বর্ষা সংখ্যা ১৪২৭ ।। পর্ব-৫
ঋতুচক্রে বাংলায় আষাঢ়-শ্রাবণ বর্ষাকাল। কিন্তু আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে আজকাল আর ঋতুচক্র তার সময়ের মধ্যে থাকছে না। বর্ষা শুরুর আগের শুরু হয় বর্ষা। আবার সময় চলে গেলেও অনেক সময় বর্ষার দেখা মেলে না। তারপরেও বাংলায় মেঘের আগমন ঘটে। শ্রাবণধারায় আন্দোলিত হয় প্রকৃতি। সে নতুন ভাবে সাজতে থাকে বৃষ্টির স্পর্শে। নদীর কোল জুড়ে চলে আসে নতুন শিশুর মতো নতুন পানি। মাছেরা অপার স্বাধীনতায় খেলা করে নতুন পানিতে। প্রকৃতির অপার প্রতীক্ষায় জেগে ওঠা বৃষ্টির ফোঁটায় বর্ষা ঝরে। বর্ষায় জেগে ওঠে প্রাণ। দূর হয় দীর্ঘদিনের অপরিচ্ছন্নতার কালিমা।
আফসার নিজাম, সম্পাদক-মোলাকাত
জলের কবিতা :: শাহীন রেজা
জলে ভেজা কাব্য :: শুভ্রাশ্রী মাইতি
কবিতা : বৃষ্টি-সকাল :: বিশ্বজিৎ কর
বর্ষার চিঠি :: পংকজ পাল
এক দশান সরষের তেল :: চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী
রিমি তুমি বিষ্টি হলে :: মামুন সারওয়ার
বর্ষা দুপুর বর্ষা বিকেল :: শামীম খান যুবরাজ
আকাশহলো মেঘেরজলসিঁড়ি :: দ্বীপ সরকার
বর্ষায় চুপকথা :: কামরুন নাহার রুনু
পৃথিবীতে একদিন বৃষ্টি হবে :: দালান জাহান
বৃষ্টিবিধৌত রাত :: মাহমুদ মুযযাম্মিল
গ্রামীণ বর্ষা :: ওমর ফারুক
বৃষ্টিবিলাসী :: সৈয়দ ময়নুল কবরী
মেঘের ফ্রেম :: হাসনা হেনা
আষাঢ় এলো বলে :: শরিফ হাসানাত
বর্ষা এলো :: আশরাফ আলী চারু
ভেসে যাওয়া মানুষ :: নজরুল ইসলাম পারভেজ
তুমি বিনা বর্ষা :: আউয়াল যাযাবর
বৃষ্টিভরা দিনগুলো :: সোহানুর রহমান সোহাগ
ইচ্ছে খোকা-২ :: শাহীন রায়হান
..................................................
শাহীন রেজা
কী আশ্চর্য -
একবিন্দুও মেঘ নেই।
কদম-খোঁপায় কেমন বিষন্ন তুমি-
এবং ঘুমের অর্গল খুলে নেমে
গেলো ডাহুকেরা-
..................................................
