আলিফ লায়লা : আরব্য রজনী_পর্ব-১০১

 
ইংরেজি অনুবাদ : ডঃ জে. সি. মারদ্রুস
বাংলা অনুবাদ : ক্ষিতিশ সরকার
 
কালো ঘোড়ার আশ্চর্য যাদু কাহিনী
 
আবলুস কাঠের এক যাদু-ঘোড়ার কাহিনী শুনুন এবার :
সেকালের পারস্য দেশে এক প্রবল পরাক্রান্ত শাহেনশাহ ছিলেন। তার নাম সাবুর। তাঁর তুল্য অতুল ঐশ্বর্য সে সময় আর কোনও সুলতান বাদশাহরই ছিলো না। শুধু ধনে নয়, জ্ঞানে গুণে গরিমাতেও কেউ তাঁর সমকক্ষ ছিলো না। -রকম উদার মহৎ দানশীল মহামতি শাহেনশাহ বড় একটা দেখা যায় না। তাঁর কাছে হাত পেতে কেউ কখনও বিমুখ হতো না। নিরাশ্রয়কে আশ্রয় দান, আর্তের সেবা তার জীবনের অন্যতম প্রধান ব্রত ছিলো। গরীব, নিরস্ত্র অসহায়ের তিনি একমাত্র সম্বল। তার প্রাসাদের দ্বার সদাই উন্মুক্ত থাকতো তাদের জন্য। কিন্তু উদ্ধত অবিনয়ী, বিদ্রোহীকে তিনি তখনই কান্ত করতেন না। সেখানে তিনি কঠোর, নিৰ্মম, নিষ্ঠুর।
বাদশাহ সাবুরের তিন কন্যা। সকলেই পরম রূপ-লাবণ্যবতী। বেহেস্তের ডানাকাটা পরী বললেও বাড়িয়ে বলা হয় না। যেন রাতের আসমানে একই সঙ্গে তিনটি পূর্ণ চাঁদের হাট। অথবা বলা যায়, গুলবাগিচায় একই বৃন্তে প্রস্ফুটিত তিনটি গুলাব। সবুরের একটি পুত্র-সন্তানও ছিলোকামার আল আকামর-অর্থাৎ চাঁদের মেলায় সব থেকে সেরা এক চাঁদ।
ফি বছর বাদশাহ সাবুর দুবার খুব জাঁকজমক করে উৎসবানুষ্ঠান করতেন। বসন্তকালে যে উৎসবটি করা হতো তার নাম নওরোজ। আর শরৎ কালের নাম মীরগান।
উৎসব-কালে প্রাসাদের সমস্ত ফটক উন্মুক্ত করে দেওয়া হতো। দেশ বিদেশ থেকে হাজার হাজার মানুষ এসে জমায়েৎ হতো প্রাসাদে। বাদশাহের হুকুমে দুহাতে দান ধ্যান করা হতো। পেট ভরে ফলার খাওয়ানো হতো। বাদশাহ খুশি হয়ে কোনও কোনও কয়েদীদের মেয়াদ কমিয়ে দিতেন। কেউ বা একেবারেই খালাস পেত। দরবার এবং দপ্তরের কর্মচারীদের পদোন্নতি হতো। বিশেষ বিশেষ যোগ্যতার জন্য বিভিন্ন শাহীখেতাব বিলি করা হতো। সেনাবাহিনীর মধ্যেও নানা ইনাম পুরস্কার বিতরণ করতেন। তিনি। শাহেনশাহকে অভিনন্দন জানাবার জন্য সারা মুলুক থেকে হাজারো জ্ঞানী গুণী, ধনী নির্ধন আসতো তার কাছে। যারা সওদাগর আমির ওমরাহ জাতেরতারা বাদশাহকে মূল্যবান ধনরত্ন চাকর নফর দাসী-বাদী, খোজা এবং নানারকম বাহারী বস্তু নজরানা দিয়ে যেত।
বসন্ত সময়ে নওরোজ উৎসবে বাদশাহ এক বিদ্যোৎসভার আয়োজন করতেন। বিজ্ঞান, জ্যামিতি এবং জ্যোতির্বিদ্যায় বিশেষ বুৎপত্তি ছিল বাদশাহর।
এইরকম এক বসন্ত-উৎসবের দিনে নানা মুলুক থেকে তিনজন বিখ্যাত বিশারদ এসেছিলো তার কাছে। এবং এদের সকলেই অলৌকিক গুপ্তবিদ্যা এবং নানা কলা-কৌশলের অধিকারী।
তারা তিনজন তিনদেশের মানুষ। তাদের ভাষা আলাদা। একজনের হিন্দি, একজনের রুমি এবং অন্যজনের ভাষা পারসী।
প্রথমে হিন্দী-ভাষী পণ্ডিত কুর্ণিশ জানিয়ে বাদশাহকে বললো, আমি আমার দেশ এবং সম্রাটের পক্ষ থেকে আপনাকে অভিনন্দন জানাচ্ছি, জাঁহাপনা। আপনার আদর-আপ্যায়নে আমি আহ্বাদিত হয়েছি। আপনাকে একটি আশ্চর্য বস্তু উপহার দিতে চাই, শাহেনশাহ।
এই বলে সে বাদশাহ সাবুরের সামনে একটি অভিনব বস্তু স্থাপন করলো। একটি সোনার তৈরি মনুষ্যমূর্তি। বহু দুষ্প্রাপ্য মহামূল্যবান হীরক-খচিত তার সর্বাঙ্গ। হাতে একটা সুবর্ণ-শিঙা!
বাদশাহ প্রশ্ন করলেন, মূর্তিটা কীসের জন্য এনেছেন, পণ্ডিতজী? পণ্ডিতপ্রবর জবাব দিলো, এই মূর্তি এক অলৌকিক দৈব গুণের অধিকারী, জাঁহাপনা। একে যদি আপনি আপনার শহর-প্রান্তের সদর ফটকের মাথায় স্থাপন করেন, তবে এক দক্ষ অতন্দ্রা প্রহরী হয়ে দিবারাত্র আপনার শহর পাহারা দিতে থাকবে। বাইরের কোন শত্রুর ক্ষমতা নাই, যে আপনার শহর আক্রমণ করতে পারবে। দূর প্রান্তরে শত্রুর আবির্ভাবের সঙ্গে সঙ্গে তার হাতের এই শিঙীয় সে মুখ লাগবে। আর তৎক্ষণাৎ গভীর আর্তনাদ করে সমস্ত শহরবাসী, সৈন্য সামন্ত-সকলকে হুশিয়ার করে দেবে। এই শিঙার এমনই গুণ, এর সিংহনিনাদে শত্রুর কলিজা ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যায়। প্রাণভয়ে সেনাবাহিনী ছত্রাকার হয়ে প্রালিয়ে যাবার প্রাণপণ চেষ্টা করে। কিন্তু এর আওয়াজের এমনই যাদু, কেউই পালাতেও পারে না। দেহ অসাড় হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। ভয়ে, আতঙ্কেই তারা অক্কা পায়।
বাদশাহ সাবুর আনন্দে চিৎকার করে ওঠেন, ইয়া আল্লাহ, তাজ্জব কি বাৎ। আপনি যা বললেন, তা যদি সত্যি হয়, পণ্ডিতজী, আপনার কোনও বাসনাই অপূর্ণ রাখবো না আমি।
