ভেঙে দেবে উদ্বেগের পাহাড়!
বিজয়ের চিৎকারের চেয়ে
নিরবতার কাজগুলো ইতিহাসে গান গাইবে
আড়াল করা ইতিহাস কথা বলবে
জাগিয়ে দেবে নিপতিত সব ভাস্কর্যের রেখা!
একেকটি স্প্যান যখন দাঁড়ানো থাকবে
বিশ্বাসহীনতার কাছে দাঁড়াবে সব সত্যের পকেট,
ইতিহাসকে টেনে নিতে হয় না
শতাব্দির কোলে ইতিহাস স্থির হবে আপন করতলে।
..................................................
যুদ্ধ শেষে
আবু নেসার শাহীন
মায়ের চোখে অশ্রু নামে
সকাল দুপুর সাঝে,
যুদ্ধ করে ফিরলো সবে
খোকন ফিরলো না যে ।
আশায় দিন চলে যায়
আসবে খোকন বাড়ি,
দিনে রাতে মা দুঃখিনী
পথ চেয়ে রয় তারই।
এমনি করে পথের পরে
বসে থাকেন মা,
কিন্তু খোকন যুদ্ধ শেষে
বাড়ি ফিরে না ।
..................................................
বিজয় মানে
মির্জা মুহাম্মদ নূরুন্নবী নূর
বিজয় মানে দেশের টানে
জীবন করা দান,
বিজয় মানে দেশের গানে
জুড়াই মনো প্রাণ!
বিজয় মানে লাল সবুজের
হৃদয় কাড়া হাসি,
বিজয় মানে সুখ সাগরে
বুক ফুলিয়ে ভাসি।
বিজয় মানে ফুল কাননের
স্বপ্ন অফুরান।।
বিজয় মানে মায়ের শাড়ির
আঁচল পাতা ভুমি,
বিজয় মানে বোনের চুলের
আদর মাখা চুমি।
বিজয় মানে কুলুকুলু-
নদীর কলতান।।
বিজয় মানে উদার আকাশ
বিজয় মানে জল,
বিজয় মানে আমরা স্বাধীন
শক্তি সাহস বল।
বিজয় মানে বীর সেনাদল
দেশের জয়োগান।
বিজয় মানে ভুল বাতিলের
চুপসে থাকা রব,
বিজয় মানে আমজনতার
সব অধিকার সব।
বিজয় মানে সাগর নদীর
ঝরনা বহমান।।
..................................................
বীর গাথা
সমীরণ মণ্ডল
নির্বিচারে গণহত্যা বোমা-গুলি-সন্ত্রাস
কোলের শিশুকে করেনি রেয়াত;
খুনি-দস্যু'র নিষ্ঠুর হাত।
মা-বোনেদের লুণ্ঠিত ইজ্জত, করুণ আর্তনাদ
জ্বালায় আগুন শত শত গ্রামে;
ছড়িয়ে ছিটিয়ে কত লাশ।
৭১'এর ১৬ই ডিসেম্বর জাতির উত্তরণ
বহু সংগ্রাম, প্রাণের দানে এল মাহেন্দ্রক্ষণ;
ইয়াহিয়া খানে'র পাকবাহিনী করল পলায়ন;
যৌথবহিনী'র বীর সেনাদের অমিত-বিক্রম।
সার্বভৌম বাংলাদেশে'র হল অভ্যুদয়
স্বর্ণাক্ষরে বিজয়গাথা'য় শেখ মুজিবে'র জয়।।
..................................................
বিজয়
কবিতা সুলতানা
হে বিজয়,
তুমি বাংলার মাঝে আনলে শান্তির বারতা,
তুমি বাংলার পথ- প্রান্তরে যেন স্রোত বহা রক্তিম আবিরতা।
হে বিজয়,
তুমি কৃষকের মাঠে শস্যের সমাহার,
তুমি খুলে দিলে বাঙালির মাঝে চির মুক্তির দ্বার।
হে বিজয়,
তুমি মোর স্নেহময়ী মায়ের মমতা,
তুমি মোর আদুরে ছেলের কন্ঠে ধ্বনিত" বিদ্রোহী " কবিতা।
হে বিজয়,
তুমি প্রতি বাঙালির হৃদয়ে লালিত প্রাপ্তির স্বপ্ন,
আজও বাঙালি জানে সম্মানে, সম্মেলনে প্রকাশিতে তোমায় অনন্য।
..................................................
