বৃত্তপথ ।। আবদুশ শাকুর

 
ভুল করে পস্তাতো আবদুল। পস্তিয়ে ফের ভুল করতো। আসলে এটা ভুলের দোষ নয়, ভোলানোর গুণ। আবদুল দোষী নয়, ময়না গুণী। যৌবনের আদিম চার ফেলতো ময়না। পেয়াদা পাঠাতো আবদুলকে বাঁধতে। ভুলে ভুলে বাঁধা পড়তো ও। পড়েই পস্তাতো। তাই, যৌবনপোরা এই চারের মাঝবিন্দুতে যে প্রাগৈতিহাসিক টোপটি ময়না লুকিয়ে রাখতো লভ্য করে, সেটি গিলে বসার মতো চূড়ান্ত ভুল কোনোদিন করেনি আবদুল। সেই নিষিদ্ধ ফলটি খেয়ে ফেললে তাদের স্বর্গ-বাস শেষ হতো অনেক আগেই।
 
পৃথিবী জুড়ে নাকি এক তৃতীয় কান আছে, সব কথা যার শোনা। থাকলে সে-কান সেদিন শুনেছে, কথা কেমন করে সুড়সুড়ি হয়। বাজার বলতে এসে আবদুলকে কথার ওমে ঘামিয়ে ফেলেছিল ময়না। কথার সেঁকায় গলিয়ে নিয়েছিল প্রায় :
 
এই ছ্যারা! বাজার লইয়া আয় গা- ’
 
এসব কথা সে বলে নকল মালিকের ঢঙে : চোখ রাঙিয়ে, নাকের ডগার দুপাশ উঁচিয়ে। এরা ওর পেয়াদা, আবদুলকে কাছে ডাকে। আবদুলও সাড়া না দিয়ে পারে না :
 
আমারে ছ্যারা কইলি, কালকার ছেরি তুই!’
 
দুহাতের চেটোয় ময়না আলগোছে দুটি টোকা মারে ওর ভরাট দুই গালে। জিভ চুকচুকায়। যেন পস্তায়। আসলে পুরুষকে দগ্ধায় :
 
আচ্ছা ছ্যারার বাপ! একটা মাছ, দুইসের আলু, আধাসের পেঁয়াজ আর এক আনার কাঁচা মরিচ আনবা।
 
আবদুলের চোখ জোড়া যে জোড়াসনে বিঁধে থাকে সেখানে খাটো আঁচলখানি আরো টেনে দেবার ভান করে ময়না।
 
কালো মুখ টিপে, আরো কালো- মোচের ফাঁকে হাসে আবদুল। সে বোঝে যৌবনের চার তাকে টানছে, ময়নার পেয়াদারা তাকে বাঁধছে। নেশায় টলটলায় আবদুল। পা টলতে চায়, যেন মেয়েটির অঙ্গখানি অবলম্বন না করলে পড়েই যাবে সে :
 
আচ্ছা যাই ছেরির মা। তয় যাওনের আগে একখিলি পান খাওয়াইবা ছ্যারার বাপডা রে?’
 
আহা রে আমার ছ্যারার বাপ রে! বিটলাডা!’
 
থলে আর টাকাটা ফেলে, উঠে-পড়ে ধায় ময়না।
 
আবদুল বুঝলো, সে ভুল করেছে। এবং পস্তালো।
 
পৃথিবী জুড়ে নাকি এক তৃতীয় মন আছে, সব ভাবনা যার জানা। থাকলে সেই মন জানে- ছুটন্ত ময়নার উথাল পাথাল দেহের পিঠে লোলুপ চোখ দুটি গেঁথে আবদুল সেদিন বেশি ভিতরের কিছু ভাবেনি। শুধু ভেবেছিল তার ভুলের কথা, আর ময়নার ভোলানোর কথা। সে ভোলে কেন আর ময়না ভোলায় কেন। তারা তো শুনেছে তাদের প্রথম মা-বাপের কেচ্ছা। সুখের দেশে ছিল। নিষিদ্ধ ফল খেল আর কালাপানি হয়ে গেল- দুখের দেশে এলো। এও তো শুনেছে ময়না- আবদুলের আদি মা- ভুলটা করিয়েছিল তাদের আদি বাপকে দিয়ে। ময়নারা এতো উন্মাদ-অবুঝ-দুর্বল কেন। এসব ভেবেছিল আবদুল। আর সুখের রাজ্য থেকে নির্বাসনের ভয়ে আঁতকে উঠেছিল। আরেক দফা শপথ করেছিল, ময়নার দিকে আর চাইবে না। তার কথা শুনবে না, তাকে কিছু বলবে না। হাজার মাদক গন্ধ ছড়াক ওর যৌবন, সে শুঁকবে না। ওতে নেশা ধরে, বেহুঁশ হয় মানুষ। চোখ কান নাক মুখই যত বিনষ্টির মূল। এদের শাসিয়ে ভুলের পথ বন্ধ করবে ও। পস্তানোর শেকড়গুলোই কেটে দেবে সে।
 
