বিষাদ সিন্ধু : মীর মশাররফ হোসেন_উদ্ধার পর্ব : ৬২তম প্রবাহ


প্র­ভাত হইল। পা­খী­রা ঈশ-গান গা­হি­তে গা­হি­তে জগৎ জা­গাইয়া তু­লিল। অরু­ণোদয়ের সহিত যু­দ্ধ-নি­শান দা­মে­স্ক-প্রা­ন্ত­রে উড়িতে লা­গিল। যে মস্তক জয়না­বের কর্ণা­­­ণের দো­লায় দু­লিয়াছিল ঘু­রিয়াছিল, এখনও দু­লি­তে­ছে, ঘু­রি­তে­ছে), আজ সেই মস্তক হা­নি­ফার অস্ত্র চা­­নার কথা মনে করিয়া মহা­বি­পা­কে ঘু­রি­তে লা­গিল। সঙ্গে সঙ্গে মারওয়ান, অলীদ, জেয়াদ, ওমরের মস্তি­ষ্ক পরি­শু­ষ্ক; সৈন্য­­ণের হৃদয়ে ভয়ের সঞ্চার-না জা­নি আবার কি ঘটে!
উভয় পক্ষই প্র­স্তুত। হা­নি­ফার বৈমা­ত্র এবং কনি­ষ্ঠ ভ্রা­তা ওমর আলী কর­যোড়ে হা­নি­ফার নি­কট বলি­লেন, "আর্য! আজি­কার যু­দ্ধ­ভার দা­সের প্র­তি অর্পিত হউক।"
হা­নি­ফা সস্নে­হে বলি­লেন, "ভ্রা­তঃ! গত কল্য যে উদ্দে­শ্যে তর­বা­রি ধরিয়াছি­লাম, যে আশায় দু­ল্দু­­কে কশা­ঘাত করিয়াছি­লাম, তা­হা আমার সফল হয় নাই। বি­­ক্ষ­দল আমা­কে বড়ই অপ্র­স্তুত করিয়াছে।আমি মনে করিয়াছি­লাম, যু­দ্ধ শেষ না করিয়া আর তর­বা­রি কো­ষে আব­দ্ধ করিব না, শি­বির হই­তে বা­হির হইয়াছি, আর শি­বি­রে যা­ইব না, আজি প্র­থম-আজি শেষ। শু­নিয়াছি বি­শেষ সন্ধা­নেও জা­নিয়াছি, এজি­দ্ স্বয়ং যু­দ্ধে আসিয়াছে! যু­দ্ধ-সময়েই হউক, কি শে­ষেই হউক, অব­শ্যই এজি­দ্কে হা­তে পা­­তাম! আমার চক্ষে পড়িলে তা­হার জী­বন কা­লই শেষ হইত। হো­সে­নের মস্তক এজি­দ্ র্কা­বা­লা হই­তে দা­মে­স্কে আনিয়াছিল। আমি তা­হার মস্তক হা­তে করিয়া দা­মে­স্ক­বা­সী­দি­­কে দে­খা­­তে দে­খা­­তে বন্দি­গৃ­হে যাইয়া জয়না­লের সম্মু­খে ধরি­তাম, আমার মনের আশা মনেই রহিল। কি করি, বা­ধ্য হইয়া গত­­ল্য যু­দ্ধে ক্ষা­ন্ত দিয়াছি। আজ তু­মি যা­­বে, যাও। ভাই! তো­মা­কে ঈশ্ব­রে সঁপি­লাম। দয়াময়ের নাম করিয়া নূরন­বী মো­হা­ম্ম­দের নাম করিয়া ভক্তি­ভা­বে পি­তার চরণ উদ্দে­শ্যে নম­স্কার করিয়া, তর­বা­রি হস্তে কর। শত সহ­স্র বি­­র্মী বধ করিয়া জয়নাল উদ্ধা­রের উপায় কর। তো­মার তর­বা­রির তী­ক্ষ্ণ­ধার আজ শত্রু­শো­ণি­তে রঞ্জিত হউক, সেই আশী­র্বাদ করি। কি­ন্তু ভাই, এজি­দের প্র­তি অস্ত্র নি­ক্ষেপ করিও না। ক্রো­­­­তঃ ভ্রা­তৃ-আজ্ঞা উপে­ক্ষা করিয়া মহা­পাপ-কূপে ডু­বিও না; সা­­ধান, আমার আজ্ঞা লঙ্ঘন করিও না।"