আমার সোনার বাংলা
হাসান মাহমুদ
কোথায় ফোটে রক্ত কমল
আলতা রাঙা গায়েতে,
কোথায় ফোটে হাসনা হেনা
শিল্পীর আঁকা তুলিতে।
কোথায় আঁকে সবুজ শ্যামল
লাল সবুজের বুকেতে
কোথায় হাসে অট্টহাসি
দূ্র্বা গালের টোলেতে,
কোথায় ডাকে কুকিল দোয়েল
সন্ধ্যা নামার বাঁকেতে।
কোথায় নামে কাক শালিকে
অন্ন আহার নিদ্রাতে,
সে যে আমার বাংলারে
আমার সোনার বাংলাতে।
কোথায় নাচে লক্ষ্মী প্যাচা
সন্ধ্যা নামার ডাকেতে।
কোথায় ডাকে রাতের শিয়াল
কেয়া বনের ফাঁকেতে।
কোথায় ডাকে ডাহুক পাখি
ঘুমন্ত ঐ নিশীথে,
কোথায় ছড়ায় রাতে আলো
আঁধার রাতে শশিরে।
কোথায় হাসে শ্যামলিমা
চড়ুই পাখির বাসাতে,
কোথায় মজে ফুল ফসলে
ঘাম ঝরানো মাঠেতে।
কোথায় ঘুরে রাখাল বালক
বাঁশের বাঁশির সুরেতে,
কোথায় বসে শাপলার আসর
প্রভাত ফেরীর বাঁকেতে।
সে যে আমার সোনার বাংলা
আমার সোনার বাংলাতে।
কোথায় ভিড়ায় অচিন মাঝি
পাল ভাঙাঐ নৌকারে
কোথায় বাজে দুঃখের গীতি
কলমি লতার ঘাটেরে।
কোথায় বাজে বৈশাখী ঢোল
বটের ছায়ার নিচেতে,
কোথায় হাসে সঙ দেবতা
অট্টহাসির তালেতে।
কোথায় বসে সপ্তার আসর
হিজল বিলের মাঠেরে
কোথায় চলে এঁকেবেঁকে
গামছায় সধায় নিয়েরে।
এ যে আমার বাংলাতে
আমার সোনার বাংলাতে।।
কোথায় পাবো এমন খনি
ধরনীর এ বুকেতে,
কোথায় পাবো সুখের হাসি
আমার মায়ের মুখেতে।
সে যে আমার সোনার বাংলায়
আমার সোনার বাংলাতে।
..................................................
বিজয়ের গান
আনোয়ার আল ফারুক
স্বাধীনতার শরাব পিয়ে
সাহস ভরা হৃদয় নিয়ে
উঠল জাতি ক্ষেপে,
বীরবাঙালি বীরের বেশে
স্বাধীনতায় উঠল হেসে
পড়ল যুদ্ধে ঝেঁপে।
সাহস বুকে লড়ল জাতি
চাষী কামার কুমোর তাঁতি
রয় না কেউ ঘরে,
লড়াই করে দেশের টানে
ভাসতে থাকে খুনের বানে
উদ্যমতায় লড়ে।
জালিম সেনা তাড়িয়ে শেষে
সুখ আজাদি আনল দেশে,
লালসবুজ ভূঁই,
অনাদিকাল সবুজ দেশে
থাকব বেঁচে বীরের বেশে
মন মননে ছুঁই।
দেশের মায়া হৃদয় কোণে
ভালোবাসার স্বপ্ন বোনে
গায় বিজয়ের গান,
ফের কখনো আসলে ডাক
ছাড়ব সবে কঠিন হাঁক
রাখব দেশের মান।#
..................................................
বিজয়দিবস এবং কিছুকথা
হাবিব ফয়েজি
আমি যুদ্ধ দেখি নি, দেখি নি বিজয়,
মায়ের মুখে শুনেছি ভাঁঙাভাঁঙা ইতিহাস
স্বজন হারানোর করুণ কাহিনী...!