আবদুল সেদিন ভেবেছিল শুধু ময়নার কথা আর নিজের কথা- তাদের পুরানো কথা। ময়না। কালকের এক মুঠো ময়না। এক খামচি মাংস ছিল না সারা গায়ে। তারই মতো কুড়িয়ে আনা। ভেতরবাড়ির কাজের জন্য এনেছেন সায়েব। আবদুলের গোঁফ কালো হয়ে গেছে। তাকে আর অন্দরমহলে রাখা যায় না। এক কণা মেয়ে। আঠারো বছরের আবদুল তবু চুপসে গিয়েছিল, নির্বাসনের ভয়ে। -বাড়িতে কাজ করছে সেই বাসন ধোয়া থেকে গাই দোয়া পর্যন্ত। আবদুলের রাজ্যে কোনো দ্বিতীয় ছিল না। মায়না-বেতন বলতে কিছু ছিল না, পেটে-ভাতে খাটতো। একটু সেয়ানা হতে, কাম কাজে পাকতে, মা বোনের নামে নামমাত্র একটা মাসোহারা ধরে দিয়েছিলেন তার আম্মা, বিবিসাব। আবদুলের আব্বা, সায়েব বলেছিলেন গোঁফ দাড়ি ভালো করে গজিয়ে গেলে অফিসে একটা পিওন-চাপরাশির কাজে তাকে লাগিয়ে দেবেন। এঁরা আবদুলের মা-বাপ। তার সুখের রাজ্যের রাজা-রানী।
 
কিন্তু একবিন্দু মেয়েটা-না গুলিয়ে দেয় সব। আবদুলের শত্রু সে- তাকে হটিয়ে না দেয়। তবে আম্মা বড় ভালো মানুষ। গাইটা আছে, বাছুরটা আছে। সবজি ক্ষেত আছে, বাজার আছে। বাহির-বাড়ির কাজের জন্য রেখেই দেন আবদুলকে। বিনা দোষে দেশান্তর করবেন কেন তাকে। আবদুলেরও তাই সাধনা, দোষটা যেন না হয়, ভুলটা যেন না করে। কেন সে জন্মেছিল, কোথায়ই বা ভেসে যাচ্ছিলো, সে জানে না। তবে এটা বোঝে যে- আবার অজানার উদ্দেশ্যে ভাসতে হলে, তার জন্যে এবার তাকেও দায়ী থাকতে হবে।
 
সেই শত্রু বেড়ে উঠে এখন তাকে ধরে ফেলেছে- আবদুলকে যদি দাড়ি কামাতে হয়, ময়নাকেও শাড়ি প্যাঁচাতে হয়। ময়না ছিল নিরস্ত্র, এখন তার অঙ্গে অঙ্গে মারণাস্ত্র। আপন গৃহে শত্রু ছিলো না আবদুলের। এখন তার সারা দেহে দুশমন।
 
দেহ তার মনের আগলটাই ফাঁক করে দিতে চায় ওই শত্রুকে। তাই এতো চোকান্না থাকে সে। ময়নাদের কি, ঠেস দিতে পারলেই হল। ঠেকিয়ে রাখার ভাবনা তো আবদুলদের। তাই তো সে ভাবে। ময়না ভাবে না।
 
পৃথিবী জুড়ে নাকি এক তৃতীয় চোখ আছে, সব দৃশ্য যার দেখা। থাকলে সে চোখ দেখেছে, সবজি খেতের কোণে কুমড়োর মাচার আড়ালে আবদুল ইচ্ছা করে আঙুল ছোঁয়ায়নি ময়নার আঙুলে সেদিন। তৃষ্ণা ঘোষণা করেছিল সে। দাঁড়িয়েও ছিল অন্দরবাড়ির দরজায় অনেকক্ষণ। সাড়া না পেয়ে ফিরে এসে কাজ ধরেছে ফের। কিছুক্ষণ পর পানি হাতে খেতের কোণেই চলে এসেছিল ময়না। ঘাবড়ে গিয়ে কোদালটা ফেলে ঢকঢক করে পানি গিলছিল আবদুল।
 
বাব্বা, মর্দের তিরাস কত!
 
ওমা, মুখডা কত বর!’
 
আহা! রঙডা কি, পাইল্যার তলা যেমন!’
 
তোমারে ধুইয়া খাইবার কয় কেডা?’
 
এতক্ষণ সয়ে ছিল আবদুল। কিন্তু মুখ না খুলিয়ে ছাড়বে না ময়না। এবার আবার খিল খিল হাসিও ছোটে। হাসিতে আহ্লাদী বাঁকে, যেনবা ভাঙেও। কিন্তু সারাটা দেহ এমন করে কাঁপায় কেন ময়না। আবদুলের পাথুরে পেশীগুলিই বা নড়েচড়ে ওঠে কেন! কেমন জাতসাপের মতো কিলবিল আর হিলহিল করে ধেয়ে আসে মেয়েটা- ছোবলই মেরে দেবে নাকি আজ! আবদুলের বুকের বিরাট ছাতিটা হাপরের মতো ঘন ঘন ওঠানামা করে ভিতরের আগুনটাকে উস্কিয়ে লালে লাল রঙে দাউ দাউ করে ছড়িয়ে দিচ্ছে চতুর্দিকে। তবু সে মুখে বলে :
 
কইলজাডা ঠাণ্ডা কইরা দিছ ময়না!’
 
