বিষাদ সিন্ধু : মীর মশাররফ হোসেন_উদ্ধার পর্ব : ৬৩তম প্রবাহ

 
আজ ওমর আলীর প্রা­­বধ। সং­বা­দে কেহ দু­­খী, কেহ সু­খী। নগ­­বা­সী­রা কেহ ম্লান মু­খে বধ্যভূমি­তে যা­­তে­ছে-কেহ মনের আন­ন্দে হা­সি রহ­স্যে না­না কথার প্র­­ঙ্গে বধ্যভূমি­তে উপ­স্থিত হই­তে­ছে।শূলদ­ণ্ড দণ্ডায়মান হইয়াছে। স্ব­­ক্ষ বি­­ক্ষ সৈন্য­দল ওমর আলীর বধ­ক্রিয়া স্প­ষ্ট­ভা­বে দে­খি­তে পায়, মন্ত্রী মারওয়ান সে উপায় বি­শেষ বি­বে­­না করিয়া করিয়াছে। দি­­­ণির আগ­­­সহ না­­রি­­দল দলে দলে দা­মে­স্ক-প্রা­ন্ত­রে আসিয়া এক­ত্রিত হই­তে লা­গিল। প্রায় সকল লো­কের মু­খেই এই কথা-"আজ শূল-দণ্ডের অগ্র­ভাগ রক্ত­মা­খা হইয়া ওমর আলীর মজ্জা ভেদ করি­বে। কাল মস্হাব কা­ক্কার খণ্ডিত শির ধরায় লু­ণ্ঠিত হই­বে; তা­হার পর হা­নি­ফার দশা যা­হা ঘটি­বে, তা­হা বু­ঝি­তেই পা­রা যায়।"
কথা গো­পন থা­কি­বার নহে। বি­শেষ মন্দ কথা বায়ুর অগ্রে অগ্রে অতি গু­প্ত­স্থা­নেও প্র­বেশ করে। বন্দি­গৃ­হেও কথা শে­ষে প্রা­­­ধের কথা শু­নিয়া সা­­রে­বা­নু হা­­নে­বা­নুর কথা বন্ধ হইয়াছে, অন্ত­রে ব্য­থা লা­গিয়াছে। ক্র­ন্দন ভি­ন্ন তাঁহা­দের আর উপায় কি? হো­সেন-পরি­­নের দু­­খের অন্ত নাই। রক্ত, মা­ংস, অস্থি চর্ম­সং­যু­ক্ত শরীর বলিয়াই এত সহ্য হই­তে­ছে,-পা­ষা­ণে গঠিত হই­লে এত­দিন বি­দী­র্ণ হইত,-লৌহ-নি­র্মিত হই­লে কো­ন্ দিন গলিয়া যা­ইত!
সা­­রে­বা­নু দী­র্ঘ নি­শ্বাস পরি­ত্যাগ করিয়া করু­­স্ব­রে বলি­তে লা­গি­লেন, "হায়! সর্ব­স্ব গেল, প্রাণ গেল, রা­জ্য গেল,-স্বা­ধী­­তা গেল! আশা ছিল জয়নাল আবে­দীন বন্দি গৃহ হই­তে উদ্ধার হই­বে। কি­ন্তু যি­নি উদ্ধার হে­তু কত কষ্ট, কত বি­পদ কত যন্ত্র­ণা সহ্য করিয়া দা­মে­স্ক­প্রা­ন্তর পর্য­ন্ত আসি­লেন, আসিয়াও তি­নি কৃ­­কা­র্য হই­তে পা­রি­লেন না। আর ভর­সা কি! আজ ওমর আলী-কাল শু­নিব যে মো­হা­ম্মদ হা­নি­ফার জী­বন শেষ!আর আশা কি! জগ­দীশ! তো­মার মনে ইহাই ছিল! তো­মার মনে ইহাই ছিল!"