বাবার মুখে শুনেছি সুখ-দুঃখের বীরত্বকাব্য
অথবা প্রাপ্তির উল্লাসে বাঁধভাঁঙা হাসি...
ষোলো ডিসেম্বরে দেখেছি বাবার উজ্জ্বল মুখ
শাদা পাঞ্জাবি, মুজিবকোট আর কাধে চাদর ঝুলিয়ে
বাবা যেতেন বিজয়দিবসের অনুষ্ঠানে
আমিও বাবার সাথে যেতাম,
আর বিলকুল না বুঝেই সবাইকে বলতাম
"বিজয়ের শুভেচ্ছা"
বাবার বন্ধুরা আমার পিঠ চাপড়ে বলতেন-
এই ছেলে একদিন বড়ো হবে আর
সত্যিকার দেশপ্রেমিকও
বয়স বাড়লো, বড়ো আর হলাম কই?
আর দেশপ্রেমিক? কতটাই বা হতে পারলাম?
আজ যখন দেখি রাজাকারের বাচ্চারাও
বিজয়দিবসে মিথ্যার বুলি আওড়ায়
কিংবা বর্ণচোরা রাজাকার আয়োজিত অনুষ্ঠানে
কিছু সম্মানিত মুক্তিযোদ্ধা না বুঝে অংশ নেন
তখন বাবার কথা মনেপড়ে যায়
বাবা বলতেন-
আর যা-ই করিস
রাজাকারের রক্ত হতে সাবধান থাকিস
এ বড়ো অপবিত্র রক্ত
তারপর থেকে-
আমার সমূহ ঘৃণা এ রক্তের প্রতি
আফসোস! আমার পবিত্রভূমি
আজও রাজাকারমুক্ত হতে পারলো না
প্রিয় দেশ আমার সোনার বাংলাদেশ
মা আমার, ক্ষমা করে দিও তোমার সন্তানদের…
..................................................
বুদ্ধিজীবীদের প্রতি
ওমর ফারুক
জ্ঞানের জোরে টিকে আছে,
ধনের জোরে নয়।
জ্ঞানী লোকের পরশ নিয়ে,
লোভের কারণে ক্ষয়।
অধ্যয়ন এক মহান কর্ম,
জগৎ জুড়ে খ্যাত।
বঙ্গদেশে পেলো না দাম
হলো মাথা নত।
কলম সৈনিক, দেশের মাথা
দেশের সেবা করতো।
বুদ্ধি-জ্ঞানে আদর্শ এক,
বঙ্গভূমি গড়তো।
দেশের মাথা কেটে দিলো,
বধির করার জন্য।
নমস্য তারা ডিসেম্বরে
তাদের করি মান্য।
বুদ্ধিজীবী ঘুমাও সবে
সজাগ সেনার মতো।
দেশটা যেন সঠিক পথে
থাকে অবিরত।
..................................................
বিজয়ের ফুল
ওমর ফারুক রায়হান
বিজয়ের ফুল ফুটেছে দেখি লাল সবুজের বুকে
রক্তের সাথে ঘাসের পাতায় ফুল হেসেছে মুখে
ত্রিশ লক্ষ গোলাপ হারিয়ে এনেছি বিজয়ের গান
সকল কিছু এ ধরার সৃজন মহান রবের দান।
ইতিহাসের পাতায় পাতায় টুকরো টুকরো হাসি
আজও এই বিজয়ের দিনে তিমির বাজায় বাঁশি
সোনা ঝরা রোদ উঠে রোজ দেখেছে বঙ্গভূমি
মায়ের চোখের কাজল সোনার কপালে আঁকে চুমি।
বিজয়ের দিনে একটুখানি শপথের কথা তুলি
ন্যায়রে মশাল হৃদয়ে জ্বালিয়ে এটাই হোক বুলি
শোষণ উৎপীড়নের গারদ হতে মুক্ত বাতাসে হাসি
মীরজাফর আর জুলুমের গলে পড়াই পাপের ফাঁসি।
..................................................
