বাঁশি-পাগলি ।। মাহবুবা খন্দকার : পর্ব-১৪
- পাগলিটা আবার এদিকে আসছে কেন ? শিউলি বললো।
- পাগলি দেখলে কিন্তু আমার খুব ভয়লাগে।
- ও তেমন পাগলি নয়, নিতু।
- এই যে ডাক্তার এসে গেছো দেখছি, শিউলির দিকে তাকিয়ে মহিলাটি বললো।
- হ্যাঁ এসেছি।
- আমার ছেলেকে ডাক্তারীই পড়াবো বুঝলে?
- তোমার পাশে বসে আছে, ঐ মেয়েও কি ডাক্তার?
- ওকে আমার বৌমা বানাবো, বুঝলে ডাক্তার। আমার ভীষণ পছন্দ হয়েছে ওকে।
- যাও তো এখান থেকে বাঁশি-পাগলি, বাজে বকবে না।
- পরে পস্তÍাবি, বলে চলে গেল পাগলি। নিতু পাগলির গমনপথের দিকে একদৃষ্টিতে চেয়ে থাকে। হৃদয়ের গহীনে ভালোবাসা জেগে উঠলেও চেপে যায় নিতু। শুধু দীর্ঘশ্বাসের সাথে ভার নেমে যায় দিগন্তের দিকে। পাগলি চলে যাওয়া অবধি তাকিয়ে থাকে নিতু। তবে রেখে গেল কিছুমায়া। পাগলির জন্য ওর মন পোড়ে কেন!
- ঐ মহিলা কে রে ?
- ওর একটা ছেলে ছিল। ছেলেটা মায়ের কাছে বাঁশিকেনার জন্য পয়সা চেয়েছিল। বিধবা মা আর ছেলে। দ’ুজনের সংসার। দরিদ্রতার কারণে মা পয়সা না দিয়ে বকেছিল। অমনি অভিমানি ছেলেটা বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। সেই যে চলে গেল আর ফিরে আসেনি।
- অভাগী মা! দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে নিতু।
- বুঝলি নিতু ছেলেটা চলে যাওয়ার পর থেকে মহিলা পাগল হয়ে যায়। কোথা থেকে একটা বাঁশিকিনে ঐযে আঁচলে বেধে রেখেছে, ছেলে ফিরে এলে তাকে দেবে। সেই থেকে সবাই ওকে বাঁশি-পাগলি বলে ডাকে।
- দুর! ত্ইু যে কী আবোল-তাবোল বকিস্।
- না রে থাকতেও তো পারে ।
শিউলী নিতুর হাত ধরে বললো, ওদিকটা ঘুরবি চল ।
- ঠিক আছে চল ।
- তুই জানলি কী করে শিউলি?
- চল নিতু আমরা কবির কাচারীবাড়ি দেখে আসি। কুঠিবাড়ি দেখলাম কাচারী দেখবিনা তা কি হয়?
- তোর কথাগুলো আমার খুব ভালোলাগলো শিউলি, আমারও তেমনই ইচ্ছে। অনেক দেখা হলো, চল এবার ফেরা যাক।
- কেন রে তাড়াহুড়া করছিস্, কাচারীবাড়ি দেখবি চল।
এককিলো উত্তরে পদ্মানদীর তীরে কাচারীবাড়ি। ইজিবাইকে রওনা হয় ওরা। রাস্তার দুইধারে কবির নিজহাতে লাগানো কড়ইগাছগুলো কালের সাক্ষী হয়ে আছে। কাচারীতেও আছে অনেক পুরাতন বৃক্ষরাজী। খুবই মনোরম পরিবেশ। দ্বিতলভবনের নিচতলার কয়েকটি কক্ষ এখন সরকারি তহশিল অফিস হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। অদুরেই পদ্মানদী। প্রমত্তাপদ্মার স্রোতের গর্জন দূর থেকেই শোনা যায়। নদীর ধারে হাঁটে ওরা। গাঙশালিকের কিচিমিচি চিৎকার। কলসিকাঁখে গ্রাম্যবধুর নদী থেকে পানিনেয়া-সবমিলিয়ে সুন্দর একটি প্রাকৃতিক পরিবেশ।
- কেনরে নিতু, আরো দেখবি গোপীনাথ মন্দির, মঠ, শাহ্ মখদুম মৌলুক খোরশেদ রহ. এর মাজার শরীফ।
- চল যাই তাহলে। অটোভ্যানে ওরা রওয়ানা দেয়।
- এই যে আমরা মাজার শরীফের কাছে এসে গেছি নিতু। আয় ভেতরে গিয়ে দেখি।
- তোদের এলাকার গ্রামীন পরিবেশ আর স্থাপত্য অনেক ভালোলাগলো। এবার ফেরা যাক শিউলি।
- চল্ যাই নিতু ।
- বুঝলি শিউলি রোহান ভাই কখনো অবচেতন মনে শিলাইদহের কথা বলার চেষ্টা করে। কখনো সে স্বপ্নাবৃত হয়। জেগে উঠে তার মায়ের কথা বলার চেষ্টা করে। তার গ্রাম , মা-বাবা, ভাই-বোন এসব বিষয়ে আম্মু প্রশ্ন করতেন। কিন্তু রোহান ভাইয়া উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করলে অস্থির মনে হতো। তবে মায়ের প্রসঙ্গ উঠলে মুখটা কেমন যেন হয়ে যেত। আমাদের মনে হয়, তার স্মৃতিভ্রম হয়েছে। সবটুকু সে মনে করতে পারেনা। একবার মায়ের সাথে আমরা শাহজাদপুরে রবীনদ্রমেলায় গিয়েছিলাম। রোহান ভাইয়া আমাকে দিয়ে একটা সুন্দরবাঁশি কিনিয়ে মেলা থেকে ফেরার পথে রাস্তার পাশে একটি জীর্ণকুঠিরে প্রবেশ করে কাকে যেন খুঁজছিল। আমি এমন অবস্থায় তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, কাকে খুঁজছে। আমার কথায় আমতা আমতা করে বলে, এখানে কে যেন তার পরিচিত ছিল। এমন কথা শোনার পর তাকে নিয়ে আমার আগ্রহ বেড়ে যায়। তাহলে রোহান ভাইয়ার মা-বাবা বেঁচে থাকতে পারে।
⭐ FOR ANY HELP PLEASE JOIN
🔗 MY OTHERS CHANNELS
🔗 FOLLOW ME
Facebook: facebook.com/molakat
Facebook: facebook.com/afsarnizam
Instagram: instagram.com/molakat
Instagram: instagram.com/afsarnizam
Twitter: twitter.com/afsarnizam
🔗 MY WEBSITE
🔗 CALL ME
+8801819515141
🔗 E-MAILL
molakatmagazine@gmail.com
#উপন্যাস
#অনুবাদ
#মোলাকাত
#মোলাকাত
#Molakat
#Novel
#Translation
#BanglaLiterature
#Literature
#ওয়েব_ম্যাগাজিন
#বাংলাসাহিত্য
#বাংলাসাহিত্য
#সাহিত্য
#বাঁশিপাগলি
#মাহবুবা_খন্দকার
#মাহবুবা_খন্দকার
No comments