সা­লে­মা বি­বি বলি­লেন, "সা­­রে­বা­নু, কি? ঈশ্ব­রের নি­কট ক্ষ­মা প্রা­র্থ­না কর। সেই নি­র্বি­কার নি­রা­কার দয়াময়কে কোন প্র­কা­রে দো­ষী করিও না,-মহা­পাপ! মহা­পাপ! তি­নি জী­বের ভাল' জন্যই আছেন, অজ্ঞ লো­কের শি­ক্ষার জন্য অনেক সময়ে অনেক লী­লা দে­খাইয়া থা­কেন। সেই করু­ণাময় ভগ­বান কৌ­­লে দে­খাইয়া দেন যে ক্ষু­দ্র­বু­দ্ধি মা­নব ক্ষ­­তা­শা­লী হই­লেও তাঁহার ক্ষ­­তার নি­কট অতি ক্ষু­দ্র তু­চ্ছ। আমা­দের স্ব­ভা­বই এই যে, কোন মা­নু­ষের অলৌ­কিক ক্ষ­­তা দে­খি­লেই আম­রা সেই সর্ব­­ক্তি­মান ভগ­বা­নের কথা একে­বা­রে ভু­লিয়া যাই। কি­ন্তু সেই মহা­­ক্তির প্র­ভা­বে, মা­­বের অন্ত­রের মূঢ়তা মূর্খ­তা দূর করি­তে সেই অলৌ­কিক ক্ষ­­তা­শা­লী মা­­বের প্র­তি এমন কোন বি­­­জাল বি­স্তার হয় যে, তা­হার সে অলৌ­কিক ক্ষ­­তা শক্তি যে কো­থায়, কো­ন্ পথে, কি­সে মি­শিয়া যায়, তা­হার আর সন্ধান পাওয়া যায় না। সেই অন­ন্ত­­ক্তি­­ম্প­ন্ন মহা­প্র­ভুর ক্ষ­­তা অসীম। তি­নিই সর্বমূল, তি­নিই বি­­দের কা­ণ্ডা­রী, বি­পদ-সা­গর হই­তে উদ্ধার হই­বার এক­মা­ত্র তরী। মা­নু­ষের ক্ষ­­তা কি? ওমর আলীর সা­ধ্য কি? হা­নি­ফার শক্তি কি? সেই বি­­­তা­রণ ভগ­বা­নের কৃ­পা না হই­লে, দয়াময়ের দয়া না হই­লে, কো­ন্ প্রা­ণী কা­হা­কে বি­পদ-সা­গর হই­তে উদ্ধার করি­তে পা­রে? তি­নিই রক্ষা­­র্তা, তি­নিই সর্ব­বিজয়, সর্ব­­ক্ষক, বি­ধা­তা! সা­­রে­বা­নু স্থির হও। হৃদয়ে বল কর। সেই অদ্বি­তীয় ভগ­বা­নের প্র­তি এক­­নে নি­র্ভর কর। দু­­খে পড়িয়া সা­মা­ন্য লো­কের ন্যায় বি­হ্বল হইও না। বল­হীন হৃদয়ের ন্যায় ব্যা­কুল হইও না।তাঁহার না­মে কল­ঙ্ক রটাইও না। তি­নি তাঁহার সৃ­ষ্ট জী­­নের মন্দ-চি­ন্তা কখ­নোই করেন না। সা­­ধান-সা­­রে­বা­নু সা­­ধান, মনের মলি­­তা দূর কর। তি­নি অব­শ্যই মঙ্গল করি­বেন। তি­নি সর্ব­­ঙ্গ­লময় অদ্বি­তীয় ঈশ্বর।"
"এত বি­পদ মা­নু­ষের অদৃ­ষ্টেও ঘটে! সক­লই তো ঈশ্ব­রের কা­র্য! আম­রা কি অপ­রা­ধে অপ­রা­ধী।কি পাপ করিয়াছি যে তা­হা­রই এই প্র­তি­ফল?"
