বর্ষা সংখ্যা ১৪২৮ ।। পর্ব-৪
বৃষ্টিস্নাত সকাল বিকাল রাত। চারপাশে থই থই পানি। এমন সময় বাইরে কেউ নেই। কাকভেজা মানুষ উম খোঁজে প্রিয়ার হৃদয়ে। প্রকৃত প্রভু প্রেমিক ইবাতদে মশগুল হয়। কবি শিল্পী সাহিত্যিক আনমনা হয়। তাদের চিন্তায় খেলা করে নতুন সৃজন। বর্ষা মানে প্রকৃতির নতুন শিশু জন্মানোর কাল। বর্ষা শুরুর আগের শুরু হয় বর্ষা। আবার সময় চলে গেলেও অনেক সময় বর্ষার দেখা মেলে না। তারপরেও বাংলায় মেঘের আগমন ঘটে। শ্রাবণধারায় আন্দোলিত হয় প্রকৃতি। সে নতুন ভাবে সাজতে থাকে বৃষ্টির স্পর্শে। নদীর কোল জুড়ে চলে আসে নতুন শিশুর মতো নতুন পানি। মাছেরা অপার স্বাধীনতায় খেলা করে নতুন পানিতে। প্রকৃতির অপার প্রতীক্ষায় জেগে ওঠা বৃষ্টির ফোঁটায় বর্ষা ঝরে। বর্ষায় জেগে ওঠে প্রাণ। দূর হয় দীর্ঘদিনের অপরিচ্ছন্নতার কালিমা।
বর্ষার জলে মুছে যাক হিংসেরা :: মোস্তফা হায়দার
ঘন বরষায় :: তানজারীন ইফফাত স্বাতী
অশোকের সন্ধানে :: আইরিন সুলতানা লিমা
বিষণ্ন নিস্তব্ধতা :: পারভীন আকতার
আষাঢ়ের আগুন :: তৌহিদুর রহমান
বর্ষা :: প্রিয়াংকা নিয়োগী
আষাঢ়ে শ্যামা মেয়ে :: নূরজাহান শিল্পী
বৃষ্টিমধু :: মুস্তাফা ইসলাহী
আকাশের শেষে :: শরীফ আহমেদ
মনে প্রেম রাখো :: রতন বসাক
টাপুর টুপুর ছন্দে :: আল জাবিরী
সঞ্চার :: শুভজিৎ দাস
বর্ষা বর্ণন :: আবদুল আলীম তালুকদার
নাচে পুঁটি মা'য় :: মেজু আহমেদ খান
ঝুম বৃষ্টি হোক :: সৈয়দা উলফাত
……………………………………………
মোস্তফা হায়দার
গন্ধরা অনেকটা মাতাল পদ্যে গদ্য সাজায়।
স্রোতের মাতাল হাওয়ায় জীবনের স্বাদ খুঁজি
কদমফুলের বিমুগ্ধতায় বরষার জলে চোখ বুঝি।
জলের খোপায় সোঁদাগন্ধে বেদনারা ফানসি ওড়ায়।
ইচ্ছের কাছে নতজানু হতে কার না ভালো লাগে!
বর্ষার জলে মুছে যাক হিংসেরা সব আনাচে কানাচে!
আমি না হয় বালিশ ভুলে সুখ খু্জিবো তোমার চুলে।
সবুজ ঘাসে ভেসে উঠবো দুঃখ ভুলে আপন সুখে!
তানজারীন ইফফাত স্বাতী
চৌদিকে ঘোর আঁধার
পথ নাহি পাই,
শ্যাওলায় ঢেকে গেছে ডোবাগুলো,
খুব করে হেঁটে চলেছি জোড় কদমে,
ভেজা শাড়ি ছুপছুপ করছে,
ধূপের গন্ধ আর মাটির গন্ধ মিলেমিশে একাকার,
আরো কিছু পথ হেঁটে যেতে হবে
আজ আমায় গ্রহণ করবে তো?
আইরিন সুলতানা লিমা
স্নানে স্নানে বেলা ফুরায় তোমার।
তোমার তো তামার শরীর,
আমি তো খুঁজে খুঁজে নাকাল...
পারভীন আকতার
কোথাও যেন কেউ নেই!