এরপর রুমি-পণ্ডিত উঠে দাঁড়িয়ে কুর্ণিশ জানালো। শাহেনশাহ মহানুভব, আমি এই রূপোর গামলায় চব্বিশটা সুবৰ্ণ-ময়ুরী পরিবৃত একটি সুবৰ্ণ ময়ুর উপহার দিতে এনেছি আপনাকে।
সাবুর জিজ্ঞেস করেন, দিয়ে কী হবে?
রুমি পণ্ডিত বলে, সারাদিন রাতে এই ময়ুরটা একঘণ্টা অন্তর অন্তর এই ময়ুরীগুলোর সঙ্গে কাম-সংসর্গে মিলিত হবে। দিন-রাতে চব্বিশ ঘণ্টায় চব্বিশটির সঙ্গে সে রতি-রঙ্গ করবে। প্রতিবার রাগমোচনের সময় প্রচণ্ড শব্দে সে পাখা ঝাপটাবে। এবং তা থেকে প্রতি ঘণ্টায় ঘডির সময়-সংকেত বোঝা যাবে। এইভাবে দিনে দিনে যখন মাস ফুরিয়ে যাবে তখন ময়ুরটা মুখ ব্যাদন করবে একবার। আর সঙ্গে সঙ্গে তার মুখ থেকে নিৰ্গত হয়ে আসবে প্রতিপদের একখানা চাঁদ।
বাদশাহ অবাক হয়ে শুনছিলেন এতক্ষণ, এবার বললেন, আপনার কথা যদি সত্যিই ঠিক হয়, পণ্ডিতপ্রবর, তবে আপনারও কোন বাসনা অপূর্ণ রাখবো না আমি।
এবার উঠে দাঁড়ায় পারস্য-পণ্ডিত। বাদশাহকে যথারীতি কুর্ণিশ সৌজন্য দেখিয়ে সে বলতে থাকে, জাঁহাপনা আমি আপনার জন্যে এনেছি। একটি সামান্য ঘোড়া। তাও আবার জ্যান্তি নয়। কাঠের তৈরি একটা খেলনা বলতে পারেন।
এই বলে পারস্য-পণ্ডিত বাদশাহের সম্মুখে কৃষ্ণবৰ্ণ আবলুস কাঠের একটি ঘোড়া দাঁড় করিয়ে দিলো।
দুষ্প্রাপ্য আবলুস কাঠের তৈরি এই কালো ঘোড়াটি এক অলৌকিক দৈবশক্তি-সম্পন্ন।
বাদশাহ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে থাকলেন, অতি মূল্যবাদন মণিমুক্তা হীরেজহরতে খচিত জীনলাগামে সুসজ্জিত ঘোড়াটা দেখতে বড়ই বাহারী, চমৎকার! দেখতে দেখতে ভুলে যেতে হয়, জানোয়ারটা প্রাণহীন একটা কাঠের পুতুল মাত্র।
পারস্য-পণ্ডিত বলতে থাকে, এমনি আশ্চর্য ব্যাপার, ঘোড়াটার ওপর চেপে বসলে সোওয়ারকে নিয়ে সে ওপরে শূন্যে উঠে যায়। তারপর তার ইচ্ছা মতো বায়ুবেগে উড়ে চলে। একটা জ্যান্ত ঘোড়ার এক বছরের পথ একলহমায় অতিক্রম করে যেতে পারে সে।
একদিনে একই সময়ে রকম তিনটি পরমাশ্চর্য বস্তুর সন্ধান পেয়ে বাদশাহ সাবুর বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যান। কিছুক্ষণ তাঁর মুখে কথা সরে না। তারপর নিজেকে ধাতস্থ করে নিয়ে আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে ওঠেন।
এমন অবিশ্বাস্য ব্যাপার যে সত্যি সত্যিই ঘটতে পারে। আমি এখন ভাবতেই পারছি না। যাই হোক, যা আপনি বললেন তা যদি সত্যিই ঘটাতে পারেন, যা চাইবেন তাই আপনাকে দেব আমি।
তিনদিন ধরে এই তিনটি অলৌকিক বস্তুর প্রত্যক্ষ পরীক্ষা নিলেন তিনি। সোনার মূর্তি শিঙে ফুকলো। সোনার ময়ুর প্রতি ঘণ্টায় ময়ূরী সহবাস করে সময় নির্দেশ করলো। এবং সব শেষে পারস্য-পণ্ডিত তার আবলুস কাঠের ঘোড়ায় চেপে শো-শোঁ করে শূন্যে উঠে গিয়ে বিদ্যুৎগতিতে এক বিশাল বৃত্ত পথপ্রদক্ষিণ করে আবার যথা নির্দিষ্ট স্থানে এসে অবতরণ করলো।
এই সময় রাতের আঁধার সরে যেতে থাকে। শাহরাজাদ গল্প থামিয়ে চুপ করে বসে রইলো।
চারশো ষোলতম রজনী সমাগত আবার সে বলতে থাকে :
তিন পণ্ডিতের এই অলৌকিক বিদ্যা দেখে বাদশাহ সাবুর একেবারে স্তব্ধ হয়ে গেলেন। আনন্দ শিহরণে তার সর্বাঙ্গ কাপতে থাকে। নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেন না। তিনি। মাটিতে গড়িয়ে পড়েন।
কিছুক্ষণ পরে নিজেকে সংযত করে নিয়ে পণ্ডিতপ্রবরাদের জিজ্ঞেস করেন তিনি, আপনাদের অপার দৈব ক্ষমতা দেখে আমি মুগ্ধ! এখন বলুন, আপনারা কী চান? আমি আপনাদের সব বাসনা পুরণ করবো।
তিনজনে সমবেতভাবে জানালো, বাদশাহ আমাদের ওপর সস্তুষ্ট হয়েছেন জেনে বড় আহ্লাদ হচ্ছে। আমাদের মনোবাঞ্ছা পূৰ্ণ করতে চান তিনি। আমরা তিনজনেই এক বস্তুর প্রার্থী। বাদশাহ তিন কন্যার পিতা। আমরা তিনজনে তার এই কন্যাদের পাণি-প্রার্থনা করছি। আমরা তার জামাতা হতে চাই।
আপনাদের শাদী দিয়ে দিচ্ছি। এবং এক্ষুণি। শুভ কাজে দেরি করতে নাই।
তখুনি কাজীকে ডাকা লো। কিছুক্ষণের মধ্যেই সাক্ষীসাবুদ সঙ্গে নিয়ে হাজির হলো সে। সঙ্গে সঙ্গেই শাদীনামা বানানো হলো।
পর্দার ওপাশে বসেছিলো তিনকন্যা। আর এপাশে বাদশাহ কাজী এবং তিন পণ্ডিত! পর্দার আড়ালে বসে মেয়েরা তাদের স্ব স্ব হবু স্বামীকে নিরীক্ষণ করতে থাকলো।