ইস! সুখ কত! আমার কইলজা ঠাণ্ডা করে কেডায়?’
 
পানির বাটি নিয়ে ফিরে যাবার সময় আবদুলের আঙুলে একটা টিপ দিয়ে গিয়েছিল ময়না। আর এইটুকুতেই এতো বড় মর্দ সামান্য ছুঁড়িটাকে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চাইলো। তবে পলকেই ভুলটা বুঝতে পেরে নিরাপদ দূরত্বে সরে গেল, পস্তালো। ময়নাও পালালো। এইভাবে মেয়েটা লালচায় আর ছেলেটা সামলায় নিষিদ্ধ ফলের লোভ; সামলায় অবশ্য আরেক লোভে- প্রতিশ্রুত ভূমের, সুখের দেশের।
 
অবুঝ কন্যা ময়না যেন কূল ছাপানো বন্যা। খালি ছলকে পড়তে চায়। কোথায় পড়বে সেটা জানতে চায় না। সে শুধু বোঝে যে, একটা পুরুষ তার দরকার এখন এবং তা জোগাবার সরঞ্জামও জোগাড় হয়ে গেছে। কিন্তু এটুকু বোঝে না যে তার পুরুষ-ধরা কলে আবদুল কাবু হয় না কেন। ময়না শুধু ভাবে যে এবার একটা দেহের আশ্রয় তার লাগবে। এটুকু ভাবে না যে তার জন্য অধৈর্য হলে গৃহের আশ্রয় হারাবে।
 
সায়েব যে আশা তাকে দিয়েছেন আগে সেটাকে তা দিয়ে ফুটিয়ে তুলুক আবদুল। তারপর সব হবে- তার সম্প্রসারিত শরীরের সংস্থান আর সেই সঙ্গে ময়নার বিবর্ধিত শূন্যতার পূরণ- সব।
 
সেদিন মায়নাটা নিয়ে ঘর থেকে বেরুতেই ডাক দিলেন সায়েব :
 
আবদুল!’
 
ধক করে থেমে গিয়ে ফের চলতে শুরু করে আবদুলের হৃৎপি-টি। আম্মাও রয়েছেন। ময়নার কথা বলবেন? যা বাড়াবাড়ি শুরু করে দিয়েছে, কদিন আর চাপা থাকবে। মাথা ঝুঁকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে আবদুল।
 
মায়না নিয়ে করিস কী? এখানে তো কোনো খরচ নেই তোর।
 
খবর কাগজ থেকে মুখ না তুলেই জিজ্ঞেস করেন সায়েব, তার আব্বা।
 
মায়ের কাছে পাঠাই।
 
কেন -টাকা টা না পেলে চালাতে পারে না তোর ভাই?’
 
মুখটা ফর্সা হয় আবদুলের। যাক খারাপ কোনো ভুলভ্রান্তির কথা নয়।
 
যা পাঠাবি সবি তো পেটে দেবে। সামনে তোর বোনটার বিয়েশাদি আছে, তোর আছে। কোনো দরকার হলে নগদ টাকা পাবি কোথায় তখন?’
 
বলেন আবদুলের আম্মা। তিনি কী যেন বুনছিলেন।
 
বরং তোর বেতনটা নিজের কাছেই জমিয়ে রাখ। গরজের সময় যেমন বের বরে দিতে পারিস।
 
তা অইলে আপনেগো কাছেই রাইখা দেন আম্মা। গরজের সময় চাইয়া লমু।
 
এখন পরিস্কার কথা ফোটে আবদুলের মুখে।
 
যা। বাগানটা, গরুটা ঠিকমত দেখিস কিন্তু।
 
এটা একটা কথার কথামাত্র, দোষের কথা নয়- আবদুল বোঝে, তাইজী আচ্ছাবলে খসে পড়ে খুশি মনে।
 
কঠিন এক পরীক্ষা পার হয়ে যায় আবদুলের। এঁরাই তার আসল মা-বাপ। তার জীবনের খুঁটি। তার কাজে খুশি। ময়না কেন কুড়োল মারতে চায় তার পায়ে, নিজের পায়ে। না, আচ্ছাসে বকে দিতে হবে ওকে। এখনো ভরসার বীজটি নিখুঁত আছে। যতেœ রাখতে পারলে অঙ্কুর হবে। অঙ্কুর থেকে পাতা। তারপর শাখা, উপশাখা কতো। সেই গাছের ছায়ায় আবদুল বাঁচবে। বউ-ছেলেপুলে নিয়ে, সুখস্বর্গের সুখী সদস্য হয়ে। নিশি-পাওয়া পথিকের মতো ঘুরতে হবে না কোনো বৃত্তপথে, সারারাত ধরে পথ হেঁটে হেঁটে সকাল বেলায় সেই একই বিন্দুতে।
 