শুভ্রাশ্রী মাইতি
শিপ্রা আর রেবার আলোড়িত জলকল্লোল।
নুড়ির ওপর ঝমঝমে ঢেউয়ের নুপূর।
শরীরের রোমে রোমে কেতকী-কদম্বের পুলকিত শিহরণ।
আমি তখন জলভরা কালো মেঘ।
রামগিরি থেকে অবন্তী হয়ে হিমালয়ের কন্দরে কন্দরে
আমার অবাধ ভেসে যাওয়া।
বাতাসে বাতাসে শুধুই বৃষ্টির ফিসফাস, কানাকানি।
ইউক্যালিপটাস গাছের গায়ে ভেজা ভেজা বিরহের ঘ্রাণ।
জলজ বুনো গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে শুষ্ক অস্তিত্বের শিকড়ে শিকড়ে
ভরা যুবতীর পিঠ এলানো কালো চুলের মায়ায়।
কনকচাঁপার মাতাল গন্ধে পরম আশ্লেষে দুলে চলেছে সাপেদের শঙ্খলাগা শরীর।
আমি ভেজা হাওয়ার ওড়না উড়িয়ে ভেসে চলেছি
উত্তর থেকে দক্ষিণ, পুব থেকে পশ্চিম।
আমায় যে পৌছাতেই হবে দূরের সেই অপেক্ষাকাতর বাতায়নে-
আজও জেগে আছে একটি বৃষ্টি ভেজা হৃদয় অপেক্ষাতে।
হৃদয়ের পদ্মপাতায় অনুভবের শিশিরবিন্দু
রোজ লেখে জলে ভেজা কাব্য।
অঝোর বৃষ্টি নামে বাইরে, ভেতরে--বাড়তে থাকে জল।
আমি জলের কাছে এসে দাঁড়াই নিঃসংকোচে।
জল বাড়তে বাড়তে ছুঁয়ে দেয় আমার ঠোঁট, চোখ।
ভালবাসার আখরগুলো শুধু ধুয়ে ধুয়ে যায় চোখের জলে...
বিশ্বজিৎ কর
তেমন রসদ জোগায় না, এখন!
পংকজ পাল
খেলতাম নানান খেলা উৎসাহ ও কৌতূহলে৷
নৌকা ভাসানো, ডুব দিতাম আরো দিতাম সাঁতার
বর্ষা ছিল আমারই সঙ্গে কিছু লাগে না তো আর !
দুষ্ট ছেলের দল শরীর ভরতাম কাঁদা মেখে৷
জলের কলকল শব্দে মনটা থাকতো না ঘরে
নতুন সুরে মনটা আটকাতাম কেমন করে ?
নতুন জলের ঝংকারে পড়ে থাকতো মনটা৷
বর্ষার জলে চোখ লাল করে আসতাম নেয়ে
চোখের কোনায় আসতো জল মা'র বকুনি খেয়ে৷
নব জলে দাপিয়ে বেড়াতাম দুষ্টু ছেলের দলে৷
এ যে ছলাৎ ছলাৎ শব্দের জল তরঙ্গ খেলা
কলাগাছ কেটে কেটে শিশুগণ ভাসাইতো ভেলা৷
ঘুরে বেড়াতাম নানা জায়গা মাছ ধরার ছলে৷
স্বচ্ছ জলে মাছ দেখার ছলে অপেক্ষায় থাকি
সাপ দেখে পেতাম ভয় আর ব্যাঙ উঠতো ডাকি!
বিলে ঝিলে কলমিলতা, হেলেঞ্চা ও শাপলা ভাসে৷
গাছে গাছে নানারঙ পাখি কিচির মিচির ডাকে
পানকৌড়ি, ডাহুক-ডাহুকী, হাঁসেরা কূলেই থাকে৷
গাছে গাছে ফল, অন্যরকম সৌন্দর্যে মন ভরে!
খাদ্য দিয়ে যায় দুপুরে—রাখাল বধূ, মুখে হাসি৷
ইচ্ছে মতন ঘুরে বেড়াতাম নতুন জলে তাই৷
আমাদের রাখাল আনতো নানান বাজার করে
এদিনে আয়োজন চলতো মা-ঠাকুমা'র হাত ধরে৷
বর্ষাজলে নৌকায় বেড়ানো আনন্দের, তাতো জানি!
নতুন জলে রাস্তায়, পুকুর পাড়ে, দীঘির ঘাটে৷
নৌকায় বসে চাঁদটা দেখেই কেটেছে কতক্ষণ৷
মাছ ধরেছি জিয়ালায় দু'জনে মনের মতন
পাশের বাড়ির-বর্ষা, কিছু বলেছে-বুঝিনি তখন !
জল চলে যাওয়াতে মনটা যেতো দুঃখে ভরে৷
গ্রীষ্ম আসে, বর্ষা আসে আবার বর্ষা যায় চলে
কত স্মৃতি, কত কথা মনে পড়ে এই নতুন জলে৷
যখন বুঝেছি, তখন তো বর্ষা কথা দিয়েছিলে৷
ধুয়ে মুছে যায় নতুন জলে ময়লা আছে যত
পৃথিবী পায় প্রাণ, শুধু থেকে যায় আমার ক্ষত!