সবচেয়ে ছোট কন্যার বরাতে জুটেছে লোলচর্ম পঙ্কিত কেশ এক বৃদ্ধ। বয়সের গাছপাথর নাই তার। কম করে হলে একশ বছর হবে। মাথাটা বলতে গেলে একরকম ন্যাড়াই। পিছনের ঘেরে দু-চার গাছি সাদা রোঁয়া এখনও লেগে লেগে আছে। ভু দুটো একেবারে চাছা মোছা। ইয়া বড় বড় গাধার মতো তার কান। কিন্তু এই বুড়ো হাড়েও শখ মরেনি, দাঁড়ি গোঁফ কুচকুচে কালো রঙে রঙ করে এক অদ্ভুত সঙ সেজেছে। একেবারে বেমানান বিশ্ৰী লাগছে। তার ঘোলাটে চোখে ছানির পর্দা, নাকটা থ্যাবড়া, কপাল বলিরেখায় কণ্টকিত। জরায় বার্ধক্যে মুখের চামড়া কুঁচকে এক অদ্ভুত আকার ধারণ করেছে। বুনো শুয়োরের মতো দাতালো দাঁত। নিচের ঠোঁটটা অস্বাভাবিক ভাবে ঝুলে পড়েছে। মনে হয়, ঠিক যেন উটের অণ্ডকোষ! এক কথায় বলতে গেলে এই বৃদ্ধ পণ্ডিত এক মূর্তিমান আতঙ্ক বিশেষ। হত। কুৎসিত বীভৎস-দর্শন একটা দানবের হতশ্ৰী তার সর্বাঙ্গে।
কিন্তু অন্যদিকে ছোট কন্যার রূপলাবণ্যের কোনও তুলনা হয় না। তার মতো পরমাসুন্দরী সারা আরব দুনিয়ায় একশো বছরের মধ্যে কেউ জন্মায়নি। শুধু কি দেখতেই সে নিখুঁত সুন্দরী; তার মতো কোমল স্বভাবের কন্যাই বা কটা মেলে। হরিণীর মতো চঞ্চল সে, ঝরণার মতো উচ্ছল। তার রূপে মুগ্ধ হয়ে সন্ধ্যাসমীরণ তার পায়ে মাথা কুটে। আসমানের চাঁদ সালাম জানায়। তরুশাখা আন্দোলিত করে আলিঙ্গন জানাতে চায়। বাগিচার ফুল বলে; ধন্য আমরা শাহজাদী, তোমার স্পর্শ পেয়ে আমাদের ফুটে ওঠা সার্থক হয়।
ছোট কন্যা যখন তার হবু বরকে প্রত্যক্ষ করলো, নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলো না কিছুতেই। ছুটে গিয়ে বিছানায় লুটিয়ে পড়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে থাকলো।
বোনের এই অবস্থা দেখে তার ভাই কামার আল আকমর সস্নেহে জিজ্ঞেস করে, কী হয়েছে বোন, কেঁদেছিস কেন?
-কী হয়েছে, কী হতে চলেছে, কিছুই কী জান না, বড় ভাই?
কামার আল বলে, না বোন, কিছুই জানি না আমি। একটা দিন শিকারের সন্ধানে প্রাসাদের বাইরে ছিলাম। কিন্তু এর মধ্যেই এমন কী ব্যাপার ঘটতে পারে? তোর চোখে পানি? এতো আমি স্বপ্নেও ভাবতে পারি না, বোন? কিছুই বুঝতে পারছি না। আর দেরি না করে চটপট সব খুলে বলো, দেখি!
সবই বলবো, বড় ভাই। তোমার কাছে লুকোবার আমার কী আছে? কিন্তু একটা কথা জেনে রাখো, এত বড় অন্যায় আমি কিছুতেই মেনে নেবো না। তোমার বাবা, নিশ্চিতভাবেই ক্ৰোধে ফেটে পড়বেন আমার এই ব্যবহারে। কিন্তু দাদা, এভাবে আমার এই জীবন-যৌবন ব্যর্থ হতে দিতে পারি না আমি। তোমার বাবার খামখেয়ালের পুতুল নই আমি। তিনি আমার জিন্দগীটা বরবাদ করে দেবেন, আর আমি তা মুখ বুজে সহ্য করবোসে কিছুতেই হয় না-হতে পারে না। তোমার বাবার খপ্পর থেকে পালিয়ে যাবোযাবোই। কেউ জানবে না, আমি এই ঐশ্বৰ্য-সুখের প্রাসাদপুরী থেকে চুপিসারে পালিয়ে যাবো। এবং এও জেনে রাখো, দাদা, একেবারে শূন্য হাতে বেরিয়ে যাবো আমি। প্রাসাদের কোনও ধনদৌলত সঙ্গে নেব না। কামার অল অধৈর্য হয়ে প্রশ্ন করে, কিন্তু কী, ব্যাপার কী? কিছুই তো আমি বুঝতে পারছি না, বোন! খুলে বল আগে শুনি। হঠাৎ এতো উত্তেজিত হয়ে পড়লে কেন?
ছোট বোন ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে বলতে থাকে, তুমি আমার একমাত্র ভাই, তোমার কাছে কিছুই গোপন করবো না, দাদা। বাবা আমাকে একশো বছরের এক বুড়ো পণ্ডিতের সঙ্গে শাদী দেবেন। তিনি নাকি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। কিন্তু আমার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলবেন তিনি, আমি কিছুতেই সহ্য করবো না।
কামার অল অবাক হয়, কিন্তু হঠাৎ বুড়ো পণ্ডিতকে কথাই বা দিতে গেলেন কেন শাহেনশাহ?
সেই পারস্য পণ্ডিত বাবাকে যাদু করেছে। একটা কাঠের ঘোড়া এনে বাবাকে সে বললো, এর পিঠে চেপে বসলে সোয়ারকে নিয়ে সে আসমানে উঠে গিয়ে সহস্ব যোজন পথ নিমেষে অতিক্রম করে যেতে পারবে।
পণ্ডিতের কথা শুনে বাবা বলেছিলেন, যদি সত্যিই তা হয়, তবে যা সে চাইবে তাই তিনি দেবেন। তাকে। কি আশ্চৰ্য্য, পণ্ডিতের কী ভেল্কিবাজী, ঘোড়াটা সত্যি সত্যিই তাকে নিয়ে মহাশূন্যে উঠে বিশাল বিস্তুত বৃত্তপথে কয়েকবার পাক দিয়ে আবার এসে নেমে পড়লো!
বাবা জিজ্ঞেস করলেন, কী চাই।
পণ্ডিত আমাকে শাদী করতে চাইলো। বাবা, সঙ্গে সঙ্গেই রাজি হয়ে গেলেন। তোমাকে কি বলবো বড় ভাই, লোকটা কি কুৎসিত কদাকার, একটা বুড়ো-হাবড়া। তুমি নিজে চোখে একবার তাকে দেখে এসো, তা হলেই সব বুঝতে পারবে।
কামার আল সান্ত্বনা দেয়, অধৈর্য হয়ে না, বোন। সব ঠিক হয়ে যাবে। আমি এখনি বাবার সঙ্গে দেখা করছি।
