সুসাহিত্যিক কবি তমসুর হোসেনের গ্রন্থ ‘বিশ্বনবীর প্রতিচ্ছবি’ প্রসঙ্গে ।। আবদুল হালীম খাঁ

 
বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে শব্দকুশলতা নবতর উপমা প্রয়োগে কবিতা ছোটগল্প এবং প্রবন্ধ রচনা করে যিনি পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি হলেন কবি তমসুর হোসেন। তিনি কবি হিসেবে সমধিক পরিচিত হলেও সাহিত্যের সকল শাখায় রয়েছে স্বচ্ছন্দ পদচারণা। শিশুসাহিত্যেও রয়েছে তার অবাধ বিচরণ দক্ষতা। দেশের অগণিত দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক এবং মাসিক পত্রিকায় নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে তার গল্প কবিতা। তার রচনাসম্ভার পাঠকের প্রশংসা কুড়াতে সক্ষম হয়েছে।
বর্তমানে সাহিত্যচর্চা হয়ে পড়েছে শহরকেন্দ্রিক। শহরের লেখকরা সহজে পত্রিকা সম্পাদক এবং প্রকাশকের নজরে আসতে পারে। যার কারণে তারা সহজেই উপরে উঠে যায়। অন্যদিকে মফঃস্বলের লেখক প্রচারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত থেকে যায়। তাদের সম্পর্কে লিখতে অনেকেই কার্পণ্য বোধ করেন। যার জন্য রাজধানী থেকে দূরে যারা সাহিত্য করেন তারা সব সময় উপেক্ষিত থাকেন। দল মতাদর্শের কারণেও লেখকরা কোনঠাসা হয়ে পড়ছেন।
 
তমসুর হোসেন উত্তরবঙ্গের শেষ সীমায় অবস্থান করে লিখছেন সাহিত্যের প্রতিটি বিভাগে। তার সম্প্রতি প্রকাশিতবিশ্বনবীর প্রতিচ্ছবি সময়ের একটি উল্লেখযোগ্য প্রকাশনা। মহানবীর সা. পবিত্র বিবিগনের চরিত্রবৈশিষ্ট, মহত্ব, প্রতিভা, উদারতা, দানশীলতা, ত্যাগ. ধৈর্যসহ সকল গুনাবলী ভাষার কারুকার্যে নিখুঁতভাবে তুলে ধরেছেন। তার গদ্যরচনা কাব্যিক অলংকারমন্ডিত। তার রচনাশৈলীর যাদুকরী ক্ষমতা সহজে চোখে পড়ার মত। তার লেখায় রয়েছে নিজস্ব ষ্টাইল এবং স্বকীয়তা। গদ্য রচনায় অনেক কবির মত তারও রয়েছে অসাধারণ দক্ষতা। তার উৎকৃষ্ট প্রমান কাজী নজরুল ইসলামের প্রবন্ধ এবং গোলাম মোস্তফা রচিতবিশ্বনবী কবি তমসুর হোসেনেরবিশ্বনবীর প্রতিচ্ছবিপাঠ করে কথা আমার সম্যক উপলব্ধি হয়েছে।
 
রাসুলের সা. প্রত্যেক বিবির চারিত্রিক সুষমা মেধা এবং মহানুভবতার ওপর আলোকপাত করতে যেয়ে লেখক সরাসরি তাদের নাম উল্লেখ করেন নি। বরং তাদের কর্মনৈপুন্য এবং রুচিমাধুর্যের দিকে খেয়াল রেখে ভাবার্থক শিরোণাম ব্যবহার করেছেন। উম্মাহাতুল মোমেনিনদের নিয়ে অনেক বই রচিত হয়েছে। কিন্তু সে সব বইয়ে এমন অভিনব অলংকারিত্ব লক্ষ্য করা যায়না। এদিক থেকেবিশ্বনবীর প্রতিচ্ছবিবিশেষ বৈশিষ্টের দাবীদার।
 
