হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়’র কবিতা
সিঁড়ি
উড়ে গেলে
সিঁড়িগুলো একসঙ্গে কথা বলে উঠলো
তারপরে সবাই ছুটল সামনের দিকে
উঠোনটা একেবারে ফাঁকা হয়ে গেল
মাটি থেকে জল সরে গেলে যেমন হয়
উঠোনটার যেন গলা শুকিয়ে এলো
পাতকুয়োয় একটা বালতি নামল
সদর দরজাটা খুলে যেতেই
গোটা বাড়িটার বুকটা অনেকটা নেমে গেল
কিন্তু কোথাও একটা জানলাও খোলা ছিল না
তাই বুকটা আর উঠল না
গাছে ঘুড়ি আটকানোর মতো
শ্বাসটা কোথাও একটা আটকে রইলো
কেউ তাকে খুঁজে পেল না।
..................................................
সংখ্যা
মুখোশের কথা বলা শেষ হলে
পা ফেলার জায়গাও থাকে না
ওপারে অনেকটা ফাঁকা জায়গা
সেখানে দুপুর নেমে হাত পা ছড়িয়ে দাঁড়ায়
ভিড়ের ধার ঘেঁষে সে আসে
তার পায়ের চলন অনেক নদী পথের গল্প বলে
অগণন সংখ্যা হাতে সে ধীর পায়ে
পৃথিবীর মানুষের খোঁজ দেবে যে সংখ্যা
সংখ্যার পাহাড় হয়ে আছে
পাহাড়ের ওপর বসে থাকে সে
গলি পথ ধরে বড় রাস্তায় পড়েছে যেসব সংখ্যা
তাদের কথা পাহাড় থেকে
একটা একটা করে সরে যায়
অট্টহাসির রোল ওঠে পাহাড় জুড়ে
বাকি সংখ্যা গান হয়ে যায়
কিছু কিছু নদী হয়ে দিগন্তে উড়ে যায়।
..................................................
ম্যাজিক চেয়ার
দিনগুলো কেমন যেন একটা জট পাকিয়ে যাচ্ছে
সাতসকালে ঠিক যেখান থেকে
শুরু করবো ভেবেছিলাম
তার থেকে অনেকখানি ছেড়ে দিয়ে
হঠাৎ করে দুপুরবেলা শুরু হয়ে গেল
ভেবেছিলাম হাঁটতে হাঁটতে
সবকিছু খুব কাছ থেকে দেখতে দেখতে যাব
কিন্তু হল কোথায়
লোভের যে অত বড় হাঁ মুখ
তা কি আর অত জানতাম ছাই
পাঁচমাথায় আমাকে
কে যেন একটা চেয়ার পেতে দিল
দেখলাম মাটি থেকে চেয়ারটা
বেশ অনেকখানি ওপরে
রাস্তায় হেঁটে যাওয়া লোকগুলো
চোখের নিমেষে পিঁপড়ে হয়ে যাবে
আমি ভাবতেই পারি নি
মনে হলো চেয়ার যেন আমাকে
ম্যাজিক শিখিয়ে দিয়েছে
বেশ অনেকটা উঁচুতে দাঁড়িয়ে
নিজেকে কেমন যেন বাঘ বাঘ মনে হচ্ছিল
কিন্তু বাঘ কোথায় ঘুমাবে ?
কে ধরে থাকবে বাঘের চেয়ার ?
বলত বলতেই হুড়মুড়িয়ে বৃষ্টি
ম্যাজিক চেয়ারে জল ঢুকে যায়
ভিজে যায় চেয়ারের পা
ভিজে যায় পায়ের চামড়াও
ম্যাজিক আর কাজ করে না
চেয়ার পা ফুলে ঢোল
আমার পা হাজা হাজা
-ম্যাজিক চেয়ার আর কতদিন ?
-এই বয়সে এসে এখনও তা বলে দিতে হবে !
..................................................
বাবার জামা
আজ হঠাৎই বিকেলে
বাক্স খুলে দেখি
বাবার একটা জামা
আকাশের নীল
অনেকটাই মেঘে খেয়ে নিয়েছে
বোতাম সাতটার কথা
আজ আর কেউ বুঝতে পারল না
কলার শোভা পাবার মতো
কোনো রোদ্দুরের গলা নেই
বাবা বলেছিল, রেখে দে পরে পড়বি
ত্রিশ বছর পরে জামাটা এখনও কত বড়।
..................................................