আমাকে শাপলা ফুল তুলে এনে দিত কেউ৷
জল এসে ছড়িয়ে যায় বাড়িটার আঙ্গিনা জুড়ে
ঠাকুমা'র রূপকথা জলপরী এখন সুদূরে!
কেমন আছে? কি করে? সেইতো খুব ভালোই জানে৷
আজ নতুন বর্ষার নতুন জলে, বর্ষার সনে
বর্ষা এলেই রঙিন স্মৃতিগুলো পড়ে যায় মনে!
অনেকেরই বেঁচে থাকার স্বপ্নগুলো হয় নষ্ট
গরীব যারা এ বর্ষায় তাদের হয় বড় কষ্ট৷
এমন দিনে নকশিকাঁথা বুনতেন মা ও মাসি৷
নতুন জলে বর্ষা এসেছে প্রকৃতি জানান দিলো
পুরনো নানারকম স্মৃতিগুলো তাই ফিরে এলো৷
কিছু আমার কাছে আর কিছু আছে বর্ষার কাছে৷
ভরা বর্ষার এই চাঁদ পূর্ণিমার জ্যোৎস্না রাতে
বর্ষাকে ভেবে ভেবে আমি নিদ্রাহীন নয়ন-পাতে৷
হাওয়ায় ভাসে রঙ বেরঙের স্বপ্নের ফানুস৷
সত্যি হলেও এসব এখন— গল্প রূপকথার
যাই হোক, রূপকথা এখন শুধু একা আমার!
চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী
সম্বল বলতে ছিল একচিলতে উঠোন আর একটি
পূরাতন বাড়ি,সোনালি খড়ে ছাওয়া।
আমরা বেড়ে উঠছিলাম পাঁচ ভাই বোন আগামীর
স্বপ্ন নিয়ে বুকে
আর মনে মনে ভেবে আশ্চর্য হতাম কোন স্বাধনার জোরে
ঢেঁকির গড়ে পেষা ভাতের চালের মতো হাসির ঝিলিক খেলতে খেলা মায়ের দু-চোখে ভরে।
শ্রাবণমাস, খড়ের চালের ফুঁটো বেয়ে গড়িয়ে নামত বৃষ্টির ফোঁটা,দত্যের মতো গর্জে উঠত বজ্রপাত,
মা বলতো আমি থাকতে ভয় কিসের?এই দেখ
কেমন শক্ত করে ধরে আছি হাত,
আমাদের মাথার উপর ধরে কত সহজেই কাটিয়ে দিতো রাতের উপর রাত।
বৃষ্টি থামলে, আনন্দে মিষ্টি সুরে বলতো চেয়ে দেখ কি অপূর্ব সকাল নেমেছে সজনে গাছের ডালে
অমনি ধবলি গাইটা হাম্বা হাম্বা করে উঠতো ডেকে
কয়েকটা হাঁস ক্যার ক্যার করে ঘুরতো মায়ের চার পাশে
ছুটে এসে ছাগল ছানাটা টেনে ধরতো আঁচল আদুরে মুখে
পায়রা গুলো ভরে দিতো উঠোন খুশির বাতাসে।
দিন পেরিয়ে যায় পেরিয়ে যায় বছর,কৃষ্ণচুড়ার ফুলের চিবুক ছুঁয়ে শিশুটির মতো হাসে ভোরর রবি
আমরাও নিজের মত যে যার আঁকি স্বপ্নের ছবি।
এখন লক্ষ্মীদেবী সুপ্রস্না,মায়ের দুধেভাতের আকাঙ্ক্ষা বাজায় সাধ পূরণের বাঁশি
মুখে লেগে থাকে শঙ্খসুরের মত মৃদু হাসি।
একদিন স্নেহের বোনটা আমাদের কাঁদিয়ে