ভাই-এর কথা শুনে ছোট বোন কিছুটা আশ্বস্ত হয়। কামার আল বাবার কাছে গিয়ে বলে আব্বাজান, এসব কী শুনছি? আপনি নাকি একটা যাদুকরের ভেন্ধীতে ভুলে ছোটকে তার সঙ্গে শাদী দেবেন, কথা দিয়েছেন? এমন কী অলৌকিক বস্তু সে আপনাকে উপহার দিয়েছে, যার জন্যে আপনি আমার বোনের জীবনটা বরবাদ করে দিতে উদ্যত হয়েছেন? আপনার ভীষণ অন্যায়, বাবা। ব্যাপার কিছুতেই ঘটতে দেওয়া যেতে পারে না।
পারস্য-পণ্ডিত পাশেই ছিলো। কামার অলের সব কথাই সে শুনতে পেল। প্রচণ্ড ক্ৰোধে সে ফেটে পড়তে চাইলো।
বাদশাহ সাবুর বললেন, কামার অল, তুমি তো সেই অলৌকিক ঘোড়ার দৈব ক্ষমতা দেখনি। একবার যদি নিজের চোখে দেখ, তা হলে বুঝতে পারবে, কী মহামূল্যবান বস্তু তিনি আমাকে উপহার দিয়েছেন। তার বদলে আমার কাছে সামান্যই চেয়েছেন তিনি।
এই সময়ে রাত্রি প্রভাত হয়ে আসে। শাহরাজাদ গল্প থামিয়ে চুপ করে বসে থাকে।
চারশো সতেরতম রজনীতে আবার গল্প শুরু হয় :
বাদশাহ সাবুর পুত্রকে সঙ্গে নিয়ে প্রাসাদ প্রাঙ্গণে আসেন। ক্রীতদাসদের হুকুম করেন, ঘোড়াটা বাইরে বের করে নিয়ে আসতে।
কালো কাঠের ঘোড়াটাকে দেখে শাহজাদা মুগ্ধ বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকে। এমন সুন্দর গড়ন সে খুব কমই দেখেছে। কামার অল দুর্ধর্ষ ঘোড়সোয়ার, পলকে সে ঘোড়াটার পিঠে লাফিয়ে উঠে বসে। লাগামে বঁটাকনি দেয়। কিন্তু কাঠের ঘোড়াটা নড়ে না। খেলনার মতোই দাঁড়িয়ে থাকে। বাদশাহ পণ্ডিতকে বলে, কী ব্যাপার, নড়ে না কেন? নিশ্চল পুতুলের মতোই দাঁড়িয়ে রইলো কেন? আমার ছেলের মনের দ্বন্দ্ব ঘুচিয়ে দিন, পণ্ডিতপ্রবর। তা না হলে যে তার কাছে মিথ্যোবাদী হয়ে যাবো আমি।
পারস্য পণ্ডিত কামার অলের কথায় রুষ্ট হয়ে ছিলো। তার কারণ বাদশাহ কন্যার সঙ্গে তার শাদীতে সে বাধ সোধেছে। গভীর কণ্ঠে সে কামার অলকে বললো, জীনের ডান পাশে একটা সোনার বোতাম দেখছেন? ওটাই আসল চাবি কাঠি। টিপে ধরুন, দেখবেন ঘোড়া ওপরে উঠতে শুরু করেছে
কামার অল তৎক্ষণাৎ সেই সোনার বোতামে মোচড় দিতেই শো শো শব্দ করে মহাশূন্যে উঠে যায় ঘোড়াটা। আসমানের দিকে তাকিয়ে দেখে সকলে, ঘোড়ার আকার ক্রমশই ক্ষুদ্র হতে ক্ষুদ্রতর এক বিন্দুর মতো হয়ে পলকের মধ্যে দৃষ্টিপথের ওপরে চলে গেলো।
কয়েক ঘণ্টা কেটে গেলো। বাদশাহ উৎকণ্ঠিত হয়ে প্রতীক্ষা করতে থাকে। কিন্তু কামার অল ফিরে আসে না। ভয়ার্ত দৃষ্টি মেলে সে পণ্ডিতের দিকে তাকায়, এখন কী উপায় পণ্ডিতপ্রবর, কী করে তাকে নামিয়ে আনা যায়?
পণ্ডিত বলে, জাঁহাপনা, আমার করার কিছুই নাই। আপনার পুত্রকে আর ফিরে পাওয়ার কোনও সম্ভাবনাই দেখতে পাচ্ছি না আমি। একমাত্র শেষ বিচারের দিনেই তার সঙ্গে দেখা হতে পারবে।
বাদশাহ আর্তনাদ করে ওঠেন, সে কি?
পণ্ডিত বলে, জীনের বা পাশে আর একটা সোনার বোতাম আছে। সেটা টিপে নিচে নেমে আসা যায়। কিন্তু আপনার পুত্র আমার সব কথা শোনার আগেই সে ডান পাশের বোতাম টিপে ওপরে উঠে গেলো। আমি কী করবো বলুন জাঁহাপনা? আমার কী গোস্তাকি?
বাদশাহ ক্ৰোধে জ্বলে উঠলেন। নিগ্রো নফরদের ডেকে হুকুম দিলেন এই পারসী বদমাইশটাকে বেদম প্রহার করে অন্ধকার কারাগারে কয়েদ করে রেখে দাও।
তারপর পুত্রশোকে বাদশাহ বুক চাপড়াতে লাগলেন। বাদশাহী সাজপোশাক ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলতে থাকলেন। মাথার মুকুট খুলে ফেললেন। দাঁড়ি গোঁফ ছিঁড়তে লাগালেন। প্রাসাদে প্রবেশ করে সমস্ত দরজা জানালা রুদ্ধ করে দিলেন। মেজেয় পড়ে হাত পা ছুঁড়ে গোঙতে লাগলেন। বেগম সাহেবাও তার পুত্রশোকে কেঁদে কেঁদে সারা হতে থাকলেন। কান্নায় ভেঙে পড়ে তিন কন্যা, উজির, আমির, আমলা দাস দাসী নফর চাকর বাঁদী সকলেই। সারা শহরে উঠলো কান্নার, গগন-বিদারী আর্তনাদ। এমন যে আনন্দ উৎসবের হাট, পলকে প্রলয়কাণ্ড ঘটে গেলো। সারা প্রাসাদে সারা শহরে নেমে এলো হতাশা, শোক দুঃখ তাপের এক কালো ছায়া।
শাহাজাদাকে পিঠে নিয়ে ঘোড়াটা ঊর্ধ্বলোকে একটানা উঠে যেতে থাকে। কোনও দিকেই তার গতি ফেরানো যায় না। এইভাবে উঠতে উঠতে সে এক সময় সূর্যের কাছাকাছি এসে পড়ে। কামার অল বুঝতে পারে, মৃত্যু অবধারিত, কিছুক্ষণের মধ্যেই সূর্যের দাবিদাহে সে দগ্ধ হয়ে যাবে। সেই ভয়াবহ অবশ্যম্ভাবী মৃত্যুর মুখোমুখি এসে পড়েছে সে। এই তো মউৎ এড়াবার কোনও পথ নাই। কামার অল ভাবে, পণ্ডিত তার উপর উপযুক্ত প্রতিশোধ নিতে পেরেছে। তার বাড়াভাতে ছাই দিতে গিয়েছিলাম আমি। তারই উচিত পুরস্কার সে আমাকে দিয়েছে। লোকটা মহা শয়তান। আমারই উচিত হয়নি, তার এই যাদুযান্ত্রে চেপে বসা। কিন্তু সে-সব কথা এমন ভেবে কী লাভ? কী করে এখন নিজেকে বাঁচানো যায়? একমাত্র আল্লাহ ছাড়া সঙ্কট থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার কোনও উপায় নাই।