বিজয়ের ক্ষণ
কৃপা বিশ্বাস
আমি সেই ক্ষণের গল্প আজ শুনাতে এসেছি তোমাদের,
যে ক্ষণে আমার কন্ঠে ছিল বিজয়ের নব বার্তার সুর,
যে ক্ষণে পেয়েছিলাম রক্তে ভেজানো শ্যামলে ঘেরা জয়ের ধ্বজা,
যে ক্ষণে পৃথিবীর বুকে হয়েছিলাম এক বীরের জাতি।
যে ক্ষণে ফুটেছিল হাজার বছরের অপেক্ষারত হাজার কড়ি,
যে ক্ষণ আগলে ছিল সন্তান হারানো মায়ের কোলে।
হ্যাঁ আমি ১৬ই ডিসেম্বরের বিজয়ের সেই ক্ষণের কথা বলছি -
যখন আমি স্বাধীন পতাকা গায়ে জড়িয়ে চিৎকার কন্ঠে বলেছিলাম
আমি এখন মুক্ত বিহঙ্গ,
আমি এখন স্বপ্নীল প্রাণ,
আমি এখন এ মাটির মমতা,
আমি এখন হাজার শহীদের স্বপ্ন,
আমি এখন বিশ্বের স্বতন্ত্র এক নিঃশ্বাস।
তোমরা কি জানো?
এই ক্ষণের আমি হতে-
আমায় কত শত পথ পাড়ি দিতে হয়েছে,
কত না, ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে যুগে যুগে,
কত বার মরে আবার বাঁচতে হয়েছে।
যদি জানতে -
তাহলে আর জড়াতে না, হানাহানি বিগ্রহে
আনতে না, মনে পশুত্বের সুর,
ছুটে চলতে না, প্রতিনিয়ত কালো টাকার পিছু।
গড়ে তুলতে পারতে বিশ্বমাতার কোলে-
এক উন্নত স্বপ্নের বাংলাদেশ।
..................................................
প্রজাপতির ডানা
কমল কুজুর
একদিন কবিতার মতো করে স্বপ্ন দেখি
মাঝরাতে চাঁদের চোখে দৃশ্য আঁকি।
আঁধার কখন হঠাৎ এসে জাপটে ধরে
অশুভের মরণকামড়ে শুভ মুখ থুবড়ে পড়ে।
চোখের জল নদী হয়ে সাগর ভাসায়
মাতাল ভ্রমর সব মধু শুষে নিতে চায়।
খুড়িয়ে খুড়িয়ে হেঁটে চলে চক্র সাধের
মত পথ আর স্বার্থ জাল ভরা বোধের।
অবুঝ শিশু উড়বে জেনো আকাশ পানে
সময়ে শিখবে সে তো বিজয়ের মানে।
..................................................
কুড়িয়ে আনা গ্রেনেড
আশরাফ আলী চারু
সাঁই-সাঁই করে একটি বিমান এসে ফুলকার চরের পুলটি ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছে। আশপাশের গাঁয়ের লোকজন বাংকারে লুকিয়ে থেকেও ভয়ে নিজেরা নিজেদের দিকে তাকিয়ে দেখতে পারছেনা। সবারই গা কাঁটা দিয়ে উঠছে। সবাই ভয় পাচ্ছে কখন জানি বিমান থেকে বাংকারে বোমা পড়ে। না জানি কখন কোন অঘটন ঘটে যায়। বাংকারে সবাই যখন ভয়ে চুপচাপ ঠিক তখনি পশ্চিম পাড়ার সহেদালী খবর নিয়ে বাংকারের প্রবেশ মুখ থেকেই বলা শুরু করলো- " জয় বাংলা স্লোগান ধরো, পাকিস্তান কে লাথি মারো।" শালারা এই কয়দিন খুব অত্যাচার করেছে। ও আব্দুল চাচা , অই যে শব্দ হুনছনা, ওটা মিত্রবাহিনী আর মুক্তিবাহিনী মিলে বিমান দিয়ে বোম ফেলে পুল ভেঙে দিচ্ছে- যাতে পাকবাহিনী এই পথে পালাতে না পারে। বাংকারে থাকা লোকজন সহেদালীর কথা শুনে মনে একটু সাহস পেলো। এ তবে পাকবাহিনীর আক্রমণ নয়। আমাদের মুক্তি সেনাদের আক্রমণ। আহেদ চাচা সহেদালীর সাথে একত্র হয়ে চিৎকার স্লোগান ধরলো- 'জয় বাংলা'।
