ভাষা আন্দোলন ও মাতৃ ভাষার সংকট : প্রসঙ্গ বাংলা ।। মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন

 

ভাষা আন্দোলন ও মাতৃ ভাষার সংকট: প্রসঙ্গ বাংলা
মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন
 
মানুষ সৃষ্টির সেরা। বুদ্ধিমত্তার পাশাপাশি অন্তর দিয়ে নিজের ভাব প্রকাশের ক্ষেত্রে সৃষ্টিকূলে মানুষের চেয়ে শ্রেষ্ঠ আর কেউ নন। এ ভাষার মাধ্যমেই মানুষের প্রকৃত পরিচয় ফুটে ওঠে। যে জাতির মাতৃভাষার বয়স যত বেশি সে জাতির সংস্কৃতি ও ইতিহাসের নান্দনিকতা তত বেশি। উল্লেখ্য গ্রিক, রোমান ও আরবী ভাষার দীর্ঘ ইতিহাসের কারণে শিক্ষা, দর্শন ও সংস্কৃতিতে তাদের বৈচিত্রতা তত বেশি।
আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০ বৎসর আগে প্রাক ইন্দো-ইউরোপিয়ান ভাষা থেকে আর্মেনিয়ভাষা পৃথক হয়ে গিয়েছিল। খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০০ অব্দে ইন্দো-ইউরোপিয় ভাষাভাষি মানুষ মধ্য এশিয় অঞ্চলে বসবাস শুরু করে। তার এক হাজার বছর পরে এদের মধ্যে একটি অংশ ইউরোপে তথা আজকের গ্রিসে প্রবেশ করে। সেখানে এ ইন্দো-ইউরোপিয় ভাষা ক্রমবিবর্তনের ধারায় প্রাক-গ্রিক, মাইসেনিয় গ্রিক এবং অস্ট্রিক, আয়োনিক, ঈয়োলিক ডেরিক, প্রাচীন মেসেডোনিয়ান ও এ্যার্কোডোসাইপ্রিয়োট উপভাষায় বিভক্ত হয়ে পরে। আর এসব উপভাষা থেকেই আজকের গ্রিক ভাষার জন্ম।
আজকে বিশ্বব্যাপী যে সাহিত্য পড়া হয় তার সিংহভাগ হলো প্রাচীন গ্রিক ভাষায় রচিত। হোমারের ‘ইলিয়ড’ ও ‘ওডেসি’ এখনো অপ্রতিদ্বন্দ্বি। মহাকাব্যের পাশাপাশি নাটকের চুড়ান্ত রূপও এ-সময়ে বিকাশ লাভ করে। বিশেষ করে সে-সময়ের ট্রাজিডি আজও অনুকরণীয়। অ্যাসাইলাসকে ট্রাজেডির জনক বলা হয়। তাঁর ‘প্রমিথিউস বাউন্ড’ অপূর্ব সৃষ্টি সাহিত্য ইতিহাসে। সফোকলিসিসের ‘কিং ইদিপাস’ যেকোন বিচারে আজও অতুলনীয়। 
ইতিহাস রচনায়ও তারা প্রতিকৃৎ। হেরোডোটাস গ্রিক ও পারস্য যুদ্ধ নিয়ে ইতিহাস রচনা করে ইতিহাস জগতে ইতিহাস সৃষ্টির মূল কারিগর ছিলেন। তেমনিভাবে জ্ঞানতাত্ত্বিক দর্শন ও সমালোচনা, বিজ্ঞান, গণিত ও রাষ্ট্র বিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও তাদের অবদান কম নয়। সক্রেটিস, প্লেটো এবং এরিস্টটল যে অবদান রেখেছেন তা আজও অবিস্মরণীয়। এসব কিছু তারা করেছেন তাদের মাতৃভাষায়। কিন্তু সেসব বুঝতে আমাদের অনুবাদ করেই পড়তে হয়েছে।
খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ শতকে রোম ও এর আশপাশ ঘিরে লাতিয়ূম এবং আজকের লাজিও অঞ্চলে মানুষজন লাতিন ভাষার গোড়া পত্তন করেন। ধীরে ধীরে লাতিন ভাষা সমৃদ্ধ হয়ে উঠল এবং সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিস্তার লাভ করছিল। এমনকি লাতিন ভাষার রচনা গ্রিক ভাষাকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে  দিয়েছিল। লাতিন ভাষা ইতালিতে জন্ম নেয়নি। বরং এ অঞ্চলে আসা মানুষজন ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষার উপভাষা নিয়ে আসে যা ধীরে ধীরে আজকে রূপ লাভ করে।
খ্রিস্টপূর্ব সময়ে লাতিন ভাষায় বক্তৃতা করে এবং রাজনৈতিক দর্শন লিখে কিকেরো সাধারণ মানুষের বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেন এবং একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন। কিকেরোর পরে লাতিন ভাষার অন্যতম লেখক ও ইতিহাসবিদ ছিলেন তাকিতুস। তিনি রাজ দরবারে কাজ করলেও রাজ দরবারের নৈতিক স্খলন ও অভিজাতদের অধঃপতনের বিরুদ্ধে সাহসী কলম ধরেন যা আজও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামের অনুপ্রেরণা। ভার্জিল, হোরাতিয়ুস ও ওভিদিয়ুসের রচনা জ্ঞান বিকাশে আলোর দিশারী। এসবও রচিত হয়েছে তাদের মাতৃ ভাষায়।
গ্রিক ও লাতিন ভাষার চেয়েও পুরানো তথা মানব সৃষ্টির প্রথম দিন থেকে আরবি ভাষার উৎপত্তি। জালালুদ্দীন আস-সূয়ূতী দাবী করেন, ‘সর্বপ্রাচীন ও প্রথম ভাষা হলো আরবি।’ আরবী ভাষার বয়স সবচেয়ে বেশি হলেও এ ভাষায় সাহিত্য চর্চা শুরুর ইতিহাস অনেক পরে। কিন্তু সেটিও প্রায় তিন হাজার বছর পুরানো। এভাবে প্রত্যেক ভাষার ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যেসব দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য অনেক ঋদ্ধ তাদের ভাষাও তত পুরানো।
হাজারো ভাষায় মানুষ কথা বললেও ভাষার উৎপত্তি মূলত তিনটি প্রধান শ্রেণিতে বিভক্ত। ভাষাতত্ত্বিকদের মতে, প্রথমতঃ আর্য বা ইন্দো-ইউরোপিয়, সংস্কৃত, ফরাসী, লাতিন, ইংরেজী, ফারসী ভাষা একই পরিবারভুক্ত। দ্বিতীয়তঃ তুরানী বা মঙ্গোলীয়, চৈনিক, জাপানিজ, তাতারী, তুর্কী ভাষা এ পরিবারের অর্ন্তগত। এবং তৃতীয়তঃ সামী বা সেমিয়টিক। আরবী ভাষার গোত্রভুক্ত ভাষাসমুহ এ পরিবারের সদস্য।
 