হঠাৎ কামার অল-এর মাথায় এক প্রশ্ন জাগে? আচ্ছা, ওপরে ওঠার জন্য যেমন এই বোতাম নিচে নামার জন্যও তো তেমনি কিছু একটা থাকবে? তা না হলে পণ্ডিতই বা নেমেছিলো কী করে?
আতি-পাতি করে এপাশ পাশ হাতড়াতে থাকে। সে। হাতড়াতে হাতড়াতে এক সময় জীনের বাঁ পাশে এক জায়গায় আর একটা ছোট্ট বোতাম তার হাতে ঠেকে। খুবই ছোট্টএকটা আলপিনের মাথার টুপির মতো প্ৰায়। আল্লাহর নাম নিয়ে সেই বোতামটায়। সে চাপ দেয়। আর কী আশ্চর্য, তৎক্ষণাৎ ঘোড়ার উর্ধ্বগতি রুদ্ধ হয়ে আসে। ঘোড়াটা এক পলকের জন্য, সেই নিঃসীম মহাশূন্যে অনড় অচল হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে। তারপর আবার শো-শোঁ করে নিচের দিকে নামতে থাকে। যেমন তীরবেগে উঠেছিলো, তেমনি তীরবেগেই নামতে থাকলো। এইভাবে নামতে নামতে সে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পৃথিবীর পরিধির মধ্যে এসে পড়ে। তারপর যতই মাটির নিকটবতী হতে থাকে গতি ক্বমশঃ হ্রাস পায়। এবং মাটির তলদেশ স্পর্শ করার সময় এক চুল ঝাকানিও লাগে না তার।
কামার আল জামান আল্লাহকে ধন্যবাদ জানায়। তারই অপার মহিমায় আজ তার জীবন রক্ষা পেলো। এতক্ষণে সে ঘোড়ার কলকন্তুজার হদিশ পেয়ে গেছে। কী ভাবে উপরে নিচে ওঠা নামা করা যায় তা তার জানা হয়ে গিয়েছিলো। এবারে সে সামনে পিছনে চালাবার চাবিকাঠির সন্ধান পেয়ে গেলো। নিচে নেমে আসার একটু পরেই সে আবার উঠে গেলো। আর একটা চাবি টিপে সামনের দিকে এবং অন্য আর একটা চাবি টিপে পিছনের দিকে ইচ্ছা মতো চালনা করে সব ব্যাপারটা রপ্ত করে ফেললো।
এইভাবে সে বহু নদী সমুদ্র গিরিপর্বত অতিক্রম করে নানা সুন্দর সুন্দর দেশ পরিভ্রমণ করতে থাকলো।
রাত্রি প্রভাত হয়ে আসে। শাহরাজাদ গল্প থামিয়ে চুপ করে বসে থাকে।
চারশো আঠারোতম রজনী। আবার সে বলতে থাকে :
চলতে চলতে এক সময় সে এক সুন্দর সাজানো গোছানো শহরের ওপর এসে পড়ে। বড় মনোরম সেই শহরের শোভা। কামার অল ভাবলো, এইখানে সে নামবে। শহরটির মাথার ওপরে বারিকয়েক চক্কর দিলো সে। তারপর একটা পছন্দসই জায়গা দেখে আস্তে আস্তে নামতে থাকে।
সূর্য তখন পাটে বসেছে। দিনের আলো নিভে আসছে। প্রায় গোধূলি লগ্ন। শহরটার শোভা দেখে মন প্ৰাণ জুড়িয়ে যায় কামার অলের। মনে মনে ভাবে, সেদিনের রাতটা সে সেই শহরেই কাটাবে। কাল সকালে সে ফিরে যাবে নিজের মুলুকে, নিজের শহরে। বাবা, মা, বোনদের সে শোনাবে তার বিচিত্র অভিযানের অদ্ভুত এই কাহিনী।
মাটির কাছাকাছি আসতে সে দেখলো, একটা প্রাসাদের ঠিক ওপরে এসে গেছে তার ঘোড়া। যদি আর কোনও ভাবে না চালায় তবে সে বিশাল ইমারতের ছাদে গিয়ে নামবে।
প্রাসাদটা শহরের ঠিক মাঝখানে। তার চুড়ায় চল্লিশজন সশস্ত্র নিগ্রো প্রহরী পাহারা দিচ্ছে। তাদের সকলের হাতেই উন্মুক্ত তরোয়াল, কাঁধে তীর ধনুক, বর্শা।
শাহজাদা কামার অল আকমর ছাদের এক প্রান্তে এসে নামলো। তখন সবে অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে। শাহজাদা ছাদের ওপরে ঘোড়ার পিঠে চুপচাপ বসে রইলো অনেকক্ষণ। রাত্রি আরও গম্ভীর হলো। সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়লো তখন সে ঘোড়ায় পিঠ থেকে ছাদের ওপরে নেমে পড়লো।
সারাটা দিন কিছু পেটে পড়েনি। ক্ষিদেয় পেট চো চো করছে। কিন্তু কীই বা উপায়? পিপাসাতেও গলা শুকিয়ে কাঠ। পানিই বা কোথায় পাবে সে?
অবশেষে মরিয়া হয়ে ছাদের সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে থাকে। নামতে নামতে একেবারে নিচে প্ৰাসাদ প্রাঙ্গণে নেমে আসে। কিন্তু কী আশ্চর্য এত বড় প্রাসাদে কোনও জন-মানবের অস্তিত্ব বুঝতে পারে না সে। মনে হয়, একেবারে পরিত্যক্ত পুরী।
এদিক ওদিক বেশ ভালো করে খুঁজে পেতে দেখে সে। কিন্তু না; কোথাও কেউ নাই। কামার অল ভাবে, আবার সে ছাদেই ফিরে যাবে। আজকের রাতটা কোনরকেমে ছাদেই শুয়ে সে কাটাবে। তারপর সকাল হতে না হতে নিজের শহরে ফিরে যাবে।
এই ভেবে সিঁড়ির দিকে আবার ফিরে আসতে থাকে সে, হঠাৎ একটা ক্ষীণ আলোর রোশনাই এসে লাগলো তার চোখে। লক্ষ্য করে বুঝতে পারলো, প্রাসাদের একবারে অন্তরপ্রদেশ থেকে আসছে সেই আলোর রশ্মি।