গ্রন্থটিতে মহানবীর . তের জন পবিত্র স্ত্রীকে নিয়ে তেরটি প্রবন্ধ রচিত হয়েছে। যার প্রথমটি পরম ভাগ্যবতী, নারীকুলের গৌরব হযরত খাদিজাতুল কোবরাকে রা. নিয়ে। যিনি সাইয়্যেদুল আম্বিয়া হযরত মুহাম্মদের সা. সহধর্মিনী হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছেন। প্রবন্ধটির শিরোণাম দেয়া হয়েছেআলোর বিহঙ্গ যা গতানুগতিক ধারা থেকে পৃথক এক সম্পূর্ণ নতুন রীতির নমুনা। আর সেই সাথে তা মোহময় এবং চমৎকারও বটে। হযরত খাদিজা রা. রাসুলের সা. শুধু স্ত্রীই ছিলেন না, ছিলেন বিপদ আপদের নির্ভীক আশ্রয় এবং অবসন্ন হৃদয়ে আশা সাহস সঞ্চারকারিণী। তিনি নিসঙ্গ এবং নিসম্বল রাসুলের সুযোগ্যা অভিভাবকের দায়িত্বও পালন করেছেন। মহাসত্যকে উপলব্ধি এবং আঁকড়ে ধরার অনড় মানসিকতা ছিল তাঁর। রাসুলের সা. তাঁর বিবাহপূর্ব সাক্ষাতের  অভিজ্ঞতা লেখক এভাবে তুলে ধরেছেন তাঁর সাথে দুচারটি কথা বলে তিনি বুঝতে পারলেন, ইনি সাধারণ সব হিসেব নিকেশের উর্ধ্বে। কবিতার চেয়েও ছন্দময় তাঁর উচ্চারণ। বহুবর্ণিল সান্ধ্য গগনের নির্বাক নির্জনতার মত ভাবগম্ভীর তাঁর অভিব্যক্তি। তওরাতে বর্ণিত সব বক্তব্যের অন্তর্নিহিত তাৎপর্যের সাথে তাঁর নিবিড় সংযোগ। যুবক তো মরুর রুক্ষবিস্তারে জান্নাতের স্নিগ্ধ সমীরণ।  [পৃ-]
 
চল্লিশ বছরের হযরত খাদিজার রা. সাথে মহানবীর সা. দাম্পত্যজীবন ছিল খুবই মধুময় এবং আনন্দ উৎসবে ভরা। ঐশ্বরিক প্রেমে তরঙ্গময় ছিল তাঁদের জীবন বারিধি। হযরত খাদিজার রা. গর্ভে রাসুলের সা. ছয় সন্তানের জন্ম হয়। দুই ছেলে চার মেয়ের মধ্যে ছেলে দুটি বাল্যকালে মারা যায়। রাসুলের সা. নবুওয়তের দাওয়াতে হযরত খাদিজাই রা. ছিলেন প্রথম সাড়া প্রদানকারিনী। যখন সমাজের লোকেরা তাঁকে অস্বীকার করে তখন তিনি তাঁকে সমর্থন করেন। যখন কেউ তাকে সাহায্য করেনি তখন হযরত খাদিজাই রা. সহযোগিতার হাত সম্প্রসারিত করেন তাঁর দিকে।
 
হযরত খাদিজার রা. মর্যাদা সম্পর্কে বহু হাদিস বর্ণিত আছে। সহীহ্ বুখারী এবং মুসলিম শরীফে বর্ণিত হয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে মর্যাদাবান নারী হলেন হযরত মরিয়ম . এবং হযরত খাদিজা রা. একবার হযরত জিব্রাইল . মহানবীর সা. কাছে বসে ছিলেন। হযরত খাদিজা রা. সেখানে এলে হযরত জিব্রাইল . বলেন, হে নবী, তাঁকে বেহেশতের এমন একটি প্রাসাদের খবর দিন, যা হবে মুক্তায় তৈরী। যাতে থাকবে না কোন হট্টগোল, কষ্ট কিংবা পরিশ্রমের ক্লান্তি।মহানবীর . সাথে দীর্ঘ পঁচিশ বছর দাম্পত্যজীবন যাপন করে হিজরতের তিন বছর পুর্বে মক্কায় ইনতিকাল করেন হযরত খাদিজা রা.
 