ওমর আলী ভ্রা­তৃ-আজ্ঞা শি­রো­ধা­র্য করিয়া ভক্তি­ভা­বে ভ্রা­তৃ-পদ পূজা করিয়া হা­নি­ফার উপ­দেশ মত তর­বা­রি হস্তে করি­লেন। রণ­বা­দ্য বা­জিয়া উঠিল। সৈন্য­গণ সম­স্ব­রে ঈশ্ব­রের নাম ঘো­­ণা করিয়া ওমর আলীর জয় ঘো­­ণা করিল
মহা­বীর ওমর আলী পু­­রায় ঈশ্ব­রের নাম করিয়া অশ্বা­রো­হণ করি­লেন। নক্ষ­ত্র­বে­গে যু­দ্ধ­ক্ষে­ত্রে উপ­স্থিত হই­তেই, এজি­দ্-পক্ষীয় বীর সো­­রাব জঙ্গ অশ্ব­দা­­টের সহিত অসি চা­­না করি­তে করি­তে উপ­স্থিত হইল। স্থি­­ভা­বে ক্ষ­­কাল ওমর আলীর আপা­­­স্তক দৃ­ষ্টি করিয়া বলিল, "তো­মার নাম কি মো­হা­ম্মদ হা­নি­ফা?"
ওমর আলী বলি­লেন, "সে কথায় তো­মার কাজ কি? তো­মার কাজ তু­মি কর।"
"কা­হার সঙ্গে যু­দ্ধ করিব? সি­ংহ কি কখ­নো শৃ­গা­লের সহিত যু­ঝিয়া থা­কে? শু­নিয়াছি মো­হা­ম্মদ হা­নি­ফা সর্ব­শ্রে­ষ্ঠ বীর! তু­মি কি সেই হা­নি­ফা?"
"আমার সহিত যু­দ্ধ করি­তে তো­মার হৃদয়ে ভয়ের সঞ্চার হইয়া থা­কে, ফি­রিয়া যাও।"
সো­­রাব হা­সিয়া বলিল, "এত দিন পরে আজ নূতন কথা শু­নি­লাম! সো­­রাব জঙ্গের হৃদয়ে ভয়ের সঞ্চার! তু­মি যদি মো­হা­ম্মদ হা­নি­ফা হও বী­­ত্বের সহিত পরিচয় দাও। পরিচয় দি­তে ভয় হয়, তু­মিই ফি­রিয়া যাও।"
"আমি ফি­রিয়া যা­ইব?"
"তবে তু­মি কি যথা­র্থই মো­হা­ম্মদ হা­নি­ফা?"
"এত পরিচয়ের আব­শ্যক কি? তো­মা­কে আমি কি জি­জ্ঞা­সা করি­তে­ছি, তু­মি কি পা­পা­ত্মা এজি­দ্?"
"সা­­ধান দা­মে­স্ক অধি­­তির অব­মা­­না করিও না।"
"আমি তো­মার সঙ্গে কথা কহি­তে ইচ্ছা করি না, তর­বা­রির ক্ষ­­তা দে­খি­তে চা­হি।"
"জা­নি­লাম তু­মিই মো­হা­ম্মদ হা­নি­ফা।"
"শোন কা­ফের না­­কি! তুই তোর অস্ত্রের আঘাত ভি­ন্ন যদি পু­­রায় কথা বলি­স্, তবে তুই যে পা­থর পূজিয়া থা­কি­স্ সেই পা­­রের শপথ।"
"আমি পা­থর পূজা করি; তুই তো তা­হাও করি­স্ না। অন­শ্চিত ভা­বে নি­রা­কা­রের উপা­­নায় কি মনের তৃ­প্তি হয় রে বর্বর?"
"জা­হা­ন্না­মী কা­ফের! আবার বা­ক্চা­তু­রী? জা­তীয় নী­তির বহি­র্ভূত বলিয়া কথা কহি­তে সময় পা­­তে­ছিস!"
"আমি তোর পরিচয় না পা­­লে কখ­নোই অপা­ত্রে অস্ত্র­নি­ক্ষেপ করিব না। ভাল মু­খে বলি­তে­ছি, তু­মি যদি মো­হা­ম্মদ হা­নি­ফা না হও, তবে তো­মার সঙ্গে আমার যু­দ্ধ নাই-যু­দ্ধ নাই। তু­মি আমার পরম বন্ধু, প্রিয় সু­হৃদ।"
