বাঁশি-পাগলি ।। মাহবুবা খন্দকার : পর্ব-১২

 
মাথায় আঘাত পেয়ে জ্ঞান হারিয়েছে রোহান। ২৪ঘন্টার মধ্যে জ্ঞানফিরবে বলে আশা করা যায়। এদিকে মাকে নিয়ে রাশেদ এই হাসপাতালেই এসেছে রোগী দেখতে। একই ওয়ার্ডে ৬নং বেডের রোগিটা রাশেদদের আত্মীয়। ওয়ার্ডে গেলে অনেকেই চারপাশের রোগীদেরও দেখতে যায়। হোক না অচেনা তবু বিচিত্ররোগ আর রোগীদের আহাজারি শুনতে হয়। মাকে বসিয়ে তিননম্বর ওয়ার্ডটা একবার ঘুরতে গেলো রাশেদ। ১৩নং বেডের পাশ দিয়ে যেতেই চমকে ওঠে সে। আরে, রোহান না! কী হয়েছে ওর, চেঁচিয়ে ওঠে সে! 
- কথা বলবেন না ভাই, একজন নার্স বললো।
- ওর কী হয়েছে সিস্টার? উদ্বিগ্ন রাশেদ।
- চেনেন নাকি? আমরা তো ওর অভিভাবকের খোঁজখবর পাইনি।
- আমার বন্ধু, তাড়াতাড়ি বলুন কী হয়েছে?
- গতকাল সন্ধায় আ্যকসিডেন্ট করেছে। শহরের কিছুলোক ওকে ভর্তি করিয়ে দিয়ে যায়। ডাঃ নোমানের চেম্বারে যোগাযোগ করুন, জানতে পারবেন।
- আমি যাবো, তার চেম্বারটা কোথায় দয়া করে বলবেন?
- নিচতলায়, সিড়ির উল্টোদিকের সর্বশেষটা।
- ধন্যবাদ আসি।
 
মাকে সংগে নিয়ে রাশেদ ডাঃ নোমানের কক্ষে ছুটে যায়। ™£ান্তের মতো ছুটে গিয়ে তার সামনের চেয়ারটায় বসে রাশেদ। হনÍদন্ত হয়ে ডাক্তারকে বলে, রোহান আমার বন্ধু, ডাক্তার সাহেব। এখন কেমন আছে?
- কার কথা বলছো?
- কাল যে ছেলেটা এ্িক্সডেন্ট করেছে। নাকি আপনার তত্ত্বাবধানে আছে?
- কোথায় আমাদের রোহান? রাশেদের মা কণ্ঠেও চরম উতকণ্ঠা!
- একটু শান্ত হও মামনি।
- না, না চল্ আগে দেখে আসি। কোথায় সে?
- আপনারা শান্ত হোন। এখন কথাবলা যাবেনা। ২৪ঘন্টায় জ্ঞানফিরবে আশা করা যায়। ভয়ের কারণ নেই, ব্রেনে একটু শক পেয়েছে। আপনারা ওর পরিচয় জানেন তাহলে?
- রোহান আমার ছেলের মতো, ওরা বন্ধু।
- ভালোই হলো, ওর ঠিকানাটা বলুন।
- শরীফ সাহেব ওর বাবা, ভদ্রলোক চাকরি করেন। বর্তমানে সিলেটে কর্মরত। ওখানকার মৎস্যবিভাগের কর্মকর্তা।
- তা ছেলেটা এখানে কী করে এলো?
- পাবনায়ই ওদের বাড়ি। মা আর ছোটবোনকে নিয়ে এখানেই থাকে।
 
রাশেদ রোহানের আসল পরিচয় জানতো। রোহানের অনুরোধেই কাউকে বলেনি এমনকি মাকেও নয়। প্রকৃত রহস্য আজও সে কাউকে জানতে দিলোনা ঘূনাক্ষরেও। বন্ধুর জন্য এমনই মমতা। রাশেদের মা ততক্ষণ হাসপাতালেই। ডাঃ নোমান রোহানের বেডের নিকটেই ছিলেন। জ্ঞান নাফেরা পর্যন্ত সবাই অপেক্ষা করতে থাকে। জ্ঞানফিরলে মুদ্রিত চোখমেলে রোহান ক্ষীণকন্ঠে প্রথম বলে ওঠে, মা-মাগো। মোবাইলে খবর পেয়ে ঝড়ের বেগে ওয়ার্ডে প্রবেশ করেন ফিরোজা বেগমও।
- খোকা, আমার খোকা
-শান্ত হোন প্লিজ, ডাঃ বললেন। রোহানের মাথার কাছে বসে ওরা।
- খোকা, কী হয়েছে তোমার?
- আম্মু, ডাক দেয়ার সাথেই চোখ দিয়ে দুফোঁটা পানিগড়িয়ে পড়ে রোহানের।
- খোকা, এখানে এলে কী করে?
- প্লিজ, চুপ করুন আপনারা, কোলাহলে অসুবিধা হতে পারে।
- ডাঃ সাহেব, আমার খোকা।
- ভালো আছে আপনার ছেলে। আঘাত সামান্যই। ভয়ের কারণ নেই।
- কতসময় লাগবে?
- বিচলিত হবেন না। আপাততঃ এখানেই থাক। দুদিন বাদেই নিয়ে যেতে পারবেন।
 
সুুস্থ হয়ে রোহান বাসায় ফিরে আসে। তবে এবারের আঘাতে রোহানের স্মৃতিশক্তি বা পূর্বজ্ঞান অনেকটাই ফিরে আসে। ছোটবেলার কথা আবছা মনে হয় ওর। এরপর থেকে নিজের পরিচয় জানার চেষ্টা করতে থাকে সে। বারবার ব্যর্থ হলেও সে কিন্তু হাল ছাড়েনা। তবে ব্যাপারটা বাড়ির কাউকেই বলেনা।

⭐ FOR ANY HELP PLEASE JOIN

🔗 MY OTHERS CHANNELS

🔗 FOLLOW ME

🔗 MY WEBSITE

🔗 CALL ME
+8801819515141

🔗 E-MAILL
molakatmagazine@gmail.com

#উপন্যাস
#অনুবাদ
#মোলাকাত
#Molakat
#Novel
#Translation
#BanglaLiterature
#Literature
#সাহিত্য_ম্যাগাজিন
#ওয়েব_ম্যাগাজিন
#বাংলাসাহিত্য
#সাহিত্য
#বাঁশিপাগলি
#মাহবুবা_খন্দকার

No comments

নির্বাচিত লেখা

আফসার নিজাম’র কবিতা

ছায়া ও অশ্বথ বিষয়ক খ-কবিতা এক/ক. সূর্য ডুবে গেলে কবরের ঘুমে যায় অশ্বথ ছায়া একচিলতে রোদের আশায় পরবাসী স্বামীর মতো অপেক্ষার প্রহর কাটায় প্রাচী...

Powered by Blogger.