॥২॥
ভৌগলিক ভিন্নতার কারণে ভাষার ভিন্নতা সৃষ্টিকর্তার অপূর্ব সৃষ্টি। এ ভাষার ভিন্নতা ভাষাকে আরো সুন্দর করেছে। ভাষাবিজ্ঞানীদের মতে পৃথিবীতে বর্তমানে প্রায় ৩০০০ ভাষা চালু আছে, যা কিছুদিন পূর্বেও ৪৫০০ ভাষা ছিল। কিন্তু এর মধ্যে অল্প কিছু সংখ্যক ভাষায় অধিকাংশ মানুষ কথা বলে। আর বাকী ভাষাগুলো যায় যায় অবস্থায় তথাকথিত বিশ্বায়নের নামে, যা নিশ্চিতরূপে নব্য-উপনিবেশবাদী ষড়যন্ত্র। মাত্র ১৯টি ভাষায় ৫০ মিলিয়নের বেশি লোক কথা বলে। এর বাহিরে স্পষ্টতঃ ১০০টি ভাষা জনসংখ্যার আধিক্যতায় দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবে। এর মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার বাংলা, হিন্দি, উর্দু, পাঞ্জাবী, তামিল, মারাঠিসহ বেশ কিছু ভাষা টিকে থাকবে।
আরবী, চায়না, মালয়ী, জাপানিজ ভাষা অতিশিঘ্রই হারিয়ে যাবার কথা নয়। তবে আরবী, ইংরেজি, স্প্যানিশ, ফরাসী ও পর্তুগীজ ভাষা ভৌগলিক সীমারেখা পেরিয়ে পৃথিবীর নানা প্রান্তে ধীরে ধীরে প্রবেশ করেছে এবং করছে। এর মধ্যে আরবী মুসলাম ধর্মের কারণে বিভিন্ন মানুষের হৃদয়ে আরব অঞ্চলে বাহিরে অদাপ্তরিক ভাষা হিসাবে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। তবে বাকী চারটি ভাষা উপনিবেশবাদ বিস্তারের কারণে এবং নব্য-ঔপনিবেশবাদের প্রধান অস্ত্র হিসাবে ব্যবহৃত হয়। মজার বিষয়হলো উল্লেখিত ভাষার প্রায় ৩০% প্রায় ১ হাজারের চেয়ে কম লোকের মাতৃভাষা।
শিল্পবিপ্লবের পর পুঁজিবাদী আগ্রাসন ও ঔপনিবেশিক দমন নীতির এবং সাংস্কৃতিক আগ্রসানের কারণে স্বল্প সংখ্যক জনগণ কর্তৃক ব্যবহৃত মাতৃভাষা এবং বিভিন্ন অঞ্চলে নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষাকে নিঃশেষ করার ষড়যন্ত্র চলছে। ফলে সেসব ভাষা বিলুপ্ত প্রায়। কিছু কিছু ভাষা স্থানীয়ভাবে চর্চা হলেও কেন্দ্রিয় বা মূল ভাষার নিষ্পেষণে সেসব ভাষাকে মৃত বলে গণ্য করা হয়। কেননা, সেগুলি জনভাষা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।
বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনেক ভাষা আগামী চল্লিশ বছরে সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে দশটি ভাষা একেবারে নিশ্চিভাবে বিলুপ্তির পথে। রাঙামাটির সাজেক অঞ্চলের শৌরা ভাষায় মাত্র পাঁচজন মানুষ কথা বলছে। কিন্তু তাঁদের বর্তমান প্রজন্ম যেহেতু সে ভাষায় আর কথা বলছে না, তা অচীরেই বিলুপ্ত হবে। পার্বত্য এলাকায় রেংমির্চা ভাষায় মাত্র চল্লিশজন কথা বলে এবং এ ভাষার সংরক্ষণের কোন উদ্যোগ নাই। তেমনিভাবে দিনাজপুর অঞ্চলে কড়া ভাষায় প্রায় একশত মানুষ মাত্র কথা বলছে। তেমনিভাবে কোদা, মেগাম, পাঙ্গুখুয়া, বম, চাক, আসোচিন, মরু, কুরুক্স, প্নার, খেয়্াং, কড়া, খোজী, কুন্দু ও মুণ্ডা ভাষাও বিলুপ্তির পথে। বাংলাদেশের এসব ভাষা ঔপনিবেশিক আগ্রাসনের জন্য নয় বরং কেন্দ্রিয় ভাষা বাংলার আধিপত্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি এবং পরিপার্শিক সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের কারণের ধ্বংস হতে চলছে।
আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা ইন্সটিটিউটের ভাষ্য মতে দেশে ৪১টি ভাষা আছে। এর মধ্যে ৩৩টি বিভিন্ন নৃতাত্ত্বিক জাতিগোষ্ঠীর। উল্লেখিত দশটি ভাষার পাশাপাশি রাজশাহী অঞ্চলের রাজবংশী, রাই, রাগবি, কোচ, হদি ,  ভালু, সিং, কর্মকার, গণ্ড, বেদিয়া, বর্মন ও লোহা ইত্যাদিও প্রায় হারিয়ে যাবার পথে। ওঁরাও, মুণ্ডা, মালো, রাউতিয়া, মুশহর ও শবর ভাষা ইতিমধ্যে সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
 
