বাঁশি-পাগলি ।। মাহবুবা খন্দকার : পর্ব-১৩
রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজে ৩য় বর্ষে পড়ছে নিতু। পলিন ছাত্রীবাসের ২য়তলার ১৩নং রুমে থাকে। রুমমেট শিউলি। বাড়ি শিলাইদহ। ঘনিষ্ঠতা উভয়ের মধ্যে খু-উ-ব। আজ গল্প করতে করতে নিতু বলে, তুই তো বহুবার আমাকে শিলাইদহে যেতে বলেছিস্। তোদের ওখানে আমি যাবোই রে। আমার খুব ইচ্ছে রবীন্দ্রনাথের শিলাইদহ দেখার।
- চল এই জানুয়ারিতে যাই।
- ঠিক আছে যাবো, নিতু বললো।
- তাকেও একখানা চিঠি লিখে দে’ নিতু, সেও আমাদের সাথে যাবে।
- কার কথা বলছিস?
- তিনি এখন ইন্টার্নি করছেন। যাওয়ার সময় কই? ছোটবেলায় রবীন্দ্রনাথসম্পর্কে আমার কাছে গল্প করতো। ভালোলাগতো। ইচ্ছে জাগতো শিলাইদহ দেখার।
- এখন ইচ্ছে করে না?
- তা তোদের বাসায় নিমন্ত্রণ পাচ্ছি কবে?
- ইন্টার্নি কমপ্লিট করেই, সে বলেছিল। নিতু বলে।
- তার মানে দেরি নেই, তবুও বিমর্ষ কেন বলতো।
- নারে, থাক। তোকে বলবো একসময়।
- এখনই বলনা।
- ঠিক আছে বলছি। গতমাসে তুই বাড়ি যাবার পরই জিতু এসেছিল এখানে, আমার খালাতো বোন।
- তো কী হয়েছিল, তা-ই বল?
- তার মানে ?
- কী বলছেন আপনি?
- তুমি আমার প্রতীক্ষার ধন, শাহিন বললো
- জিতু কোথায়? আমি ভয়ে ঘাবড়ে গিয়ে জিতুকে খুঁজতে লাগলাম।
- ও বাইরে গেছে, ততক্ষণে--
- আবোলতাবোল কী বলছেন। আমি চলে যাচ্ছি। শাহিন ওর পথআগলে রাখে।
- লক্ষ্মিটি একটু কাছে বসো। তোমার জন্য কতরজনী বিনিদ্রায় অতিক্রান্ত হলো। এমন সময় পাবে না নিতু। শুধু কথা দাও, একটু কাছে এসো।
- কীসের কথা?
- যত পারো বলো।
- ছি! ছি!
- সেতো পথের ছেলে নিতু। তার জাতমান কিছু আছে? আমার বাবার বিরাট বিজনেস। আািম তার একমাত্র ছেলে, বাড়িগাড়ি, ব্যাংক-ব্যালেন্স সবই আমার আছে।
- ওগুলোই কি মানুষের সব?
- লেখাপড়া শিখেছেন সত্যি কিন্তু মানুষ হতে পারেন নি।
- মেয়েরা আর কী চায়?
- আমার হৃদয় আছে, ভালোবাসা আছে।
- মিথ্যেকথা!
- তার আগে তোমাকে শিক্ষা দিয়ে দিই। অহংকার চূর্ণ করে করে দিই আজ।
- তারপর কী হলো? শিউলি জিজ্ঞেস করলো।
- ছুটে এসে ও আমাকে জড়িয়ে ধরে। ওর লোলুপতা যে কত ভয়ংকর, আমার কপালের ক্ষতটাই তা প্রমাণ করে। আর ওই ক্ষতের কথাই তুই জানতে চেয়েছিলি না? আজ শোন, ওর ঘৃন্যছোবলের চিহ্ন এটা। এর মাঝে জিতু এসে পড়লেই সে সরে যায়। একঅজানা আশঙ্কায় আমি তটস্থ হয়েছিলাম। জিতু চলে আসায় আমি রক্ষাপেলাম বটে কিন্তু কপালের ক্ষতটা তৈরি হলো। হৃদয়ের ক্ষত তো আরোও বেশিপ্রখর। সুযোগ পেলে ও হয়ত মাত্রাছাড়িয়ে যেতো।
- এসব নিয়ে ভাবিস্ না, নিতু।
- ভাবছি এই কলঙ্কিত মুখ তাকে কেমন করে দেখাবো। এ চিহ্নটা মুছবো কী দিয়ে। এযে আমার কত কষ্ট শিউলি।
- এড়িয়ে যাস নিতু।
- তাকে আমি মিথ্যে বলতে পারবো নারে।
- ঠিত আছে, লুকোস না! রোহান ভাইকে বলিস সবকথা। সে না তোকে ভালোবাসে।
- তবু মনে মনে আমি অনেক কষ্ট পাই ওে শিউলি।
- তোর তো কোন অপরাধ নেই। সত্যিকার ভালোবাসা এতটুকুতে মলিন হয়না নিতু। প্রিয়জনের শত অপরাধ ক্ষমা হয়ে যায় সত্যিকার ভালোবাসা দিয়ে।
- তাকে বলবো সব। না বলে যে কিছুতেই শান্তি পাবোনা। আমার আজন্ম ভালোবাসায় নীলপদ্ম সযত্নে লালন করেছি যে তার জন্যই, শিউলি।
⭐ FOR ANY HELP PLEASE JOIN
🔗 MY OTHERS CHANNELS
🔗 FOLLOW ME
Facebook: facebook.com/molakat
Facebook: facebook.com/afsarnizam
Instagram: instagram.com/molakat
Instagram: instagram.com/afsarnizam
Twitter: twitter.com/afsarnizam
🔗 MY WEBSITE
🔗 CALL ME
+8801819515141
🔗 E-MAILL
molakatmagazine@gmail.com
#উপন্যাস
#অনুবাদ
#মোলাকাত
#মোলাকাত
#Molakat
#Novel
#Translation
#BanglaLiterature
#Literature
#ওয়েব_ম্যাগাজিন
#বাংলাসাহিত্য
#বাংলাসাহিত্য
#সাহিত্য
#বাঁশিপাগলি
#মাহবুবা_খন্দকার
#মাহবুবা_খন্দকার
No comments