"বি­­র্মী­দি­গের বা­ক্চা­তু­রীই এই প্র­কার-প্র­স্তর পূজক­দি­গের স্ব­ভা­বই এই।"
"ওরে নি­রেট বর্বর! প্র­স্ত­রে কি ঈশ্ব­রের মা­হা­ত্ম্য নাই? দেখ দেখ লৌ­হে­তে কি আছে।" আঘাত-অম­নি প্র­তি­ঘাত!
সো­­রাব বলিল, "রে আম্বা­জী! তুই মো­হা­ম্মদ হা­নি­ফা; কেন আমা­কে বঞ্চ­না করি­তে­ছি­স্? আমার আঘাত সহ্য করি­বার লোক জগ­তে নাই। সো­­রা­বের অস্ত্র এক অঙ্গে দু­­বার স্প­র্শ করে না।"
কথা­টা কে­বল ওমর আলী শু­নি­লেন মা­ত্র। আর যদি কেহ দে­খিয়া থা­কেন, তবে তি­নি দে­খিয়াছেন, সো­­রা­বের দেহ অশ্ব হই­তে ভূতলে পড়িয়া গেল। কার আঘাত? আর কার, ওমর আলীর?
সো­­রাব নি­ধন এজি­দের সহ হইল না! মহা ক্রো­ধে নি­ষ্কো­ষিত অসি­­স্তে সম­­প্রা­ঙ্গ­ণে আসিয়া বলিল, "তুই কে? আমার প্রা­ণের বন্ধু সো­­রা­­কে বি­নাশ করি­লি? বল তো আম্বা­জী তুই কে?"
"আবার পরিচয়? বল তো কা­ফের তুই কে?"
"আমি দা­মে­স্কের অধি­­তি। আরো বলিব, আমার নাম এজি­দ্।"
ওমর আলীর হৃদয় কাঁপিয়া গেল, ভয়শূন্য হৃদয়ে মহা ভয়ের সঞ্চার হইল। ভ্রা­তৃ-আজ্ঞা বার বার মনে পড়িতে লা­গিল। প্র­কা­শ্যে বলি­লেন, "তুই কি যথা­র্থই এজি­দ্?"
"কেন, এজি­দ্ না­মে এত ভয় কেন?"
"সহ­স্র এজি­দে আমার ভয় নাই, কি­ন্তু-"
" সকল 'কি­ন্তু' কি­ছু নহে। ধর এজি­দের আঘাত!"
"আমি প্র­স্তুত আছি।"
এজি­দ্ মহা­ক্রো­ধে তর­বা­রির আঘাত করিল। ওমর আলী বর্মে উড়াইয়া বলি­লেন, "তুই যদি যথা­র্থই এজি­দ্ তবে তোর আজ পরম ভা­গ্য।"
"আমার সৌ­ভা­গ্য চি­­কাল।"
"তা বটে-কি বলিব ভ্রা­তৃ-আজ্ঞা।"
এজি­দ্ পু­­রায় আঘাত করিল। ওমর আলী সে আঘাত উড়াইয়া দিয়া বলি­লেন, "আর কেন?তো­মার বা­হু­বল, অস্ত্র­বল সক­লই দে­খি­লাম।"
এজি­দ্ মহা­ক্রো­ধে পু­­রায় আঘাত করিল। ওমর আলী সে আঘাত অসি­তে উড়াইয়া দি­লেন।ক্র­মা­গত এজি­দের আঘাত ওমর আলীর আত্ম­­ক্ষা
এজি­দ্ বলিল, "ওহে! তু­মি যদি মো­হা­ম্মদ হা­নি­ফা না হও, তবে যথা­র্থ বল, তু­মি কে?"
"এখন পরিচয়ে প্রয়োজন নাই। তো­মার আর কি ক্ষ­­তা আছে, দে­খাও।"
"ক্ষ­­তা তো দে­খা­ইব; কি­ন্তু দে­খি­বে কে? আমার এক­টু সন্দেহ হই­তে­ছে, তা­হা­তেই বি­­ম্ব!"
"রণ­ক্ষে­ত্রে সন্দেহ কি? হা­তে অস্ত্র থা­কি­তে মু­খে কেন?"