আলোর নিশানা ধরে পায়ে পায়ে সে এগিয়ে আসতে থাকে প্রাসাদের অন্দরমহলে। একেবারে হারেমের দরজার সামনে। সেখানে একটা খাটিয়ায় শুয়েছিলো একটা নিগ্রো খোজা। প্রচণ্ড নাসিকা গর্জন তুলে সে ঘুমোচ্ছে। তার মাথার কাছে রাখা একটা চিরাগ। এই বাতির আলোর নিশানা ধরেই আসতে পেরেছে সে।
দরজাটাকে আড়াআডি করে এমন ভাবে তার বিশাল লাশটা পড়ে আছে কার বাপের সাধি, ডিঙিয়ে কেউ ঘরের ভিতরে ঢুকতে পারে। পাশে একখানা খাড়ার মতো প্রকাণ্ড তলোয়ার-একেবারে খোলা। এবং মাথার ওপরে থামের আংটায় ঝুলানো একটা সিকেয় তার কিছু খাবার।
দৈত্যের মতো বিশাল বাপু নিগ্রোটাকে দেখে কামার অলের বুক কাঁপতে থাকে। ওরে বাস, একেবারে সাক্ষাৎ দোজকের দূত। হায় আল্লাহ, কোথায় নিয়ে এলে আমাকে? তোমার দোয়াতে একবার নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রেহাই পেয়েছি। কিন্তু এবার বোধহয় বেঘোরেই প্ৰাণটা হারাতে হবে। কিন্তু খিদেয়। আমার পেট জ্বলছে, চোখের সামনে এইসব দাবার দেখে চুপ করেই বা থাকি কি করে। নসীবে যা থাকে হবে, খাবারের সিকেটা খুলে নিয়ে যেতেই হবে আমাকে।
অতি সন্তৰ্পণে সে সিকেটা খুলে নিয়ে আবার পা টিপে টিপে বেরিয়ে আসে। নানা রকম মুখরোচক খাবার-দাবারে ঠাসা ছিলো সিকেটা। চলতে চলতেই সে একটু একটু করে মুখে পুরতে থাকে। কী সুন্দর স্বাদ! প্রাসাদ প্রাঙ্গণের একপাশে একটা ফোয়ারা দেখতে পেয়ে সে-দিকে এগিয়ে যায়। খাবারগুলো সব খেয়েদেয়ে ফোয়ারার কাছে এসে প্রাণভরে পানি খায়। তারপর আবার ফিরে আসে খোঁজটার পাশে। খুব সাবধানে যথাস্থানে টাঙিয়ে রাখে। সিকেটা, এবং আলতোভাবে তলোয়ারখানা তুলে নিয়ে পা টিপে টিপে আবার বেরিয়ে আসে। খোজাটা তখনও দৈত্যের মতো পড়ে পড়ে নাক ডাকতে থাকে।
শাহরাজাদ দেখলো রাত শেষ হয়ে আসছে। গল্প থামিয়ে সে চুপ করে বসে রইলো।
চারশে ঊনিশতম রজনী:
শাহরাজাদ বলতে থাকে :
চলতে চলতে সে এক সময় আর একটা দরজার সামনে এসে দাঁড়ায়। দরজার সামনে একটা মখমলের পর্দা ঝুলছিলো। পর্দটা তুলে ভিতরে ঢুকতে দেখলো, একটা প্রশস্ত শয্যাকক্ষ। মাঝখানে একটা শশাঙ্ক শুভ্ব নয়নাভিরাম হাতীর দাঁতের পালঙ্ক। হীরে চুনী পান্না মুক্তো বসানো। চারটি ডাগর-ডাসা মেয়ে মেজেয় শুয়ে ঘুমে অচেতন। কামার অল পায়ে পায়ে পালঙ্কের পাশে এসে দাঁড়ায়। উদ্দেশ্যশয্যাশায়িনীকে দেখা।
নব-যৌবন-উদ্ভিন্না অসামান্যা রূপলাবণ্যবতী এক কণক কন্যা আলুলায়িত কেশে সারা মুখ আবৃত, গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। সকাল বেলা সূর্য ওঠার কালে পূর্ব দিগন্ত যে অবর্ণনীয় রূপচ্ছোটায় উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে। সেই আলোকসামান্য রূপের জেল্লা তার সর্বাঙ্গে।
কামার আল আকামর-এর সারা দেহে শিহরণ খেলে যায়। এমন সুন্দর মেয়ে সে এই প্রথম দেখলো। ধীরে মুখটা নামিয়ে এনে সে মেয়েটির গালে আলতোভাবে একটি চুম্বন একে দেয়।
সঙ্গে সঙ্গে ঘুম ভেঙ্গে যায় তার। চোখ মেলে তাকায়। হরিণীর মতো কাজল-কালো টানাটানা চোখে এক নিদারুণ বিস্ময় ফুটে ওঠে।
কে তুমি? কেন এসেছ, কতক্ষণ এসেছ, কেমন করে ঢুকেছ এখানে?
এক সঙ্গে এক রাশ প্রশ্ন। কোনটার জবাব দেবে কামার আল?আমি তোমার বান্দা।
কে তোমাকে নিয়ে এলো এখানে?
কামার অল বলে, খোদা, আমার নসীব, আমার সৌভাগ্য।
তরুণীর নাম সামস অল নাহার। খুব সহজভাবেই সে প্রশ্ন করে, তুমি কী হিন্দুস্থানের কোনও বাদশাহজাদা? গতকাল সে আমার বাবার কাছে এসে আমাকে শাদী করার প্রস্তাব করেছিলো। কিন্তু আমার বাবা তাকে জামাতা করতে রাজী হন নি?
কামার অল জানতে চায়, কেন?
সে নাকি দেখতে ভীষণ বিশ্ৰী ছিলো, তাই। কিন্তু তোমাকে দেখে কুশ্ৰী বলবে কে? তোমার মন-ভোলানো রূপের বাহারে আমি তো প্রথম দর্শনেই মোহিত হয়ে গেছি।
সামস অল নাহারের মুখে নিজের রূপের প্রশংসা শুনে কামার অলের মন খুশিতে ভরে যায়। মুগ্ধ হয়ে অপলকভাবে দেখতে থাকে। ওকে। সামস অল দুহাত বাড়িয়ে কামার অলকে কাছে টেনে নেয়। তারপর দুজনে দুজনের বাহু বন্ধনে বাধা পড়ে থাকে অনেকক্ষণ। দেহ দিয়ে দেহের সুধা পান করার এক অপোর আনন্দে অধীর হয়ে ওঠে। ওরা।
তারপর রাত্ৰি গভীরতর হতে থাকে। কামনার আগুনও জ্বলে ওঠে ওদের দেহে। নানারকম আদর সোহাগ চুম্বনে মেতে ওঠে। ওরা। হঠাৎ একসময় মেজেয় শোয়া একটি দাসীর ঘুম ভেঙ্গে যায়। অবাক চোখে তাকায় সে। তাদের শাহজাদীর শয্যায় অচেনা অজানা এক নওজোয়ানকে দেখে আঁৎকে ওঠে, আপনার পাশে কে, শাহজাদী?