সেই দুনিয়া জোড়া কান সাক্ষী, ময়নার সঙ্গে আর কথা বলেনি আবদুল। সেই জগত জোড়া চোখ সাক্ষী, তাকে আর ছায়া মাড়াতে দেয়নি সে। ফলে উদ্দাম উচ্ছল রমণীটিও যেন সন্ন্যাসিনী হয়ে গিয়েছে- অভিমানে কি অপমানে। ময়নার এই হিসেবী হয়ে যাওয়া নির্জীব করে দিয়েছিল আবদুলকেও। সকালবেলা চোখদুটি ওকে একটিবার দেখতে পেলে, হাতদুটি সারাটা বেলা দ্বিগুণ শক্তিতে খেটে যেতো। এবার অবশ্য আবদুল বুঝে নিয়েছে ওর পেশিতে যত প্রাণ, কব্জিতে যত বল; সব মূলত ময়নারই দান। না হয় হাতের কোদালটা মাটিতে গাড়তে চায় না কেন? শত্রুটা সত্যি তাহলে শুকিয়ে মারতে পারে তাকে।
 
তবে কি আবদুলের মনের দুয়ারটা খুলেই দিল তার শত্রু? যে এখন পরের দখলে। তাহলে ময়নার আদিম চার, আদিমতর টোপ, নির্বাসন- সবই কবুল করে নেবে আবদুল?
 
শেষ ভুলটিও করে বসবে সে? এবং পস্তাতেই থাকবে?
 
সেই তৃতীয় কান শুনে থাকবে।
 
একদিন ভাতের থালাবাটি রাখতে রাখতে কেমন যেন গোপন গলায় শ্রবণযোগ্য গজর গজর করেছে ময়না :
 
আহা! এই মাদীডারে বিয়া করণের লাইগা কইলজাডা যে আমার জ্বইলা যায়!’
 
কেডা কইল?’
 
অনেকদিন জমে থাকা রক্তগুলি যেন বেতালে ছুটতে শুরু করে আবদুলের চিমসানো শিরাপথে।
 
কেডায় আর, তোমার আম্মায়- ’
 
চলে যেতে যেতে মুখ না ফিরিয়ে জবাব দেয় ময়না।
 
কী কইল? এই ময়না! নুন দিলা না? এই!’
 
ফিরেও তাকায়না ও। লবণের ছুঁতোটা বাজে, ময়না জানে।
 
সেই তৃতীয় মনটি জানে, ময়নার বানানো কথা নয় এটা। আবদুলের আম্মা-আব্বা সাব আর বিবিসাব তার ওপর সন্তুষ্ট। তার আখের ভাবেন তাঁরা। ময়নার সঙ্গে বিয়ের কথা ইশারা ইঙ্গিতে আলোচনা করেছেন। গায়ে গায়ে থাকে বলে কথাটা ময়নার কানে গেছে। একটু খোলামেলা শুনেছে বড় আপার কাছে। আর আবদুলের কানে তোলার জন্য ধড়ফড়িয়েছে। গা-ছমছম-করা খবর। একা একা ভেবে ঘেমেছে। একদিন ওই কোণের খড়ের ঘরটিতে রাতের আঁধারে এই ডাকাত মরদের কাছে একা থাকতে হবে। হাতে পায়ে ঝিম ধরেছে, পুলক লেগেছে। তাই পুলকের একটুখানি হিস্যে দিতে চেয়েছে আবদুলকে।
 
আবদুলও বাতাসের কাছে শুনেছে। এখানেই রাখবেন দুজনকে। ভেতরবাড়ির কাজ করবে ময়না। আর অফিসে নাম লিখিয়ে আবদুলকে তাঁর আর্দালি করে নেবেন সায়েব। বাজারসদাইটা, সময়মত কিছু এটা-ওটা করে দেবে ও। দুজনেই খাবে বলে আলাদা বেতন পাবে সামান্যই। বিয়ের টুকিটাকি চলে যাবে আবদুলের জমা টাকায়।
 
আবদুলের জীবনের বীজটির মুখ ফেটেছে, কুঁড়ি দেখা দিচ্ছে। আস্তে আস্তে মঞ্জরিত হবে। পাপড়ি মেলবে, ফুল হবে, ফল হবে, ফের অনেক বীজ হবে, আরো কত কি হবে।
 
 
 
কাজ বেড়েছে। বাড়লেও গায়ে লাগে না। আবদুলের এখন শিকড় গজিয়েছে। শক্ত হয়ে দাঁড়াতে পারে সে। ময়না হেলান দিলেও সইতে পারে। আরো কাজ বেড়েছে। পরীক্ষা-শেষ ছুটিতে সায়েবের ছেলে-মেয়েরা বাড়ি এসেছে। বাড়িঘর এখন গমগম করে। মাস দু-তিনেকের জন্য সরগরম থাকবে। কাজ বেশি থাকবে। বেশি মানুষের ফরমাশ খাটতে হয়। দিনে একবার দেখা হয় না ময়নার সঙ্গে। তবু ক্লান্তি বোধ হতো না আবদুলের, যদি ময়না না বদলাতো। শোধ নিচ্ছে ও। ফিরে তাকায় না, কথা বলে না, হাসে না। বিয়েশাদির কথায় পুলকের আবেশে মেয়েদের চোখে-মুখে যে রঙ লাগে, সে আরেক রঙ।
 
তোয়াজ করেছে আবদুল। আড়ালে পেয়ে জিজ্ঞেসও করেছে খোলাখুলি :
 
আমার লগে বিয়ায় তোমার মত নাই ময়না?’
 
