তবু তারাউজিয়াল গ্রামের বৃষ্টি ফুরোয় না ।। তাজ ইসলাম
অশ্রু প্রজেক্টের অতি মুল্যবান কিছু অশ্রু যা আইভরি কোষ্টের হীরার চেয়েও খাঁটি, ওয়াটারফোর্টের ক্রিস্টালের চেয়েও স্বচ্ছ, কিছু অশ্রু নিয়ে
"সেই গভীর গহীন মধ্যরাত থেকে/
অশ্রুগুলো চোখের সামনে নিয়ে বসে আছি।
অথচ কাউকে পাচ্ছি না,
যার কাছে জলরঙে আঁকা এই সব মহার্ঘ রচনা রেখে-
আমি ঘুমুতে যাব।(অশ্রু প্রজেক্ট)।
অশ্রু নিয়ে অপেক্ষমান এরকম খাঁটি আর স্বচ্ছ অশ্রু দিয়ে গড়েছেন (অশ্রু প্রজেক্ট) এবং অশ্রু দিয়ে বহমান করছেন কবির নিজস্ব ছোট নদী।কবি আবদুল হাই শিকদার যখন জানতে পারলেন "তারাউজিয়াল গ্রামে বৃষ্টি নামলো" তখন তিনি "প্রাকৃতিক অশ্রুর রিংটোন" বাজাতে বাজাতে ছুটে চললেন তারাউজিয়াল গ্রামে। "তারাউজিয়াল কি কেন কোথায় কীভাবে- এসম্পর্কে আমার কোন ধারণাই ছিল না।" এই স্বীকারোক্তি কবি আবদুল হাই শিকদারের। কবি আবদুল হাই শিকদার তারাউজিয়াল না চিনলেও আমরা কাশবন প্রকাশনের সৌজন্যে প্রকাশক আমিনুল ইসলামের মাধ্যমে খুব ভাল করেই জানতে পারলাম, এটি বইমেলা ২০১৬ এ প্রকাশিত "তারাউজিয়াল গ্রামে বৃষ্টি নামলো" শীর্ষক একটি কাব্য গ্রন্হ। কবি আবদুল হাই শিকদারের কততম গ্রন্হ এটি তা বলা যাচ্ছে না, কারণ ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে তার শতাধিক গ্রন্হ।
"রাষ্ট তাকে রক্ষা করেনি দাঁড়ায়নি পাশে এসে
নদীতে ভাসছে লাশ
… সংসার তার ভেঙেছে হৃদয়
রাষ্ট তাকে করেছে গুম
… ক্ষত বিক্ষত নদীতে ভাসছে লাশ।
…
রাষ্ট তাকে ফিরিয়ে দেয়নি
ফিরিয়ে দিয়েছে নদী
--নদীর জন্য রিমান্ড চেয়েছে র্যাব! একটি সময়ের কঠিন বাস্তবতাকে, একটি মহলের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে, একটি ভয়ংকর অবস্হাকে কবিতায় চিত্রিত করা অবশ্যই সাহসিকতার কাজ। কবি লাশ রাষ্টের ছত্রে ছত্রে সেই সাহসের বীজই বুনন করেছেন। তিনি পরোয়া করেননি বিদ্রোহী অথবা রাজদ্রোহীর পরিনতিকে। এতে হয়তো হতে পারে ক্ষতি বা বিনাশ তবু ভয় নেই। সত্য তিনি বলবেন, মিথ্যা হয়তো করতে পারে তার সাময়িক ক্ষতি, তবু কবি সাহসের ডানা মেলে উড়বেন আকাশে। তার জানা হয়ে গেছে "ধ্বংস চিরকাল সৃজন সঙ্গী (ধ্বংস ও সৃজন)।
"যত্রতত্র কাশিম বাজার
আকাশে কেবল উমিচাঁদ,
জগৎশেঠের ড্রাকুলা দম্ভে
সবকিছু বরবাদ
........চারদিবে আজ মীরজাফর আর
ক্লাইভের চাপরাসীরা
ঘোর চক্করে সর্ষে দেখছে
ক্ষুব্ধ দেশের বাসীরা
(আর কোন পলাশী নয়)।
কবিতার শরীর রাঙিয়েছেন মুন্সিয়ানার সাথে উপমা উৎপ্রেক্ষা আর চিত্রকল্পের সাজে। ছন্দের সাবলিলতা দীর্ঘ বক্তব্য প্রধান কবিতাকেও করে তুলেছেন সহজ এবং আবৃত্তিযোগ্য। কুড়িগ্রামের ভুরিঙ্গামারীর কৈশোর স্মৃতি কবিকে ব্যাকুল করে তুলে। তার ব্যাকুলতা কবিতা হয়ে ঝরে পড়ে ঝরনার জলের মত। তার মমতা জড়ানো বাণী "এ নদী নদীতো নয়, মমতা ও সমতার ঢেউ" (দুধ কুমার)। কবি'র এই বইখানা পাঠ করে আমার কেন জানি মন বলতে লাগল আহ আমার স্বদেশ! আমার স্বদেশেও যদি তারাউজিয়ালের মত একটা গ্রাম থাকতো যে গ্রামের "বৃষ্টি ইহুদিদের মত সন্দেহপ্রবন নয় / কিংবা নয় জাপানী সাহিত্যের মত অতিমাত্রিক জ্যামিতিক। (তারাউজিয়াল গ্রামে বৃষ্টি নামলো)।
MY OTHERS CHANNELS
🔗 FOLLOW ME
Facebook: facebook.com/molakat
Facebook: facebook.com/afsarnizam
Instagram: instagram.com/molakat
Instagram: instagram.com/afsarnizam
Twitter: twitter.com/afsarnizam
🔗 MY WEBSITE
🔗 CALL ME
+8801819515141
🔗 E-MAILL
molakatmagazine@gmail.com
#গ্রন্থালোচনা
#বইআলোচনা
#বইপত্র
#সাহিত্য
#বাংলাসাহিত্য
#মোলাকাত
#সাহিত্য_ম্যাগাজিন#ওয়েব_ম্যাগাজিন
#Molakat
#Book_Review
#Book_Discussion
#Literature
#Bengali_Literature
#তাজ_ইসলাম
#আবদুল_হাই_শিকদার
No comments