বাঁশি-পাগলি ।। মাহবুবা খন্দকার : পর্ব-১৫

 
রোহানের বিকশিত জীবনের চারটি ফুলেল বসন্ত পার হয়ে যায় ঢাকাতে। এর মাঝে কত উত্থান-পতন, হানাহনি ভায়োলেন্স দেখতে হলো। কোনোকিছুই রোহানের জীবনে গভীর ছাপ ফেলতে পারেনি। ছাত্ররাজনীতির নোংরামাঠে বারবার আহবানসত্ত্বেও সেপথে পা বাড়ায়নি রোহান। সে চায় নবীর পথেই চলতে, যেপথ অমানুষকে বানায় কিন্তু আমাদেও রাজনীতির মতো আবুজেহেল আবু লাহাবদেও বানায় না। তাই সে অসুস্থ-¯চ্ছল মানুষকে পরিপূর্ণ সেবা দেয়ার মানসে একজন প্রকৃত ডাক্তার হওয়ার জন্যেই বিদ্যেটা ভালো করে আয়ত্ব করার ত্রুটি রাখেনি। সবকিছুই ওর সাজানো-গোছানো। কিনÍ কোথায় যেন শূন্যতাঘেরা। নিতুর উঠোনজুড়ে সবটুকু ভালোবাসা জমা থাকলেও হারানোর ভয়টা তার বুকের মধ্যেখরস্রোতা প্রমত্তা পদ্মা মতো ঢেউতোলে। এমন ঢেউতোলে যে হৃদয়ের পাড়গুলো ভেঙ্গে তছনছ করে দিয়ে যায়। ভাবে, নিতু শুধুই আমার। শাহিন নামক সাপের উৎপাতের কথা শিউলী ওকে জানিয়েছে। তাই অদৃশ্যদংশন শুধুই পোড়াচ্ছে রোহানকে। পুড়ছে নিতুও।
 
ক্যালেন্ডারের পাতায় অনেক সময় গড়িয়ে যায়। রোহান ইন্টার্নিশেষে বিসিএস পাশ করে কুষ্টিয়া মেডিকেলের ডাক্তার হিসাবে যোগদান করে। ফিরোজা বেগমের ইচ্ছায় এক ভরাপূর্ণিমায় বিয়ে হয় নিতুর। ফুলশয্যার রাতে রোহানের বুকে মাথারেখে নিতু বললো-আমি তোমাকে ঠকিয়েছি।
- না, না নিতু তুমিই ঠকেছো। নামগোত্রহীন একটা পথের ছেেেলকে স্বামীর মর্যাদা দিয়েছো
- না রোহান ভাইয়া।
- আবার ভাই। হেসে ওঠে দুজনেই।
- নিতু তোমাকে আমি সুখী করতে পারবো তো? আমার ভ্রুর নিচে একটা ক্ষত দেখতে পাচেছা কি?
- চিহ্ন মুছে দেবো আমার ভালোবাসা দিয়ে।
- তুমি জানোনা, তুমি ঠকেছো।
- আমি সবজানি নিতু। তোমার বান্ধবী শিউলি আমাকে সব লিখেছিল।
- আমাকে স্পর্শ করোনা, রোহানের লোমশ বাহুর দৃঢ়বন্ধন থেকে মুক্ত হয় নিতু।
- নিতু এমন কথা বলোনা!
- আমাকে শুধুমাত্র তোমার সেবা করার সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত করো না। দূর থেকে আমি তোমার সেবা করে যাবো
- নিতু! আমাকে আর কষ্ট দিওনা। তুমি আমার কৈশোরের কঙ্কা। তোমাকে আমি -নে- ভালোবাসি নিতু। শিউলির কাছ থেকে সব জেনেছি। তুমি আমার স্বপ্নের রাজকন্যা। কত সাধনায় একান্ত কাছে পেয়েছি। আশাতীত উপহার আমি কী দিয়ে গ্রহণ করবো? শার্টের বোতামখুলে নিতুর সামনে দাঁড়ায় রোহান। এই চিহ্নটা কি দেখতে পাও নিতু।
- উহ! কতবড় দাগ তোমার বুকে! তোমাকে আনতে গিয়েছিলাম তোমার খালার বাড়িতে, মনে পড়ে? অপমানিত সেই রোহানের এক্সিডেন্টের চিহ্ন এটা। নিতুর জন্য এসবচিহ্নই স্মৃতি। এটা কি মোছা যায় কখনো?
- প্রিয়তম।
- নিতু! বলো ভালোবাসবে আমাকে। আমরা সুখের নীড় গড়বো দুজনে মিলে।
- তোমাকে ভালোবাসি কুমার।
 
রোহানের লোমশবুকে মুখগুঁজে হৃদস্পন্দন অনুভব করে নিতু। কী দ্রুত রক্তসঞ্চালন হচ্ছে ওতে। শ্রাতাপক্ষের কম্পনও দ্রুততর হয়। রোহানের বলিষ্ঠবাহুর কঠিন বেষ্টনীতে আবদ্ধ হয় নিতু।

⭐ FOR ANY HELP PLEASE JOIN

🔗 MY OTHERS CHANNELS

🔗 FOLLOW ME

🔗 MY WEBSITE

🔗 CALL ME
+8801819515141

🔗 E-MAILL
molakatmagazine@gmail.com

#উপন্যাস
#অনুবাদ
#মোলাকাত
#Molakat
#Novel
#Translation
#BanglaLiterature
#Literature
#সাহিত্য_ম্যাগাজিন
#ওয়েব_ম্যাগাজিন
#বাংলাসাহিত্য
#সাহিত্য
#বাঁশিপাগলি
#মাহবুবা_খন্দকার

No comments

নির্বাচিত লেখা

আফসার নিজাম’র কবিতা

ছায়া ও অশ্বথ বিষয়ক খ-কবিতা এক/ক. সূর্য ডুবে গেলে কবরের ঘুমে যায় অশ্বথ ছায়া একচিলতে রোদের আশায় পরবাসী স্বামীর মতো অপেক্ষার প্রহর কাটায় প্রাচী...

Powered by Blogger.