না।
 
সাফ জবাব দেয় ময়না, নাকের সুড়ঙ্গ ফাঁপিয়ে।
 
ক্যান?’
 
ঘড়ঘড়ে গলায় তবু প্রশ্ন করে আবদুল।
 
তোমার মত না-মরদের লগে ঘর করবো কোন মুর্দায়?’
 
খপ করে ময়নার হাত চেপে ধরে আবদুল। গনগনে চুলোর ধকধকে কয়লা হাতের চেটোয় ফুঁ দিয়ে কলকে সাজায় ও। কই, ময়নার নরম হাতের এই জাহান্নামি আঁচ তো অনুভব করেনি কোনোদিন। গোটা শরীরের ওজন নিয়ে ময়না ঝুঁকে পড়ে আবদুলের হাতের ওপর। চলন পরখ করবার জন্য কানের খুপরিতে চেপে ধরলে হাতঘড়িটি যেমন টিকটিকায়, ময়না-আবদুলের হৃৎপি- দুটিও তেমনি ধুকধুকায় দুই কানের চোঙের ওপর। উষ্ণ একটি মুহূর্ত, পূর্ণ একটি জীবন, আর ক্ষিপ্র একটা ঝটকা। ছিটকে পড়ে চাপা তর্জন করে ময়না :
 
চায় ক্যামনে, দুশমনের মত! কেউ যদি দেইখা ফালাইত অহন?’
 
রাত্রে আইসো কেউ দেখব না- ’
 
আবদুলের এই ঢঙের চোখ আর দেখেনি ময়না। তাই চোখ নামায় না!
 
ইস! বেডার হাউস কত!’
 
দুধের বালতিটা হাতে তুলে নিয়েও দাঁড়িয়ে থাকে আবদুল। পা এগোয় না বাহিরবাড়ির দিকে। ভেতর বাড়িতে ঢুকে দরজাটা টেনে দেয় ময়না। আবার একটুখানি খোলে, তারপর বন্ধ করে পালিয়ে যায়। আবদুল সেদিন আর ভুলের ভয়ে পস্তায়নি। বরং ভেবেছে- পাঁচে-এক একান্ন টাকা মায়না আর একে-পাঁচ পনের বছরের ময়না। আবদুল এখন সুখীদেশেরই একজনা।
 
হঠাৎ শরীর ভেঙেছে আবদুলের। দুদিন থেকে বেশ গা গরম হয় রাত্রের দিকে। সকালের দিকে জ্বর ছেড়ে গেলে গোটা দুই কুইনিন গিলে ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে কাজ করে যায় সারাদিন। গাই-বাছুর তো উপোস মরতে পারে না। আবার বিকেল গড়াতেই গা হিম হয়ে আসে। আর সন্ধ্যা হতেই কাঁথা মুড়ি দিয়ে আবদুল খড়ের ঘরের মেজেয় এপাশ-ওপাশ করে, কাতরায়। ক্ষেতের কাজ-টাজ মানা করেন তার আম্মা-আব্বা।
 
ময়না জানে সব। চোখের সামনে দেখে, আর তার বুকের ভেতর মোচড়ায়। কিন্তু লম্বা শ্বাস ছেড়ে বুকটা হালকা করার উপায়ও তার নেই। রাতভর শুধু এপিঠ-ওপিঠ করে সে।
 
একদিন দুদিন করে চারদিন পার হয়ে গেল। সারলো না। আর মানলো না ময়না। মাঝরাতে বেরিয়ে গেল চুপি চুপি। খোলা ঘরের দাওয়ায় ককাচ্ছে আবদুল।
 
কপালে ঠাণ্ডা হাত লাগলো।
 
কেডা? ময়নাডা?’
 
এহ্! গাওডা যেমন পুইরা যাইতাছে! খাইছিলা কিছু?’
 
কিছ্ছু মনে লয়না খাইতে। মুখডা তিতা অইয়া গেছে। ক্যামনে আইলা এত রাইতে?’
 
না আইয়া তোমারে আমি একা একা মরতে দিমু?’
 
ময়না রে, আমি কি বাঁচুম?’
 
ক্যামনে মুখে লও এমন কথা? কত বর ব্যারাম থেইকা মানুষ বাঁইচা উঠে না?’
 
ময়নার শীতল হাতখানিকে আবদুল জোরে চেপে ধরে কপালে, কপোলে, বুকে। তবু তাপটা যেন একটু কমে।
 
আম্মা যেমন হাসপাতালে পাঠাওনের কথা কইতাছিল- ’
 
হাসপাতালে?’
 