এই আক্রমণে পুলটির পাশাপাশি ঝগড়ার চর বাজারেও কিছু ক্ষয়ক্ষতি হলো। পাকবাহিনীর ক্যাম্প মনে করে বাজারে কয়েকটি স্থাপনায় আঘাত হানলো বিমান। এরপর একসময় বিমান চলে গেল, লোকজন বাইরে বেড়িয়ে এলো। উৎসুক লোকেরা ভাঙা পুল দেখতে ফুলকার চর গেলো। এদের সাথে পশ্চিম পাড়ার সহেদালীও গেলো।
ও পাড়ার সাবেদালী পাকবাহিনীর লোকদের সাথে সখ্যতা রেখে এ নয়মাস দাপটের সাথে চলতে ছিলো। এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে ভয় দেখিয়ে কিছু সম্পদও হস্তগত করেছিলো। আজ পুল ভাঙ্গার এমন অবস্থা দেখে সেও 'জয় বাংলা' স্লোগান ধরে সহেদালীদের সাথে এখানে এসেছে। সাবেদালীর এমন কাজ দেখে সহেদালী মনে মনে হাসলো কতক্ষণ। মনে মনে আওড়ালো এ রেজাকার দেখি এখন আমাদের দলে মিশে যাচ্ছে । তবে মুখে কিছু বললো না সে।
সামনে এগিয়ে গিয়ে সহেদালী কি একটা পেয়ে কুঁড়িয়ে নিলো। সহেদালীর কুঁড়িয়ে পাওয়া জিনিসটার উপর সাবেদালীর চোখ পড়লো। এ জিনিসটা কি, সহেদালী চিনতে না পারলেও সাবেদালী ঠিকই চিনতে পারলো। সে কাছে এসে এ জিনিসটি নেয়ার জন্য খুব অনুনয়-বিনয় করলো সহেদালীর কাছে। কিন্তু সহেদালী এ খারাপ মানুষের কথায় কান না দিয়ে জিনিসটি নিয়ে বাড়িতে চলে এলো। কিন্তু সাবেদালীও হাল ছাড়লো না, সে মনে মনে ভেবে নিলো চুরি করে হলেও জিনিসটি তার হাতে নিতেই হবে।
শীলের মতো দেখতে সহেদালীর কুঁড়িয়ে আনা জিনিসটি চুলার আগুনে বাতাস ফেরাতে চুলার পাশে কয়দিন হতে ব্যাবহার করছে সহেদালীর বউ। এর উপর তীক্ষ্ণ চোখ রাখছিল সাবেদালী। সুযোগ পেয়ে এক রাতে জিনিসটি চুরি করে বগল দাবা করে ফিরছিলো সে। দুই গাঁয়ের মাঝমাঠে আসতেই বিকট শব্দ ও চিৎকার শুনে লোকজন জড়ো হয়ে দেখতে পেলো সাবেদালীর সমস্ত শরীর ঝাঁঝরা হয়ে পুড়ে গেছে । নিথর দেহে পড়ে আছে সাবেদালী। দু'গ্রামের সবাই খুব খুশি হলো একজন রাজাকারের করুন মৃত্যু দেখে। কিন্তু আসল ঘটনা কেউ জানলো না। সকাল বেলা সহেদালীর বউ দেখলো সোয়ামীর কুঁড়িয়ে আনা বাতাস ফেরাতে ব্যাবহার করা শীলটি শুধু নেই । আসলে এটা যে গ্রেনেড ছিলো । কেউ না জানলেও সাবেদালী ঠিকই জেনেছিলো।
⭐ FOR ANY HELP PLEASE JOIN
🔗 MY OTHERS CHANNELS
🔗 FOLLOW ME
Facebook: facebook.com/molakat
Facebook: facebook.com/afsarnizam
Instagram: instagram.com/molakat
Instagram: instagram.com/afsarnizam
Twitter: twitter.com/afsarnizam
🔗 MY WEBSITE
🔗 CALL ME
+8801819515141
🔗 E-MAILL
molakatmagazine@gmail.com
No comments