এখানে একটি বিষয় উল্লেখ্য। কোন ঘটনার বর্ণনা সাহিত্য নয়, হতে পারে তা ইতিহাস বা অন্যকিছু। কোন ঘটনার উপাত্ত ভাষার কারুকার্য এবং হৃদয়ের নির্যাসে উর্বর করে তুলতে পারলেই তা সাহিত্যমানে উন্নীত হতে পারে। এখানেই অন্যান্য বিষয়ের সাথে সাহিত্যের পার্থক্য। সাহিত্য প্রাণের বিষয় যা কল্পনা এবং রুপকল্পের বিন্যাসে হৃদয়ের তরঙ্গে নেচে ওঠে। যা চেতনা দিয়ে অনুভবের ব্যাপার। সেই নিরিখেবিশ্বনবীর প্রতিচ্ছবিসমৃদ্ধ ভাষার অলংকারে সুশোভিত এবং সুলিখিত একটি অনুপম সাহিত্যকর্ম।
 
বিষণ্ন জোসনাস্নাত হযরত সাওদা রা. ছিলেন মহানবীর . দ্বিতীয়া স্ত্রী। তিনি একটি আশ্চর্য স্বপ্ন দেখেছিলেন স্বামী হযরত সোকরান রা. বেঁচে থাকতেই। তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন রাসুল . পবিত্র চরণ মোবারক রাখছেন তাঁর কাঁধের উপর। আর একদিন স্বপ্নে দেখলেন, বালিশে হেলান দিয়ে শুয়ে আছেন তিনি। হঠাৎ আকাশ থেকে চাঁদ নেমে এসে ঢুকে পড়ল তাঁর বুকের ভেতর। ভীত কন্ঠে স্বামীকে স্বপ্নের কথা জানালে তিনি বললেন,‘আমি মনে হয় বেশি দিন পৃথিবীতে বাঁচব না। আমার মৃত্যুর পর আবার বিয়ে হবে তোমার। আর সে বিয়ে হবে দয়ার নবী হযরত মুহম্মদের সা. সাথে। আমার কথা মনে রেখে তুমি তাঁকে কষ্ট দিও না। তুমি তাঁকে সুখী করলে আমার আত্মা জান্নাতে শান্তিতে থাকবে।চার দিরহাম মোহরানা দিয়ে তাঁকে বিয়ে করেন রাসুল সা. নির্ভরযোগ্য বর্ণনামতে হযরত ওমরের রা. শাসনামলে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮১ বৎসর। জান্নাতুল বাকিতে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
 