রাস্তা
হাঁটতে হাঁটতে দেখি
আমার সামনে একটা নতুন সম্পর্ক
নিজেকে ছড়িয়ে ছড়িয়ে দিচ্ছে
পিছনে আমার মা
রান্নাঘরে ভীষণ ব্যস্ত
খুন্তি নাড়তে নাড়তে
আমাকে রাস্তা এগিয়ে দিচ্ছে
দুয়ারে পুঁথি লিখতে লিখতে বাবা
চোখের ঈশারায় রাস্তা বলে দিচ্ছে
আমার পা টলতে দেখে
দিদি ঠোঙায় কাই দিতে দিতে
চোখ বড় বড় করে
আমার মনে হয়
মা, বাবা, দিদিতে কিছুটা মন রাখলেই
নতুন সম্পর্কটাকে টিকিয়ে রাখতে পারব ।
..................................................
গল্পকথা
সূর্যাস্তের পর
গল্পের আসল পরীক্ষা
এতক্ষণ যারা
পথ চিনিয়ে আনছিল
বাঁক ঘুরতেই
তারা হাওয়া
যেটুকু জুটেছে চাল
চলে গেছে পথে পথে
এখন ধরেছে যারা
গল্পের হাত
তারা সব খোড়ো চালে থাকে
দুয়ারটা বড় নয় জানি
তবু হাত রয়েছে বাড়িয়ে
নিজে সরে গিয়ে
গল্পের পথ করে দেয়
গল্প যদি
গল্প বলে
যেখানে রয়েছে পা
মাটিতে ছড়িয়ে
..................................................
হৃদয় খুলে
মানিয়ে নেওয়ার আগে
মনে মেনেছ
ভিন্ন কিছু হয় ?
কেউ আকাশ দেখে
বেলা কাটায়
দিন চলে যায়
নদীর জলে জলে
জরুরী খুব
হৃদয় খুলে
নিজেকে ভুলে যাওয়া ।
..................................................
দরজা পেরিয়ে
এত মুখ
কেন এতো কাছে কাছে
কানও তো বেশ
হয়ে আছে খাড়া
মাথায় তো নেই
কোনো ছাতা
তবু কথা আছে
মিলেমিশে !
কথায় কি আছে কথা ?
এসো ভুলে যাই
শোনা কথা
কথার কথা- সব
দরজা পেরিয়ে
পায়ে পায়ে
চলো যাই কাজে ।
..................................................
পায়ে পায়ে
এক পা, এক পা করে
এগিয়ে আসছে কেউ
খুলে নিচ্ছে সবকিছু
মুখ খুললে হাওয়া শুধু
সরে গেছে কথা সব ।
নিজের দিকে তাকাই
সাতসকালেই বদলাতে হাওয়া
লিখিয়ে দিয়েছি নাম
নিয়ম খাতায় জগন্নাথ ।
কথা ছিল এইটাই
শুয়ে যাবে সামনে পিছনে
বাকি দুই পাশ বাধা দেবে
সকালে এসেছে যারা ।
..................................................
গাছ
অনেক পথ পেরিয়ে তবে গাছ
যে পথে কেউ বাড়ায় নাকো পা
সে পথ দিয়েই ধুলোয় ধুলো পা
পথ দেখাবে বলেই পথের বাঁকে
সারাটা দিন অপেক্ষাতে বুড়ো
গুনছে সময় আলো হাওয়ার ঘরে
উল্টো পথে উল্টো হাওয়ার ঝড়ে
হাজার কথায় কল্প দেশের গল্প
চোখেতে নেই মনের হাওয়ায় ভাসে
এত কিছুর পরেও তুমি গাছ
দাঁড়িয়ে আছো আরও সময় যাক
আসবেই সে ধুলোর রঙে সেজে ।
সিঁড়িগুলো একসঙ্গে কথা বলে উঠলো
তারপরে সবাই ছুটল সামনের দিকে
উঠোনটা একেবারে ফাঁকা হয়ে গেল
মাটি থেকে জল সরে গেলে যেমন হয়
উঠোনটার যেন গলা শুকিয়ে এলো
পাতকুয়োয় একটা বালতি নামল
সদর দরজাটা খুলে যেতেই
গোটা বাড়িটার বুকটা অনেকটা নেমে গেল
কিন্তু কোথাও একটা জানলাও খোলা ছিল না
তাই বুকটা আর উঠল না
গাছে ঘুড়ি আটকানোর মতো
শ্বাসটা কোথাও একটা আটকে রইলো
কেউ তাকে খুঁজে পেল না।
..................................................