অপলক চেয়ে থাকে সাইবেরিয়ার বরফ গলা নদীর মতো।
উদ্ভট ভাবনায় উতালপাতাল যেন সবকিছু ভেঙ্গে ফেলে
অবচেতন ক্ষরিত অভিমান, রুদ্ধ করে দেয় মন কপাট।
কখনোই থামে না বৃষ্টির জলমহলের ঝিরিঝিরি শব্দ।
আঘাতটা বড়ই হৃদয় বিদীর্ণ করা, বিরহের কঙ্কালে গড়া।
বাসনার মায়াকাননে বুনছে বীজ, জোড়া গোলাপ।
মেঘ গুড়গুড় বইছে ভারী হাওয়া।
বিষণ্ন আকাশ, মন লোহিত সাগর বুকে বহতা নদী।
অপেক্ষার পালা মুছুক ধূমায়িত রেখা।
উর্বরা ভূমি ভরুক একরাশ ভালোবাসার নির্যাসে।
……………………………………………
তৌহিদুর রহমান
যা নিয়ে গিয়েছিলে, তাই?
আমি দেখতে চাই নুহুর মহাপ্লাবন
আমি দেখতে চাই ভাঙন
দেখতে চাই আষাঢ়ের উন্মত্ততা
হে আষাঢ়!
ধ্বংসের পর ধ্বংস।
নবজীবনের পুষ্প-পল্লব!
প্রিয়াংকা নিয়োগী
মেঘলা প্রেমে মাতাল হওয়া।
নূরজাহান শিল্পী
এমন বাদলা দিনে দমকা হাওয়া আমায় ছুঁয়ে যায়।
শ্যামা মেয়ে নেচে উঠে বৃষ্টির ধারায়।
অঙ্গুলির স্পর্শের অল্পে;
উঠোনে বয়ে আষাঢ়ে জলের চরণতলে
ভিজে যায় কদম কেতকী রমণীর চুলে
পথঘাট বন-বনান্তে ছন্দ জাগানিয়া আষাঢ়ি ঢল নামে
শ্যামা মেয়ের নিভৃত নয়নে;
তির্যক পথের শেষে স্পৃহার আলিঙ্গনে খুঁজে নেয় উষ্ণ অভিধায়
……………………………………………
মুস্তাফা ইসলাহী
কবিমন করে আনমনা।
ভাবনার রংধনু দোলে
খসে পড়ে কাগজের কোলে।
কতো ভাবি নেই কোনো মানা
মনে মেলে কবিতারা ডানা।
ভাব ভাষা ছন্দের ঘ্রাণ-
তাই বলি, বৃষ্টিটা মধু।
……………………………………………
শরীফ আহমেদ
চলো আমরা হেঁটে যাই
ওই ধূসর মাটির মেঠোপথ ধরে...
ওই মাঠের মাঝখানে
বসি একসাথে
পাশাপাশি আমরা
বিকেলের শেষে
নীরব স্বপ্নের মতো
শুকনো ঘাসের উপর
তারপর চেয়ে থাকবো আকাশের শেষে...
জীবনের ছবি আঁকি
সারাটা মন জুড়ে
গোধূলির মায়া মাখি।
……………………………………………
রতন বসাক
ছেড়ে চলে যেতে হবে মিছে করি রব,
দুখ পেলে কাঁদি আর সুখে যাই ভেসে।
দেখা করে কথা বলে নিই তাঁর খোঁজ,
গায়ে খেটে কাজ করে কেটে যায় বেলা।
কিছু ক্ষণ পরে দেখি দুখ যায় সরে,
ভাল কাজে ভাল দিন আসে ঠিক ঘুরে।
সময় হলে পরেই যেতে হবে মরে,
দান দাও সেবা করো বিভেদটা ভুলে।
পর সুখে নিজ মনে কেন ওঠো জ্বলে?