চলে গেল, সিঁথিতে লালটুকটুকে সিঁদুর,হাতে রঙিন কাচের চুড়ি
এখন বলে, জানিস দাদা,জানিস মা জানিস
মনের মতো পেয়েছি ভাগ্যগুণে শ্বশুর বাড়ি।
বলতে বলতে মোবাইলে ফুটে উঠে শব্দ,টুপটাপ ঝরে পড়ে চোখের জল
আসলে সব আঁচল আঁচল হলেও কোন আঁচল হয় না মায়ের মত আঁচল।
সেদিন ঠিক দুপুরবেলা, খাওয়া দাওয়া শেষে,মা
বসল আমাদের সাথে, নাতি নাতনি ভরা আঙিনা
নতনেড়ে নেড়ে এসে বসল পাড়াতুতো মামিমা।
সে নাকি মায়ের সাথে রোজ যেতো তুলতে শাক
শুশুনি, হেঞ্চা শাকের জঙ্গলে
বেঁধে নিতো পেঁয়াজ মুড়ি লঙ্কা সুতির ছাপাশাড়ির
ছেঁড়া আঁচলে।
মা জল ভরা চোখে একটা চাপা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে মাটিতে
বলে উঠল, তৃষ্ণার্তকে দিস জল,রুখু মাথায় দিস তেল
তেলে জলেই আসলে মানুষের পরমায়ু বলেই
বেঁচে থাকার বাসনায় এতো কষ্ট লুকোনোর লুকোচুরি খেল।
এমনি খেলা খেলতে খেলতে মা ঈশ্বরী হয়ে উঠেছিল ঠিক
অথচ মাটির দেবী মাকে দিয়েছি কত থালা ভরে
ফুল ফল দল
রুখু মাথা রুখুই রয়ে গেল, তবু মায়ের চুলে দিলাম না
হায় সরষের তেল, এক দশান সরষের তেল।
..................................................
মামুন সারওয়ার
বৃষ্টি হলে এখন কি আর
শোনো রিমিঝিমি।
দাদুর দেয়া খাতায়।
দাদুর জন্য করছো আহাজারি।
তোমার জন্য হারিয়ে গেলো
ছড়া লেখার থিমই!
মিষ্টি সুরের কথা,
বাঁশের ডগা কলার ডগা
সবুজ হয়ে ওঠে
ছোট্ট কুড়ির ঘোমটা খুলে
জুঁই-চামেলি ফোটে।
যায় উড়ে দূর বিলে,
শাপলা ফোটা ঝিলে।
ঝাপটা হাওয়া যায় ছড়িয়ে চাষির খড়ো ঘরে
সজনে পাতার প্রান্ত ছুঁয়ে
বৃষ্টি চুয়ে পড়ে।
কার না ভাল লাগে
কবির খাতায় ছবির মতো
ছন্দ দোলা জাগে।
..................................................
শামীম খান যুবরাজ
বাজায় কানে,
ঝুম ঝুমা ঝুম
মধুর তানে।
সেই নূপুরে
ঘুম যে আনে,
সেই আবেশে
হৃদয় টানে।
হঠাৎ জোরে
শব্দ আসে,
এবং ছুটি
মায়ের পাশে।
বাবা কাশেন
কা- দেখে,
মেঘের ছোটা
ভা- থেকে।
ঠাণ্ডা পবন
বৃষ্টি ফোঁটা,
সবাই মিলে
মজা লোটা।
বর্ষা বিকেল
মজার স্মৃতি,
ভালোবাসি
নাও গো প্রীতি।
..................................................