হ। তুমি যাইও না। হুনছি হাসপাতালে গেলে মানুষ বাঁচে না-’
 
আমার লাইগা হক্কল জাগাই সমান ময়না। আমারে দেখবার কে আছে দুনিয়ায়- ’
 
এমন কথা কোনোদিন বলেনি আবদুল, এমন নিঃশ্বাসও কোনোদিন ছাড়েনি ময়না। বিহানরাত পর্যন্ত ন্যাতা ভিজিয়ে রোগীর কপালে জলপট্টি দেয় সে, একনিষ্ঠ সেবিকার মতো।
 
পরের রাত্রেও এসেছিল ময়না। হাতে এক বাটি সাগু। চুলোর কাজ শেষ করার আগে জ্বাল দিয়ে রেখেছিল। সাগুর পানিটুকু কোনো রকম গলা দিয়ে নামিয়ে আবদুল সে-রাত ময়নাকে বুঝিয়ে দিয়েছিল :
 
তুমি আর আইসো না ময়না। জানাজানি অইয়া গেলে আমগো তামাম আশা ভরসা শেষ অইয়া যাইব-’
 
তুমি সাইরা লও আগে। আমি বর বুবুরে ইশারা দিমু। এমনে আর কয়দিন থাকন যায়-’
 
ছিঃ এমন কাম করবা না। তারা আমগো আদর করে- আমগো মনের দুখ্খ অ্যামনেই বুঝবো।
 
ময়না যাবার পর সেদিন পস্তিয়েছিল আবদুল, ময়নার রকম অস্থির আনাগোনার জন্য- সাগর সেঁচে এনে এখন যদি কপাল ভাঙে? তবে উপরওয়ালা তো দেখেছে তারা কোনো ভুল করেনি। কিংবা কোনো পাপও ছিল না তাদের মনে।
 
আবদুলের তাড়ায়, উৎকণ্ঠায়, জলদি জলদি ফিরে এসেছিল ময়না। তার ছোট্ট ঘরটার চোকাঠে পা দিয়েও ময়না জানেনি- পরের পা-খানি তার কোন পাতালে গিয়ে ঠেকবে। কোন আজরাইল সেখানে ওত পেতে আছে তার আর আবদুলের কলজে জোড়া হেঁচকা টানে ছিঁড়ে নেবার বদখেয়ালে। এতো চোকান্না থেকে, এতো পস্তিয়েও পারলো না বেচারা। আবদুলের জীবনের একটিমাত্র ভরসার বীজ যে-কুঁড়িটি অঙ্কুরিত করেছিল, তাকে থেঁৎলে দলে দেবার জন্য দুটি পা সেখানে উদ্যতই ছিল।
 
পা দুখানি ছোট সায়েবের।
 
আবদুলের ঘরে রাত কাটাস, না?’
 
তাহলে ময়নাই ধাক্কাটা দিল আবদুলকে। কোন দেশে ছিটকে পড়বে বেচারা কে জানে!
 
ঝুপ করে বসে পড়ে সায়েবের পা দুখানি জড়িয়ে ধরে ময়না :
 
খোদার কসম ভাইয়া- ’
 
চুপ মিথ্যুক, আমি সব জানি- কাল রাতও তুই আবদুলের ঘরে কাটিয়েছিলি- ’
 
তারপর বসে পড়ে ছোট সায়েব তার কম্পিত দুই হাতের কোষে ময়নার মুখখানি তুলে নিয়ে কানের কাছে মুখ নামিয়ে ধমক দেন :
 
একটু লুকাবি তো বাবাকে বলে দেবো- খুলে বল, আবদুলের সঙ্গে সারারাত কী কী করিস- ’
 
আল্লার কসম-’
 
ঠিক আছে, না বলতে চাইলে না বলবি। খালি আমি যা বলি শুনে যাবি চুপ করে। আর একটু মুখ খুলবি তো দুটোরই ছাল তুলে ঝেঁটিয়ে বের করে দেবো বাড়ি থেকে!’
 
আলগা হয়ে যায় ময়নার হাত মুনিবের পা থেকে। কেঁপে কেঁপে ওঠে তার চুল থেকে নখ পর্যন্ত।
 
আদিম চার ফেলে ঝোঁকায়নি, প্রাগৈতিহাসিক টোপ দিয়ে ভোলায়নি, খালি বিধান পেয়েছে নিষিদ্ধ ফল খাবার। বিধান দিয়েছে ময়না-আবদুলের সুখীদেশের রাজকুমার। এদেশে থাকতে হলে, বিধেয় ফল খেতে হবে।
 
খাবে ময়না, তবু আবদুলকে নির্বাসন দিতে সে পারবে না। ওর সঙ্গে যে তারও আঁচল বাঁধা। -ফল এখন তাদের ওষুধ। নিজের ভুলে যে সর্বনাশা ব্যাধি সে ডেকে এনেছে- তারই চিকিৎসাপত্রে লেখা ওষুধ। তেতো ওষুধও খেতে হয় বাঁচতে হলে। সেখানে কিছু নিষিদ্ধ নেই। সবই বিধেয়।
 
ময়না বাঁচবে, আবদুলকে বাঁচাবে।
 
সেই দুনিয়া জোড়া চোখ দেখেছে ময়না ভুল করেনি। ভুল শুধরেছিল মাত্র- আবদুলকে যাতে পস্তাতে না হয়।
 