॥৩॥
বাংলা ভাষার ইতিহাস একেবারে নতুন নয়। প্রাচীনকালেই এ ভাষার জন্ম। ভাষা তাত্ত্বিকরা মনে করেন খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০০ বছর পূর্বে ইন্দো-ইউরোপিয়ান ভাষা থেকে এর জন্ম। কিন্তু কেউ কেউ দাবী করছেন বাংলা আর্য ভাষার অপভ্রংশ থেকে সৃষ্টি। এ নিয়ে সংশয় আছে কেননা আর্য ভাষার উৎপত্তি খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০ বছর আগে। সুতরাং এ পার্থক্য যেমন সংশয়ের সৃষ্টি করে তেমনি আর্য ভাষায় উপমহাদেশে কাইকে কোন নির্দশন ব্যবহার করতে দেখা যায়নি।
তবে সংস্কৃত ভাষার ব্যবহার অনেক কাল ধরেই হয়ে আসছিল, যা খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ বছরের দিকে ইন্দো-ইউরোপিয় ভাষার সাথে মিশে ধীরে ধীরে রূপান্তরিত হতে লাগলো। খ্রিষ্টপূর্ব ৮০০ থেকে ৪৫০ এ ভাষা ক্রমাগত পরিবতর্তিত হয়ে ‘প্রাচীন প্রাচ্য প্রাকৃত’ ও ‘গৌড় প্রাকৃত’ নামে দু’টি ভাষার জন্ম নেয়। এরপর ‘গৌড় অপভ্রংশ’-এর সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে আধুনিক বাংলা ভাষার সৃষ্টি হলো। তবে ভাষা সমাজ ব্যবস্থা, বৈশ্বয়িক ও দৈনন্দিন জীবন ব্যবস্থার সাথে সাথে রূপান্তরিত হতে পারে। যেমন বঙ্কিম ও রবীন্দ্রনাথে ভাষায় যেমন পার্থক্য রয়েছে তেমনি রবীন্দ্রনাথের এবং নজরুলের ভাষার মধ্যেও পার্থক্য রয়েছে।
ধর্মও ভাষার উপর প্রভাব বিস্তার করে। মোগল আমালে বাংলার সাথে আরবী, উর্দু ও ফার্সি ভাষা মিশে একে সমৃদ্ধ করেছে। আবার বিপরীত চিত্রও দেখা যায়। ১৯৪৭ পরবর্তী সময়ে পাকিস্তনিরা ধর্মের নামে বাংলাকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু প্রথম তমদ্দুন মজলিস পরবর্তীতে সকল রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা জীবন বাজি রেখে ঝাঁপিয়ে পরলো। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানি রক্ত চক্ষুকে তোয়াক্কা না করে ছাত্র-জনতা বুকের রক্ত দিয়ে পাকিস্তানি জান্তাদের বুঝিয়ে দিলেন বাংলাই একমাত্র তাঁদের রাষ্ট্র ভাষা। এবং ১৯৫৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলা রাষ্ট্রভাষা হিসাবে স্বীকৃত লাভ করলো।
কিন্তু সে ভাষার প্রতি পাকিস্তানিরা ষড়যন্ত্র থামিয়ে রাখেননি। ১৯৬২ সালে শরীফ কমিশন তৈরি করে ভাষার উপর আবারো আঘাত হানলেন। কিন্তু বাংলাদেশীরা আবারো লড়াই করলেন এবং যা এক সময়ে তাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের দিকে নিয়ে যায়। আর এ মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়েই বাংলা ভাষা চিরতরে স্থায়ীভাবে আমাদের রাষ্ট্র ভাষার আসনে অধিষ্ঠিত হলো। কিন্তু সময়ের আবর্তনে তা নিজ গতি পথ হারাতে লাগলো।
