ডামি ।। সায়মা ইসলাম
সায়মা ইসলাম
সেই
সকাল থেকে সারাটা দিন
ক্রেতাদের মন জয় করার
যাবতীয় কলা কৌশল প্রদর্শন
করতে করতে মিলুর অবসন্ন
শরীর, মাথা কিছুই আর
কাজ করছে না। দম
ফেলবারও ফুসরত নেই। এখন রাত
প্রায় সাড়ে দশটা। ভিড়
পাতলা হয়ে আসায় সবকিছু
গুছিয়ে নিয়ে শোরুম বন্ধ
করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল তারা। এমন সময় একজন
ভদ্রমহিলা ক্লান্ত পায়ে হেলে দুলে
শোরুমে ঢুুকলেন। এসির ঠান্ডা হাওয়ায়
নরম গদিতে শরীরটা এলিয়ে দিয়ে বসলেন। কী
চাইছেন ঠিক বোঝা যাচ্ছে
না, তার সামনে বাহারি
কাপড়ের পাহাড় জমে উঠছে।
‘ঐ
ঘিয়ে রংটা, আর হ্যাঁ পাশের
ঐ বাদামিটা…
অমায়িক
হাসিটা ঠোঁটে ঝুলিয়ে রেখে মিলু মাথার
উপরের তাক থেকে ড্রেসগুলো
নামিয়ে একটা একটা করে
কায়দা করে মেলে ধরে
কাস্টমারের সামনে।
‘ঐ
বাসন্তি কালারটা একটু দেখাও।’
‘ম্যাম,
একদম পারফেক্ট সিলেকশন। এটা পরলে আপনার
ফর্সা রং দারুণ গ্লো
করবে...মিলু ঝকঝকে দাঁতগুলো
বের করে তার ভূবন
ভোলানো হাসিটা হাসে।
‘ না
না আমার জন্য নয়,
আমার মেয়ের জন্য। মেয়েটা আমার মতো এত
ফর্সা নয়, একটু চাপা
রঙ।
‘আসলে
আমার মনে হয় ম্যাম,
এটা ফর্সা কালো সবার জন্যই
মানানসই একটা রঙ’
ভদ্রমহিলার
মুখ দেখে মনে হচ্ছে
মিলু তার হার্ট চুরচুর
করে দিয়েছে। সে তার পেন্সিলে
আঁকা নিঁখুত ভ্রুজোড়া কুঁচকে মিলুর দিকে তাকালেন ‘রিংকি
মোটেও কালো নয়। তুমি
ঐ গোলাপি ড্রেসটা বের কর।’
‘অবশ্যই
ম্যাম আপনার যা রঙ, আপনার
মেয়ে কালো হতেই পারে
না। কত সাইজ দেব
ম্যাম?
‘বত্রিশ,
উহু চৌত্রিশই দাও।’
‘সরি
ম্যাম, বত্রিশ সাইজটা ষ্টোর থেকে আনতে হবে।
পাঁচ মিনিট সময় দিন, যাব
আর আসব... মিলু দৌড়ে সিঁড়ি
বেয়ে উপরের ফ্লোরে ছোটে।
ভাবী
ক্রেতাকে তুষ্ট করতে মরিয়া মিলু
হাঁপাতে হাঁপাতে তিন মিনিটের মধ্যে
ফিরে আসে। উচ্ছ্বসিত স্বরে
বলে ‘ম্যাম আপনার ভাগ্য সত্যি ভাল, এটাই লাষ্ট
পিস ছিল।’
চৌকশ
ক্রেতা বেশ সময় নিয়ে
কাপড় নিরীক্ষণে মন দেয়।
‘ম্যাম,
ড্রিংক্স?