হযরত খাদিজার রা. ইনতিকালের পর এক নিদারুণ শূন্যতা রাসুলের হৃদয় বিষাদমলিন করে তুলছিল। স্তব্ধ আকাশ অশ্রুর শিশির হয়ে তাঁর দৃষ্টিকে ঝাপসা করে দিচ্ছিল। দৃশ্যমান ঔদাস্য নিয়ে অগ্নিঝরা নিস্তব্ধতায় তিনি তাকাতেন জ্বলন্ত প্রকৃতির দিকে। নির্বাক পাহাড়, মরুদ্যানের প্রগাঢ় নীলিম ছায়া কোনখানেই তিনি একগুচ্ছ সান্তনা খুঁজে পাচ্ছিলেন না। পতিপ্রাণা খাদিজা রা. যে বিরহের সুর জাগিয়ে গেছে দূরন্ত ঝড় হয়ে তা হৃদয়কে দুমড়ে মুছড়ে দিচ্ছে। হযরতের সা. অবস্থা দেখে একদিন হযরত খাওলা রা. বললেন,‘আবুল কাশেম, আপনি আবার বিয়ে করুন।রাসুল সা. বললেন,‘বিয়ে তো করেছি তা নিয়ে আবার কথা বলছেন কেন?’ হযরত খাওলা রা. বললেন,‘আমার মন বলছে, বিয়েতে আপনার অন্তরে পরিপূর্ণ আনন্দ আসেনি। আমার সন্ধানে কুমারী মেয়ে আছে। আপনি তাঁর মধ্যে হৃদয়ের প্রশান্তি খুঁজে পাবেন।রাসুল সা. জানতে চাইলেন, কে সেই রুপবতী কুমারী? হযরত খাওলা রা. বললেন, ‘আপনার একান্ত সহচর আবু বকরের কন্যা, রুপবতী আয়েশা। আপনি সম্মতি দিলে বাকিটা আমি দেখতে পারি।রাসুল সা. অনুমতি দেয়ার পর হযরত খাওলার রা. মাধ্যমে বিয়ের কাজ সুসম্পন্ন হয়। তখন তাঁর বয়স ছির মাত্র ছয় বছর। তিন বছর পাঁচ মাস পিতার গৃহে াকার পর রাসুল সা. তাঁকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন। হযরত আয়েশার রা. আগমনের পর রাসুলগৃহ নক্ষত্রের শিরীণ আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে। বিয়ের পর থেকে মহানবীর সা. ওফাত পর্যন্ত হৃদয়ের ভালবাসা বিছিয়ে গেছেন তিনি। তাঁর নিকট থেকে দুহাজার দু দশটি হাদিস সংগ্রহ করা হয়েছে। অনেক মনীষী বলেন, শরিয়তের সামগ্রীক জ্ঞানের এক চতুর্থাংশ তাঁর নিকট থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। ইসলামের জটিল সমস্যার সমাধানে তিনি এতটা পারদর্শী ছিলেন যে তাঁর নাম মুজতাহিদ সাহাবীদের সারিতে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। তাঁর বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ইমাম যুহরী বলেন, যদি সকল নবীপত্নী এবং সমস্ত পুরুষ মানুষের জ্ঞান একত্রিত করা হয় তাহলে তা হযরত আয়েশার রা. জ্ঞানের সমকক্ষ হবেনা।উরওয়া ইবনে যুবাইর বলেন, কুরআন, ফরজিয়াত, হালাল-হারাম, ইসলামী আইন, কবিতা, চিকিৎসাশাস্ত্র, ইতিহাস এবং বংশতত্ব বিষয়ে হযরত আয়েশার রা. চেয়ে পারদর্শী আমি কাউকেই দেখিনি।তিরমিযী শরীফে হযরত আবু মুসা আশয়ারী রা. বর্ণনা করেছেন, আমাদের এমন কোন সমস্যায় পড়তে হয়নি, কোন বিষয়ে আমরা হযরত আয়েশার রা. কাছে গিয়েছি অথচ তাঁর কাছ থেকে জ্ঞানার্জন না করে ফিরে এসেছি।বক্তৃতায় তিনি ছিলেন হযরত আলী এবং হযরত ওমরের রা. সমকক্ষ। হযরত আয়েশার রা. বিষয়ে অসংখ্য তথ্যবহুল প্রবন্ধটির শিরোণাম দিয়েছিন তমসুর হোসেনমরু নির্ঝর যা যথার্থ এবং সঙ্গত হয়েছে বলে আমি মনে করি।
 
এরপরমেঘের গম্বুজশিরোণামে হযরত হাফসা রা., ‘নিরন্নের আশ্রয়হযরত যায়নাব রা., ‘নক্ষত্রের ছায়াহযরত উম্মে সালমা রা., ‘স্বপ্নবহা নদীহযরত যয়নব রা., ‘হিরন্ময় জ্যোতিহযরত জুআয়রা রা., ‘নিসঙ্গ সম্রাজ্ঞীহযরত উম্মে হাবিবা রা., ‘মেঘের পাঁজরে রোদহযরত সাফিয়া রা., ‘মরুর স্বপ্নহযরত মায়মুনা রা., ‘শান্ত মন্দাকিনীহযরত রায়হানা রা., এবংনুরের বৃষ্টিতে ভেজাহযরত মারিয়া কিবতিয়া রা. এর নাম সন্নিবেশিত করা হয়।
 