"এক­থা মু­খে আনিও না, বি­পদ, ব্যা­ধি, জ্ব­রা, জগ­তে নূতন নহে। নূরন­বী হজ­রত মো­হা­ম্মদ মস্ত­ফার পরি­জন হই­লেই যে ইহ­­­তে বি­­­গ্র­স্ত হই­তে হই­বে না, এক­থা কখ­নোই অন্ত­রে স্থান দিও না। ঈশ্বর মহা­ন্, তাঁহার শক্তি মহা­ন্। কত নবী, কত অলি, কত দর­বেশ, তি­নি সৃ­ষ্টি করিয়াছেন। কত শত সহ­স্র মহা­পু­রুষ, যো­গী, ঋষি, এই ভবে জন্মিয়া গিয়াছেন। কত ভক্তের মন পরী­ক্ষার জন্য তি­নি কত কি করিয়াছেন। তু­মি জা­নিয়া শু­নিয়া আজ ভু­লিয়া যা­­তেছ। ছি! ছি! ঈশ্ব­রে নি­র্ভর কর! তু­মি কি সক­লই ভু­লিয়া গিয়াছ? হজ­রত আদ­­কেও বে­হে­স্তের চি­­সুখ শা­ন্তি পরি­ত্যা­গে চির-সন্তা­­হা­রি­ণী নয়নের মণি পরম প্রিয়তমা প্রা­ণের প্রাণ অর্ধা­ঙ্গি­নী সহ­­র্মি­ণী বি­বি হাওয়ার সহিত বি­চ্ছেদ ঘটিয়া এক নয় দুই নয় ৪০ বৎসর সজল নয়নে দেশ দে­শা­ন্ত­রে, পর্ব­তে বি­­নে, প্রা­ন্ত­রে, মহা­­ষ্টে ভ্র­মণ করি­তে হইয়াছিল। হজ­রত এব্রা­হি­­কেও গগ­­স্প­র্শী অগ্নি­শি­খা মধ্যে প্র­বেশ করি­তে হইয়াছিল। হজ­রত নুহ পয়গম্ব­­কে জলে ভা­সি­তে হইয়াছিল। হজ­রত এহিয়াকে মহা­ব্যা­ধি­গ্র­স্থ হইয়া মহা­­ষ্ট পা­­তে হইয়াছিল। হজ­রত ইউ­সু­­কে অন্ধকূপে ডু­বি­তে হইয়াছিল। হজ­রত ইউ­নো­স্কে মৎস্যের উদ­রে প্র­বেশ করি­তে হইয়াছিল। হজ­রত জা­ক্রিয়াকে করা­তে দ্বি­­ণ্ডিত হই­তে হইয়াছিল। হজ­রত মু­শা­কে প্রা­ণভয়ে দে­­ত্যা­গী হই­তে হইয়াছিল। ঈসা­­দি­গের মতে হজ­রত ঈসা­কেও শূলে আরো­হণ করিয়া প্রা­­বি­­র্জ্জন করি­তে হইয়াছিল। আমা­দের হজ­রত মো­হা­ম্মদ কি কম বি­­দে পড়িয়াছি­লেন? প্রা­ণভয়ে জন্মভূমি মক্কা নগর পরি­ত্যাগ করিয়া গু­প্ত­ভা­বে মদি­না যা­­তে হইয়াছিল। ইঁহা­রা কি বি­­­কা­লে ঈশ্ব­রের নাম ভু­লিয়াছি­লেন? নূরন­বী মো­হা­ম্ম­দের কথা এক­বার মনে কর। ঈশ্ব­রের আদে­শে তি­নি কি না করিয়াছেন। রা­জা­ধি­রাজ সা­দ্দাদ, নমরূদ, ফে­রা­উন, কারূণ, ইহা­দের অব­স্থাও এক­বার ভা­বিয়া দেখ। ধন-বল, রা­জ্য-বল, বা­হু­বল প্র­ভৃ­তি সম্পূর্ণ­ভা­বে থা­কা সত্ত্বেও তাঁহা­রা কত বি­­­গ্র­স্ত হইয়াছি­লেন। সে সকল প্রা­চীন কা­হি­নী, প্রা­চীন কথা, কে­বল