সামস অল বলে, আমি জানি না। ঘুম ভেঙ্গে দেখি আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে এ। প্রথমে মনে হয়েছিলো, কাল বাবা যে শাহজাদাকে প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছিলেন, বুঝি সে। কিন্তু ওর সঙ্গে কথা বলে জানলাম, না, তা নয়।
দাসীটা বলে, না না, সে হতে যাবে কেন? সে তো হত-কুৎসিত কদাকার ছিলো দেখতে। আমি নিজে চোখে তাকে দেখেছি। আর এর তো চাঁদের মতো সুরৎ। মনে হয় কোনও এক বাদশাহর ছেলে। কাল যে আপনাকে শাদী করার জন্য এসেছিলো। সে আপনার নফর। চাকর বান্দা হওয়ার যোগ্য নয়।
এরপর দাসীটা খোজাঁটার কাছে গিয়ে জাগালো তাকে।
খুব তো নাক ডাকিয়ে ঘুমাচ্ছে। এদিকে যে সর্বনাশ হয়ে গেলো! এবার তোমার গর্দান যাবে।
খোঁজটা ধড়মড় করে উঠে বসে, এ্যাঁ! কী হয়েছে?
কী হয়েছে? কী হয়নি, তাই বলে! তুমি আছো হারেমের পাহারায়। অথচ নাক ডাকিয়ে সারারাত ঘুমাও! তোমার নাকের ডগা দিয়ে শাহজাদীর ঘরে ঢুকেছে এক শাহজাদা, সে খবর রাখা কী?
খোজাটা ঘোঁৎ ঘোঁৎ করে একটা আওয়াজ তোলে? আঁ, কী বললে? শাহজাদীর ঘরে ঢুকেছে পরী-পুরুষ?
তড়াক করে সে লাফিয়ে দাঁড়ায়। তলোয়ারখানা হাতে নিতে যায়। কিন্তু একি! কোথায় গেলো তার তলোয়ার? খালি খাপখানা দাঁড়িয়ে আছে দেওয়ালে? এবার সে আতঙ্কে শিউরে ওঠে। থর থর করে কাঁপতে থাকে সারা শরীর। দিশাহারা হয়ে ছুটে আসে। শাহজাদীর ঘরে। কামার অল তখনও শাহজাদীর বাহুপাশে আবদ্ধ মধুর আলাপ রত।
এই প্রেমালাপনের দৃশ্য দেখে নিগ্রোটার মুখ হাঁ হয়ে যায়। কথা বেরোয় না কয়েক মুহূর্ত। তারপর ভয়ে জবুথবু হয়ে জিজ্ঞেস করে, মালিক, আপনি কী কোন জীন বা আফ্রিদি? না,
নিগ্রোটার কথায় রোষে। ফেটে পড়ে কামার আল। এত বড় স্পর্ধা তোর, তামাম পারস্য মুলুকের শাহেনশাহ আমার বাবা সাবুর। তাঁর একমাত্র পুত্র আমি। আর আমাকে বলিস কিনাজিন, না, আফ্রিদি?
এই বলে সে সিংহবিক্রমে লাফিয়ে ওঠে শয্যা ছেড়ে। তলোয়ারখানা বাগিয়ে ধরে বলে, আমি তোর সুলতানের জামাতা। তার এই কন্যার সঙ্গে আজ রাতে আমার শাদী হয়েছে। তাই তার শোবার ঘরে তাকে নিয়ে আমি মধুযামিনী কাঁটাচ্ছি। এত বড় সাহস তোর, ঘরে
খোজা নিগ্রোটা এবার খানিকটা ধাতস্থ হয়।মালিক, আপনি যদি সত্যি শাহজাদা হন তা হলে একশোবার বলবো, আমাদের শাহজাদীর যোগ্য বর হয়েছে। আপনার মতো এমন খুবসুরৎ শাহজাদা আমি আর দেখিনি কখনও। খুব ভালো হয়েছেচমৎকার মানানসই হয়েছে। এরপর খোজাটা ঘর ছেড়ে চলে গেলো। চলে গেলো একেবারে সোজা সুলতানের শোবার ঘরে। মাথার চুল ছিড়ে, কপাল বুক চাপড়াতে থাকলো, সর্বনাশ হয়ে গেছে, জাঁহাপনা।
সুলতান তো অবাক, আরে, কী হয়েছে বলবি তো? শুধু শুধু হা-হুতাশ করে মাথার চুল ছিড়লে আর কপাল বুক চাপড়ালে বুঝবো কী করে? খুলে বল আগে। কী এমন বিপদ ঘটলো? যা বলার খুব চটপট সংক্ষেপে বল, একদম কোনও ভণিতা করবি না। তোর বিকট চিৎকার। আমার বুকের মধ্যে ধড়াস ধড়াস করছে। নে, যা বলার তাড়াতাড়ি বল। শাহজাদা দেখলো, প্রভাত সমাগত। গল্প থামিয়ে সে চুপ করে বসে রইলো।
চারশে কুড়িতম রজনীতে আবার সে বলতে শুরু করে :
নিগ্রোটা বিকট আওয়াজ করে আর্তনাদ তোলে, জাঁহাপনা, আর এক মুহূর্ত দেরি করবেন। না। শিগ্গির চলুন, দেখবেন, আপনার কন্যার শোবার ঘরে এক আফ্রিদি জিন এসেছে। শুয়ে আছে শাহজাদীর সঙ্গে। এক শাহজাদার রূপ ধরে এসেছে সে।
সুলতান তখন ক্ৰোধে জ্বলে উঠলেন। মনে হলো, তখুনি বুঝি বা তিনি নিগ্রোটার গর্দান নামিয়ে দেন।
তোর এত বড় সম্পন্ধা, আমার মেয়ের ঘরের দরজায় নজর রাখিস না। তোর চোখের সামনে দিয়ে অন্য লোক তার ঘরে কী করে ঢোকে? সারাদিন রাতের জন্য পাহারা করে রাখা হয়েছে তোকে। পাহারা না দিয়ে নাক ডাকিয়ে ঘুমাস নাকি, বাঁদর?
সুলতান আর বেশি বাক্য বায় না করে প্রায় ছুটতে ছুটতে চলে গেলো শাহজাদী সামস অল নাহারের ঘরের দরজায়। দাসীগুলো ভয়ে বিবর্ণা, থর থর করে কাঁপছিলো।
-শাহজাদীরা কী হয়েছে?
সুলতান কঠিন কণ্ঠে প্রশ্ন করেন।
দাসীদের মধ্যে একজন কাঁপতে কাঁপতে বললো, আমরা কিছুই জানি না, জাঁহাপনা। ঘুমিয়েছিলাম, হঠাৎ ঘুম ভাঙ্গতে দেখি, শাহজাদীর শয্যায় চাঁদের মতো ফুটফুটে সুন্দর এক শাহজাদা। খুব ঘনিষ্ট হয়ে দুজনে গল্প করছিলেন। দেখে মনে হলো, কত কালের যেন চেনা জানা। সত্যি কথা বলতে কী, জাঁহাপনা, এমন রূপবান পুরুষ আমরা জীবনে কখনও দেখিনি। তবে সন্দেহ হয়, সত্যিই সে শাহজাদা, না, আফ্রিদি। যেই হোন। তিনি, তাকে দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়।