"তো­মার অস্ত্রে ধার আছে কি না, দে­খি­লাম না। কি­ন্তু কথার ধা­রে গায়ে আগুন জ্বা­লিয়া দিয়াছে।"
"বা­­চা­তু­রী ছাড়, এখন আঘাত কর।"
এজি­দ্ ক্র­মে তর­বা­রি, তীর, বর্শা, যা­হা কি­ছু তা­হার আয়ত্ত ছিল আঘাত করিল। কি­ন্তু ওমর আলী সেই অচল পা­ষাণ প্র­তি­মাবৎ দণ্ডায়মান-এজি­দ্ মহা লজ্জিত
এজি­দ্ বলিল, "আমার সন্দেহ ঘু­চিল, তু­মিই মো­হা­ম্মদ হা­নি­ফা। হা­নি­ফা! গত­­ল্য তো­মার যু­দ্ধ দে­খিয়াছি, আজিও দে­খি­লাম। ধন্য তো­মার বা­হু­বল! এত অস্ত্র নি­ক্ষেপ করি­লাম, কি­ছুই করি­তে পা­রি­লাম না।তো­মার সহ্য­গুণ-"
ওমর আলী হা­সিয়া বলি­লেন, "এজি­দ্! তো­মার আর কি ক্ষ­­তা আছে, দে­খাও। অস্ত্র থা­কি­তে আজ আমি নি­­স্ত্র, বল থা­কি­তে দু­র্বল। কি পরি­তাপ! আমার হা­তে পড়িয়া আজ বাঁচিয়া গে­লে।"
"ওরে পা­­ণ্ড! সা­ধ্য থা­কি­তে অসা­ধ্য কি? ভে­কে কি কখ­নো অহি-মস্ত­কে আঘাত করি­তে পা­রে? শৃ­গা­লের কি ক্ষ­­তা যে শা­র্দূলের গায়ে অঙ্গু­লি স্প­র্শ করে? তুই যা­হাই মনে করিয়া থা­কি­স্, নি­শ্চয় জা­নিস, আজ তোর জী­­নের শেষ।"
"কথা­টা মি­ছে বোধ হই­তে­ছে না। তা­হা যা­হা হউক, হয় অস্ত্র­ত্যাগ কর, না হয় পলাও।"
"আমি পলা­ইব! তোর জী­বন শেষ না করিয়া!"
এজি­দ্ পু­­রায় তর­বা­রি আঘাত করিল,-বৃ­থা হইল। পরি­শে­ষে ফাঁস হস্তে তিন চা­রি বার ওমর আলী­কে প্র­­ক্ষিণ করিয়া ওমর আলীর গলায় ফাঁস নি­ক্ষেপ করি­তে লা­গিল, কি­ন্তু ফাঁসি­তে আট্কে কই?ওমর আলী ভ্রা­তার নি­কট প্র­তি­জ্ঞা করিয়াছেন যে, আজ এজি­দের প্র­তি অস্ত্র নি­ক্ষেপ করি­বেন না। এজি­দ্ এখন অস্ত্র ছাড়িল, মল্ল যু­দ্ধ আর­ম্ভ করি­লেই ওমর আলীর মনের সাধ পূর্ণ হয়। তি­নি সেই চি­ন্তায় আছেন, সময় খুঁজি­তে­ছেন-কা­র্যেও তা­হাই ঘটিল
মো­হা­ম্মদ হা­নি­ফা শি­বি­রেই বসিয়া যু­দ্ধের সং­বাদ লই­তে­ছেন মা­ত্র। পর্য­ন্ত কে­হই পরা­স্ত হয় নাই। এজি­দ্ স্বয়ং যু­দ্ধে আসিয়াছে, আর হা­নি­ফা বো­ধে ওমর আলী­কে যথা­সা­ধ্য আক্র­মণ করিয়াছে, এক­থার তত্ত্ব কে­হই সন্ধান করেন নাই হা­নি­ফাও শু­নি­তে পান নাই। এজি­দ্ স্বয়ং যু­দ্ধ­ক্ষে­ত্রে আসি­বে, ইহা কেহ মনে করেন নাই