মোহাম্মদ আতাউল করিম নামক একজন বাংলাভাষী ডায়াসফোরিক লেখক দীর্ঘ সময় ধরে বিদেশে থেকে দেশ ও বিদেশে বাংলা ভাষা কিভাবে গতি পথ হারিয়ে শঙ্কার মধ্যে আছে তা তুলে ধরার চেষ্টা করেন। তাঁর বেঙ্গলি হারলেম অ্যান্ড দ্য লস্ট হিস্ট্রিস অব সাউথ এশিয়ান আমেরিকা শীর্ষক গ্রন্থে অভিবাসী কাহিনী তুলে ধরেন। তাঁর মতে, “আমি নিশ্চিত যে অভিবাসীদের পরবর্তী প্রজন্মের অনেকেই বাংলা পড়তে লিখতে কিংবা বাংলায় স্বপ্ন দেখবে না। এটা আমার একটি দুঃখজনক স্বীকারোক্তি এবং হয়তো এতে বাংলাদেশি সংস্কৃতিমনাদের অনেকে বিস্মিত হবেন। আমাদের অনেকেই মাঝেমধ্যে বাঙালি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে চাই যাতে বাংলা হারিয়ে না যায়। এ তো গেল বিদেশের কথা। খোদ বাংলাদেশেই অপেক্ষাকৃত ধনী ব্যক্তিরা ছেলেমেয়ে ও নাতি নাতনিদের ইংরেজি মাধ্যম স্কুল ছাড়া অন্য কোথাও পড়ান না।”
উল্লেখিত ধনীরা ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চার দিক থেকেও নিজ দেশের ভাষা ও সংস্কৃতি ছেড়ে ইংরেজি ভাষায় প্রাত্যহিক জীবন যাপন করে। তার উপর মধ্যবিত্তরা ইংরেজির উপর আকর্ষণ না থাকলেও হিন্দির প্রতি আকর্ষণ প্রবল হওয়ায় নিজ ভাষার চেয়ে হিন্দি ভাষায় মজা করতে পছন্দ করেন। অন্যদিকে নিম্নবিত্তের মানুষজন ভারতীয় সিরিয়াল দেখে আচার-আচরণ ও সংস্কৃতি ধারন করে নিজের সব ভুলতে বসেছে।
স্বাধীনতার এই পঞ্চাশ বছর পর ভাষার কারণে যে ভাষার যে অবস্থা তা থেকে বাঁচতে হলে ভাষাকে তাঁর আপন জায়গায় ফিরিয়ে আনতে হবে। সেজন্য বিদেশী ভাষা ও সংস্কৃতি নির্বিচারে ব্যবহার বন্ধ করা অত্যাবশ্যক। পাশাপাশি বাংলা ভাষার চর্চাকারীদের বিশেস মর্যাদার অধিকারী করার প্রয়াস চালাতে হবে।  অন্যথায় নামকায়াস্তে বাংলা ভাষা টিকে থাকবে যা বিভিন্ন ভাষার সংমিশ্রনে রুগ্ন হয়ে যাবে। তাই ভাষা শহীদের আত্মত্যাগের মর্যাদা অনুধাবন করতে হবে।

No comments

নির্বাচিত লেখা

আফসার নিজাম’র কবিতা

ছায়া ও অশ্বথ বিষয়ক খ-কবিতা এক/ক. সূর্য ডুবে গেলে কবরের ঘুমে যায় অশ্বথ ছায়া একচিলতে রোদের আশায় পরবাসী স্বামীর মতো অপেক্ষার প্রহর কাটায় প্রাচী...

Powered by Blogger.