দ্বীপ সরকার
নীল দেখলেই পতপত করে ওপরের দিকে ছোটে
বহুদূর, দৃষ্টির বাইরে-ঘোরকাটা মেঘের সামিট
চড়ূইটা সেখানে যায় বৎসরে দু একবার
ওখানে গিয়ে জেনেছিলো, আকাশ হলো মেঘের জলসিঁড়ি
ধূপধুনো দিয়ে চড়ূইটা মেঘ হয়েছিলো-
ঈশ্বরের নিকটবর্তী হতে হতে নিকটতম বন্ধু হয়ে যায়
চড়ূইগুলো এভাবে ইতিহাস হলো
মাটি ও মানুষের সান্নিধ্য পেতে পেতে পারিবারিক হয়ে উঠলো
পাখিপ্রেম ও মানবপ্রেম শিখি আমরা-
কামরুন নাহার রুনু
সাড়া জাগাও কাশবনে হেলেদুলে মিষ্টি মেয়ে
চোখটি তোমার কাজল কালো, চুলে নীলাভ ফিতে
দাও এঁকে দাও স্বপ্নসোহাগ এই ভরা পূর্ণিমাতে।
তাই সেজেগুজে আলতা মাখে নিটোল পায়ে রূপকথা
আকাশ থেকে চুইয়ে পড়ে ভালোবাসার চুপকথা
আমায় ভাবায় মনকে রাঙ্গায় যায় বলে যায় মনকথা।
বর্ষা এসো প্রেমে জড়াও মনের বিরাণ মাঠে ঝাঁকরা চুলে
হয়ে তুমি বর্গা চাষী ফসল ফলাও হৃদয়ের মাঝে
শীর্ণ দেহ মেতে উঠুক লালচে কোন সন্ধাসাজে…
দালান জাহান
নেমেছিলো ময়ূর মোহন মেঘ
স্বরচিত গানের কলিতে
আঁকতে গিয়ে প্রজাপতি প্রান
পাহাড় উড়ে ছিলো তুলোর মতো বৃষ্টি হয়ে।
নিজের অস্তিত্ব থেকে মুছে জলের ইতিহাস
একদা মেঘ মিশে গেলো আকাশের বুকে
সেই থেকে পাহাড় কাঁদে আজও কাঁদে।
বুকের মাংস খুলে সমুদ্র-ঝড়ে
বর্ষার ছায়া অনুবাদ করে মাটির ক্রন্দন
পর্বত চূড়ায় বিচ্ছেদ মানে ক্ষতচিহ্ন
মেঘ উঠাও মেঘ উঠাও অপ্সরী তবে
দুঃখের ওজন নিয়ে
দাঁড়িয়ে থাকা পাহাড়টি বিশ্বাস করে
পৃথিবীতে একদিন বৃষ্টি হবে।
..................................................
মাহমুদ মুযযাম্মিল
দুপুররজনী পেরিয়ে গেছে সেই কখন!
কী প্রগাঢ় অন্ধকার!
আমার বৃষ্টিবিলাসি মন নেচে উঠলো কাব্যিক আনন্দকোরাসে, সুখানুভূতির অসীম উদ্দামতায়৷
চটুলপায়ে বেলকনির কোনায় এসে দাঁড়ালাম চাদর গায়ে
কী হিম করা ঠাণ্ডা বাতাস !
তা দেখে আমার কী ভালোই না লাগছে!
ওপরে মেঘপুঞ্জের দাপুটে ওড়াউড়ি
জলের স্রোতে ভেসে যাচ্ছে পুরো শূন্য
কেমন কৃষ্ণগম্ভীর এ আকাশ!
নিচে জলমগ্ন পথঘাট, ডোবা-নালা- পুকুর
পানিবন্দী হয়ে আছে বাড়ির আঙিনা, স্কুলপাড়া, মসজিদপ্রাঙ্গণ, গলিঘুপচি ও দোকানপাটের আশপাশ৷
এভাবে শ্রাবণধারায় ভেসে ভেসে যায়
জমানো বর্জ্যের স্তুপ
ভাসিয়ে নিয়ে যায় হৃদয়ে সন্নিহিত অব্যক্তযন্ত্রণাগুলো,
..................................................
ওমর ফারুক
চোখের পাতায় আগুন ধরায়।
ঝিমিয়ে উঠে মাথা, ঘাম ঝরে নাকে
নাকের লবণ পানি ঢুকে যায় মুখে।
মাথার মাথাল ভিজে জলের ফোঁটা পড়ে গাছে
চারদিকে রোদের খাঁখাঁ আলোর ঝলকানি।
ধূসর পাটের আঁশ শুকিয়ে রসুনের মতো
হাঁসের বাচ্চাগুলো দিয়েছে সাঁতার জলে
উপরে চিলের সর্তক গোত্তা খাওয়া।
ডানা মেলে থাকা মোরগটাও ঘামছে,
উঠোনে শুকাচ্ছে লঙ্কা, হলুদ,
ঘনঘন শোনা যায় শেয়ালের ডাক,
হঠাৎ নেমে পড়ে বৃষ্টির ধারা,
..................................................