এজি­দ্ নি­শ্চয় জা­নিয়াছে যে, এই মো­হা­ম্মদ হা­নি­ফা। উভয় ভ্রা­তার আকৃ­তি প্রায় এক; তবে যে প্র­ভেদ, তা­হা জগৎকর্তার সৃ­ষ্টির মহি­মা কৌ­শল! এজি­দ্ এক­দিন মা­ত্র দে­খিয়া সে ভেদ বি­শে­ষরূপে নি­র্ণয় করি­তে পা­রে নাই। আবার পর্য­ন্ত অস্ত্র­নি­ক্ষেপ করিল না, কি কথা? মল্ল­যু­দ্ধ করিয়া বা­ন্ধিয়া ফে­লিব-মল্ল­যু­দ্ধে নি­শ্চয় ধরিব-ইহাই এজি­দের মনের ভাব
উভয়ের মনের আশাই উভয় সফল করি­বেন। প্র­কৃ­তি কা­হার অনুকূল, তা­হা কে বলি­তে পা­রে?উভয় বীর অশ্ব পরি­ত্যাগ করি­লেন,-মল্ল­যু­দ্ধ আর­ম্ভ হইল। বীর-পদ-দল­নে পদ­­­স্থ মৃ­ত্তি­কা স্বা­ভা­বিক ছি­দ্রে অঙ্গ মি­শাইয়া ক্র­মে সরি­তে লা­গিল
মারওয়ান আব­দু­ল্লা­হ্ জেয়াদ্ প্র­ভৃ­তি এই অলৌ­কিক যু­দ্ধে এজি­­কে লি­প্ত দে­খিয়া মহা­বে­গে অশ্ব চা­লা­ইল। হা­নি­ফা­­ক্ষীয় কয়েক­জন যো­দ্ধাও ওমর আলী­কে হঠাৎ মল্ল­যু­দ্ধে রত দে­খিয়া যু­দ্ধ­স্থ­লে উপ­স্থিত হই­লেন
এজি­দ্ কত­বার ওমর আলী­কে ধরি­তে­ছে, ধরিয়া রা­খি­তে পা­রি­তে­ছেন না। ওমর আলীও এজি­­কে ধরি­তে­ছেন, কি­ন্তু স্ব­­শে আনি­তে পা­রি­তে­ছেন না
মো­হা­ম্মদ হা­নি­ফা­­ক্ষীয় বী­­গণ এজি­­কে চি­নিয়া চতু­র্দি­কে অন্ধ­কার দে­খি­তে লা­গি­লেন এবং বু­ঝি­লেন ওমর আলীর মল্ল­যু­দ্ধের কা­রণ। এজি­দের প্র­তি কা­হা­রো অস্ত্র­নি­ক্ষেপ করি­বার অনু­­তি নাই। কা­জেই ওমর আলীরও নি­স্তার নাই। হায়! হায়! একি হইল, মনে মনে এই আন্দো­লন করিয়া মো­হা­ম্মদ হা­নি­ফার নি­কট কথা বলি­তে, কেহ কা­হা­রো অপে­ক্ষা না করিয়া সক­লেই শি­বি­রা­ভি­মু­খে ছু­টি­লেন
এদি­কে এজি­দ্ মল্ল­যু­দ্ধের পেঁচাওবন্দে গ্রী­বা এবং ঊরু সা­­টিয়া ধরিয়াছে। ওমর আলী সে বন্ধন কা­টিয়া এজি­­কে ধরি­লেন। সেই সময় মারওয়ান, জেয়াদ প্র­ভৃ­তি সক­লে ত্র­স্তে অশ্ব হই­তে না­মিয়া মহা­বীর ওমর আলী­কে ধরিল এবং ফাঁস দ্বা­রা তাঁহার হস্ত পদ, গ্রী­বা বাঁধিয়া জয় জয় রব করি­তে করি­তে আপন শি­বি­রা­ভি­মু­খে আসি­তে লা­গিল
মো­হা­ম্মদ হা­নি­ফা এজি­দের সং­বাদ পাইয়া সজ্জিত বে­শে শি­বির হই­তে বহি­র্গত হইয়া দে­খি­লেন, সম­রা­ঙ্গ­ণে জন-প্রা­ণী মা­ত্র নাই। এজি­দের শি­বি­রের নি­কট মহা কো­লা­হল-জয় জয় রব-তু­মুল বা­­না।আর বৃ­থা সাজ-বৃ­থা গমন। ভ্রা­তৃ-আজ্ঞা প্র­তি­পা­লন করি­তে গিয়া আজ ওমর আলী বন্দি
মো­হা­ম্মদ হা­নি­ফা কি করি­বেন, কি­ছুই স্থির করি­তে পা­রি­লেন না। অশ্ব হই­তে অব­­রণ করিয়া মহা চি­ন্তায় বসিয়া পড়িলেন