‘দিতে
পারো, ডায়েট দিও তাহলে।
ভদ্রমহিলার
ড্রিংক্সে চুমুক দেয়ার ফাঁকে প্রাইস ট্যাগে চোখ বুলিয়ে নেয়
মিলু ‘ম্যাম প্রাইসটাও একদম রিজনেবল্, মাত্র
ছয় হাজার নয়শ।’
গাঢ়
ম্যাট লিপস্টিকে ঢাকা ঠোঁটদুটো স্ট্র
থেকে খুলে নিয়ে মিলুর
দিকে তির্যক দৃষ্টি হানে ভদ্রমহিলা ‘পছন্দ
হলে প্রাইস কোন ফ্যাক্ট নয়।’
‘তাতো
অবশ্যই, ম্যাম। আপনি আমাদের দীর্ঘদিনের
কাস্টমার। এজন্যই বেছে বেছে লেটেস্ট
আইটেমগুলিই আপনাকে দেখালাম। তাহলে ম্যাম, ড্রেসটা বিল কাউন্টারে পাঠিয়ে
দেব?
ভদ্রমহিলা
ড্রিংক্স শেষ করে বেশ
আয়েশ করে ঢেকুর ছাড়লেন,
‘ইয়ে ঠিক বুঝতে পারছি
না, দেখি কাল মেয়েটাকে
নিয়েই আসব। রিংকি নিজে
এসে বরং ট্রায়াল দিয়ে
নিয়ে যাবে, সেটাই ভালো হবে...
‘আপনি
নিয়ে যান ম্যাম, যে
কোনো সমস্যা হলে চেঞ্জ করে
নিয়ে যাবেন। কোনো সমস্যা নেই।’
‘মেয়ের
যদি পছন্দ না হয়, এই
ভিড়ের মধ্যে বার বার আসা
খুব ঝামেলা। এত করে বললাম
মেয়েটাকে সঙ্গে আসতে, সপিঙে আসতেই চায় না!’ মিলুকে আশাহত করে ভদ্র মহিলা
হাই হিলে টক টক
আওয়াজ তুলে দরজার দিকে
পা বাড়ালেন।
‘ঠিক
আছে ম্যাম আবার আসবেন।’ বিরস
বদন মিলুর। ঈদের মৌসুমে শোরুমের
মোট বিক্রীর উপর বিক্রয় কর্মীরা
একটা ইনসেনটিভ পায়। সেই আশায়
দিনে চৌদ্দঘন্টা দম দেওয়া পুতুলের
মতো হাসিমুখে মুখ চালিয়ে যাওয়া।
স্তুপ থেকে এলোমেলো কাপড়গুলো
একটা একটা ভাঁজ করে
ক্লান্ত হাতে প্যাকেটে ঢোকাতে
থাকে মিলু। পাশে দাঁড়ানো সহকর্মীর
কাছে ক্লান্তিকর বিরক্তিটা বিরবির করে প্রকাশ ফেলে‘
পুরা একটা ঘন্টা! শুধু
শুধু মাথাটা নষ্ট।’
ভদ্রমহিলা
হঠাৎ দরজা থেকে ঘুরে
দাঁড়ালেন। পায়ে পায়ে ফিরে
এসে সাইরেন বাজানোর মতো হৈ চৈ
বাঁধিয়ে দিলেন ‘কী বললে তুমি?
আমার মাথা নষ্ট! আবার
বলো। বেয়াদব কোথাকার, ক’দিন হলো
তোমার চাকরি? কাস্টমারের সাথে কেমন ব্যবহার
করতে হয়, কেনো নর্মস
জানা আছে? এই দোকানের
কত পুরোনো কাস্টমার আমি, জানো তুমি?
আমার স্বামী এই থানার ওসি...
‘সরি
ম্যাম, আপনাকে বলিনি। একদম সত্যি বলছি,
আমার কথাটা একবার দয়া করে শুনুন...