সৈয়দ ময়নুল কবরী
চালের টিনে ওই
খাল বিল আর মাঠে ঘাটে
ভাসছে জলে সই।
নীল আকাশে উড়ে
লাল শাড়িতে সাত মীনেরা
নাচে নতুনের সুরে।
ভোলায় শত দুঃখ
ঋতুরাজের প্রীতি'র স্মৃতি
মনে জাগায় সুখ।
বানায় রঙিন বাসা
কালো ঝড়ে নেয় ছিনিয়া
মনের সকল আশা।
..................................................
হাসনা হেনা
বর্ষার কাঁদা মাটিতে ডুবে আছে
রামধনু মাখা বিকেলটা...
বাতাসের আরশিতে সাঁই-সাঁই সুর
তর তর করে বয়ে যাচ্ছে চঞ্চলা নদী
ঘর-ফিরতি পাখিদের কলরবে
অদ্ভুত নিবিড়তায় মেঘের
ফ্রেমে বন্দি হয়ে সন্ধ্যে নামছে...
নারকেল গাছের সবুজ পাতার ফাঁকে
আস্তে আস্তে মুখগুঁজে নিচ্ছে আলো
হিজল তমাল আর বইচি বনের ফাঁকে
কেমন লুকিয়ে নিচ্ছে অস্তাচলের রঙ !
দিবসের বিদায়ী ইস্তেহার, ঠিক তখনি
সন্ধ্যের আঁধারে হুট করে ধবল ডানায়
সওয়ার হয়ে বৃষ্টি নামলো অঝর ধারায়,
নিয়ে গেল সেই ছন্ন ছাড়া শৈশবের
ভুবন ভোলানো সুখের অট্টহাসির
অনবদ্য ক্যানভাসে...
মমতার আঁচল অগ্রাহ্য করে ঘর ছাড়ে
উতল বাতাসের মতই উড়ো মন;
জেগে ওঠে উকুস-টুকুস দুষ্টুমি
আর রূপকথারা।
মেঘকে অনুবাদ করার অহেতুক চেষ্টায়
ছুপ ছুপ জলে ডুবো ভেজা ঘাসে
একপা দু'পা করে হেঁটে হেঁটে বৃষ্টি শুনা
কী দারুণ অবাক করা বিস্ময়কর সে সুর!
প্রচ্ছদ ভেঙে উড়াল দিচ্ছে-
অতঃপর সন্ধ্যের হাত ধরে তুমুল বৃষ্টির খেলা!
আমাকে হারিয়ে দিল আকাশের মেঘছায়া
-জলের ভাসান।
হিজাব খোলা স্মৃতিগুলো মুখ তুলেছে ;
ভগ্ন রিদম নিয়ে উড়াল দিলো সুখপাখি।
..................................................
শরিফ হাসানাত
বৃষ্টি ছোঁয়ায় কেমন নাচে
তুলতুলে গোল গোল
হাসছে কদমফুল
আরো নানা ফলে
আষাঢ় এলো বলে।
বাদল ঝরে সন্ধ্যা দুপুর
ছন্দ বাজে ঝুমুরঝুমুর
মেঘবালিকার দলে
আষার এলো বলে।
গলা ডুবা সোনালি পাট
রূপ যেন তার গলে
আষাঢ় এলো বলে।
দস্যিছেলে করছে খেলা
ঢলের ঘোলা জলে
আষাঢ় এলো বলে।
..................................................