সেই অদ্বি­তীয় ভগ­বা­নের মহা­­ক্তির প্র­ত্য­ক্ষ প্র­মাণ দে­খাইয়া দি­তে­ছে। তি­নি কি না করি­তে পা­রেন? আজ ওমর আলীর প্রা­­বধ হই­বে, কাল এজি­দের প্রাণ যা­­তে পা­রে। ঈশ্বর যা­হা ঘটা­­বেন, তা­হা নি­বা­­ণের কা­হা­রো ক্ষ­­তা নাই। তি­নি সর্ব­প্র­কা­রে দয়াময়-সকল অব­স্থা­তেই করু­ণাময়। ভা­বি­লে কি হই­বে? আর কাঁদি­লেই বা কি হই­বে?"
"আপ­নার হি­তো­­দে­শে আমার মন অনেক সু­স্থ হইল। কি­ন্তু এক­টি কথা এই যে, প্র­ধান বীর ওমর আলী এজি­দ্ হস্তে মা­রা পড়িল, ইহা­তে হা­নি­ফার সা­হস, বল, উৎসাহ, অনেক লা­ঘব হইল।"
"সে কি কথা? সে অদ্বি­তীয় ভগ­বান হা­নি­ফা­কেও এজি­দ্ হস্তে বি­নাশ করাইয়া আমা­দি­­কে উদ্ধার করি­তে পা­রেন তাঁহার নি­­টে কা­র্য কি­ছুই নহে। তি­নি কি না করি­তে পা­রেন? পর্ব­­কে সমু­দ্রে পরি­ণত করি­তে, মহা­­­­কে বনে পরি­ণত করি­তে, মহা­­মু­দ্রে মহা­­গর বসা­­তে তাঁহার কত­ক্ষ­ণের কাজ? তাঁহার ক্ষ­­তার-দয়ার পার নাই। তবে জগৎচক্ষে সা­ধা­রণ বি­বে­­নায় দে­খি­তে হই­বে যে, সকল ঘট­নার মূল কি?আমার মনের কথা আমি বলি­তে­ছি-ইহা আর কি­ছুই নহে, ঈশ্ব­রের লী­লা-প্র­কাশ-ক্ষ­­তা বি­কাশ। কি­ন্তু ঈশ্বর সেই ক্ষ­­তা বি­কা­শের সঙ্গে সঙ্গে তাঁহার সৃ­ষ্ট জী­­কে উপ­দেশ দি­তে­ছেন, 'জীব। সা­­ধান! এই কা­র্যে এই ফল, এই পথে চলি­লে এই দু­র্গ­তি, এই আমার নি­র্ধা­রিত নিয়মের অতি­ক্রম করি­লে এই শা­স্তি।' তি­নি সক­­কেই সমান ক্ষ­­তা দিয়াছেন। কা­হা­কে কোন কা­র্যই করি­তে তি­নি নি­ষেধ করেন না। আপন ভা­­­ন্দ আপ­নিই বু­ঝিয়া লই­তে হই­বে। সং­সার বড় ভয়ানক কঠিন স্থান। আজ আম­রা দা­মে­স্কের বন্দি­খা­নায় বন্দি­ভা­বে বসিয়া এত কথা বলি­তে­ছি। -ভাব দে­খি, ইহার মূল কি?"
এইরূপ কথা হই­তে­ছে, এমন সময় জয়নাব আসিয়া বলি­লেন, "আমি গবা­ক্ষ­দ্বা­রে দণ্ডায়মান হইয়া দে­খি­লাম, নগ­রের বহু­সং­খ্যক লোক দা­মে­স্ক প্রা­ন্ত­রে যা­­তে­ছে। সক­লের মু­খে এই কথা যে, আজ ওমর আলীর প্রা­­বধ দে­খিব, কাল মো­হা­ম্মদ হা­নি­ফার খণ্ডিত শির দা­মে­স্ক প্রা­ন্ত­রে