মহিলার
ফর্সা মুখ টকটকে লাল
হয়ে উঠেছে। মনে হচ্ছে তার
টানটান সাদা চামড়া ফেটে
এক্ষুনি রক্ত বের হয়ে
আসবে। শোরুমের সাতজন বিক্রয়কর্মী একযোগে বুঝিয়ে ভদমহিলাকে শান্ত করার চেষ্টা করল।
কিন্তু শোরুম ম্যানেজারের কাছে তার এক
দফা, এই মুহূর্তে মালিকের
সাথে কথা বলে ব্যবস্থা
না নিলে তার ওসি
স্বামী এসেই এত বড়
অপমানের বিহিত করবেন।
মিলুর
বাবা একটি টয়লেট্রিজ কো¤পানীর সেলস অফিসার ছিলেন।
হঠাৎ তিনদিনের জ্বরে, কিছু বুঝে ওঠার
আগেই সব ছেড়ে পাড়ি
জমালেন পরপারে। তখন থেকেই মিলু
পড়াশোনার পাশাপাশি দোকানে কাজ করছে। মিলু
তখন সবে এইচএসসি পাস
করে কলেজে ভর্তি হয়েছে।
এর
আগে একটি ছোট দোকানে
তিন বছর কাজ করেছে
মিলু। আগের মালিক এক
হাজার টাকা বেতন বাড়িয়ে
দিয়ে তাকে কাজে থেকে
যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। মিলুকে ছোট ভাইয়েরে মতো
¯েœহ
করতেন। কিন্তু ব্র্যান্ডের বড়ো শোরুমে বেশি
বেতন আর ভবিষ্যত উন্নতির
আশায় মিলু আগের দোকানটা
ছেড়ে পাঁচমাস মাস হলো এখানে
কাজ নিয়েছে। ঈদের পরই এই
প্রতিষ্ঠানে তার চাকরিটা কনফার্ম
হওয়ার কথা।
সদ্য
বি এ পাস করা
ছিমছাম দর্শনের হাসানুজ্জামান মিলন, রাত ১১.৪০
মিনিটে পরনের লাল টাইসহ কেতাদুরস্ত
ইউনিফর্ম ছেড়ে নিজের মলিন
টিশার্ট প্যান্ট গায়ে চড়িয়ে শোরুমের
ক্যাশ সেকশনে গিয়ে দাঁড়াল। গত
মাসে ছোট বোনের ফরম
ফিলআপের জন্য তির হাজার
টাকা অগ্রিম নেয়া ছিল। হিসাব
নিকাশ শেষে সহকর্মীদের সাথে
বুক মিলিয়ে আলো ঝলমলে দোকান
থেকে রাস্তায় নেমে আসে মিলু।
ঘড়ির কাঁটা তখন বারোটা ছুঁই
ছুঁই। চার হাজার সাত'শ টাকা পকেটে
নিয়ে বড়ো বড়ো শোরুমগুলোর
চোখ ধাঁধাঁনো নিয়ন আলোয় আলোকিত
ফুটপাতে পা ফেলে বিমর্ষ
মনে হাঁটতে থাকে মিলু।
সারাদিন
এসির মধ্যে কাটিয়ে বাইরের ভ্যাপসা গরমে দরদর করে
ঘামতে থাকে মিলু। একটু
পরেই তার হাঁচি শুরু
হবে। বাড়িতে বিছানার উপরের ঝুড়ি ফ্যানটা নষ্ট
হয়ে যাওয়ায় গরমে রাতে ঠিকমত
ঘুম হয় না। অর্ধেকটা
রাত সে বারান্দায় বসেই
পার করে দেয়। রাতের
আলো আঁধারিতে খোলা আকাশের নীচে
একলা বসে মিলুর তখন
গলা ছেড়ে গান গাইতে
ইচ্ছে করে। কিন্তু গাইতে
পারে না। একটু শব্দ
টের পেলেই মা বিছানা ছেড়ে
উঠে আসে। পাশে বসে
ঘ্যান ঘ্যান শুরু করে ‘আব্বা,
ঘুম আসে না? কী
নিয়া এত চিন্তা করো?