উল্লেখিত তেরজন পূণ্যবতী রমণী ছিলেন রাসুলের সা. পবিত্র বিবি এবং ইসলামী জ্ঞান পান্ডিত্যের বিশুদ্ধ উৎসভুমি। লেখক তমসুর হোসেন তার গ্রন্থের মুখবন্ধে বিষয়ে লিখেছেন,‘ আল্লাহপাকের নিকট থেকে রাসুল সা. যে প্রত্যাদেশ লাভ করেছেন তার প্রারম্ভিক পঠন পাঠন এবং নিবিড় অনুশীলন হয়েছে নিজ গৃহের অনাড়ম্বর পরিবেশে---রাসুলের সা. উপর নাযিলকৃত আয়াত সমুহের মর্মার্থ, তাঁর দ্বীনি কর্মকান্ডের গতিবিধি এবং সংস্কার কর্মের ভেতরের সৌন্দর্য তাঁরা উপলব্ধি করেছিলেন অত্যন্ত নিকট থেকে। সেজন্য রাসুলের সা. বাণী, কর্ম, অনুশাসন, অনুসৃতি, ইবাদাত এবং আধ্যাত্মিক চর্চার শিহরণ তাঁরা আত্মস্থ করেছিলেন সঠিক মাত্রা এবং মাধুর্য সহকারে। জন্য  গ্রন্থটিরবিশ্বনবীর প্রতিচ্ছবিনামকরণ সঠিক হয়েছে। উল্লেখিত তেরজন উম্মাহাতুল মোমিনিনের অসংখ্য দূর্লভ তথ্য, ঘটনা সুখ দুখের জীবন কথা একত্রে গেঁথে তেরটি প্রবন্ধে সাজিয়ে আমাদের উপহার দিয়েছেন লেখক। কাজটি যেমন দূরুহ কষ্টসাধ্য তেমনি প্রয়োজন প্রচুর সময় অটুট ধৈর্যের।
 
বাংলাভাষায় অনেক প্রখ্যাত কবি সাহিত্যিক কবিতা, গল্প, উপন্যাস সাহিত্য বিষয়ক নানা প্রকার গ্রন্থ রচনার পাশাপাশি কমপক্ষে দুএকটি ধর্মীয় গ্রন্থও রচনা করেছেন। অর্থাৎ তারা ধর্ম, সাহিত্য, নীতি-আদর্শ এবং  জীবনের সকল ক্ষেত্রই  তাদের সাহিত্যে স্থান দিয়েছেন। জীবন তো বিশেষ কোন একটি দিক বা বিষয়ে আবদ্ধ নয়। তাই তারা সমাজ জীবনকে যেভাবে প্রত্যক্ষ করেছেন তা অনাগত প্রজন্মের জন্য লেখনীর মাধ্যমে তুলে রেখেছেন। এগুলো অবশ্যই  মহৎ সাহিত্যকর্ম। কিন্তু কিছু লোক ধরণের গ্রন্থকে সাহিত্যের মর্যাদা দিতে কুন্ঠাবোধ করেন। তারা এগুলোর দিকে দেখে নাক সিটকান। আবার এক শ্রেণির লেখক মনে করেন ধর্ম, নীতি, জাতীয়তা ইত্যাদি বিষয় শিক্ষা দেয়া সাহিত্যের উদ্দেশ্য। তাদের মতে যে সাহিত্যের কল্যাণ করার ক্ষমতা নেই তা সাহিত্য পদবাচ্য নয়। বংকিম চট্টোপাধ্যায় এই মত পোষণ করেন। তিনি তরুণ লেখকদের উপদেশ দিতে গিয়ে বলেছেন,‘যদি এমন বুঝিতে পারেন যে, লিখিয়া দেশের মনুষ্যজাতির কিছু মঙ্গল সাধন করিতে পারেন অথবা সৌন্দর্য সৃষ্টি করিতে পারেন তবে অবশ্য লিখিবেন। ---সত্য ধর্মই সাহিত্যের উদ্দেশ্য। অন্য উদ্দেশ্যে লেখনী ধারণ মহাপাপ।
 