আমরা সবাই এক জেনো এই ভবে।
……………………………………………
আল জাবিরী
টাপুর টুপুর ছন্দে
বৃষ্টি আসে সবুজ দেশে
কদম কেয়ার গন্ধে।
বৃষ্টি আসে রাতে
বৃষ্টি এসে খেলা করে
খোকা খুকুর সাথে।
মিষ্টি মধুর গান
বৃষ্টি দিনে ভেসে আসে
কুহু কুহু তান।
বৃষ্টি করে খেলা
ঝুমুর ঝুমুর বৃষ্টি দিনে
হরেক ফুলের মেলা।
……………………………………………
শুভজিৎ দাস
গামছার জন্য অপেক্ষা করে।
স্তিমিত অঙ্গে শুধু জলকনা দলীয়ভাবে জমাট বাঁধে;
সঞ্চার ঘটায় জলীয় বাষ্পের,
কাগজটা ধীরে ধীরে ঘাস হয়ে যায়
জলচক্রে যেমন হয়।। "
আবদুল আলীম তালুকদার
খোপের ভেতর পায়রাগুলো ডাকছে বাক্ বাকুম।
উঠোন জুড়ে দুটো মোরগ ঝুটি নেড়ে নেড়ে
জীবন-মরণ করছে লড়াই কে নেয় বিজয় কেড়ে।
ডালিম গাছে চড়ুই ভিজে করছে কিচিরমিচির
বৃষ্টির সাথে তাল মিলিয়ে পূবালী বয় ঝির্ ঝির্ ।
নিয়ে দলবল বলাকার দল দূরদেশে উড়ে যায়
নিমিষেই তারা আকাশ নীলের দিগন্তে হারায়।
কদম ডালে মাছরাঙাটা তাক্ করে বসে ঠাঁয়
ডোবার জলে ছুঁ মেরে যদি একটা পুঁটি পায়।
কাকেরদল করে কোলাহল পাকা কাঁঠালের ঘ্রাণে
উড়ে উড়ে ঠোকর দিয়ে পেট পুরে মনে প্রাণে।
পুকুর জলে বৃষ্টির ফোঁটা টুপটাপ ঝরে পড়ে
পদ্মপাতায় ব্যাঙের ছানারা কেবলই নড়েচড়ে।
এমনি দিনে রাখাল ছেলেরা চড়ায় গরুর পাল
জেলের দল ধরতে মাছ ফেলছে নদে জাল।
খানিক দূরে সবুজ মাঠে তরুণ যুবার দল
মনের সুখে ভিজে নেয়ে খেলছে যে ফুটবল।
বৃষ্টি এলো শন্ শনিয়ে চারিধার কালো করে
গোধূলিক্ষণে আম কুড়িয়ে শিশুরাও ফিরে ঘরে।
রাত্রি নামে সারা গাঁওময় থামেনা বৃষ্টিধারা
পল্লীজননী বর্ষার সাথে রাত জাগে ঘুমহারা।
……………………………………………
মেজু আহমেদ খান
ঝর-ঝর ঝর-ঝর
বারিধারা ঝরছে,
অবিরত পড়ছে
ঝরছে তো ঝরছে।
গাছ পালা তরু লতা
মাঠ জুড়ে ঘাস মাটি করিছে সেনান।
থৈ থৈ খাল ও বিলে
ছানা পোনা সব মিলে
স্বোল্লাসে গান ধরে নাচে পুঁটি মা'য়।
……………………………………………
সৈয়দা উলফাত
জলের নাচন
সবুজ কচু পাতায়,
দুষ্টু শিশু মাথায়।
করতলে জলের ফোঁটা
বৃষ্টির ধারাপাত,
স্বপ্ন বাড়ায় হাত,
বৃষ্টি ভেজা জলজ বাতাস,
নোনা জলের শোক।
FOR ANY HELP PLEASE JOIN
🔗 MY OTHERS CHANNELS
🔗 FOLLOW ME
Facebook: facebook.com/molakat
Facebook: facebook.com/afsarnizam
Instagram: instagram.com/molakat
Instagram: instagram.com/afsarnizam
Twitter: twitter.com/afsarnizam
🔗 MY WEBSITE
🔗 CALL ME
+8801819515141
🔗 E-MAILL
molakatmagazine@gmail.com
#বিশেষসংখ্যা
#মোলাকাত
#সাহিত্য_ম্যাগাজিন
#মোলাকাত
#সাহিত্য_ম্যাগাজিন
#Molakat
#Literature
#Bengal_Literature
#Special
#ওয়েব_ম্যাগাজিন#সাহিত্য
#বর্ষাসংখ্যা
#মোস্তফা_হায়দার
#তানজারীন_ইফফাত_স্বাতী
#আইরিন_সুলতানা_লিমা
#পারভীন_আকতার
#তৌহিদুর_রহমান
#প্রিয়াংকা_নিয়োগী
#নূরজাহান_শিল্পী
#মুস্তাফা_ইসলাহী
#শরীফ_আহমেদ
#রতন_বসাক
#আল_জাবিরী
#শুভজিৎ_দাস
#আবদুল_আলীম_তালুকদার
#মেজু_আহমেদ_খান
#সৈয়দা_উলফাত
No comments