এত রাত জাগলে সকাল
সকাল অফিস যাইবা ক্যামনে?
‘না
মা চিন্তা করি না। এমনি
ঘুম আসতেছে না। তুমি ঘরে
যাও, ঘুমাও। আমি এই একটু
পড়েই ঘুমাব’
‘তোমার
খুব কষ্ট হইয়া যায়,
বুঝি আব্বা। কিন্তু কিছু করতে তো
পারি না। লেখাপড়ার কত
ইচ্ছা ছিলো তোমার। তোমার
আব্বা তোমার এই ছোট্ট ঘাড়ে
আমাগো চাপাইয়া নিষ্ঠুরের মতো চইলা গেলো..
মিলু
মায়ের পিঠে হাত রেখে
তার কান্না থামানোর চেষ্টা করে। কান্না শুরু
হলেই আবার মায়ের হাঁপানির
টান বেড়ে যায়। তাই
অনেক রাতে ঘুম না
এলে, টিনশেড ঘরের বারান্দায় বসে
তারা ভরা আকাশের দিকে
তাকিয়ে নিজের মনে আইয়ুব বাচ্চুর
গান গুনগুন করে মিলু।
মিলুর
গানের গলা ভালো। আগে
যে পাড়ায় তারা থাকত, সেখানে
তাদের বন্ধুদের ছোট্ট একটা ব্যান্ড দল
ছিলো। সে ছিল ব্যান্ড
দলের দ্বিতীয় ভোকাল। দলটা এখনও বিভিন্ন
উৎসবে পাড়ায় প্রোগ্রাম করে। সময়ের অভাবে
প্র্যাকটিসে যেতে পারে না
বলে মিলুর আর গান গাওয়া
হয় না। দর্শকের সারিতে
বসে, বুকের কষ্ট দলা পাকিয়ে
সে মিউজিকের সাথে সাথে তাল
দেয়।
গত
একবছর দোকানপাট ঠিকমতো চলেনি। মিলুরও বেতন হয়নি। গত
ঈদে মা আর ছোট
বোনটাকে কোনো জামাকাপড় কিনে
দিতে পারেনি। ছোট বোন বেলি
ক’দিন হল মুখ
ভার করে চোখের সামনে
ঘুরে বেড়ায়। বেতন হাতে পেলেই
ঈদের জামা কিনে দেবে
বলে বোনকে কথা দিয়েছিল মিলু।
আজ পঁচিশে রমজান গেলো। ন'শ টাকা
দিয়ে ফুটপাতের একটা দোকান থেকে
বেলির জন্য একসেট থ্রিপিস
কিনে মায়ের জন্য একটা তাঁতের
শাড়িও কিনে ফেলল মিলু।
অর্নামেন্টসের
দোকানের সামনে দিয়ে যেতে যেতে
ছোট একটা মুক্তার মালায়
চোখ আটকে যায় মিলুর।
তিশার মুখটা মনে পড়ে। একটু
থেমে কাঁচের দেওয়ালের ওপারে গয়নাটার দিকে এক মুহূর্ত
তাকিয়ে থেকে সামনে হাঁটতে
শুরু করে ।
তিশা
এবার অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছে। তিন বছর আগে
একটা প্রোগ্রামে গান শুনে মিলুর
প্রেমে পড়েছিল তিশা। এখন আর গান
গায় না মিলু ।
কিন্তু তিশার হৃদয়ে মিলুর সুরের যে ঘোর লেগেছিল,
তা কেটে না গিয়ে
আরও ঘনিভূত হচ্ছে দিন দিন। তিশার
দু’বার বিয়ে ঠিক
হলো। মিলু বার বার
বোঝানো সত্ত্বেও, মেয়েটা নানা কায়দা করে
বিয়ে ভেঙে দিয়ে মিলুর
অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।
গায়ের
টিশার্টটা তিশার দেয়া গত ঈদের
উপহার। দারুণ রঙ ছিল, হালকা
আকাশি। একবছর টানা পরতে পরতে
রঙটা চটে গিয়ে এখন
প্রায় ঘোলা সাদা। যেন
বৈশাখের রোদচটা বিবর্ণ আকাশ। মিলুর খুব ইচ্ছে ছিল,
এবার ঈদের চাঁদরাতে সুন্দর
একটা উপহার দিয়ে চমকে দেবে
তিশাকে। বড়ো একটা দীর্ঘশ্বাস
বাতাসের ধূলোয় মিলিয়ে দিয়ে সামনের প্রশস্ত
পিচঢালা রাস্তার দিকে চোখ রেখে
বাসের অপেক্ষায় দাাঁড়িয়ে থাকে মিলু। মৌচাকের
মতো মানুষ উপচে পড়া একটা
বাস এসে থামলে দৌড়ে
তার হাতল ধরে ঝুলে
পড়ে।
বাস
থেকে নেমে বড় রাস্তা
ধরে মিনিট দশেক হেঁটে পাড়ার
ঘুপচি গলি। ঘুঁটঘুঁটে অন্ধকারে
বুক পকেটে দু’ হাজার আটশত
টাকা আঁকড়ে ধরে মিলু সন্তর্পণে
পা বাড়ায় সামনে। ভালো চাকরিটা গেল!
পদে পদে হিসাব কষতে
থাকে, বাসা ভাড়া, মায়ের
ঔষধ, ঈদের বাজার, সামনের
মাসে তার প্রাইভেটে এম.
এ ভর্তি...
মধ্য
রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে, হঠাৎ মোবাইলটা কর্কশ
শব্দে বেজে উঠে মিলুর
সব হিসেব নিকেশ গুলিয়ে দেয়। পকেট থেকে
মোবাইল বের করলে স্ক্রিনের
ক্ষিণ আলোয় মিলুর অন্ধকারে
ডুবে যাওয়া মুখের কিছুটা অংশ আলোকিত হয়
‘হ্যালো…
‘ভাইজান
রাত দেড়টা বাজে, মা খুব চিন্তা
করছে। বড়’পা চলে
এসেছে চিনি, মিনিকে নিয়ে। পুঁচকি দুটো না ঘুমিয়ে
মামার জন্য জোর করে
চোখ খুলে বসে আছে।’
হাতের
প্যাকেট দুটো খেয়াল করে
মনে মনে লজ্জা পায়
মিলু । ভাগ্নিদুটো মিলুর
খুব আদরের। চিনি মিনিও মামা
অন্তঃপ্রাণ! কালকে কিছু কিনতে হবে
বাচ্চা দুটোর জন্য । ঈদে
দুলাভাইকে একটা কিছু না
দিতে পারলে মায়ের মনটা খুব ছোট
হয়। মা মুখে কিছু
বলে না, কিন্তু মিলু
ঠিক বুঝতে পারে।
‘ভাইজান,
তুমি কতদূর?
‘এই
প্রায় এসে গেছি , মাকে
দুশ্চিন্তা করতে মানা কর...
কথা
শেষ করে জমাট বাঁধা
অন্ধকারে মোবাইলের ছোট্ট গোল আলোটা ফেলে
জোর কদমে হাঁটতে থাকে
মিলু। সামনে অনেকটা পথ যেতে হবে
তাকে...
সায়মা
ইসলাম
ব্যবস্থাপনা বিভাগ
সরকারি শেখ ফজিলাতুন নেসা মুজিব মহিলা মহাবিদ্যালয়
জেলা সদর রোড, টাঙ্গাইল -১৯০০।
ব্যবস্থাপনা বিভাগ
সরকারি শেখ ফজিলাতুন নেসা মুজিব মহিলা মহাবিদ্যালয়
জেলা সদর রোড, টাঙ্গাইল -১৯০০।

No comments