সাহিত্য রচনার উপাত্ত ধর্ম, নীতি, মানবকল্যাণ, জাতীয় আদর্শ ঐতিহ্য ব্যতীত হতে পারে না, বিষয়ে এখন আর কোন বিতর্ক নেই। এসব বিষয় অবলম্বন করে সাহিত্য রচনা কল্যাণ সাধন পূণ্যের কাজ। তাই যত বেশি এসব বিষয় নিয়ে সাহিত্য রচিত হবে তত বেশি জাতির কল্যাণ সাধিত হবে। সমাজকে বর্তমান অবস্থার চেয়ে বিরাটতর, উচ্চতর, মহত্তর, সুন্দরতর ভবিষ্যতের দিকে গতিশীল করে দেয়াই প্রকৃত সাহিত্য সাধনার লক্ষ্য। কবি তমসুর হোসেনের সাহিত্য সাধনার লক্ষ্যও তাই। সাহিত্য ক্ষেত্রে তিনি প্রাজ্ঞ অভিজ্ঞ এবং সচেতন লেখক। তিনি জেনে শুনে বুঝে ক্ষেত্রে অগ্রসর হয়েছেন। তার ইতোপূর্বে প্রকাশিত কাব্য গল্পগ্রন্থ গুলোতে তার সুস্পষ্ট স্বাক্ষর রয়েছে।বিশ্বনবীর প্রতিচ্ছবিতার উৎকৃষ্ট প্রমাণ বহন করছে।
 
বর্তমান সময়ে আদর্শিক সাহিত্যের দূর্ভিক্ষের দিনে তমসুর হোসেনেরবিশ্বনবীর প্রতিচ্ছবিরমত মহৎ সাহিত্যকর্মের জন্য তাকে মুবারকবাদ জানাচ্ছি। তার হাতে আগামীতে এমনই আরও গ্রন্থ লাভের আশা পাঠকরা অবশ্যই করবেন। গ্রন্থটির কাগজ ছাপা বাঁধাই উন্নত মানের। মুহাম্মাদ ইউসুফ অঙ্কিত প্রচ্ছদ সুরুচির পরিচয় বহন করে। মো. আহছানউল্লাহ কর্তৃক রাহবার পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত ৯৪ পৃষ্টার গ্রন্থের মূল্য ১৪০ টাকা মাত্র। যা বর্তমান দ্রব্যমূল্যের দিনে বেশি কিছু নয়। আমরা গ্রন্থটির বহুল প্রচার কামনা করছি।

MY OTHERS CHANNELS

🔗 FOLLOW ME

🔗 MY WEBSITE

🔗 CALL ME
+8801819515141

🔗 E-MAILL
molakatmagazine@gmail.com

#গ্রন্থালোচনা
#বইআলোচনা
#বইপত্র
#সাহিত্য
#বাংলাসাহিত্য
#মোলাকাত
#সাহিত্য_ম্যাগাজিন
#ওয়েব_ম্যাগাজিন
#Molakat
#Book_Review
#Book_Discussion
#Literature
#Bengali_Literature
#আবদুল_হালীম_খাঁ
#তমসুর_হোসেন

No comments

নির্বাচিত লেখা

আফসার নিজাম’র কবিতা

ছায়া ও অশ্বথ বিষয়ক খ-কবিতা এক/ক. সূর্য ডুবে গেলে কবরের ঘুমে যায় অশ্বথ ছায়া একচিলতে রোদের আশায় পরবাসী স্বামীর মতো অপেক্ষার প্রহর কাটায় প্রাচী...

Powered by Blogger.