সেরে উঠেছে আবদুল। উঠবে। অজান্তে তার জন্যে যে কবর খুদে ফেলেছিল ময়না, সেটা সে দেহ পেতে ভরাট করে দিচ্ছে। দেবে।
 
আবদুলকে আর দেখেনি ময়না। সেই যে নিচু হয়েছে তার চোখ, আর ওপরে ওঠেনি। খুশি হয়েছিল আবদুল, তার অবুঝ ময়নার বুঝ হয়েছে ভেবে। আর তাদের ভুলের আশঙ্কা নেই। ময়নাও চোকান্না। তাহলে আবদুলরা মুক্তি পেল বৃত্তের ধাঁধা থেকে। পেরিয়ে এলো সেই বৃত্তপথ যে-পথের গোলকধাঁধায় সারা নিশি পথ চলে অভাগা পথিক। কিন্তু ময়নার ভুল যেন সারবার নয়। কত মেয়াদ চিকিৎসার, আর কতদিন সেবন করতে হবে ওষুধ? না কি চিকিৎসা আর হবার নয়। অবশেষে অতিষ্ঠ ময়না চোখ রাখে আবদুলের চোখে। কিন্তু আবদুলের চোখ দুটো কপালে উঠে যায় বিস্ময়ে :
 
ব্যারাম অইছে নাকি ময়না? এইরকম অইলদা অইয়া গেছো ক্যা?’
 
তুমি আমারে লইয়া যাও এহান থেইকা।
 
বিভ্রান্ত হয় আবদুল।
 
কও কি পাগলের মতন, আম্মায় বকছে?’
 
বকবো ক্যান, আমার আর মন লয় না এমনে থাকতে। বিয়াশাদি কিছছু না আমি বুঝছি। চল আমরা ভাইগা যাই।
 
মাথা খারাপ অইছে তোমার-’
 
বিরক্ত হয় আবদুল :
 
‘- এহান থেইকা গিয়া আমরা খামু কি, থাকুম কই?’
 
তোমার কি, ঠ্যাঙের উপর ঠ্যাঙ তুইলা থাক। খাও, ঘুমাও। যার যায় হে বোঝে।
 
আবদুল বুঝেছে, ছোট সায়েব-আপা কেউ বকাঝকা করে থাকবে। বয়স কম তাই মাথা একটু গরম। এসব বুঝতে হয়। বোঝায় ময়নাকে। ওরও তো বয়স কমই।
 
যে রাগ করব, করব। আমরার কি। আম্মা-আব্বায় আমগো আদর করে। আমরা তাগো গোলাম। তারারে খোশ রাখন আমরার কাম। যাওগা, পাগলামি কইরো না-’
 
যেমনি ক্ষেপে এসেছিল, তেমনি ক্ষেপে চলে যায় ময়না। তার চিকিৎসার বদল নেই। বদল দেবেও কোত্থেকে আবদুল। তার কাছে তো -বিধানের বদল চাওয়া যায় না। ময়নাও কি দুকূল হারাতে পারে?
 
পুরো সেরে উঠেছে আবদুল। এখনো ঘুম হয় না ভালো। ময়নার কথাই ভাবছিল। বড় অস্থির মেয়েটা, এই ওর দোষ।
 
না, কোনো দিন মুখ খুলে কিছু বলেনি ও। তবে এবার ইঙ্গিতে একটু মনে পড়িয়ে দেবে তার আম্মা-আব্বাকে, তার নয়া চাকরিটার কথা। এর মধ্যে ময়নার ইঙ্গিতটাও কি থাকবে না? এখনি শরম পায় আবদুলের। ময়না মেয়েটা বড় ভালো। সময় সময় কতো মোলায়েম। কী সেবাটা তার করেছে পরপর দুটি রাত জেগে।
 
খুট করে দরজায় একটা শব্দ হতে বিষম খুশি হয় আবদুল, লম্বা হায়াত ময়নার।
 
কেডা? ময়না- ’
 
নীচু স্বরে ডাক দেয় আবদুল :
 
‘- তোমার হায়াত মেলা ময়না- ’
 
ময়নাকে নিয়ে রাত কাটাস, না? আমরা কিছু দেখি না মনে করিস?’
 
ধড়মড়িয়ে উঠে যায় আবদুল। খড়ের ঘরে তার আগুন ধরে গেছে। চারপাশ থেকে আগুনের ছ্যাঁকা লাগছে গায়। আবদুলকে ঘিরে আগুনের হলকা। ভস্ম হয়ে যাবে ও। কেমন করে নেভে -আগুন? হুমড়ি খেয়ে পড়ে আবদুল ছোট আপার পায়ের সামনে :
 
আপনার পায়ের জুতা অইয়া থাকুম আপা! গরিব মাইরেন না- ’
 
ঠিক ঠিক জবাব দে কখন আসে ময়না। কী করিস তার সঙ্গে? একটা কথা বেঠিক বলবি তো ঝেঁটিয়ে ঘর ছাড়া করবো দুটোকেই।
 
মাটি সাক্ষী, এই আসমানের তলে খারাইয়া কইতাছি আপা, খালি দুই রাইতে আইছিল আমার অসুখের সময়-’
 
চুপ! মিথ্যুকের হাড্ডি। আমরা খেয়াল রাখি না মনে করেছিস, না? সত্যি সত্যি বল, কী কী করেছিস ওর সঙ্গে। ময়না সব স্বীকার গেছে আমার কাছে। অস্বীকার করবি তো সোজা আম্মাকে বলে দেবো।
 
বেহেশত হারাম আপা- ’
 
আবার কথা বাড়াচ্ছিস? জানিস, তোর বিরুদ্ধে আমার একটুখানি নালিশে কী হতে পারে?’
 