সংখ্যা
মুখোশের কথা বলা শেষ হলে
পা ফেলার জায়গাও থাকে না
ওপারে অনেকটা ফাঁকা জায়গা
সেখানে দুপুর নেমে হাত পা ছড়িয়ে দাঁড়ায়
ভিড়ের ধার ঘেঁষে সে আসে
তার পায়ের চলন অনেক নদী পথের গল্প বলে
অগণন সংখ্যা হাতে সে ধীর পায়ে
পৃথিবীর মানুষের খোঁজ দেবে যে সংখ্যা
সংখ্যার পাহাড় হয়ে আছে
পাহাড়ের ওপর বসে থাকে সে
গলি পথ ধরে বড় রাস্তায় পড়েছে যেসব সংখ্যা
তাদের কথা পাহাড় থেকে
একটা একটা করে সরে যায়
অট্টহাসির রোল ওঠে পাহাড় জুড়ে
বাকি সংখ্যা গান হয়ে যায়
কিছু কিছু নদী হয়ে দিগন্তে উড়ে যায়।
..................................................
ম্যাজিক চেয়ার
দিনগুলো কেমন যেন একটা জট পাকিয়ে যাচ্ছে
সাতসকালে ঠিক যেখান থেকে
শুরু করবো ভেবেছিলাম
তার থেকে অনেকখানি ছেড়ে দিয়ে
হঠাৎ করে দুপুরবেলা শুরু হয়ে গেল
ভেবেছিলাম হাঁটতে হাঁটতে
সবকিছু খুব কাছ থেকে দেখতে দেখতে যাব
কিন্তু হল কোথায়
লোভের যে অত বড় হাঁ মুখ
তা কি আর অত জানতাম ছাই
পাঁচমাথায় আমাকে
কে যেন একটা চেয়ার পেতে দিল
দেখলাম মাটি থেকে চেয়ারটা
বেশ অনেকখানি ওপরে
রাস্তায় হেঁটে যাওয়া লোকগুলো
চোখের নিমেষে পিঁপড়ে হয়ে যাবে
আমি ভাবতেই পারি নি
মনে হলো চেয়ার যেন আমাকে
ম্যাজিক শিখিয়ে দিয়েছে
বেশ অনেকটা উঁচুতে দাঁড়িয়ে
নিজেকে কেমন যেন বাঘ বাঘ মনে হচ্ছিল
কিন্তু বাঘ কোথায় ঘুমাবে ?
কে ধরে থাকবে বাঘের চেয়ার ?
বলত বলতেই হুড়মুড়িয়ে বৃষ্টি
ম্যাজিক চেয়ারে জল ঢুকে যায়
ভিজে যায় চেয়ারের পা
ভিজে যায় পায়ের চামড়াও
ম্যাজিক আর কাজ করে না
চেয়ার পা ফুলে ঢোল
আমার পা হাজা হাজা
-ম্যাজিক চেয়ার আর কতদিন ?
-এই বয়সে এসে এখনও তা বলে দিতে হবে !
..................................................
বাবার জামা
আজ হঠাৎই বিকেলে
বাক্স খুলে দেখি
বাবার একটা জামা
আকাশের নীল
অনেকটাই মেঘে খেয়ে নিয়েছে
বোতাম সাতটার কথা
আজ আর কেউ বুঝতে পারল না
কলার শোভা পাবার মতো
কোনো রোদ্দুরের গলা নেই
বাবা বলেছিল, রেখে দে পরে পড়বি
ত্রিশ বছর পরে জামাটা এখনও কত বড়।
..................................................