বি­­ক্ষ­­লে বা­দ্যের তু­ফান উঠিল, দা­মে­স্ক প্রা­ন্তর হর্ষে বি­ষা­দে কাঁপিয়া উঠিল। এজি­দ্দ­লে প্র­­মে কথা-মো­হা­ম্মদ হা­নি­ফা বন্দি শে­ষে সা­ব্য­স্ত হইল, মো­হা­ম্মদ হা­নি­ফা নহে, তাঁহার কনি­ষ্ঠ ভ্রা­তা-নাম ওমর আলী। যা­হা হউক, হা­নি­ফার দক্ষিণ হস্ত ভগ্ম, সি­­হের এক অঙ্গ হীন-এজি­দে­রই জয়
এজি­দ্ আজ্ঞা করিল, "আগা­মী কল্য যু­দ্ধ বন্ধ থা­কি­বে, কা­রণ ওমর আলীর প্রা­­বধ। শত্রু­কে যখন হা­তে পাইয়াছি, তখন ছাড়িব না, নি­শ্চয় প্রা­­­ণ্ড করিব। কি­সে প্রা­­­ণ্ড? তর­বা­রি­তে নহে, অন্য কোন প্র­কা­রে নহে,-শূলে প্রা­­­ণ্ড। হা­নি­ফা দে­খি­বে, তা­হার সৈন্য সা­­ন্ত দে­খি­বে,-প্র­কা­শ্য স্থা­নে শূলে ওমর আলীর প্রা­­বি­নাশ করি­তে হই­বে। এখ­নই ঘো­­ণা করিয়া দাও যে, হা­নি­ফার ভ্রা­তা মহা­রাজ হস্তে বন্দি, আগা­মী কল্য তা­হার প্রা­­বধ।"
মারওয়ান তখ­নই রা­জা­জ্ঞা প্র­তি­পা­­নে প্র­স্তুত হইল। মুহূর্ত মধ্যে যু­দ্ধ­ক্ষে­ত্রে নগ­রে ঘো­­ণা হইল, "মো­হা­ম্মদ হা­নি­ফার কনি­ষ্ঠ ভ্রা­তা ওমর আজ এজি­দের বি­রু­দ্ধে অগ্র­সর হইয়াছিল, রা­­কৌ­­লে সে পা­পী আজ বন্দি। আগা­মী কল্য দা­মে­স্ক নগ­রের পূর্ব­প্রা­ন্ত­রে সমর ক্ষে­ত্রের নি­কট শূলে চড়াইয়া তা­হার প্রা­­বধ করা হই­বে।"
মো­হা­ম্মদ হা­নি­ফার কর্ণেও নি­দা­রুণ ঘো­­ণা প্র­বেশ করিল। শি­বি­­স্থ সক­লেই এই মর্ম­ভে­দী ঘো­­ণায় মহা আকুল হই­লেন। গা­জী রহ­মা­নের বি­শাল মস্তক ঘু­রিয়া গেল, মস্তি­ষ্কের মজ্জা আলোড়িত হইয়া তড়িৎবে­গে চা­লিত হই­তে লা­গিল

⭐ FOR ANY HELP PLEASE JOIN

🔗 MY OTHERS CHANNELS

🔗 FOLLOW ME

🔗 MY WEBSITE

🔗 CALL ME
+8801819515141

🔗 E-MAILL
molakatmagazine@gmail.com

#উপন্যাস
#অনুবাদ
#মোলাকাত
#Molakat
#Novel
#Translation
#BanglaLiterature
#Literature
#সাহিত্য_ম্যাগাজিন
#ওয়েব_ম্যাগাজিন
#বাংলাসাহিত্য
#সাহিত্য
#বিষাধসিন্ধু
#মীর_মশাররফ_হোসেন

No comments

নির্বাচিত লেখা

আফসার নিজাম’র কবিতা

ছায়া ও অশ্বথ বিষয়ক খ-কবিতা এক/ক. সূর্য ডুবে গেলে কবরের ঘুমে যায় অশ্বথ ছায়া একচিলতে রোদের আশায় পরবাসী স্বামীর মতো অপেক্ষার প্রহর কাটায় প্রাচী...

Powered by Blogger.