সুলতানের রাগ কিছুটা প্রশমিত হয়ে আসে। খুব আস্তে আস্তে পর্দা উঠিয়ে তিনি দেখতে থাকেন, এক অপূর্ব সুন্দর যুবক তাঁর কন্যার বাহুপাশে আবদ্ধ হয়ে নিদ্রাচ্ছন্ন। তার মুখখানা বিলকুল চাঁদের মতো ফুটফুটে সুন্দর।
সুলতান দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছেন, এমন সময় ঘুমের ঘোরেই শাহজাদী ছেলেটিকে আদর করতে থাকে। মুখখানা আরও কাছে টেনে এনে ছেলেটির একটা গালে অধর রাখে। এবার আর স্থির থাকতে পারেন না। সুলতান। কোমর থেকে তলোয়ার খুলে বাগিয়ে ধরে ভিতরে ঢোকেন। তিনি। পিতৃত্বের সহজাত ঈর্ষা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে।
ইতিমধ্যে দুজনেরই তন্দ্ৰা কেটে যায়। কামার আল জিজ্ঞেস করে, তোমার বাবা?
সামস অল ঘাড় নেড়ে জানায়, হ্যাঁ।
কামার অল তড়াক করে লাফিয়ে ওঠে তলোয়ারখানা উচিয়ে ধরে গর্জে ওঠে। সুলতান মুহূর্তেই বুঝে নেয়, যুবকের সিংহবিক্রম প্রতিরোধ করার তাকত তার নাই। সঙ্গে সঙ্গে দুই কদম তিনি পিছিয়ে গেলেন। তলোয়ারখানা নামিয়ে নিলেন। মুখে মধুর সম্ভাষণ টেনে বললেন, বেটা, তুমি মানুষ না জিন-আমি ঠিক বুঝতে পারছি না।
ইয়া আল্লাহ, আপনি শাহজাদীর পিতা হতে পারেন। কিন্তু আপনার এই কথায় আমি আপনাকে শ্রদ্ধা জানাতে পারলাম না। আপনার কন্যাকে আমি প্ৰাণাধিক ভালোবেসে ফেলেছি। না হলে, আপনাকে এই মুহূর্তে আমি খতম করে ফেলতাম। শুধু রেহাই পেলেন। শাহজাদীর বাবা বলে আপনার এতবড় সাহস, আমি পারস্য অধিপতির পুত্র, আমাকে কিনা বলেন, জিন, না, দৈত্য? যদি আমরা ইচ্ছা করি, তবে এক লহমায় আপনাকে তখত থেকে রাস্তায় ছুঁড়ে ফেলে দিতে পারি। আপনার এই প্রাচীর-প্রাকার সুরক্ষা, আর আপনার মোন ইজ্জৎ সব মাটিতে মিশিয়ে দিতে পারি, সে কথা জানেন?
সুলতান এবার নিশ্চিত হন। না, কোনও জিন আফ্রিদি নয়। সাচ্চা এক সুলতান বাদশাহরই ছেলে। মনে মনে শ্রদ্ধা এবং ভয়-দুই জেগে ওঠে।
যদি তুমি সত্যিই কোনও শাহজাদা হও, তবে আমার বিনা আমন্ত্রণে আমার প্রাসাদের হারেমে এসে ঢোকার দুঃসাহস কী করে হয় তোমার? তুমি এক বাদশাহর সন্তান হয়ে অন্য এক সুলতানের কন্যার ইজ্জতই বা নষ্ট কর কী করে? তুমি আমার মাথা হোঁট করে দিয়েছ। কিন্তু তুমি কী জান, আমার এই কন্যার জন্য আমি কত সুলতান বাদশাহ এবং তাদের পুত্রদের প্রাণ সংহার করেছি। তারা আমার কন্যাকে জোর জবর-দস্তি করে কেড়ে নিয়ে যেতে এসেছিলো। এবং তারই ফলে এই সব কাণ্ড আমাকে করতে হয়েছে। আজ তুমি আমার মেয়ের ঘরে চোরের মতে ঢুকেচ্ছ। তাকে গোপন শাদী করে তার ইজ্জত নিয়েছ। কিন্তু ভেবে দেখ, এখন আমি যদি আমার লোকজনদের হুকুম দিই, তোমার গর্দান থাকবে?
কামার অল বলে, তা হলে এও জেনে রাখুন। সুলতান, আপনার ঘাড়েও মাথা থাকবে না। আপনার মগজে যদি বুদ্ধি-শুদ্ধি কিছু থাকে তাহলে ধরনের খামখেয়ালীর কাজ করতে সাহস পাবেন না। আপনি। আচ্ছা, সত্যি করে বলুন তো আমার চেয়ে ভালো পাত্র আপনি কোথাও জোগাড় করতে পারবেন? আমার মতো বীর্যবান এবং সম্ভ্রান্ত শাহজাদা কী ভুরি ভুরি মিলবে আপনার কন্যার জন্য?
সে কথা ঠিক। পাত্র হিসাবে তোমার জুড়ি মেলা ভার। কিন্তু কাজীকে ডেকে বিধান সম্মত ভাবে শাদী না হলে গোপন-শাদী আমি মানি না।
কামার আল বলে, আপনার কথা আমি স্বীকার করি। কিন্তু সেই কারণে এখন আপনি যদি আপনার সেপাই পেয়াদাকে ডাকেন তাহলে কী আপনার আখেরে ভালো হবে? একবার যদি সেই ভুল করেন, হাতের তীর ছিলা ছেড়ে চলে যায়, তবে হাজার চেষ্টা করেও আর নিজেকে রক্ষা করতে পারবেন না। আপনার তখন্ত, সালতানিয়ৎ, সম্মান সবই ধূলোয় মিশে যাবে, সুতরাং রাগ রোষে মাথা গরম করে কিছু করবেন না। খুব ঠাণ্ডা মগজে বেশ ভালো করে ভেবে দেখুন। পরে আমাকে কোনও দোষ দিতে পারবেন না। আমি আপনাকে যথেষ্ট সুপরামর্শই দিচ্ছি। এবং আপনার মঙ্গলের জন্যই।
রাত্রির অন্ধকার সরে যেতে থাকে। শাহরাজাদ গল্প থামিয়ে চুপ করে বসে রইলো।

⭐ FOR ANY HELP PLEASE JOIN

🔗 MY OTHERS CHANNELS

🔗 FOLLOW ME

🔗 MY WEBSITE

🔗 CALL ME
+8801819515141

🔗 E-MAILL
molakatmagazine@gmail.com

#উপন্যাস
#অনুবাদ
#মোলাকাত
#Molakat
#Novel
#Translation
#BanglaLiterature
#Literature
#সাহিত্য_ম্যাগাজিন
#ওয়েব_ম্যাগাজিন
#বাংলাসাহিত্য
#আলিফ_লায়লা
#সাহিত্য

No comments

নির্বাচিত লেখা

আফসার নিজাম’র কবিতা

ছায়া ও অশ্বথ বিষয়ক খ-কবিতা এক/ক. সূর্য ডুবে গেলে কবরের ঘুমে যায় অশ্বথ ছায়া একচিলতে রোদের আশায় পরবাসী স্বামীর মতো অপেক্ষার প্রহর কাটায় প্রাচী...

Powered by Blogger.