রাস্তা
হাঁটতে হাঁটতে দেখি
আমার সামনে একটা নতুন সম্পর্ক
নিজেকে ছড়িয়ে ছড়িয়ে দিচ্ছে
পিছনে আমার মা
রান্নাঘরে ভীষণ ব্যস্ত
খুন্তি নাড়তে নাড়তে
আমাকে রাস্তা এগিয়ে দিচ্ছে
দুয়ারে পুঁথি লিখতে লিখতে বাবা
চোখের ঈশারায় রাস্তা বলে দিচ্ছে
আমার পা টলতে দেখে
দিদি ঠোঙায় কাই দিতে দিতে
চোখ বড় বড় করে
আমার মনে হয়
মা, বাবা, দিদিতে কিছুটা মন রাখলেই
নতুন সম্পর্কটাকে টিকিয়ে রাখতে পারব ।
..................................................
গল্পকথা
সূর্যাস্তের পর
গল্পের আসল পরীক্ষা
এতক্ষণ যারা
পথ চিনিয়ে আনছিল
বাঁক ঘুরতেই
তারা হাওয়া
যেটুকু জুটেছে চাল
চলে গেছে পথে পথে
এখন ধরেছে যারা
গল্পের হাত
তারা সব খোড়ো চালে থাকে
দুয়ারটা বড় নয় জানি
তবু হাত রয়েছে বাড়িয়ে
নিজে সরে গিয়ে
গল্পের পথ করে দেয়
গল্প যদি
গল্প বলে
যেখানে রয়েছে পা
মাটিতে ছড়িয়ে
..................................................
হৃদয় খুলে
মানিয়ে নেওয়ার আগে
মনে মেনেছ
ভিন্ন কিছু হয় ?
কেউ আকাশ দেখে
বেলা কাটায়
দিন চলে যায়
নদীর জলে জলে
জরুরী খুব
হৃদয় খুলে
নিজেকে ভুলে যাওয়া ।
..................................................
দরজা পেরিয়ে
এত মুখ
কেন এতো কাছে কাছে
কানও তো বেশ
হয়ে আছে খাড়া
মাথায় তো নেই
কোনো ছাতা
তবু কথা আছে
মিলেমিশে !
কথায় কি আছে কথা ?
এসো ভুলে যাই
শোনা কথা
কথার কথা- সব
দরজা পেরিয়ে
পায়ে পায়ে
চলো যাই কাজে ।
..................................................
পায়ে পায়ে
এক পা, এক পা করে
এগিয়ে আসছে কেউ
খুলে নিচ্ছে সবকিছু
মুখ খুললে হাওয়া শুধু
সরে গেছে কথা সব ।
নিজের দিকে তাকাই
সাতসকালেই বদলাতে হাওয়া
লিখিয়ে দিয়েছি নাম
নিয়ম খাতায় জগন্নাথ ।
কথা ছিল এইটাই
শুয়ে যাবে সামনে পিছনে
বাকি দুই পাশ বাধা দেবে
সকালে এসেছে যারা ।
..................................................
গাছ
অনেক পথ পেরিয়ে তবে গাছ
যে পথে কেউ বাড়ায় নাকো পা
সে পথ দিয়েই ধুলোয় ধুলো পা
পথ দেখাবে বলেই পথের বাঁকে
সারাটা দিন অপেক্ষাতে বুড়ো
গুনছে সময় আলো হাওয়ার ঘরে
উল্টো পথে উল্টো হাওয়ার ঝড়ে
হাজার কথায় কল্প দেশের গল্প
চোখেতে নেই মনের হাওয়ায় ভাসে
এত কিছুর পরেও তুমি গাছ
দাঁড়িয়ে আছো আরও সময় যাক
আসবেই সে ধুলোর রঙে সেজে ।
⭐ FOR ANY HELP PLEASE JOIN
🔗 MY OTHERS CHANNELS
🔗 FOLLOW ME
Facebook: facebook.com/molakat
Facebook: facebook.com/afsarnizam
Facebook: facebook.com/samoiki
Instagram: instagram.com/molakat
Instagram: instagram.com/afsarnizam
Twitter: twitter.com/afsarnizam
🔗 MY WEBSITE
🔗 CALL ME
+8801819515141
🔗 E-MAILL
molakatmagazine@gmail.com
No comments