গায়ের চামরা দিয়া আপনার জুতা বানাইয়া দিমু আপা- যা কন তা- হুনুম- ’
 
তাহলে শোন, দরজা খোলা থাকবে। রাত্রে এসে পাঙ্খা করে যাবি ঘুম লাগা পর্যন্ত। গ্রামে পাঙ্খা নেই, ঘুম লাগে না গরমে। ময়না পারে না, কাজে কামেও মন নেই- কী অসুখ বাধিয়ে দিয়েছিস কে জানে!’
 
উপরওয়ালা শুনেছে আবদুলের সুখীদেশের রাজকুমারীর নির্দেশ। ভুলের মাশুলের বহর। ব্যবস্থাপত্রের লিখন আবদুল খাবার কে! সার্কাসের বাঘ নিয়েই খেলা করতে হবে তাকে। পোষ মানা হলেও পদে পদে ভয়। নানান রকম ভয়।
 
আবদুল বাঁচবে, ময়নাকে বাঁচাবে। যে-বিধানই হোক, সে মানবে।
 
অতঃপর আবদুলের চোখজোড়াও নিচু হলো। আবদুল আর ময়না। ওরা কেউ আর কারো দিকে চায় না। চাইতে পারে না। না পারুক, তাদের তো আর পস্তাতে হবে না। তারা তো আদিষ্ট-ফল খেয়েছে, তাদের কালাপানি হবে না। আর যারা নিষিদ্ধ-ফল খেয়েছে, তাদেরও কি নির্বাসন হবে? হবে না।
 
এর পরের ঘটনা অনুক্রমিক, গতানুগতিক, তবে সংক্ষিপ্ত।
 
তিন মাস পর। ভারি হয়ে আছে বাড়িটা। ছোট আপার অসুখ করেছে। আত্মীয় ডাক্তার ডাকা হয়েছে। অসুখ সেরেছে।
 
আরো দিন পনেরো পর। আধা হালকা হয়েছে বাড়িটা। কিন্তু বেশ গুমোট রাত। সব নিরিবিলি হয়ে গেলে আবদুলদের আম্মা-আব্বা তাদের ডেকেছেন। শরমে পা জড়িয়ে আসে দুজনার। বিয়ের কথাটা হয়ত খোলাখুলি তুলে পাকাপাকি করে ফেলবেন আজ। আবদুল মুখ খুলতে পারবে না লজ্জায়। তাঁরা যা যা ঠিক করবেন সব ব্যবস্থাই শুনে যাবে দুজন। ওদের আবার বলার কী থাকবে আব্বা-আম্মার কথার ওপর? ওরা তো বরং তাড়াতাড়ি ছাড়া পেলেই বাঁচে।
 
ছাড়া অবশ্য তারা একবাক্যেই পেয়ে গিয়েছিল-যে বাক্যটি তাদের আম্মা-আব্বাও একসঙ্গেই উচ্চারণ করেছিলেন :
 
সকালে উঠে যেন একটারও মুখ না দেখি।
 
গেট পেরিয়ে যেখানে পথের শুরু সেখানে পা রেখে ময়না জানতে চেয়েছে অনিশ্চিত কণ্ঠে :
 
আমারে লইবা তোমার লগে?’
 
ক্যান লমু না- তোমার কাছে না আমার পোলার বদলা? আমার পোলারে তারা মারছে। তারার পোলারে আমরা পালুম।
 
তারপর দুজনে একসঙ্গে পা বাড়িয়েছে বৃত্তের পৃষ্ঠে।

⭐ FOR ANY HELP PLEASE JOIN

🔗 MY OTHERS CHANNELS

🔗 FOLLOW ME

🔗 MY WEBSITE

🔗 CALL ME
+8801819515141

🔗 E-MAILL
molakatmagazine@gmail.com

#গল্প
#ছোটগল্প
#সাহিত্য
#বাংলাসাহিত্য
#মোলাকাত
#সাহিত্য_ম্যাগাজিন
#ওয়েব_ম্যাগাজিন
#Molakat
#ShortStory
#Story
#Literature
#Bengali_Literature
#আবদুশ_শাকুর

No comments

নির্বাচিত লেখা

আফসার নিজাম’র কবিতা

ছায়া ও অশ্বথ বিষয়ক খ-কবিতা এক/ক. সূর্য ডুবে গেলে কবরের ঘুমে যায় অশ্বথ ছায়া একচিলতে রোদের আশায় পরবাসী স্বামীর মতো অপেক্ষার প্রহর কাটায় প্রাচী...

Powered by Blogger.