লু­টা­­তে দে­খিব। জয়নাল আবে­দীন কা­রা­গার সম্মু­খে দণ্ডায়মান ছিল; প্র­­রি­গণ কে কো­থায় আছে দে­খি­তে পা­­লাম না। জয়নাল জন­তার মধ্যে মি­শিয়া তা­হা­দের সঙ্গে চলিয়া গেল। আমি সঙ্কে­তে অনেক নি­ষেধ করি­লাম-শু­নিল না। এক­বার ফি­রিয়া তা­কাইয়া ঊর্ধ্ব­শ্বা­সে বে­গে চলিয়া গেল! কে­­­মা­ত্র এক­টি কথা শু­নি­লাম-"হায় রে অদৃ­ষ্ট! কা­র্বা­লার ঘট­না এখা­নেও ঘটি­তে আর­ম্ভ হইল। এক এক­টি করিয়া এজি­দ্ হস্তে-' এই কথার পর আর কি­ছুই শু­নি­তে পা­­লাম না দে­খি­তে দে­খি­তে চক্ষুর অন্ত­রাল হইয়া পড়িল- আবার কি ঘট­না ঘটিল!"
সা­­রে­বা­নু জয়না­বের মু­­পা­নে এক­দৃ­ষ্টে চা­হিয়া কথা­গু­লি শু­নি­লেন। তাঁহার মু­খের ভাব সে সময় যে প্র­কার হইয়াছিল, তা­হা কবির কল্প­নার অতীত,-চি­ন্তার বহি­র্ভূত। জয়নাল আবে­দী­নই তাঁহা­দের এক­মা­ত্র ভর­সা। সা­­রে­বা­নুর প্রা­­পা­খী সে সময় দে­­পি রে ছিল কি­না, তা­হা কে বলি­তে পা­রে? চক্ষু স্থির! কণ্ঠ রোধ! সে এক­প্র­কার ভাব-স্প­ন্দ­­হীন
সা­লে­মা বি­বি বু­দ্ধি­­তী, সহ্য­গুণও তাঁহার বি­স্তর। কি­ন্তু সা­­রে­বা­নুর অব­স্থা দে­খিয়া তি­নিও বি­হ্বল হই­লেন। নাম ধরিয়া অনে­­বার ডা­কি­লেন। চৈতন্য নাই। বু­কে মু­খে হস্ত দিয়া সা­ন্ত্ব­নার অনেক চে­ষ্টা করি­লেন কি­ন্তু সা­­রে­বা­নুর মো­­­ঙ্গ হইল না, তি­নি মৃ­ত্তি­কায় পড়িয়া গে­লেন। অনে­­ক্ষণ পরে দী­র্ঘ­নি­শ্বাস পরি­ত্যাগ করিয়া বলি­লেন, "জয়নাল! বা­বা জয়নাল। নি­রা­শ্রয়া দু­­খি­নীর সন্তান! কো­থা গে­লি বাপ? তোর পায় পায় শত্রু, পায় পাপ বি­পদ, আম­রা চি­­­ন্দি। দু­­খের ভার বহন করি­তে জগ­তে আমা­দের সৃ­ষ্টি হইয়াছিল।তুই দু­­খি­নীর সন্তান, কি কথা মনে করিয়া কো­থা গে­লি? তুই কি তোর পি­তৃ­ব্য ওমর আলীর প্রা­­বধ দে­খি­তে গিয়াছি­স্? তুই সেই বধ্যভূমি­তে গিয়া কি করি­বি? তো­কে যে চি­নি­বে, সেই এজি­দের নি­কট লইয়া গিয়া তো­কেও ওমর আলীর সঙ্গী করি­বে। এজি­দ্ এখন হা­নি­ফার প্রাণ লই­তেই অগ্র­সর হইয়াছে। তো­কে কয়েক­বার মা­রি­তে গিয়াও কৃ­­কা­র্য হয় নাই; আজ তো­কে দে­খি­লে তা' ক্রো­দের কি সী­মা থা­কি­বে? বন্দি পলা­­লে কা' না রো­ষের ভাব দ্বি­গুণ হয়? জয়নাল, তোর বু­দ্ধি কেন হইল?"