আশরাফ আলী চারু
দুলছে গাছের পাতা
বর্ষা এলো রিমঝিমিয়ে
গায়ে মেঘের কাঁথা।
হাসুর টিনের চালে,
কদম কেয়ার ডালে।
ঘ্যাঙর-ঘ্যাঙর ডাকে
বর্ষা এলো টুনার বাসায়
ডুমুর পাতার ফাঁকে।
..................................................
নজরুল ইসলাম পারভেজ
সমুদ্রে ছুটে চলে তীর ভেঙ্গে
তীরের ঘর ভেঙ্গে
ঘরের মানুষ ভেঙ্গে
মানুষের সংসার ভেঙ্গে
সংসারের স্বপ্ন ভেঙ্গে
স্বপ্নের সুখ ভেঙ্গে
ক্ষুধার্ত বেদনা ছড়িয়ে
প্রতি বর্ষায় ফিরে আসে
জন্মমাটি হারা মানুষের কান্না শুনে ছুটে চলে সমুদ্রে।
আউয়াল যাযাবর
আমার স্তিমিত হৃদয় কে মোহিত করছে না
একদা পুকুর পাড়ের যে কদমগুচ্ছ,
আমার মনকে নাড়ায়না আর,
খেয়ালী মনে উদাস আকাশ পানে চেয়ে
অথচ সে ভিজে যাওয়া এখন আমার তৃষ্ণা মেটায় না।
..................................................
সোহানুর রহমান সোহাগ
বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।
সন্ধ্যা সকাল বিকাল
বাদ যায় না ভর দুপুর।।
বৃষ্টির সাথে গাছপালার খেলা,
মনোরম মেঘের ভেলা।।
আর খাই মায়ের হাতের ভাজা মুড়ি
সকাল সকাল খেতে ভারী মজা
বৃষ্টির দিনের গরম গরম খিচুড়ি।।
দুপুরে বৃষ্টির সাথে করি আমি খেলা
এই করেই কাটে যায়
আমার সারাদিন সারাবেলা।।
কখনও যাবো না ভুলে
সবসময় যদি পেতাম এমন
সুন্দর বৃষ্টি ভরা দিনগুলো।।
শাহীন রায়হান
দিচ্ছে আকাশ পাড়ি
কোথায় ওদের বাড়ি?
তাই ছোটে তরতর।
ইচ্ছে হলে পাল্টে ফেলে
গাঁয়ের সাদা রং।
মা বকেনা রেগে!
ছোটে হাওয়ার বেগে।
যখন তখন নিয়ম কড়া
ইচ্ছে করে এসব রেখে
রোজ হারাতে মেঘে।
OR ANY HELP PLEASE JOIN
🔗 MY OTHERS CHANNELS
🔗 FOLLOW ME
Facebook: facebook.com/molakat
Facebook: facebook.com/afsarnizam
Instagram: instagram.com/molakat
Instagram: instagram.com/afsarnizam
Twitter: twitter.com/afsarnizam
🔗 MY WEBSITE
🔗 CALL ME
+8801819515141
🔗 E-MAILL
molakatmagazine@gmail.com
#বিশেষসংখ্যা
#মোলাকাত
#সাহিত্য_ম্যাগাজিন
#মোলাকাত
#সাহিত্য_ম্যাগাজিন
#Molakat
#Literature
#Bengal_Literature
#Special
#ওয়েব_ম্যাগাজিন#সাহিত্য
#বর্ষাসংখ্যা
#শাহীন_রেজা
#শুভ্রাশ্রী_মাইতি
#বিশ্বজিৎ_কর
#পংকজ_পাল
#চিরঞ্জিত_ভাণ্ডারী
#মামুন_সারওয়ার
#শামীম_খান_যুবরাজ
#দ্বীপ_সরকার
#কামরুন_নাহার_রুনু
#দালান_জাহান
#মাহমুদ_মুযযাম্মিল
#ওমর_ফারুক
#সৈয়দ_ময়নুল_কবরী
#হাসনা_হেনা
#শরিফ_হাসানাত
#আশরাফ_আলী+চারু
#নজরুল_ইসলাম_পারভেজ
#আউয়াল_যাযাবর
#সোহানুর_রহমান_সোহাগ
#শাহীন_রায়হান
No comments