মনের সুখ-বিসুখ ।। মোহাম্মদ হোসেন
সাধের লাউ বানাইল মোরে বৈরাগী – ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে গুণগুণ করে গান ধরলেন নেতা মহোদয়। ব্যাকব্রাশ করছেন চুল। শীততাপ নিয়ন্ত্রিত আলিশান সেলুনে গিয়ে ক্লীন শেভ করে এসেছেন বিছুক্ষণ আগে এবং কাদা লাগিয়েছেন সাদা চুলে। জিন্সের প্যান্টের সাথে পড়েছেন লাল টি-শার্ট। গলায় তো সর্বক্ষণ সোনার চেইন থাকেই। সেই দামী সেন্ট মেখেছেন সর্ব অঙ্গে যার সৌরভে পাগল পাগল হয়ে এগিয়ে আসে যত সুন্দরীর দল, টিভির বিজ্ঞাপনে দেখায়। তাঁর কায়কারবার দেখে মনে হচ্ছে, শিং ভেঙ্গে গরু হয়েছে বাছুর। গান ছেড়ে এবার শিষ দিয়ে সুর ভাজার চেষ্টা করছেন তিনি। তাঁর চোখ দুটো যেন নাচছে উন্মাতাল।
‘ বাহ, খুশিতে আত্মহারা, আনন্দে মাতোয়ারা দেখছি।’
‘
‘ আরে কবি যে! অনেকদিন দেখা-সাক্ষাৎ নেই। আজ কী মনে করে হে?’
‘
‘ তোমাকে নিয়ে একটা কবিতা লেখার বড় সাধ জেগেছে নেতা।’
‘
‘ ইন্টারেস্টিং তো! হঠাৎ এই ভীমরতি কেনরে ভাই?’
‘
‘ শুনেছি প্রতিপক্ষ লোকদের পুলিশ দিয়ে পিটিয়ে, চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে একেবারে হাড়গোড় ভেঙ্গে দিয়েছ। দারুণ শৈল্পিক বীরত্ব নাকি দেখিয়েছ তুমি।’
‘
‘ এ আর এমন কী।’, বড় বিনয়ী জবাব নেতার।
‘ তাই বুঝি খুশিতে এত বাকবাকুম?’
‘
‘ আজ মনে বড় সুখ পেয়েছি কবি। এখন আমার রাস্তা অনেকটাই ক্লিয়ার।’
‘
‘ তো এখন যাচ্ছ কোথায়?’
‘
‘ গন্তব্য তো বৃন্দাবন হে। আমার ছেলেরা আজকের বিজয়কে সেলিব্রেট করার জন্য একটা পার্টির আয়োজন করেছে। প্রথমে তাদের সাথে তাল মেলাব, নাচব গাইব গলা ভেজাব। তারপর আমি হব কৃষ্ণ বাকী সময়ের জন্য। এই বলে নেতা আবার সুর তুললেন গলায়, কৃষ্ণ আইলা রাধার কুঞ্জে ফুলে বাইলা ভ্রমরা…।’ এই পর্যন্ত গেয়ে থামলেন নেতা। কবির দিকে চেয়ে লোভ দেখালেন তাকে,‘ কবি, যাবে নাকি? আমার চেয়েও ভাল ও সরস মাল-মসলা পাবে।’ তারপর কবির কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিসিয়ে নেতা বললেন,‘ চল না হয় একটাকেই শেয়ার করে নেব দুই বন্ধু। ভাগে তো আর কম পড়বে না। কী বল?’ কথা শেষ করে নেতা হাসতে শুরু করে দিলেন উচ্চস্বরে।
কবি আক্ষেপ করে বললেন,‘ তুমি বুঝতে পারছ না নেতা কী ভয়ংকর অসুখ গেড়ে বসেছে তোমাদের মনে।’
কবির কথাগুলো হজম করতে ব্যর্থ হলেন অধ্যাপনা পেশায় ইস্তফা দিয়ে রাজনীতিক হওয়া নেতা মহোদয়। হঠাৎ হাসি থামিয়ে তিনি চুপ মেরে গেলেন এবং এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন কবির দিকে। কিছু যেন বলতে চাইলেন তিনি, বা প্রতিবাদ করতে চাইলেন বন্ধুর কথার। কিন্তু তৎক্ষণাৎ কোন রা বের হল না তাঁর মুখ দিয়ে। তিনি যেন ফিরে গেলেন রাজনীতিক হওয়ার আগের অবস্থায়। সেই মানসিকতাই যেন দখল করে নিল তাঁকে। কিছুক্ষণ পর কবির কাঁধে হাত রেখে বললেন,‘ আমার ধর্ম-কর্ম সব গেছে বন্ধু। এমন ধন পেলুম, স্বর্গ ফেলে নরকে গেলুম। এখন একটাই চিন্তা খেলা করে মাথায়, ক্ষমতা। যে করেই হউক, প্রয়োজনে ষড়রিপুর সম্পূর্ণ বশীভূত হয়ে হলেও আমাকে আরও বড় হতে হবে। ক্ষমতার আরও কাছাকাছি থাকতে হবে। ক্ষমতার যত কাছে থাকি নিজেকে ততই নিরাপদ মনে হয় আমার। ক্ষমতা হচ্ছে গিয়ে গরমের পাখা, শীতের চাদর আর বর্ষার ছাতা।’
⭐ FOR ANY HELP PLEASE JOIN
🔗 MY OTHERS CHANNELS
🔗 FOLLOW ME
Facebook: facebook.com/molakat
Facebook: facebook.com/afsarnizam
Instagram: instagram.com/molakat
Instagram: instagram.com/afsarnizam
Twitter: twitter.com/afsarnizam
🔗 MY WEBSITE
🔗 CALL ME
+8801819515141
🔗 E-MAILL
molakatmagazine@gmail.com
#গল্প
#ছোটগল্প
#সাহিত্য
#বাংলাসাহিত্য
#মোলাকাত
#সাহিত্য_ম্যাগাজিন
#মোলাকাত
#সাহিত্য_ম্যাগাজিন
#ওয়েব_ম্যাগাজিন
#Molakat
#ShortStory
#Story
#Literature
#Bengali_Literature
#মোহাম্মদ_হোসেন
No comments