সা­­রে­বা­নু বি­স্তর দু­ঃখ প্র­কাশ করি­লেন। সা­লে­মা বি­বিও অনেক প্র­কা­রে বু­ঝা­­লেন। শে­ষে সা­লে­মা বি­বি বলি­লেন, "সা­­রে­বা­নু, স্থির হও। জয়নাল অবোধ নহে। তা­হার পি­তার সম­স্ত গু­ণই তা­হা­তে রহিয়াছে। ঈশ্বর তা­হা­কে বী­­পু­রুষ করিয়াছেন। এজি­দের অত্যা­চার তা­হার হৃদয়ে আঁকা রহিয়াছে। সে একা কি­ছুই করি­তে পা­রি­বে না। আবার আমা­দি­­কে বন্দি­খা­নায় রা­খিয়া এমন কোনও কা­র্যে হঠাৎ হস্ত­ক্ষেপ করি­বে না যে তা­হা­তে মা­রা পড়ে কি ধরা পড়ে। তা­হার আশা অনেক। ঈশ্ব­রে নি­র্ভর কর, সকল তাঁহা­রই লী­লা।তু­মি স্থির হও, ঈশ্ব­রের নাম করিয়া জয়না­­কে আশী­র্বাদ কর,-তা­হার মনো­বা­ঞ্ছা পূর্ণ হউক। তু­মি নি­শ্চয় জা­নিও এজি­দ্ হস্তে তা­হার মৃ­ত্যু নাই। সেই মদি­নার রা­জা, সেই দা­মে­স্কের রা­জা। আমি মা­­নীয় নূরন­বী­মু­খে শু­নিয়াছি, জয়নাল আবে­দীন দ্বা­রা মদি­নার সি­­হা­সন রক্ষা হই­বে, ইমাম বংশ জী­বিত থা­কি­বে, রো­­কেয়ামত পর্য­ন্ত জয়নাল আবে­দী­নের বং­­­­গণ জগ­তে সক­লের নি­কট পূজনীয় হইয়া থা­কি­বে। নূরন­বীর বা­ণী কি কখন মি­থ্যা হয়? ঈশ্ব­রের নি­কট প্রা­র্থ­না কর, জয়না­লের মনো­বা­ঞ্ছা নি­র্বি­ঘ্নে পরিপূর্ণ হউক।"

⭐ FOR ANY HELP PLEASE JOIN

🔗 MY OTHERS CHANNELS

🔗 FOLLOW ME

🔗 MY WEBSITE

🔗 CALL ME
+8801819515141

🔗 E-MAILL
molakatmagazine@gmail.com

#উপন্যাস
#অনুবাদ
#মোলাকাত
#Molakat
#Novel
#Translation
#BanglaLiterature
#Literature
#সাহিত্য_ম্যাগাজিন
#ওয়েব_ম্যাগাজিন
#বাংলাসাহিত্য
#সাহিত্য
#বিষাধসিন্ধু
#মীর_মশাররফ_হোসেন

No comments

নির্বাচিত লেখা

আফসার নিজাম’র কবিতা

ছায়া ও অশ্বথ বিষয়ক খ-কবিতা এক/ক. সূর্য ডুবে গেলে কবরের ঘুমে যায় অশ্বথ ছায়া একচিলতে রোদের আশায় পরবাসী স্বামীর মতো অপেক্ষার প্রহর কাটায় প্রাচী...

Powered by Blogger.